“মুখ্যমন্ত্রী যদি ইডির তদন্তে হস্তক্ষেপ করেন, তবে আপনার মতে ইডির কী প্রতিকার চাওয়া উচিত? তারা কি সেই রাজ্য সরকারের কাছেই যাবে। যার প্রধান নিজেই মুখ্যমন্ত্রী এবং সেখানে গিয়ে বিষয়টি জানিয়ে প্রতিকার চাইবে?” বিচারপতির প্রশ্ন। আপনি বলছেন ইডি কোনও কর্পোরেট সংস্থা নয়, কোনও কোম্পানিও নয়, এমনকি আলাদা সরকারও নয় শুধু সরকারের একটি ডিরেক্টরেট। তা হলে কি মৌলিক অধিকার নিয়ে কোনও সংস্থা মামলা করতে পারে? আই প্যাক মামলার শুনানিতে ফের কড়া পর্যবেক্ষণ জানাল সুপ্রিম কোর্ট। এদিন শুনানি চলাকালীন বিচারপতি পি কে মিশ্র রাজ্যের আইনজীবী কপিল সিব্বালের উদ্দেশে সরাসরি প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন,“মুখ্যমন্ত্রী যদি ইডি-র তদন্তে ঢুকে পড়েন, তাহলে আপনারা বলছেন ইডি রাজ্য সরকারের কাছেই প্রতিকার চাইবে—যার প্রধান আবার মুখ্যমন্ত্রী নিজেই!” বাংলায় বিধানসভা ভোটের প্রচার পুরোদমে শুরু হয়ে গেছে। তার মধ্যেই শীর্ষ আদালতে আই প্যাক মামলাকে ঘিরে এখন প্রবল কৌতূহল তৈরি হয়েছে। সেদিক থেকে এদিনের শুনানি প্রাসঙ্গিক। সুপ্রিম কোর্টে এই মামলার শুনানিতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ আইনি প্রশ্ন উঠে আসে। ইডি-র অভিযোগ ছিল, তৃণমূলের রাজনৈতিক পরামর্শদাতা সংস্থা আই-প্যাকের অফিসে তল্লাশি চালাতে গিয়ে বাধার মুখে পড়েন তাদের আধিকারিকরা। অভিযোগের তির রাজ্য সরকার ও পুলিশ প্রশাসনের দিকে। রাজ্যের পক্ষ থেকে সওয়াল করতে গিয়ে কপিল সিব্বাল মামলাটির গ্রহণযোগ্যতা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর সরাসরি প্রশ্ন, কোনও কেন্দ্রীয় সংস্থা কি সরাসরি রাজ্যের বিরুদ্ধে সংবিধানের ৩২ নম্বর ধারায় মামলা করতে পারে? শুনানির সময় সিব্বাল যুক্তি দেন ইডি-র তদন্তের অধিকার হল একটি বিধিবদ্ধ ক্ষমতা। সেটা কোনও মৌলিক অধিকার নয়। সেই ক্ষমতায় কেউ বাধা দিলে তা মৌলিক অধিকার লঙ্ঘন হিসেবে ধরা যায় না। ফলে সংবিধানের ৩২ নম্বর ধারা অনুযায়ী এ ব্যাপারে ইডি-র সরাসরি সুপ্রিম কোর্টে আসার অধিকার নেই। তিনি বলেন,“একজন সরকারি আধিকারিককে কাজে বাধা দেওয়া হলে তার প্রতিকার রয়েছে আইনে—কিন্তু তা রিট পিটিশনের মাধ্যমে নয়।”
বিচারপতি পিকে মিশ্র এদিন বারবার ইঙ্গিত দেন, এখানে অভিযোগের গুরুত্ব খতিয়ে দেখা দরকার। বিচারপতি বলেন,“আমরা কিছু ধরে নিচ্ছি না, কিন্তু অভিযোগ তো রয়েছেই—তার ভিত্তি আছে বলেই তদন্তের দাবি উঠছে”। বিচারপতি পিকে মিশ্র আরও বলেন,“ইডি-র আধিকারিকদের সঙ্গে যদি অন্যায় হয়ে থাকে, তাহলে তাঁদের অধিকার নিয়েও ভাবতে হবে” সুপ্রিম কোর্ট জানায়, এই মামলায় দুটি আলাদা অভিযোগ রয়েছে—একটি হল বেআইনি আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত তদন্ত। অন্যটি সেই তদন্ত চলাকালীন ইডি আধিকারিকদের বাধা দেওয়ার অভিযোগ। এই দুটিকে এক করে দেখা যাবে না। কিন্তু কপিল সিব্বাল রাজ্যের তরফে জোরদার সওয়াল চালিয়ে যান। তিনি বলেন, কোনও অপরাধ যদি নির্দিষ্ট থানার এলাকায় ঘটে, তাহলে সেই রাজ্যের পুলিশই তদন্ত করবে। বেআইনি আর্থিক লেনদেন আইনের ধারা ৬৬ অনুযায়ী, অন্য অপরাধ ধরা পড়লে রাজ্যকে জানাতে হয়। ইডি-র অভিযোগে ১৪ বা ২১ নম্বর ধারার (সমতা ও জীবন-স্বাধীনতা) প্রশ্নই ওঠে না। কপিল সতর্ক করে আরও বলেন, “এই যুক্তি মেনে নিলে প্রতিটি সরকারি আধিকারিকই কাজ করতে গিয়ে বাধা পেলেই মৌলিক অধিকার লঙ্ঘনের দাবি তুলবে—যা বিপজ্জনক নজির তৈরি করবে। তখন প্যান্ডোরার বাক্স খুলে যাবে।”





