এক মাসের কৃচ্ছ্রসাধন ও রোজা শেষে আজ খুশির ইদ। সকাল থেকেই কলকাতার রেড রোডে ইদের বিশেষ নমাজ। প্রতি বছরের ঐতিহ্য মেনে সেই নমাজে উপস্থিত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর সঙ্গে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। নির্বাচনের আবহে কয়েক হাজার মানুষের জমায়েতে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী সম্প্রীতি ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বার্তা। আগ্রহী রাজনৈতিক মহল। ঈদের সকালে রেড রোডের অনুষ্ঠানে যোগ দেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সকলকে ঈদের শুভেচ্ছা দিয়ে বক্তৃতা রাখেন দু’জনেই। আর সেই বক্তব্যেই এসাআইআর নিয়ে বিজেপি এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। আক্রমণ শানালেন অভিষেকও। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট করে দেন, ‘এসআইআর নিয়ে তাঁর লড়াই জারি থাকবে।’ সকলের পাশে থাকার বার্তা দিয়ে বলেন, ‘দিল্লি, সুপ্রিম কোর্ট দৌড়েছি, একটাও নাম যাতে বাদ না যায়, তার জন্য যতদূর যাওয়া যায় যাব।’ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বিদেশ সফর নিয়ে কটাক্ষ ছুঁড়ে বলেন, ‘সৌদি আরব গিয়ে হাত মেলান, দুবাইয়েও হাত মিলিয়েছেন। দেশে এলেই নাম কাটার কথা মনে পড়ে। আপনি সবচেয়ে বড় অনুপ্রবেশকারী।’ বিজেপিকে ‘চোর, গুণ্ডার পার্টি’ বলেও আক্রমণ করে বলেন, “বাংলাকে যে টার্গেট করবে জাহান্নামে যাবে, আমাদের একটাই টার্গেট বিজেপি, হটাও, দেশ বাঁচাও।” এসআই ইস্যুতে সরব হন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সকলের মধ্যে সম্প্রীতি বজায় রাখার বার্তা দিয়ে তৃণমূলের সাংসদ বলেন, ‘ভাইয়ে ভাইয়ে দন্দ্ব করিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। কিন্তু আমরা চক্রান্তে পা দেব না। আগামী দিনগুলিতেও একজোট হয়ে বাংলাকে রক্ষা করব। এটাই আমাদের বাংলার সংস্কৃতি।’ ২৩ ও ২৯ এপ্রিল পশ্চিমবঙ্গে দু’দফায় বিধানসভা নির্বাচন হতে চলেছে। তৃণমূল কংগ্রেস ইতিমধ্যেই ২৯১ আসনে প্রার্থী ঘোষণা করে দিয়েছে। শুক্রবার সাংবাদিক বৈঠকে ইস্তাহার প্রকাশ করেছে তারা। গতকালই তৃণমূল সুপ্রিমো জানিয়েছেন, ঈদের পর থেকে প্রচার শুরু হবে। ভোটার তালিকায় নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে শুরু থেকেই সরব তৃণমূল কংগ্রেস। বৈধ নাম বাদ না দেওয়ার দাবিতে বারবার আওয়াজ তুলেছেন তৃণমূল নেতৃত্ব। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সুপ্রিম কোর্টে এসআইআর মামলা করেছেন। প্রথম শুনানিতে তিনি নিজেই বাংলার মানুষের জন্য সওয়াল করতে শুনানি কক্ষে হাজির থেকে নজির গড়েছিলেন। ২৮ ফেব্রুয়ারি এসআইআর-এর চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পর দেখা যায় ৬০ লক্ষের বেশি নাম ‘বিচারাধীন’ রয়েছে। যার নিষ্পত্তি করতে ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে। শুক্রবার সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশের কথা থাকলেও তা পিছিয়ে আগামী সোমবার করা হয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছিলেন, তাঁর কাছে খবর আছে যে প্রায় ৬০ লক্ষ বিবেচনাধীন ভোটারের মধ্যে এ পর্যন্ত ২২ লক্ষ নামের নিষ্পত্তি হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১০ লক্ষ নাম বাদ পড়তে চলেছে বলে তাঁর আশঙ্কা। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “মালদহ, মুর্শিদাবাদ ও দুই দিনাজপুরে সবচেয়ে বেশি নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ একটি সম্প্রদায়ের পাশাপাশি হিন্দু, মতুয়া ও রাজবংশী মানুষও বাদ যাচ্ছেন।” কমিশনের তথ্য বলছে, বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ২৫ লক্ষের বেশি নামের নিষ্পত্তি হয়েছে, তবে তালিকা প্রকাশ নিয়ে ধোঁয়াশা কাটেনি। মমতার প্রশ্ন, “ভোটের আগে এই কাজ আদৌ শেষ হবে তো?” সব মিলিয়ে, ভোট পর্বে এসআইআর নিয়ে রাজ্য-কেন্দ্র সংঘাত আরও তীব্র হচ্ছে।
ইদের সকালেই জোরদার জনসংযোগে ভবানীপুরের প্রার্থী। সঙ্গে পতাকা নিয়ে গেরুয়া শিবিরের প্রচুর কর্মী সমর্থক। কালীঘাটে পুজোর পর প্রচারে শুভেন্দু। কালীঘাট মন্দিরে পুজো দিলেন বিধানসভার বিরোধী দলনেতা। পদ্মফুলের অন্য প্রার্থীদেরও মন্দিরে যাওয়ার সূচি রয়েছে।





