Monday, April 27, 2026
spot_imgspot_img

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

মানুষই প্রশ্ন করছে এই সরকার আছে কেন! ৪ মে-র পর নতুন বাংলা হবে, আত্মবিশ্বাসী শমীক

রসাতলে রাজ্যের স্বাস্থ্য ও শিক্ষাব্যবস্থা। জেলা হাসপাতালগুলিতে পর্যাপ্ত ওষুধ নেই, চিকিৎসা পরিষেবা ব্যাহত হচ্ছে। এমনকী অনেক চিকিৎসক নাকি নির্দিষ্ট কিছু ওষুধ ব্যবহার না করার পরামর্শ দিচ্ছেন বলেও দাবি। তৃণমূল কংগ্রেসকে তীব্র আক্রমণ শানালেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। তাঁর দাবি, রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে প্রচারে গিয়ে সাধারণ মানুষের একটাই প্রশ্ন, “এই সরকারটা এখনও কেন আছে?” দুর্নীতি, তোষণ এবং অনুপ্রবেশ – এই তিন ইস্যুকে সামনে রেখে ফের শাসক দলকে নিশানা করেন শমীক। তাঁর কথায়, “তৃণমূল আর নেই, তৃণমূল চলে গেছে।” তিনি অভিযোগ করেন, তোষণের রাজনীতি করতে গিয়েই রাজ্যকে আলাদা রাষ্ট্রই করে দিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। এই পরিস্থিতি থেকে মুক্তি চাইছে বাংলার মানুষ, এমনটাই দাবি বিজেপি নেতার। শমীকের আরও দাবি, আগামী ৪ মে-র পর রাজ্যবাসী স্বস্তি পাবে। সেই সময়েই পরিবর্তনের ছবি স্পষ্ট হয়ে উঠবে বলে ইঙ্গিত দেন তিনি। বৈঠকে রাজ্যের স্বাস্থ্য ও শিক্ষাব্যবস্থা নিয়েও কড়া সমালোচনা করেন বিজেপি সভাপতি। তাঁর অভিযোগ, জেলা হাসপাতালগুলিতে পর্যাপ্ত ওষুধ নেই, চিকিৎসা পরিষেবা ব্যাহত হচ্ছে। এমনকী অনেক চিকিৎসক নাকি নির্দিষ্ট কিছু ওষুধ ব্যবহার না করার পরামর্শ দিচ্ছেন বলেও দাবি করেন তিনি। এই পরিস্থিতিতে বহু মানুষ চিকিৎসার জন্য দক্ষিণ ভারতের দিকে পাড়ি দিচ্ছেন বলে তাঁর অভিযোগ। শিক্ষাক্ষেত্র নিয়েও সরব হন শমীক। তাঁর বক্তব্য, রাজ্যে হাজার হাজার স্কুল বন্ধ হয়ে গিয়েছে, অথচ সরকার আধুনিকীকরণের কথা বলছে। একইসঙ্গে পরিযায়ী শ্রমিকের সংখ্যাও বাড়ছে বলে দাবি করেন তিনি। বিভিন্ন ভাতা প্রকল্প চালু থাকা সত্ত্বেও মানুষ কাজের সন্ধানে বাইরে চলে যাচ্ছেন – এটাকেই সরকারের ব্যর্থতা হিসেবে তুলে ধরেন বিজেপি নেতা। শিল্প নিয়েও কটাক্ষ করতে ছাড়েননি শমীক ভট্টাচার্য। তাঁর কথায়, এক সময় শিল্পে এগিয়ে থাকা বাংলা এখন পিছিয়ে পড়েছে। নতুন শিল্প আনার ক্ষেত্রে সরকারের উদ্যোগ চোখে পড়ছে না বলেও দাবি করেন। সম্প্রতি আরজি কর হাসপাতালের লিফট দুর্ঘটনার ঘটনাও তুলে এনে রাজ্য সরকারের পরিকাঠামোগত ব্যর্থতার অভিযোগ তোলেন বিজেপি সভাপতি। তাঁর কটাক্ষ, “যে সরকার হাসপাতালে লিফট ঠিক রাখতে পারে না, তারা রাজ্য চালাবে কীভাবে?”

‘ইচ্ছে করে মানুষের হয়রানি করছে তৃণমূল, এখন মোশন-ইমোশনের লড়াই’। মুখ্যমন্ত্রী বিভাজনের রাজনীতি করেছেন। ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যাবে বাংলা ভাগের পক্ষে বামপন্থীরাও একসময় ভোট দিয়েছিল। রাজ্যের ন’টি আলাদা জায়গা থেকে পরিবর্তন যাত্রা শুরু হয়েছিল। এই কর্মসূচি ইতিমধ্যেই ২৩৭টি বিধানসভা এলাকার মধ্য দিয়ে অতিক্রম করেছে। পথে পথে বিপুল সংখ্যক মানুষ এই কর্মসূচিকে স্বাগত জানিয়েছেন। দাবি, প্রায় দশ লক্ষেরও বেশি মানুষ সরাসরি বা পরোক্ষে এই যাত্রার পাশে দাঁড়িয়েছেন। পরিকল্পিতভাবে তৃণমূল সরকার মানুষের হয়রানি করছে। মুখ্য নির্বাচনী কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার পশ্চিমবঙ্গে এসেছিলেন, আশা করি তিনি অনুরাগের ছোঁয়া পেয়েছেন।” তাঁর এও সংযোজন, ”জ্ঞানেশ কুমার দিল্লি চলে যাওয়ার পর‌ই কিছু মোশন আনা হয়েছে। এখন বাংলায় যেটা চলছে সেটা মোশন আর ইমোশনের লড়াই। মানুষের মধ্যে এখন একটি বিশ্বাস তৈরি হয়েছে – আক্রমণ যতই হোক, শেষ পর্যন্ত বাংলায় জয় পাবে বিজেপি। তাঁর দাবি, সাধারণ মানুষের মধ্যে এই মনোভাব ক্রমশ শক্তিশালী হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর কূটনৈতিক সাফল্যের ফলেই এখন জ্বালানির জোগান নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে। এই পরিপ্রেক্ষিতে রাজ্যের শাসক দলকে আক্রমণ করে তিনি অভিযোগ করেন, পরিকল্পিতভাবে মানুষের হয়রানি করা হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, বিভিন্ন জায়গায় তৃণমূলের কর্মীরা জোর করে রান্নার গ্যাস সংগ্রহ করে তা কালোবাজারে বিক্রির চেষ্টা করছে। দুর্নীতির প্রশ্নে এখন সিপিএম অনেকটাই পিছিয়ে পড়েছে এবং তৃণমূলের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় তাদের অবস্থান আরও দুর্বল। পশ্চিমবঙ্গকে কার্যত অস্থিরতার দিকে ঠেলে দিয়েছে বর্তমান সরকার। ভবিষ্যতে সরকার গঠন করলে ডিএ আন্দোলনকারীদের পাশে দাঁড়াবে বিজেপি। বিজেপি আর কোনও বাহ্যিক ভরসার উপর নির্ভর করে ভোট লড়ছে না। তাঁর কথায়, এবারের ভোট তাঁরা নিজেদের কায়দায় লড়বেন! ২০২৬ সালের বিধানসভা ভোটে জয় নিশ্চিত বিজেপির। এবারের ভোট আমরা নিজেদের কায়দায় লড়ব! ভোট যত এগিয়ে আসছে ততই বিজেপির নেতাদের আত্মবিশ্বাস বেড়ে চলেছে। সব মিলিয়ে, ভোটের আগে শাসক দলকে ঘিরে আক্রমণের ঝাঁঝ আরও বাড়িয়ে দিল বিজেপি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles