ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত
আমাকে সব সময় দেখতে সুন্দর লাগবে, এমন কোনও বাসনা নেই! চরিত্রই শেষ কথা। আমি অভিনেত্রী। আমার কাছে চরিত্রই আসল। সব সময় যে সুন্দর দেখাতে হবে, সে সব নিয়ে আমি ভাবি না! চরিত্র যদি বলে, সুন্দর হওয়া প্রয়োজন, তবে সুন্দর হবেন। যদি অন্য কিছু দাবি করে চরিত্র, তবে তেমনই দেখাবো নিজেকে। ফলে সাংবাদিকের মুখোমুখি বসে সাক্ষাৎকার দেওয়ার সময় অন্য প্রান্তে তাঁকে নিয়ে কী আলোচনা হচ্ছে, সে সবে কান দিই না। মন দিই নিজের চরিত্রে। নিন্দুকেরা অবশ্য বলেন, এত কথার জন্ম হয় আত্মবিশ্বাস থেকে। কারণ, আমি নিজেই জানি আমি উপস্থিত থাকলে আমাকেই দেখবে চারপাশ। আমরা প্রথমেই রিসার্চ করেছিলাম, ওই সময়কার চেহারা কেমন হবে। বলি না, এইটা এই সময়ের চেহারা, ওইটা ওই সময়ের চেহারা, তেমন আর কি! আমার খুব ভাল লাগে যে, আমাকে সব ছবিতেই এক রকম দেখতে লাগে না। তাতে যদি আমাকে কখনও দেখতে খারাপও লাগে, আমার কোনও আপত্তি নেই। সেই একই ‘রাজকাহিনী’-তে এক রকম দেখতে, আর ‘আলো’-তে একেবারে অন্য রকম। আর শুধু দেখতে কেমন লাগছে, তা ভাবলে চলে নাকি, এত বছর ধরে টলিপাড়ায় নিজের জায়গা ধরে রাখা! তার মধ্যে বিয়ে। দুই সন্তানের মা। সিঙ্গাপুরের সংসার সামলানো। আমি নিজেই কাজ করতে চেয়েছি, লাইমলাইটেও থাকতে চেয়েছি, সংসার করতে চেয়েছি, সন্তান চেয়েছি। সব কিছুতেই দায়িত্ব নিতে লাগে। সে তো আমাকেই নিতে হবে। কী ভাবে এত কিছু সামলাচ্ছি, তা তো অন্য কেউ দেখতে আসবে না! জীবনে একটা সময় থাকে, যে সময়টা সব কিছু উপভোগ করার। কাজ থেকে প্রেম, বিয়ে, সংসার, গ্ল্যামার সবই। আর জীবনের একই অধ্যায়ে যদি সব পেতে হয়, তবে তার জন্য পরিশ্রমও করতে হয়। কাজের কথা অনেকই হয়, সব সময়ে সংসারের কথা হয় না। ছবির প্রচার, মুক্তির কাজের ব্যস্ততার মাঝেও সংসারের কথা। শত কাজের মাঝেও নিজের স্বামীর জন্য আলাদা সময় রেখেছি বরাবর। আমাদের নিজেদের রোমান্সটা ধরে রাখতে চাই। এই কারণেই নিজেদের জন্য আলাদা সময় বার করি। একসঙ্গে বাইরে যাই। সবটাই করি এখনও। কারণ, সান্নিধ্য-সঙ্গ আমার কাছে খুব জরুরি। শুধু ঘরোয়া নন, বাইরেটাও সামলাতে হয় অনেক। ইন্ডাস্ট্রির ভালমন্দ সব কিছুতেই জড়িয়ে আছি। কখনও কখনও স্ক্রিনিং কমিটির বৈঠকে গিয়েছি। তবে আমার কাছে অনেক কিছু গুরুত্বপূর্ণ। ইন্ডাস্ট্রির বৃহত্তর স্বার্থটা অনেক বেশি জরুরি। আলাদা আলাদা ঘটনা সব সময়ে আমার কাছে ততটাও গুরুত্ব পায় না হয়তো সে ভাবে। যদিও প্রয়োজনে অনেক সময়ে কিছু কিছু কথা বলেছি। সিনেমা আমার কাছে সবার উপরে। সিনেমা কোনও কিছুর মধ্যে আবদ্ধ থাকতে পারে না। সিনেমার কিছু স্বাধীনতা থাকা উচিত। আমার হাত ধরে প্রচুর মানুষ এসেছেন ইন্ডাস্ট্রিতে। ইন্ডিপেন্ডেন্ট পরিচালক আছেন, প্রযোজক আছেন। সেখানে কমিটি যদি কিছু কিছু সিদ্ধান্ত নেয়ও, আমি মনে করি, সবই আলোচনা সাপেক্ষ। বিশ্বাস করি, আলোচনার ঊর্ধ্বে কোনও কিছুই নয়। সিনেমা কোনও কিছুর মধ্যে আবদ্ধ থাকতে পারে না। চারটে হাউস হয়তো মারামারি করছে কোনও সময়ে ছবি মুক্তির জন্য। কিন্তু সেই কয়েকটা হাউসের বাইরেও তো আরও অনেকে আছেন। তাঁরাও তো কাজ করছেন। আমাদের ইন্ডাস্ট্রি যদি ছোট হতে থাকে, যদি কুক্ষিগত হতে থাকে, তবে তো কোনও প্রসার হবে না। তা হলে আমরা বড় হব কী ভাবে? আমি মানুষ হিসাবেও প্রসারের পক্ষে, অভিনেত্রী হিসাবেও তা-ই। আমি দুনিয়াটা উদার ভাবে দেখতে চাই। কখনও নিজে রাজনীতি করতে ইচ্ছুক হইনি। নিজের জীবনের রাজনীতিই ভাল ভাবে বুঝতে পারলাম না, দেশের রাজনীতি কী বুঝব! নিজেকে সমাজসচেতন মানুষ হিসাবেই দেখি। নিজেও সমাজের উন্নতির জন্য অনেক কাজের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার চেষ্টা করি। তবে নিজেকে কোথাও কোনও ধরনের রাজনীতির মধ্যে আটকে ফেলতে চাই না। রাজনীতির জন্য আমি ঠিক তৈরি নই!





