বিস্ফোরক উমেশ রাই। উত্তর হাওড়ার বিজেপি প্রার্থী। বিপক্ষ তৃণমূলের গৌতম চৌধুরীকে সমাজবিরোধীদের সহকর্মী বলে আখ্যা দিলেন উমেশ রাই। উত্তর হাওড়ায় জঙ্গল রাজ চলছে বলে দাবি করেন উমেশ। সরব বিজেপি নেতা। পিলখানায় প্রোমোটার খুনে অভিযুক্তকে বিধায়ক গৌতম চৌধুরীর বাইকে চড়তে দেখা যায়। রাস্তায় এক যুবককে গুলি করে খুনের ঘটনা উত্তর হাওড়ার পিলখানায়। এই খুনের ঘটনায় মূল অভিযুক্ত হারুন খানের তৃণমূল যোগ নিয়ে প্রশ্ন। সোশ্যাল মিডিয়ায় উত্তর হাওড়ার বিধায়ক গৌতম চৌধুরীর সঙ্গে হারুন খানের একাধিক ছবি সামনে এসেছে। খুনে অভিযুক্ত যুবক তৃণমূল বিধায়কের ঘনিষ্ঠ বলে অভিযোগ। এই নিয়ে শোরগোল। উত্তর হাওড়ার বিধায়কের ছায়াসঙ্গী বলে উল্লেখ করলেন উমেশ রাই। হারুন খান ও রোহিত নামে আর একজন এই খুন করে বলে অভিযোগ। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, হারুনের বিরুদ্ধে এর আগেও বিভিন্ন দুষ্কর্মের অভিযোগ উঠেছে। হারুনের সঙ্গে তৃণমূলের ঘনিষ্ঠতার কথাও বলেন স্থানীয় বাসিন্দারা। সোশ্যাল মিডিয়ায় একাধিক ভিডিয়োয় দেখা যায়, উত্তর হাওড়ার তৃণমূল বিধায়ক গৌতম চৌধুরীর বিভিন্ন প্রচারের তাঁর আশপাশেই রয়েছেন হারুন। বিজেপি নেতা উমেশ রাই বলেন, গত ২৬ জানুয়ারি পিলখানায় একটা বড় অনুষ্ঠান হয়েছিল। সেখানে হারুন খানের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেছিলেন গৌতম চৌধুরী। উনি গুন্ডাদের গ্রুপ তৈরি করেছেন। এই পশ্চিমবঙ্গের মাটিতে আইনশৃঙ্খলা জনিত যা কিছু হচ্ছে, তার সঙ্গে দুষ্কৃতী, তৃণমূলের নেতা এবং পুলিশের একটা চটিচাটা অংশের মদতে হচ্ছে। তবে ৬০ দিন পর পরিস্থিতি বদলাবে। কারণ, রাজ্যের মানুষ এই সরকারকে বিদায় করবে। নির্বাচনের আগে থেকেই এলাকায় মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানো হবে এবং জনসংযোগের মাধ্যমে ভোটারদের কাছে পৌঁছনোর চেষ্টা করা হবে। স্থানীয় সমস্যা, উন্নয়ন ও আইনশৃঙ্খলার প্রশ্নকে সামনে রেখেই প্রচার চালানোর পরিকল্পনার কথাও বলেন উমেশ। উমেশ রাই এবং আসন্ন নির্বাচনে জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী হওয়ার বার্তাও দেন। গতবার এই কেন্দ্রে ভোটের দিন ব্যাপক সন্ত্রাস হয়েছিল। ভোট লুঠ হয়েছিল। সেই কারণেই সামান্য ব্যবধানে আমি হেরে গিয়েছিলাম। ভোটের পরিবেশ স্বাভাবিক থাকলে ফলাফল অন্যরকম হতে পারত। এবার পরিস্থিতি বদলাবে বলেই মনে করছেন বিজেপি প্রার্থী। উমেশ রাইয়ের কথায়, “এবার আর সেই পরিস্থিতি হবে না। মানুষ পরিবর্তন চায়। তাই আমি জয়ের ব্যাপারে সম্পূর্ণ নিশ্চিত।”
রাস্তাঘাটে পড়ে থাকা জঞ্জাল আর দু’ফোঁটা বৃষ্টি হলেই নালা উপচে রাস্তা ভেসে যাওয়া— বালির নানা জায়গায় এটাই চেনা ছবি। জমা জঞ্জাল, নিকাশি সমস্যা নিয়ে বারবার প্রতিবাদ করেছেন বালির বাসিন্দারা। এমনকি, ক্ষোভের মুখে পড়েছেন বিধায়কও। তৃণমূলের সেই বিধায়ক এ বার শিবপুরের প্রার্থী। আর বালির তৃণমূল প্রার্থী হয়ে প্রচারের আগে বাসিন্দাদের সমস্যার সমাধানে নামার নাটক করলেন কৈলাস মিশ্র। এমনটাই জানালেন বিজেপি প্রার্থী উমেশ রাই। দীর্ঘ দিন ধরে বালি পুরসভার ভোট হয়নি। পুর পরিষেবা নিয়ে বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে। বিশেষ করে নিকাশি নালা এবং জমা জঞ্জাল নিয়ে ক্ষুব্ধ স্থানীয়েরা। এর আগে ওই নিয়ে বালির বিধায়ক রানা চট্টোপাধ্যায় বিক্ষোভের মুখেও পড়েছিলেন। জলনিকাশি ব্যবস্থা ভাল করা এবং জঞ্জাল পরিষ্কারের দাবিতে রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করেছেন বাসিন্দারা। বিধানসভা ভোটে এটা যে বিরোধীদের কাছে ইস্যু হতে পারে, তা ভাল ভাবেই টের পেয়েছেন হাওড়া সদরের তৃণমূল যুব সভাপতি তথা বালির প্রার্থী কৈলাস। তার পর পুরসভা থেকে তড়িঘড়ি জঞ্জাল সরানোর কাজ শুরু করিয়ে তৃণমূল প্রার্থী আশ্বাস দিয়েছেন, এই সমস্যার একেবারে সমাধান করবেন। কৈলাসবা মিশ্র লিলুয়ার মানুষ। একটু খোঁজ নিয়ে দেখলেই জানা যাবে অনেক অনেক তোলাবাজি ও অসামাজিক কাজকর্মের অভিযোগ রয়েছে কৈলাশের বিরুদ্ধে, বলে দাবি উমেশ রাইয়ের। বালিতে কাজ করতে এসেছেন। এত দিন ওঁরা কোথায় ছিলেন? মানুষ সব বোঝেন। আর এ সব করে লাভ হবে না।
এদিকে, বিজেপির প্রার্থী ঘোষণা হতেই হাওড়ায় ক্ষোভ। হাওড়ার বালি বিধানসভায় বিজেপির বহিরাগত প্রার্থী। বিক্ষোভ ক্ষুব্ধ বিজেপি কর্মীদের। প্রার্থীকে ঘিরে ‘দূর হঠও’ স্লোগান।পদত্যাগ সত্তর জন বুথ সভাপতির। বিজেপির গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে। বালি কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থী করা হয়েছে সঞ্জয় সিংকে। আর এনিয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়লেন বালি কেন্দ্রের বিজেপি কর্মীদের একাংশ। বেলুড় লালমোহন মুখার্জি স্ট্রিটে সন্ধ্যায় নির্বাচন সংক্রান্ত বৈঠক চলাকালীন ক্ষুব্ধ কর্মীরা পার্টি অফিসে ঢুকে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। সেই সময় উপস্থিত ছিলেন প্রার্থী সঞ্জয় সিং। দু’পক্ষের স্লোগান পাল্টা স্লোগান চলতে থাকে। উত্তেজনা ছড়ায়। বিক্ষুব্ধদের বক্তব্য, বহিরাগত সঞ্জয় সিংকে তাঁরা মানবেন না। বহিরাগত দূর হঠ স্লোগান দিতে থাকেন। অস্বস্তিতে পড়ে যান প্রার্থী। বিক্ষুব্ধ বিজেপি নেতা ইন্দ্রনীল দাশগুপ্ত বলেন, “৭০ জন বুথ সভাপতি পদত্যাগ করেছে বহিরাগত সঞ্জয় সিংকে প্রার্থী করানোর জন্য।” তাঁদের দাবি, এখানে বালির ভূমিপুত্র চাই। যাকে বিপদে আপদে পাওয়া যাবে। রাজ্য নেতৃত্বকে বিষয়টি জানিয়ে এসেছেন তাঁরা। প্রার্থী বদল না হলে ভোটে কাজ না করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। প্রার্থী সঞ্জয় সিং বলেন, “যাঁদের সমস্যা আছে, তাঁরা এসে কথা বলুক।এটা নিজেদের মধ্যে ব্যাপার। এমনকিছু বড় বিষয় নয়।” অন্যদিকে এই ঘটনায় কটাক্ষ তৃণমূলের। বালি কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী কৈলাশ মিশ্র বলেন, “বিজেপি নিজেদের দলীয় কোন্দল সামলাতে পারছে। এরপর জয়ের স্বপ্ন দেখছে।”
পশ্চিমবঙ্গের হাওড়া উত্তর কেন্দ্রে ২০২১ সালের নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস-এর গৌতম চৌধুরী ৭১,৫৭৫ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছিলেন। ২০২১-এ, দ্বিতীয় স্থানে ছিলেন বিজেপি-র উমেশ রাই, যিনি ৬৬,০৫৩ ভোট পেয়েছিলেন। ২০২১ সালের নির্বাচনে এই আসনে জয়ের ব্যবধান ছিল ৫,৫২২ ভোট।




