Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

দোলের সন্ধ্যায় চন্দ্রগ্রহণ! কলকাতা-সহ রাজ্যে পূর্ণগ্রাস গ্রহণ কবে দেখা যাবে ভারত থেকেও?

মঙ্গলবার প্রায় ৫ ঘণ্টা ধরে চলবে গ্রহণ। কলকাতা এবং পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দেখা যাবে এই মহাজাগতিক পর্ব। দোল পূর্ণিমার সন্ধ্যায় কলকাতা-সহ রাজ্যের আকাশে চাঁদ বাকি পাঁচটা দিনের তুলনায় একটু অন্য রকম দেখাবে। দেখা যাবে লালচে চাঁদ। তবে কলকাতা থেকে পুরোপুরি রক্তিম দেখাবে না চাঁদকে। মিশেল থাকবে লাল এবং হলুদ উভয় রঙেরই। সন্ধ্যায় যখন চাঁদ উঠবে, তখনই দেখা যাবে লাল চাঁদ। সঙ্গে থাকবে আবছা হলুদ ভাবও। কলকাতা-সহ পশ্চিমবঙ্গের আকাশ থেকে ৯১ শতাংশ লাল দেখাবে চাঁদকে। হলদে ভাব থাকবে ৯ শতাংশ। পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ। তবে কলকাতা বা পশ্চিমবঙ্গের আকাশ থেকে পূর্ণগ্রাস গ্রহণ দেখা যাবে না। এখানে চাঁদ ওঠার আগেই পূর্ণগ্রাস হয়ে যাবে। তবে গ্রহণ দেখা থেকে একেবারে বঞ্চিত থাকবেন না পশ্চিমবঙ্গবাসী। পূর্ণগ্রাস গ্রহণ দেখতে না-পেলেও ‘ব্লাড মুন’ (রক্ত চাঁদ) দেখা যাবে এ রাজ্যের আকাশেও। পূর্ণগ্রাস শেষ হয়ে যাবে বিকেল ৫টা ৩৩ মিনিটে। আর পশ্চিমবঙ্গে চাঁদ উঠবে বিকেল ৫টা ৩৮ মিনিট থেকে ৫টা ৪০ মিনিটের মধ্যে। পুরো চাঁদ উঠতে লাগবে প্রায় দেড় মিনিট। ওই সময়ে কলকাতা-সহ রাজ্যের আকাশ থেকে চাঁদকে ৯১ শতাংশ লাল দেখাবে। তার পরে ধীরে ধীরে লালচে ভাব কমবে। আবছা হলদে থেকে উজ্জ্বল হলদে হতে থাকবে চাঁদ। পূর্ণগ্রাস গ্রহণের সম্পূর্ণ পর্ব শেষ হবে সন্ধ্যা ৭টা ৫৩ মিনিটে। তার পর আবার উজ্জ্বল হলুদ রঙেরই দেখাবে চাঁদকে। মঙ্গলবারের পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ ভারতের একেবারে অল্প কিছু জায়গা থেকেই দেখা যাবে। পূর্ব ভারতের কিছু এলাকা থেকে সম্পূর্ণ পূর্ণগ্রাসের সাক্ষী থাকা যাবে। যেমন অসমের তিনসুকিয়া, ডিগবয়ে চাঁদ উঠবে বিকেল ৫টা ১৩ মিনিটে। অর্থাৎ, পূর্ণগ্রাস শেষ হওয়ার আগেই সেখানে চাঁদ উঠে যাবে। ফলে ওই এলাকাগুলি থেকে পূর্ণগ্রাস গ্রহণ দেখার সম্ভাবনা বেশি। তবে রাজস্থান, গুজরাতের মতো পশ্চিমের রাজ্যগুলিতে পূর্ণগ্রাস দেখার সম্ভাবনা নেই।

দোল পূর্ণিমায় মঙ্গলবার আকাশে দেখা যাবে এক মহাজাগতিক দৃশ্য, যা বিরলও বটে— পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণের সাক্ষী থাকবে পৃথিবী। তবে পূর্ণগ্রাস ভারতের সব জায়গা থেকে দেখা যাবে না। পূর্ব দিকের কিছু জায়গা থেকেই তা দেখা যাবে। যদিও দেশের মানুষ একেবারে বঞ্চিত হবেন না। মন ভরে দেখতে পাবেন মার্চের ‘কেঁচো চাঁদ’। সব শেষে সন্ধ্যা ৭টা ৫৩ মিনিটের পর থেকে আবার দেখতে পাবেন ঝলমলে চাঁদও। মার্চের প্রথম পূর্ণিমার চাঁদকে বলে ‘কেঁচো চাঁদ’ (ইংরেজিতে ওয়র্ম মুন)। কানাডা, উত্তর আমেরিকায় মার্চ থেকে বরফ গলতে শুরু করে। মাটি খুঁড়ে গর্ত থেকে বেরিয়ে আসে কেঁচো। পাখিরা সেগুলি ছোঁ মেরে তুলে নিয়ে খায়। আসলে মার্চে পাখিদের প্রজননের সময় শুরু হয়। তার আগে মনে ভরে কেঁচো খেয়ে পেট ভরায়। সে কারণে মার্চের প্রথম পূর্ণিমার চাঁদের এই নাম। ইন্ডিয়ান সেন্টার ফর স্পেস ফিজিক্সের অধিকর্তা সন্দীপকুমার চক্রবর্তী জানান, কলকাতা থেকে পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ দেখা যাবে না। মঙ্গলবার শহরে চাঁদ উঠবে বিকেল ৫টা ৩৮ মিনিট থেকে ৫টা ৪০ মিনিটের মধ্যে। অন্য দিকে, ভারতীয় সময়ে পূর্ণগ্রাস শেষ হয়ে যাচ্ছে বিকেল ৫টা ৩৩ মিনিটে। তাই কলকাতাবাসী যখন দিগন্তরেখা থেকে চাঁদকে উঠতে দেখবেন, তখন পূর্ণগ্রাস থাকবে না। তবে চাঁদের ৯১ শতাংশ থাকবে লাল বা ব্লাডমুন। বাকি ৯ শতাংশ থাকবে আবছা হলুদ। দার্জিলিঙে বিকেল ৫টা ৩৭ মিনিটে চন্দ্রোদয়ের সঙ্গে সঙ্গেই দেখা যাবে গ্রহণ। তা চলবে এক ঘণ্টা ১১ মিনিট ধরে। কোচবিহারে মঙ্গলবার বিকেল ৫টা ৩৩ মিনিট থেকে এক ঘণ্টা ১৫ মিনিট ধরে দেখা যাবে গ্রহণ। মেদিনীপুরে বিকেল ৫টা ৪৪ মিনিটে চন্দ্রোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে দেখা যাবে গ্রহণ। চলবে এক ঘণ্টা ৪ মিনিট ধরে। মুর্শিদাবাদে ৫টা ৩৮ মিনিট থেকে এক ঘণ্টা ১০ মিনিট ধরে আকাশে দেখা যাবে গ্রহণ। পূর্ব ভারতে তিনসুকিয়া, ডিগবয়ে চাঁদ উঠবে মঙ্গলবার বিকেল ৫টা ১৩ মিনিটে। পুরো চাঁদ উঠতে দেড় মিনিট লাগবে। তাই সেখানকার মানুষজনের পূর্ণগ্রাস দেখার সুযোগ বেশি থাকবে। তবে রাজস্থান, গুজরাতের মতো পশ্চিমের রাজ্যগুলিতে পূর্ণগ্রাস দেখার সম্ভাবনা নেই। প্রায় পাঁচ ঘণ্টা ধরে চলবে গ্রহণ। সবচেয়ে নাটকীয় পর্যায় চলবে ৫৮ মিনিট ১৫ সেকেন্ড ধরে। সেই সময় পৃথিবীর যেখানে অন্ধকার থাকবে, সেখানে আকাশে খালি চোখে তাকালেই দেখা যাবে চন্দ্রগ্রহণ। সন্দীপ জানাচ্ছেন, ওই দিন ঘণ্টাখানেক চলবে প্রচ্ছায়া। ভারতীয় সময় অনুসারে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ৪০ পর্যন্ত চলবে প্রচ্ছায়া। তখন মলিন দেখাবে চাঁদকে। ৬টা ৪৭ নাগাদ প্রচ্ছায়া থেকে বেরিয়ে যাবে চাঁদ। তার পরে ধীরে ধীরে চাঁদের একটা দিক উজ্জ্বল হতে থাকবে। এর পরে উপছায়া থেকে চাঁদ বেরিয়ে যাবে সন্ধ্যা ৭টা ৫৩ মিনিটে। তখন ঝলমলে দেখাবে পূর্ণিমার চাঁদকে। চাঁদের নিজস্ব আলো নেই। তার উপর সূর্যের আলো পড়ে। তার পরেই তাকে দেখা যায়। পৃথিবী চাঁদ এবং সূর্যের মাঝে চলে এলে সূর্যের আলো আর চাঁদে পড়ে না। বদলে পৃথিবীর ছায়া পড়ে চাঁদের উপরে। তখনই হয় চন্দ্রগ্রহণ। পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণের সময় চাঁদের রং হয় লাল। সে কারণে তাকে ‘রক্ত চাঁদ’ (ব্লাড মুন)-ও বলা হয়ে থাকে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles