Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

মুখ্যমন্ত্রীর কেন্দ্রে হাজির থেকে রং মাখলেন, গান গাইলেন শুভেন্দু!‌ বিরোধী দলনেতা মুখ্যমন্ত্রীর কেন্দ্রে একটি ‘ওয়ার রুম’ও গঠন করেছেন

ভবানীপুরে বিরোধী দলনেতাকে বার কয়েক দেখা গিয়েছে। শুধু তা-ই নয়, মুখ্যমন্ত্রীর কেন্দ্রে একটি ‘ওয়ার রুম’ও গঠন করেছেন। দোলের সকালেও সেখানে হাজির হয়ে উৎসব পালন করলেন শুভেন্দু। ভবানীপুরে আবার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। মঙ্গলবার সকালে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিধানসভা কেন্দ্রে যান শুভেন্দু। সেখানে দোল উৎসব পালন করেন। প্রচুর বিজেপি কর্মী-সমর্থক হাজির হয়েছিলেন সেখানে। তিনি বলেন, ‘‘নাস্তিকতা নিপাত যাক। সেকুলারিজ়ম নিপাত যাক। হিন্দুরা যাতে পশ্চিমবঙ্গে সুরক্ষিত থাকে এই প্রার্থনা করব।’’ তিনি দোলের শুভেচ্ছা জানান সকলকে। তার পর গান ধরেন, ‘গোরা গোরা গৌরাঙ্গ। তিনি আওয়াজ তোলেন, ‘‘হিন্দু-হিন্দু ভাই-ভাই।’’ ভবানীপুরে বিরোধী দলনেতাকে বার কয়েক দেখা গিয়েছে। শুধু তা-ই নয়, মুখ্যমন্ত্রীর কেন্দ্রে একটি ‘ওয়ার রুম’ও গঠন করেছেন সম্প্রতি। তার পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে জোর আলোচনা চলছে, তা হলে কি এ বার বিধানসভা ভোটে ভাবনীপুর কেন্দ্রে নিজেই প্রার্থী হচ্ছেন শুভেন্দু? গত কয়েক মাস ধরে ভাবনীপুরে যাতায়াত বাড়িয়েছেন তিনি। সম্প্রতি বৈঠকও করেন সেখানে। এ বার দোলের দিন সকালে সেখানে হাজির হয়ে কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে দোল উৎসবও পালন করলেন। ভাবনীপুরে তিনি বিধানসভা ভোটে নিজেই লড়তে নামছেন কি না তা নিয়ে জল্পনা আরও বাড়ল। মুখ্যমন্ত্রীর কেন্দ্রে যাতায়াত, বৈঠক, ‘ওয়ার রুম’ গঠন করা— এ সব কি তা হলে এই কেন্দ্রে তাঁর প্রার্থী হওয়ার ভিত তৈরি করার এ রকম আয়োজন? বিধানসভা ভোটের আগে রাজ্য রাজনীতিতে ‘হাই ভোল্টেজ’ জল্পনা উস্কে দিচ্ছেন বিরোধী দলনেতা, রাজনীতির পণ্ডিতেরা অন্তত তেমনই মনে করছেন। বিজেপি নেতৃত্বের ধারণা, এ বারের বিধানসভা নির্বাচনে মুখ্যমন্ত্রী নিজের বিধানসভা কেন্দ্র থেকেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। তাই এ বার ভবানীপুরে যাতে মুখ্যমন্ত্রীকে কড়া প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে ফেলা যায়, সেই প্রস্তুতি নিতে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দুকে নির্দেশ দিয়েছেন বিজেপি নেতৃত্ব। আর দলের সেই নির্দেশ কার্যকর করতে কোমর বেঁধে নেমেছেন। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে মুখ্যমন্ত্রী নিজের বিধানসভা কেন্দ্র ভবানীপুর ছেড়ে শুভেন্দুর বিরুদ্ধে লড়াই করতে গিয়েছিলেন নন্দীগ্রামে। কিন্তু নন্দীগ্রামে শুভেন্দুর কাছে পরাজিত হলে পরবর্তী সময়ে ভবানীপুর বিধানসভার উপনির্বাচনে জিতে মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার সাংবিধানিক শর্ত পূরণ করেছিলেন তিনি। তাই অনেকে মনে করছেন, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে মুখ্যমন্ত্রীকে ধাক্কা দিতে চান বিরোধী দলনেতা। তাই প্রতি সপ্তাহে কম করে একবার ভবানীপুর বিধানসভায় বিজেপির নানা কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন তিনি। বিরোধী দলনেতা এই কেন্দ্র থেকে প্রার্থী হতেও পারেন বলেও আলোচনা তুঙ্গে।

দোলের সকালে দেশবাসীর উদ্দেশে শুভেচ্ছা ও সম্প্রীতির বার্তা দিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নিজের এক্স হ্যান্ডলে পোস্ট করে তিনি দোলযাত্রার শুভেচ্ছা জানান এবং উৎসবের মর্মার্থ হিসাবে শান্তি ও ঐক্যের আহ্বান জানান। মুখ্যমন্ত্রী তাঁর বার্তায় কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পংক্তি উদ্ধৃত করে লেখেন, ‘ওরে গৃহবাসী খোল্ দ্বার খোল্, লাগল যে দোল। স্থলে জলে বনতলে লাগল যে দোল।’ এর পরেই তিনি সকলকে শুভ দোলযাত্রার আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান। পাশাপাশি তাঁর বার্তায় স্পষ্ট ভাবে উঠে আসে সম্প্রীতির সুর। তিনি লেখেন, ‘শান্তির হোলি ও দোল আনুক মানুষের পবিত্র সম্প্রীতি।’ উৎসবের আবহে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সামাজিক ঐক্যের বার্তাকেই গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি। একই দিনে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-ও নিজের এক্স হ্যান্ডলে শুভেচ্ছা বার্তা পোস্ট করেন। তাঁর বার্তায় দোল ও হোলির তাৎপর্যকে আরও বিস্তৃত সামাজিক প্রেক্ষাপটে তুলে ধরা হয়। তিনি লেখেন, ‘প্রতি বছর রং হাতে নিয়ে এই উৎসব আসে এবং আমাদের একটি চিরন্তন শিক্ষা দিয়ে যায়। রং যখন আমাদের স্পর্শ করে, তখন সে আমাদের নাম, জাত, ভাষা বা ধর্ম জানতে চায় না, বরং সকলকেই সমান ভাবে আপন করে নেয়। একটি সমাজ তখনই সত্যিকার অর্থে প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে, যখন প্রতিটি রং সমান মর্যাদা ও সম্মানের সঙ্গে সহাবস্থান করতে পারে। দোলযাত্রা ও হোলির চেতনা আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে ঐক্যই আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি এবং সম্প্রীতি রক্ষা করা আমাদের সম্মিলিত দায়িত্ব। এই উৎসব যেন মানুষের মধ্যে একসঙ্গে থাকার বিশ্বাস, ন্যায়বোধ এবং সমান অধিকারের চেতনা আরও দৃঢ় করে। একই আকাশের নীচে প্রত্যেক নাগরিক সমান মর্যাদা পাক—এই কামনাই তাঁর বার্তায় প্রতিফলিত হয়েছে। দোল ও হোলির প্রভাতে দুই শীর্ষ তৃণমূল নেতার এই বার্তায় স্পষ্ট, রঙের উৎসব শুধু আনন্দের নয়, বরং সাম্য, সম্প্রীতি ও মানবিকতারও প্রতীক। রাজনৈতিক মহলের মতে, উৎসবের সকালে নিজেদের বার্তায় কোনো রাজনীতির কথা না উল্লেখ করলেও এই দুই নেতা আসলে নিশানা করেছেন রাজ্যের প্রধান বিরোধীদল তথা কেন্দ্রীয় শাসকদল বিজেপিকে। কারণ, রাজনৈতিক মঞ্চ থেকে মমতা এবং অভিষেককে বারবার বিজেপির বিরুদ্ধে বিভেদমূলক ও সাম্প্রদায়িক রাজনীতি করার অভিযোগ এনেছেন। রঙের উৎসবকে হাতিয়ার করে তাঁরা বিভেদের রাজনীতি থেকে সরে আসার বার্তা দিয়ে আসলে পদ্ম শিবিরকেই বোঝাতে চেয়েছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles