Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

‘রং বরসে…’, দোলের আসল আনন্দ!‌ দোলে ‘রংবাজি’ করুক ছোটরা, শুধু চোখ বাঁচিয়ে

রঙের উৎসবে ছোটদের আনন্দই বেশি। দোলের অনেক আগে থেকেই পিচকারি, নানা রকম রং কেনার তোড়জোড় শুরু হয়ে যায়। তাই দোলের দিন ‘রংবাজি’ স্বাগত, তবে চোখ বাঁচিয়ে। আবির আর রঙে একে অপরকে রাঙিয়ে দিতে গিয়ে চোখের যাতে কোনও ক্ষতি না হয়, সেটিই দেখার। দোলের রঙে থাকা রাসায়ানিকের প্রভাবে চোখের মারাত্মক ক্ষতির আশঙ্কা থাকে। শুধুমাত্র কলকাতা শহরেই দোলের দিন বহু মানুষ লাল টকটকে চোখ নিয়ে চিকিৎসকের কাছে ছুটে যান। কলকাতা ও শহরতলির চোখের হাসপাতাল আর ক্লিনিকে চোখের কষ্ট নিয়ে ভিড় উপচে পড়ে। অথচ একটু সতর্ক থাকলে এই বিপদ প্রতিরোধ করা যায় সহজেই। ছোটদের জন্য তাই অভিভাবকদেরই ব্যবস্থা নিতে হবে আগে থেকে। দোকানে এখন যে সব রং পাওয়া যায়, তার বেশির ভাগই রাসায়নিকে ঠাসা। ভেষজ বলে যে রং হাতে ধরিয়ে দেন দোকানি, তা-ও কি খুব সুরক্ষিত? চিকচিকে দানাদার রঙে গিজগিজ করে রাসায়নিক। আর সে সব কোনও রকমে যদি চোখে সেঁধিয়ে যায়, তা হলেই বিপদ। যেমন, লাল রঙে থাকা মার্কারির যৌগ চোখে গেলে চোখ ফুলবে, ব্যথা হবে। সবুজ রঙে থাকা কপার সালফেটের প্রভাবে চোখে ভয়ানক সংক্রমণ হতে পারে। উজ্জ্বল হলুদ রঙে থাকা লেডের মতো ভারী ধাতু চোখের স্নায়ু নষ্ট করে দিতে পারে। নীল রঙে আছে প্রাশিয়ান ব্লু, যে কারণে চোখ কড়কড় করে। দোলের পরে চোখের বিভিন্ন অংশে কেমিক্যাল বার্নের ঘটনা ঘটে। জোরে ছোড়া বেলুন বা পিচকারি থেকে বেরোনো রং চোখে লাগলে, চোখের সংবেদনশীল অংশ ঝলসে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। অভ্র ও ভারী ধাতু মিশ্রিত রং বা আবিরের কারণে কর্নিয়ার ‘এপিথেলিয়াল টিস্যু’ উঠে যেতে পারে। তখন চোখ জ্বালা করবে, লাল হয়ে যাবে, অনবরত জল পড়তে থাকবে। ছোটরা রং খেললে তাই বড়দের দেখতে হবে, কোনও ভাবেই যাতে রং চোখের ভিতরে ঢুকে যেতে না পারে। শুকনো আবিরের গুঁড়ো যতই নিরীহ মনে হোক, তাতেও বিপদের আশঙ্কা ষোলোআনা। বন্ধুদের চমক দিতে গিয়ে পিছন দিক থেকে দৌড়ে এসে মুখে রং মাখাতে গিয়ে চোখে আবির ঢুকে যায়। চোখ রগড়ে তা বার করার চেষ্টাও সহজাত প্রবৃত্তি। আর এতেই কর্নিয়ায় বড়সড় ক্ষত তৈরি হয়ে যায়। আবির মূলত ক্ষারধর্মী। অ্যালাকালাইনের প্রভাবে চোখের সংবেদনশীল অংশ নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। একে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় বলে ‘কর্নিয়াল অ্যাব্রেশন’ ভেষজ পাউডার দেওয়া আবির হোক অথবা চিরাচরিত অভ্র মিশ্রিত, দুটোই কর্নিয়া নষ্ট করে দিতে পারে। গুঁড়ো আবির চোখে ঢুকে থাকলে তাতে ক্ষতি বেশি হয়। এতে কর্নিয়ায় গভীর ক্ষত হতে পারে।
দোলের দিন আরও এক রকম দুর্ভোগ ঘটে, যার নাম ‘ব্লান্ট ট্রমা’। উডুক্কু রং ভরা বেলুন এর জন্য দায়ী। বারান্দা বা ছাদ থেকে ঠিক নিশানা করে বেলুন ছোড়া হল, আর সেই উড়ুক্কু বেলুন তীব্র গতিতে এসে মুখের উপর ফেটে গেল, এমন তো হামেশাই হয়। বিপদ এখানেই। চিকিৎসক মৃন্ময় জানালেন, রঙিন বেলুন সজোরে ফেটে চোখ মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, এমন উদাহরণ বহু। দোলের দিনে এমন বিপদই বেশি ঘটে। ছোটরা বিশেষ করে বেলুন ছুড়ে একে উপরকে রাঙিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। এতে মজা হলেও, দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে যখন তখন। রাসায়ানিকের ক্ষতিকর দিক ছাড়াও জোর আঘাতে চোখের পাতা থেকে শুরু করে কর্নিয়া, এমনকি রেটিনারও সমস্যা হতে পারে। তাই ছোটরা যাতে রঙিন বেলুন না ছোড়ে, সে দিকে সতর্ক নজর রাখতে হবে বড়দেরই।

চোখ বাঁচাতে সানগ্লাস বা চশমা পরে দোল খেলতে বেরোনোই বুদ্ধিমানের কাজ। ছোটদের জন্যও কিনে দিন সুদৃশ বড় ফ্রেমের সানগ্লাস। এতে হঠাৎ করে চোখে রং ঢুকে যাওয়ার ভয় থাকবে না। কৃত্রিম রাসায়ানিক রঙের পরিবর্তে নানা রকম ফুলের পাপড়ি বা রান্নার হলুদ দিয়ে রং তৈরি করে দিন ছোটদের। চোখও বাঁচবে, আবার দোলের দিন রঙের ভয়ে লুকিয়ে বসে থাকতেও হবে না। চিকিৎসক সৌমেনের পরামর্শ, ছোটদের বোঝাতে হবে কেউ যদি পিছন থেকে মাথায় বা মুখে রং মাখায় বা তার দিকে রং ছুড়ে দেয়, তৎক্ষণাৎ চোখ বন্ধ করে নিতে হবে। চোখ খোলার আগে ভাল করে মুখে জলের ঝাপটা দিয়ে নিতে হবে। চোখে রং বা গুঁড়ো আবির ঢুকলে কখনওই চোখ রগড়ানো চলবে না। চোখ চুলকালে বা কড়কড় করতে শুরু করলে ঠান্ডা জলের ঝাপটা। জল কিন্তু পরিশ্রুত হওয়া চাই। অ্যান্টিবায়োটিক ড্রপ ব্যবহার করা যেতে পারে। অনেকে দোকান থেকে ওষুধ কিনে নিজেরাই ব্যবহার করেন, এতে মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে। লুব্রিকেটিং আই ড্রপ ব্যবহার করা যেতে পারে, তবে স্টেরয়েড যুক্ত কখনওই নয়। রং খেলার পরে ঈষদুষ্ণ জল দিয়ে চোখ ধুয়ে ফেলা ভাল। রং খেলার আগে মাথার চুলে ভাল করে নারকেল তেল মেখে নিলে ক্ষতিকর রঙের প্রভাব থেকে এক দিকে যেমন চোখ বাঁচবে, তেমনই স্নানের সময়ে চোখে রং ঢোকার ভয়ও খানিকটা কমবে। আবিরে চোখ ভীষণ ভাবে শুকিয়ে যায়। এ ক্ষেত্রে বারে বারে চোখে জল দেওয়া প্রয়োজন। চোখে জলে গোলা রং ঢুকে গেলেও বারে বারে জল দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে। টানা ১০ থেকে ১৫ মিনিট ধীরে ধীরে জলের ঝাপটা দিতে হবে মুখে ও চোখে। জল দিয়ে ধোয়ার পরে এবং আই ড্রপ দিয়েও চোখে রং আটকে থাকলে বা ব্যথা না কমলে, চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে। রং লাগার পরে নয়, আগে থেকেই সাবধান হতে হবে অভিভাবকদের। ছোটদের সামলানোর দায়িত্ব বড়দের। ছোটদের একা রং না খেলতে পাঠানোই ভাল। বড়রা সঙ্গে থাকবেন। রং ভরা বেলুন কোনও ভাবেই ছোটদের হাতে না।

আচমকা মুখের উপর ছুঁড়ে দেওয়া হল এক মগ রং গোলা জল। সামলানোর আগেই মুখে ঢুকে গেল। চলে গেল পেটের ভিতরেও। তারপরেই শুরু হল আতঙ্ক। রং মাত্রই ক্ষতিকর রাসায়নিক। পেটে গিয়ে তা কোনও সমস্যা তৈরি করবে না তো? কী কী ক্ষতি হতে পারে? ইত্যাদি ইত্যাদি। বেশি ভয় পেয়ে অনেকে এমন হলে বমি করে রং বার করে দেওয়ারও চেষ্টা করেন। রং মুখে ঢোকামাত্রই দেরি না করে প্রচুর পরিমাণে পরিষ্কার ও সাধারণ তাপমাত্রার জল দিয়ে বারবার কুলকুচি করুন। যাতে রং গলার আরও নীচে নেমে না যায়। ঠোঁটের চারপাশ এবং মুখের ভেতরটা আঙুল দিয়ে আলতো করে পরিষ্কার করে নিন। যদি সামান্য পরিমাণ রং পেটে চলে যায়, তবে তৎক্ষণাৎ প্রচুর পরিমাণে জল পান করুন। জল পানের ফলে শরীরের ভেতরে যাওয়া রঙের ঘনত্ব কমে যায় এবং তা প্রস্রাবের মাধ্যমে শরীর থেকে বেরিয়ে যেতে সাহায্য করে। অনেকেই রং বের করার জন্য জোর করে বমি করার চেষ্টা করেন, সেটা করা একদমই উচিত নয়। জোর করে বমি করলে রাসায়নিক মিশ্রিত রং ফুসফুসে ঢুকে গিয়ে আরও বড় বিপদ ঘটাতে পারে। শরীর স্বাভাবিক নিয়মেই তা বের করে দেওয়ার চেষ্টা করবে। রঙের তিতকুটে ভাব বা রাসায়নিকের প্রভাব কাটাতে সামান্য পরিমাণ লেবুর শরবত বা দই খেতে পারেন। লেবুর সাইট্রিক অ্যাসিড এবং দইয়ের প্রোবায়োটিক উপাদান পেটের অস্বস্তি কমাতে সাহায্য করবে। রং গিলে ফেলার পরবর্তী কয়েক ঘণ্টা শারীরিক অবস্থার দিকে নজর রাখুন। যদি নিম্নোক্ত সমস্যাগুলো দেখা দেয়, তবে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

দোলের সকাল মানেই আবির আর রঙের মেলা। বাঙালির দোল উৎসব শুধু রং খেলায় সীমাবদ্ধ নয়। এই বিশেষ দিনে আড্ডাকে আরও জমজমাট করে তুলতে প্রয়োজন হয় বিশেষ পানীয়। আর সেই তালিকায় একেবারে উপরের দিকেই রয়েছে ভাঙের শরবত। দোলের দিন ভাঙের শরবত ছাড়া যেন আনন্দটা একেবারেই বেমানান। ভাঙের শরবত তৈরির প্রক্রিয়াটি খুব একটা কঠিন নয়। তবে প্রয়োজন সঠিক উপকরণের মাপ। এই সুস্বাদু শরবত বানাতে প্রয়োজন দুধ, ডাবের জল, কাজুবাদাম, চিনেবাদাম, মাখা সন্দেশ, চিনি, গোলাপ জল, কেওড়ার জল, মৌরি গুঁড়ো এবং অবশ্যই ভাং পাতা বাটা। প্রস্তুত প্রণালীটি শুরু করতে হবে আগের দিন রাত থেকেই। চিনেবাদাম ও কাজুবাদাম আগের রাতে জলে ভিজিয়ে রাখতে হবে। এরপরের দিন দুধের সঙ্গে চিনি মিশিয়ে জ্বাল দিয়ে ঘন করে নিয়ে পুরোপুরি ঠান্ডা করতে হবে। ঠান্ডা হয়ে গেলে দুধের মধ্যে ভিজিয়ে রাখা বাদাম বাটা, মাখা সন্দেশ, ভাং পাতা বাটা, ডাবের জল এবং মৌরি গুঁড়ো মিক্সার গ্রাইন্ডারে দিয়ে ভালো করে মিশিয়ে নিতে হবে। এই মিশ্রণটি একটি আলাদা পাত্রে ঢেলে তার মধ্যে গোলাপ জল ও কেওড়ার জল মিশিয়ে দিন। তবে শরবতের স্বাদ ও গন্ধ দ্বিগুণ করতে একটি বিশেষ কৌশল ব্যবহার করা হয়। একটি তামার পাত্র গ্যাসে খুব ভালো করে গরম করে নিয়ে সরাসরি শরবতের মিশ্রণে ডুবিয়ে দিতে হবে। এতে পানীয়টিতে এক বিশেষ ধোঁয়াটে সুগন্ধ ও স্বাদ আসে। রঙিন পানীয় ছাড়া রঙের উৎসব জমবেই না। তবে তার জন্য ভাঙ বা অ্যালকোহলের প্রয়োজন নেই। এখন অনেকেই স্বাস্থ্য সচেতন। তাই দোলের দিনে গলা ভেজাতে স্বাস্থ্যকর পানীয়ের কথাই ভাববেন। তার জন্য রয়েছে রংবেরঙের মকটেল, যা বানাতে পারেন সোডা ছাড়াই। রঙের উৎসবে রঙিন মকটেল।

ভার্জিন পিনা কোলাডা। কাপ আনারসের টুকরো (ফ্রিজে রেখে ঠান্ডা করে নিন), ১ কাপ নারকেলের দুধ, ২ কাপ আনারসের রস এবং মিষ্টির জন্য চিনির সিরাপ বা মধু নিয়ে নিন। ব্লেন্ডারে আনারসের কয়েকটি টুকরো, আনারসের রস, নারকেলের দুধ ও চিনির সিরাপ ভাল করে ব্লেন্ড করে নিন। এ বার গ্লাসে কয়েকটি বরফ দিয়ে তার উপরে মিশ্রণটি ঢালুন। উপরে কয়েকটি আনারসের টুকরো, চেরি ও লেবুর রস মিশিয়ে দিলেই তৈরি হয়ে যাবে মকটেল।

সিন্ডারেলা মকটেল। দেখতে ভারি সুন্দর হয়, হালকা গোলাপি রঙের। একটি কাচের গ্লাসের উপরের প্রান্তে সৈন্ধব লবণ ও লেবু মাখিয়ে নিন। গ্লাসে ঢালুন বরফকুচি। চিনির রস দিন সামান্য। একটু সৈন্ধব লবণ দিয়ে তৈরি করা বেদানার রস ঢেলে দিন। বেদানা পিষে বাড়িতেই রস বানিয়ে নেবেন। এর পর গ্লাসে পুদিনা পাতা ও বেদানা ছড়িয়ে পরিবেশন করুন।

পিঙ্ক কোকোনাট কুলার। ডাবের জল, এক টুকরো বিটরুট (রঙের জন্য) এবং সামান্য গোলাপ জল নিতে হবে। ডাবের জলে বিটরুটের ছোট টুকরো কিছু ক্ষণ ভিজিয়ে রাখলে সুন্দর গোলাপি রং আসবে। এ বার বিটরুট তুলে নিয়ে গোলাপ জল ও বরফ মিশিয়ে দিন। পরিবেশনের আগে পানীয়ের উপর ডাবের শাঁস ছোট ছোট করে কেটে ভাসিয়ে দিতে পারেন।

পার্পল বেরি ব্লাস্ট। খুব সুন্দর বেগনি রং আসবে এই পানীয়ের। কালো আঙুরের রস বা কালোজামের রস, বিটনুন ও সামান্য আমচুর পাউডার নিয়ে নিন। রসটি ভাল করে ছেঁকে নিয়ে তাতে মশলা মিশিয়ে নিন। এ বার থালায় নুন ও লঙ্কাগুঁড়ো ছড়িয়ে গ্লাসটি উল্টে থালায় চেপে ধরুন। গ্লাসের মুখে নুন ও লঙ্কার গুঁড়োর মিশ্রণ লেগে যাবে। এর পর সেই গ্লাসে কয়েকটি বরফকুচি নিয়ে তার উপর ফলের রস ঢেলে দিন।

রুবি রেড ওয়াটারমেলন মোহিতো। পানীয়টি সুন্দর লাল রঙের হবে। এর জন্য লাগবে তরমুজের রস, পুদিনা পাতা, লেবুর রস, সৈন্ধব লবণ এবং বরফকুচি। তরমুজের দানা ছাড়িয়ে রস করে নিন। গ্লাসে পুদিনা পাতা ও লেবু ছেঁচে নিয়ে তাতে তরমুজের রস ও বরফ মিশিয়ে দিন। এই পানীয় শরীরে জলের ঘাটতিও দূর করবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles