Friday, March 6, 2026
spot_imgspot_img

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

যত বড় ‘বঞ্চনা’, তত বড় হোক প্রত্যাবর্তন!‌ ভাল জিনিস ভাল মানুষদের সঙ্গেই হয়, তবে অপেক্ষা করতে হয়!

হতাশ করলেন না সঞ্জু। নিজেকে উজাড় করে দিলেন বিশ্বকাপের ‘কোয়ার্টার ফাইনালে’। ইডেন গার্ডেন্স খালি হাতে ফেরাল না ভারতকে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ়কে পাঁচ উইকেটে হারাল সূর্যকুমার যাদবের দল। ম্যাচের পর ভারতের অধিনায়ক বুকে জড়িয়ে নিলেন সঞ্জু স্যামসনকে। জয়ের কৃতিত্ব পুরোপুরি দিলেন তাঁকেই। জানালেন, ভাল মানুষের সঙ্গেই ভাল জিনিস হয়।ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের কাছে হারলেই বিশ্বকাপ থেকে পিছলে যেত ভারত। সঞ্জু পিছলে যেতে দিলেন না। দলের ইনিংসের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ২২ গজের এক প্রান্ত আঁকড়ে রাখলেন। সংযত থাকলেন প্রতিটি বলে। বুঝে খেললেন। ব্যক্তিগত কীর্তির জন্য তাড়াহুড়ো করেননি। দলের স্বার্থকে গুরুত্ব দিচ্ছেন। সতীর্থ, সাপোর্ট স্টাফেরা যখন তাঁকে অভিনন্দন, আদরে ভরিয়ে দিচ্ছিলেন, তখনও সঞ্জু ছিলেন সংযত। আবেগ, উচ্ছ্বাস সব নিয়ন্ত্রণ করেছেন। ভারতকে জিতিয়ে যেন এটাই ইডেনের দেওয়ালে লিখে দিয়ে গেলেন সঞ্জু স্যামসন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে ‘কোয়ার্টার ফাইনালের’ চাপ সামলে বড় রান তাড়া করে ভারতকে সেমিফাইনালে তুললেন তিনি। ৫০ বলে ৯৭ রানের ইনিংসটা হয়তো ভারতের ক্রিকেট ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। ম্যাচের পর সঞ্জু বলে গেলেন, এই দিনটার জন্যই এতদিন ধরে ক্রিকেট খেলেছেন। সঙ্গে কৃতিত্ব দিয়ে গেলেন পূর্বসুরী রোহিত শর্মা-বিরাট কোহলি-মহেন্দ্র সিং ধোনিদের। ইডেনের পিচে ১৯৬ রান তাড়া করাটা হয়তো অসাধ্য নয়। কিন্তু বিশ্বকাপের চাপও তো একটা ব্যাপার। চাপ! কীসের চাপ? সঞ্জু স্যামসন বোধহয় সেই শব্দটা শুনে ইডেনে নামেননি। ডাগআউটে বসে বসে হয়তো মনের মধ্যে একটা প্রতিজ্ঞা করে ফেলেছিলেন। অগ্নিপরীক্ষায় নিজেকে প্রমাণ করে ‘বঞ্চনা’র জবাব দেব! ক্যারিবিয়ানদের দুর্ভাগ্য ও ভারতের সৌভাগ্য যে এই ম্যাচটায় তিনি সঞ্জু থেকে ‘সুপার’সঞ্জু হয়ে উঠলেন। ম্যাচ জিতিয়ে মাঠেই বসে পড়ে ঈশ্বরকে ধন্যবাদ দিলেন। তারপর সাজঘরে গিয়ে ব্যাটে চুম্বন। বোঝাই যাচ্ছিল, ইনিংসটা কতটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল। সঞ্জু বললেন, “যেদিন থেকে ক্রিকেট খেলা শুরু করেছি, যেদিন থেকে দেশের জন্য খেলছি, সেদিন থেকে এই ইনিংসটার জন্য অপেক্ষা করেছি। আমার ক্রিকেট সফরে বহু উত্থানপতন ছিল। নিজের ক্ষমতা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছি। ভাবতাম, আমি কি পারব? কিন্তু এই দিনটার জন্য ঈশ্বরের কাছে কৃতজ্ঞ।”

সঞ্জুর বিশেষত্ব হল, খুব একটা জোরে মারার চেষ্টা করেন না। কিন্তু ক্লাস-টাইমিংয়ে যে টি-টোয়েন্টি শাসন করা যায়, তা ফের বুঝিয়ে দিয়ে গেলেন সঞ্জু। মাঝের দিকে ধরে ইনিংস সাজিয়েছেন। ম্যাচ শেষ পর্যন্ত নিয়ে গেছেন। কারও স্মৃতিতে ফিরতেই পারে ‘চেজমাস্টার’ বিরাট কোহলির কথা। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে রান তাড়া করার ক্ষেত্রে ভারতীয়দের মধ্যে কোহলিকে টপকে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ডও গড়লেন তিনি। সঞ্জু বলে গেলেন, “আমি বহু বছর ধরে এই ফরম্যাটে খেলছি। বিরাট কোহলি, রোহিত শর্মা, মহেন্দ্র সিং ধোনিদের মতো ক্রিকেটারদের থেকে শিখেছি। সেটা আমাকে পরিপক্ব হতে সাহায্য করেছে। আমি দেখেছি এই কিংবদন্তিরা কীভাবে খেলেন, কীভাবে পরিস্থিতি অনুযায়ী খেলার গতি বদলান। সেভাবেই খেলেছি। কখনও ভাবিনি এরকম একটা ইনিংস খেলব। আজকের দিনটা আমার জীবনের অন্যতম সেরা দিন।” গত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দলেও ছিলেন সঞ্জু। একটি ম্যাচও খেলার সুযোগ পাননি। ক্রিকেটজীবনের দ্বিতীয় বিশ্বকাপেও প্রথম একাদশে সুযোগ পাচ্ছিলেন না। সুযোগ পেয়েছেন গম্ভীরের ভরসার ওপেনিং জুটি ম্যাচের পর ম্যাচ ব্যর্থ হওয়ার পর। তার পর এমন ইনিংস। যে ইনিংস শুধু তাঁর স্বপ্নই পূরণ করল না, ভারতীয় দলকেও বাড়তি অক্সিজেন দিল সেমিফাইনালের আগে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles