সমাজে এখনো কিছু সৎ পুলিশ অফিসার আছেন। তা আবার প্রমাণিত হল। সমাজমাধ্যমেও টিকিটের বিজ্ঞাপন দিয়ে কালোবাজারী! খবর পেয়েই পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ। বড় চক্র। সিএবির অন্দমহলের লোক টিকিট ব্ল্যাকে যুক্ত। একথা শোনামাত্রই ব্যপারটি একেবারে গোপন রাখার পরামর্শ জনৈক সৎ নিষ্ঠাবান পুলিশ অফিসারের। একেবারে হাতেনাতে ধরপাকড়। দীর্ঘদিন ধরেই পুলিশের নাকের ডগায় হাতে করে টিকিট বিক্রি হচ্ছে। অথচ ধরতে পারা যায় না কালোবাজারীর টিকিটুকুও। টিকিটের আকাশছোঁয়া চাহিদা দেখে ঝোপ বুঝে কোপ মারতে ছাড়ছে না কালোবাজারি কারবারিরা। খোলাবাজারে কালোবাজারি চলার খবরও অগনিত। এবার সিএবির খামে ভরে টিকিট ব্ল্যাক করছেন সিএবির এক দায়িত্বপ্রাপ্ত। ব্যাগভর্তি সিএবির স্কোরকার্ড, সংস্থার গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র। কলকাতা পুলিশের বাইক চড়ে টিকিট ব্ল্যাক। হাতেনাতে ধরল শিবপুর থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত নিখাদ স্বচ্ছ পুলিশ অফিসার। কমপ্লিমেন্টারি টিকিট, ৯০০র টিকিট, সাড়ে ছয় হাজার করে বিক্রি করতে গিয়ে ধরা পড়ল কালোবাজারী।
রবিবারের ‘মহারণ’ ঘিরে এখন থেকেই ফুটছে তিলোত্তমা। ইডেন ম্যাচের টিকিটের চাহিদাও তুঙ্গে। ইডেনে ক্যারিবিয়ান দলের বিরুদ্ধে টিম ইন্ডিয়ার ম্যাচ একপ্রকার কোয়ার্টার ফাইনাল। রবিবারের ‘মহারণ’ ঘিরে এখন থেকেই ফুটছে তিলোত্তমা। গ্রুপ পর্বে ভারতের কোনও ম্যাচ পায়নি কলকাতা। তাই সুপার এইটের ‘ডু অর ডাই’ ম্যাচে সূর্যকুমারদের দেখার সুযোগ হাতছাড়া করতে চাইছেন না ক্রিকেটভক্তরা। আজ ময়দান চত্বরে গিয়ে দেখা গেল থিকথিকে ভিড়। প্রত্যেকেই এসেছে একটা টিকিটের খোঁজে। ময়দান চত্বরে কান পাতলে শোনা যাচ্ছে, দূরদূরান্ত থেকে অনেকেই ভোর ভোর চলে এসেছেন। টিকিটের আকাশছোঁয়া চাহিদা দেখে ঝোপ বুঝে কোপ মারতে ছাড়ছে না কালোবাজারি কারবারিরা। শুক্রবার লোয়ার টিয়ারের টিকিট বিক্রি হয়েছে ৩০ হাজার টাকায়। শনিবার টাকার অঙ্কটা ৫০ হাজারে চলে যেতে পারে বলে আশঙ্কা। তাছাড়াও আপার টিয়ারের টিকিট বিক্রির খবর পাওয়া গিয়েছে ২০-২৫ হাজার টাকায়। ৯০০ টাকার টিকিট বিকোচ্ছে ৫-৭ হাজার টাকায়। এখানেই শেষ নয়। ১০ হাজারেও টিকিট বিক্রির কথা জানা গিয়েছে। খোলা বাজারেই দেদার চলছে এই ব্যবসা। উল্লেখ্য, প্রথম দফায় যে টিকিট ছাড়া হয়েছিল, তা ইতিমধ্যেই নিঃশেষিত। দ্বিতীয় দফার টিকিট এখনও পর্যন্ত অনলাইনে পাওয়া যাচ্ছে না। ওয়েবসাইটে গেলে টিকিট কাটার কোনও অপশনের দেখা মিলছে না। মাঠের লড়াইয়ের আগেই টিকিটের বাজারে চলছে কালোবাজারি। খোলা আকাশের নিচে সকাল থেকেই চলছে কালোবাজারি। প্রথম দফায় ছাড়া টিকিট মুহূর্তে নিঃশেষ। দ্বিতীয় দফা এখনও অনলাইনে উন্মুক্ত হয়নি। এমনকি, ওয়েবসাইটে টিকিট কাটার অপশনই নেই। যে কারণে কালোবাজারিরা সক্রিয় হয়ে উঠেছে। ৯০০ টাকার টিকিট বিক্রি হচ্ছে প্রায় ৫-৭ হাজারে, লোয়ার টিয়ার ৩০ হাজারে, আপার টিয়ার ২০-২৫ হাজারে বিক্রির খবর মিলেছে। সমর্থকদের ক্ষোভ থাকলেও উত্তেজনায় ভাটা নেই। ইডেনের ২২ গজে টিম ইন্ডিয়ার লড়াই দেখার জন্য মুখিয়ে রয়েছে শহরবাসী। রবিবারের খেলা দুই দলের কাছেই কার্যত কোয়ার্টার ফাইনাল। যে দল জিতবে, সে সেমিতে। অন্য দল টুর্নামেন্টকে বিদায় জানাবে। সুপার এইটের প্রথম ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে পরাস্ত হওয়ার পর জিম্বাবোয়েকে ৭২ রানে হারিয়ে চাঙ্গা হার্দিকরা। এবার ক্যারিবিয়ান বধের লক্ষ্যে ইডেনের ২২ গজে নামবেন তাঁরা। গতবারের চ্যাম্পিয়ন ভারতের খেলা দেখতে মুখিয়ে দর্শক। ক্রিকেটের নন্দনকানন সেদিন হাউসফুল থাকবে।
ইডেনে বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল অনিশ্চিত? টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রথম সেমিফাইনাল কি ইডেন গার্ডেন্সে হবে? শুক্রবারই এই প্রশ্মের উত্তর দিয়ে দিতে পারত ইংল্যান্ড-নিউ জ়িল্যান্ড ম্যাচ। কিন্তু মিচেল স্যান্টনারেরা হেরে যাওয়ায় উত্তর এখনও অধরা। কলকাতার ক্রিকেটপ্রেমীদের আশঙ্কায় রেখেছে পাকিস্তান-শ্রীলঙ্কা ম্যাচ। শনিবার সুপার এইটের ‘গ্রুপ টু’র শেষ ম্যাচে মুখোমুখি হবেন সলমন আলি আঘা এবং দাসুন শনাকারা। এই ম্যাচের পর চূড়ান্ত হয়ে যাবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের তৃতীয় সেমিফাইনালিস্ট। নিউ জ়িল্যান্ড একটি ম্যাচ জিতেছে। তাদের একটি ম্যাচ বৃষ্টিতে ভেস্তে গিয়েছে। স্যান্টনারদের পয়েন্ট ৩। পাকিস্তান শনিবার শ্রীলঙ্কার কাছে হেরে গেলে ১ পয়েন্টের বেশি পাবে না। ফলে সলমনেরা ছিটকে যাবেন। শ্রীলঙ্কা জিতলেও লাভ নেই। শনাকাদের বিদায় আগেই নিশ্চিত হয়ে গিয়েছে। তবে পাকিস্তানের সম্ভাবনা রয়েছে। শ্রীলঙ্কাকে হারাতে পারলে সলমনদের পয়েন্টও হবে নিউজিল্যান্ডের মতো ৩। তখন দেখা হবে নেট রান রেট। নিউজিল্যান্ডের নেট রান রেট ১.৩৯০। পাকিস্তানের -০.৪৬১। নেট রান রেটে কিউয়িদের টপকাতে হলে বড় ব্যবধানে জিততে হবে পাকিস্তানকে। প্রথম ব্যাট করলে সলমনদের জিততে হবে ৬৪ রানে। আর পরে ব্যাট করলে ১৩.১ ওভারের মধ্যে লক্ষ্যে পৌঁছোতে হবে তাঁদের। এই ম্যাচের ফলের উপরই নির্ভর করবে ইডেনে সেমিফাইনাল হবে কি না।




