Thursday, April 23, 2026
spot_imgspot_img

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

বন্ধ্যাত্বের দায় শুধু নারীর নয়!‌ সন্তানধারণে বাধা ‘লো স্পার্ম কাউন্ট’! অতি মানসিক চাপের কারণে দম্পতিদের মধ্যে বন্ধ্যাত্বের সমস্যা ক্রমশ বাড়ছে?‌

সন্তানহীনতার জন্য সমাজ সাধারণত মহিলাদের দোষারোপ করে। কিন্তু গর্ভধারণের জন্য নারী ও পুরুষ উভয়ের সমান ভূমিকা থাকে। শুক্রাণু বা ডিম্বাণু— যে কোনও একটির গুণমান খারাপ হলে সন্তানধারণে সমস্যা হতে পারে। সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গিয়েছে, মহিলদের তুলনায় পুরুষদের মধ্যে প্রজনন সমস্যা বাড়ছে। অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস, ধূমপান এবং মদ্যপানের কারণে শুক্রাণুর সংখ্যা ও তার গতিশীলতা আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাচ্ছে, যা বন্ধ্যাত্বের অন্যতম প্রধান কারণ। মা হওয়া যেকোনও মহিলার কাছেই এক পরম প্রাপ্তি। বর্তমান যুগে বদলে যাওয়া জীবনধারা, অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস এবং অত্যধিক মানসিক চাপের কারণে দম্পতিদের মধ্যে বন্ধ্যাত্বের সমস্যা ক্রমশ বাড়ছে। কেবল মহিলারা নন, পুরুষদের শুক্রাণুর গুণমান হ্রাস পাওয়াও এখন উদ্বেগের বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, সঠিক সচেতনতাই পারে এই জটিল সমস্যার সমাধান করতে। চিকিৎসকদের মতে, ৩৫ বছরের বেশি বয়সে গর্ভধারণের চেষ্টা করলে প্রজনন ক্ষমতা প্রাকৃতিকভাবেই হ্রাস পায়। এছাড়া পিসিওডি, এন্ডোমেট্রিওসিস এবং ফ্যালোপিয়ান টিউবে ব্লকেজের মতো সমস্যাগুলি মাতৃত্বের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। চিকিৎসকদের মতে, সন্তানধারণের জন্য প্রতি মিলিলিটার বীর্যে আদর্শগতভাবে ৩০ থেকে ৪০ কোটি শুক্রাণু থাকা প্রয়োজন। এই সংখ্যাটি যদি ৩ কোটির নিচে নেমে আসে, তবে স্বাভাবিকভাবে গর্ভধারণের সম্ভাবনা অনেকটাই কমে যায়। বীর্যে শুক্রাণুর সংখ্যা যদি ১ থেকে ২ কোটির মধ্যে থাকে, তবে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় তাকে ‘লো স্পার্ম কাউন্ট’ বলা হয়। স্বাভাবিক প্রজনন প্রক্রিয়ার জন্য বীর্যে শুক্রাণুর ঘনত্ব সঠিক থাকা অত্যন্ত জরুরি। অতিরিক্ত জাঙ্ক ফুড খাওয়া, রাতে পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব এবং কর্মক্ষেত্রের মানসিক চাপ প্রজনন স্বাস্থ্যের বারোটা বাজাচ্ছে। চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, এই অভ্যাসের কারণেই মহিলাদের মধ্যে ডিম্বাণুর গুণমান দ্রুত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। শরীরের অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতা পুরুষদের শুক্রাণুর সংখ্যা কমিয়ে দেয়। চিকিৎসকদের পরামর্শ, যারা বাবা হতে চাইছেন, তাদের প্রথমেই শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে আনা এবং নিয়মিত শরীরচর্চা করা উচিত। প্রজনন ক্ষমতা বাড়াতে ডায়েটে সবুজ শাকসবজি, টাটকা ফল এবং প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার রাখা আবশ্যিক। পাশাপাশি শুকনো ফল বা ড্রাই ফ্রুটসও শুক্রাণুর মান উন্নত করতে বিশেষ সহায়তা করে বলে বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন। সুস্থ সন্তান পেতে চাইলে ধূমপান ও অ্যালকোহল থেকে দূরে থাকা বাধ্যতামূলক। সঠিক সময়ে ঘুম এবং দুশ্চিন্তামুক্ত জীবন যাপন করলে হরমোনের ভারসাম্য ঠিক থাকে, যা প্রাকৃতিকভাবেই প্রজনন ক্ষমতা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles