অধিক সংখ্যায় হাজির হয়েছিলেন সবুজ-মেরুন সমর্থকরা। দু’দিন আগেই গিয়েছে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। সেই উপলক্ষে বিশেষ টিফো নিয়ে হাজির হয়েছিলেন তাঁরা। তাঁদের সামনেই জয় পেয়ে লিগ টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে উঠে এল মোহনবাগান। জেমি ম্যাকলারেন এবং দিমিত্রি পেত্রাতোসের গোলেই আইএসএলে জয়রথ ছুটছে মোহনবাগানের। আইএসএলের দ্বিতীয় ম্যাচে চেন্নাইয়িন এফসি’কে ২-০ গোলে হারিয়ে লিগ টেবিলে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এল সবুজ মেরুন। এবারের লিগ ছোট। পয়েন্ট হারানোর অর্থ চ্যাম্পিয়নশিপের লক্ষ্যে হোঁচট খাওয়া। এই সার সত্য কারওই অজানা নয়। তবে ইতিবাচক মানসিকতা নিয়ে ফুটবলাররা যেমন নেমেছিলেন, তেমনই সোমবারও যুবভারতী ভরিয়েছিলেন সবুজ-মেরুন সমর্থকরা। দু’দিন আগেই গিয়েছে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। সেই উপলক্ষে বিশেষ টিফো নিয়ে হাজির হয়েছিলেন তাঁরা। এই পরিস্থিতিতে মুম্বইয়ের কাছে আত্মঘাতী গেলে হেরে যাওয়া চেন্নাই পেত্রাতোস, রবসন, লিস্টনদের যথেষ্ট বেগ দেওয়ার চেষ্টা করল। বাগান ফুটবলাররা রক্ষণ ভেদ করার চেষ্টা করলেও সফল হচ্ছিলেন না। তার উপর ৮ মিনিটের মাথায় সুযোগ এসে গিয়েছিল চেন্নাইয়িনের সামনে। ডান দিক থেকে নিচু ক্রস পেলেও পা ছোঁয়াতে ব্যর্থ মার্টিন। পায়ে বলে হয়ে গেলে বিপদ অবশ্যম্ভাবী ছিল মোহনবাগানের কাছে। ১২ মিনিটে সুযোগ আসে মোহনবাগানের সামনেও। রবসনের কর্নার থেকে দুর্দান্ত শট অনিরুদ্ধ থাপার। বার উঁচিয়ে চলে যায় বল। ২০ মিনিটে দিমির শট বিপক্ষ ফুটবলারের গায়ে লেগে গোলে প্রায় ঢুকেই গিয়েছিল। চেন্নাই গোলকিপার মহম্মদ নওয়াজ পরিত্রাতার ভূমিকা নেন। ৩৭ মিনিটে রবসন-লিস্টন যুগলবন্দি দেখা গেলেও তা ফলপ্রসূ ছিল না। ৪২ মিনিটে কোলাসোর শট পোস্টে লেগে প্রতিহত হয়। যদিও অফসাইডের ফাঁদে পড়েন জেমি। বল জালে জড়ালেও গোল হত না। সবাই যখন মোটামুটি ধরে নিয়েছেন গোলশূন্য শেষ হবে প্রথমার্ধ, ঠিক সেই সময় গোলের সাইরেন বাজালেন ম্যাকলারেন। অনবদ্য থ্রু পেয়ে বল জালে জড়িয়ে দিতে ভুল করেননি। দ্বিতীয়ার্ধেও একই দাপট বজায় রাখে সের্জিও লোবেরার ছেলেরা। ৪৬ মিনিটে গোল করতে ব্যর্থ হন জেমি। ৫২ মিনিটে আবারও সুযোগ এবং আবারও মিস ম্যাকলারেনের। ৬২ মিনিটেও তাঁর মিস। গ্যালারিতে উপস্থিত দর্শকরা ততক্ষণে হয়তো আপশোস করছেন এই ভেবে যে, এত সুযোগ নষ্ট না হলে হয়তো হ্যাটট্রিক পেয়ে যেতেন অজি তারকা। এর তিন মিনিট পর বাঁদিক থেকে শুভাশিসের ভাসানো ক্রস থেকে জোরাল নিখুঁত শটে গোল করে যান পেত্রাতোস। চেনা সেলিব্রেশনে মাতলেন। এরপর অবশ্য আর গোল হয়নি। ম্যাচের সেরা নির্বাচিত হন মোহনবাগানের নয়নের মণি দিমি।





