বিজেপি ছেড়ে ফের তৃণমূলে প্রাক্তন ফুটবলার তথা বিধায়ক! তৃণমূল নেতৃত্বের কাছে লিখিত ভাবে দলে ফেরার আবেদন করেছিলেন বসিরহাট দক্ষিণের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক। সেই সময় তার আবেদন গৃহীত না হলেও, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে আবারও দলে ফেরানো হল দীপেন্দুকে। তবে আগামী বিধানসভা নির্বাচনে তাঁকে প্রার্থী করা হবে কি না এই বিষয়ে উচ্চবাচ্য করেননি বসিরহাট জেলা তৃণমূল নেতৃত্ব। বিধায়ক সপ্তর্ষি বলেন, ‘‘প্রাক্তন বিধায়ক ও স্বনামধন্য ফুটবলার আবারও তৃণমূলে যোগদান করেছেন। তাতে আমাদের দল আরও শক্তিশালী হল, তাঁকে নিয়েই আমরা বসিরহাটের উন্নয়নের কাজ করব।’’ ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে আবারও তাকে ওই আসনে টিকিট দেয় তৃণমূল। সেবার বিজেপি বিধায়ক শমীককে হারিয়ে প্রথমবারের জন্য বিধায়ক হন দীপেন্দু। ২০২১ সালে ওই আসনে প্রার্থীবদল করে শাসকদল। ফুটবলার দীপেন্দুর বদলে প্রার্থী করা হয় বসিরহাটের চক্ষু চিকিৎসক সপ্তর্ষি বন্দ্যোপাধ্যায়কে। টিকিট না পেয়ে তড়িঘড়ি তৎকালীন বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষের হাত ধরে পদ্ম শিবিরে যোগদান করেন এই ফুটবলার। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির হয়ে প্রচারে যোগ দিলেও, ফলাফল ঘোষণায় তৃণমূলের বিরাট জয়ের পর পদ্ম শিবির থেকে নিজেকে পুরোপুরি সরিয়ে নেন দীপেন্দু। বিজেপি প্রার্থী শমীক ভট্টাচার্যের কাছে হারের পর আবার বিজেপি ছেড়ে ফের তৃণমূলে ফিরলেন প্রাক্তন ফুটবলার তথা বিধায়ক দীপেন্দু বিশ্বাস। রবিবার বসিরহাট সাংগঠনিক জেলা তৃণমূলের কার্যালয়ে বসিরহাট দক্ষিণের বিধায়ক সপ্তর্ষি বন্দ্যোপাধ্যায় ও জেলা তৃণমূলের সভাপতি বুরহানুল মুকাদ্দিম (লিটন)-এর উপস্থিতি তৃণমূলে যোগদান করেন তিনি। দীপেন্দু ছাড়াও কংগ্রেস, বিজেপি, সিপিএম এবং আইএসএস থেকে মোট ২৮ জন নিচুতলার কর্মীও তৃণমূলে যোগদান করেছেন। তবে সবচেয়ে নজরকাড়া যোগদান ছিল দীপেন্দুর। কারণ তিনি বসিরহাট দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক। ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে বসিরহাট দক্ষিণ বিধানসভা উপনির্বাচনে প্রথমবার তৃণমূলের টিকিটের প্রার্থী হয়েছিলেন। সেবার বিজেপি প্রার্থী শমীক ভট্টাচার্যের কাছে অল্প ভোটের ব্যবধানে হেরে যান।

যোগদানের কয়েকমাসের মধ্যেই বিজেপিতে মোহভঙ্গ হয়েছিল। এবার ফের তৃণমূলে প্রত্যাবর্তন বসিরহাট দক্ষিণের প্রাক্তন বিধায়ক ও জাতীয় দলের প্রাক্তন ফুটবলার দীপেন্দু বিশ্বাসের। এছাড়া বসিরহাট ১ নম্বর ব্লক কংগ্রেস সভাপতি কাদের সর্দার এবং বসিরহাট পৌরসভার প্রাক্তন ভাইস চেয়ারম্যান পার্থসারথি বসু-সহ একাধিক নেতৃত্ব শাসক শিবিরে যোগ দেন। বিধানসভা ভোটের মুখে প্রত্যাবর্তন এবং যোগদান যে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। বসিরহাটে শাসক শিবিরের আরও শক্তিবৃদ্ধি হল সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই। দীর্ঘদিন ধরেই তৃণমূলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন ফুটবলার দীপেন্দু বিশ্বাস। ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তাঁকে টিকিট দেয় তৃণমূল। বসিরহাট দক্ষিণ আসনে জয়লাভও করেন তিনি। কিন্তু একুশের ভোটে ঘাসফুল শিবির আর তাঁর উপর ভরসা করেনি। ফলে লড়াইয়ের সুযোগও দেয়নি। এতেই ক্ষুব্ধ দীপেন্দু জার্সি বদলে পদ্ম শিবিরে যোগ দেন। কিন্তু তাতেও লাভ হয়নি। গেরুয়া শিবিরও টিকিট দেয়নি তাঁকে। তবে তাঁকে দলের রাজ্য কমিটির স্থায়ী সদস্য করা হয়েছিল। তা সত্ত্বেও মাত্র কয়েকমাসের মধ্যেই বিজেপি ছাড়েন দীপেন্দু। রাজ্য বিজেপির সভাপতি দিলীপ ঘোষ ও রাজ্যদপ্তরে নিজের পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দিয়েছিলেন। এবার সেই দীপেন্দুই ফিরলেন তৃণমূলে। তৃণমূল ছাড়ার সিদ্ধান্ত ভুল ছিল তা কার্যত স্বীকার করে নিয়েছেন দীপেন্দু। শাসক শিবিরে প্রত্যাবর্তনের পর তিনি বলেন, “অনেক লড়াই করে ফুটবলার দীপেন্দু হয়েছেন। তাই লড়াই আমার সবসময়ের সঙ্গী।” কেন ফের তৃণমূলে ফেরা, তা-ও জানিয়েছেন প্রাক্তন বিধায়ক। তিনি বলেন,”মুখ্যমন্ত্রী বসিরহাটে যেভাবে উন্নয়ন করছেন, তার সাথী হতেই তৃণমূলে ফেরা।” বিধানসভা ভোটে ফের কি প্রার্থী হবেন বসিরহাটের ভূমিপুত্র দীপেন্দু, স্বাভাবিকভাবেই তা নিয়ে নানা মহলে চলছে জোর জল্পনা। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, “দল যে দায়িত্ব দেবে তা পালন করব।” এবার আবার কী দীপেন্দু বিশ্বাসকে টিকিট দিয়ে বিশ্বাস রাখবে তৃণমূল? লাখ টাকার প্রশ্ন খোদ জেলা নেতৃত্বেরই?
এদিকে, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজ্যে আধাসামরিক বা কেন্দ্রীয় বাহিনী আসা শুরু হবে আগামী মার্চের প্রথম সপ্তাহ থেকে— এমন খবরের প্রেক্ষিতে বেসরকারি বাস অধিগ্রহণ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করল জয়েন্ট কাউন্সিল অফ বাস সিন্ডিকেটস। সংগঠনের সম্পাদক তপন বন্দ্যোপাধ্যায় এক বিবৃতিতে দাবি করেছেন, দাবিদাওয়া নিয়ে আলোচনা না করেই রাস্তায় নেমে বাস অধিগ্রহণ শুরু হয়েছে, যা অবিলম্বে বন্ধ হওয়া উচিত। এ ভাবে রাস্তা থেকে বাস তুলে নেওয়া হলে যেমন বাসমালিকদের দাবিদাওয়া নিয়ে কোনও আলোচনার পরিসর থাকবে না, তেমনই নিত্যযাত্রীদের পরিবহণ পরিষেবা শিকেয় উঠবে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ১৯৫২ সাল থেকে এ রাজ্যে যে কোনও নির্বাচনে বেসরকারি বাস ব্যবহার করা হয়ে আসছে এবং বাসমালিকেরা সব সময় সহযোগিতা করেছেন। কিন্তু তাঁদের ন্যায্য দাবি সরকার বা নির্বাচন কমিশন গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করে না। সম্প্রতি পরিবহণমন্ত্রী স্নেহাশিস চক্রবর্তী ও পরিবহণসচিব সৌমিত্র মোহনের কাছে দাবি জানানো হলেও তা নিয়ে আলোচনার কোনও উদ্যোগ চোখে পড়েনি বলে অভিযোগ। সংগঠনের বক্তব্য, সরকার নির্ধারিত ভাড়ায় বাধ্যতামূলক ভাবে বাস দিতে হয়, কিন্তু সেই অর্থে মালিকেরা ন্যায্য পারিশ্রমিক পান না। পাশাপাশি শ্রমিকদের একটানা ২৪ ঘণ্টা ডিউটি করতে বলা হয়, অথচ উপযুক্ত খোরাকি বা সুযোগ-সুবিধা মেলে না। এর ফলে শ্রমিক অসন্তোষও বাড়ছে। সঙ্গে রাস্তা থেকে আচমকা বেসরকারি বাস তুলে নেওয়া হলে পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের জন্য কী বন্দোবস্ত করা হবে, তা নিয়েও ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। সংগঠনের আরও প্রশ্ন, সরকারের নিজস্ব বাস থাকা সত্ত্বেও কেন সেগুলি অধিগ্রহণ করা হয় না? কোনও নির্বাচনে সরকারি বাস অধিগ্রহণের নজির নেই বলেও দাবি সংগঠনের। তাদের মতে, বেসরকারি বাস অধিগ্রহণ হলে সম্পূর্ণ দায়িত্ব মালিকদের উপর বর্তায়, কিন্তু সরকারি বাসের ক্ষেত্রে সেই সমস্যা থাকে না। ওই সংগঠনের আশঙ্কা, মার্চের শুরু থেকেই যদি ব্যাপক হারে বাস অধিগ্রহণ চলতে থাকে, তবে সাধারণ যাত্রীদের জন্য পরিষেবা কমে যাবে এবং নিত্যযাত্রীদের ভোগান্তি বাড়বে। অবিলম্বে সরকার ও নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সমাধানমূলক বৈঠকের দাবি জানানো হয়েছে। প্রয়োজনে আইনের আশ্রয় নেওয়ারও হুঁশিয়ারি দিয়েছে জয়েন্ট কাউন্সিল।





