দিঘায় অত্যাধুনিক হোটেল গড়বে হিডকো। দিঘার পশ্চিম গঙ্গাধরপুর মৌজায় সবমিলিয়ে ৪৬টি প্লট মিলিয়ে প্রায় ১০ একর জমিতে এই হোটেল বানানো হবে। এজন্য ২০০ কোটি টাকা ব্যয় হবে। কেরল, কাশ্মীর, উত্তরপ্রদেশ, গুজরাট, রাজস্থানের মতো রাজ্যকে টেক্কা দিয়ে বিদেশি পর্যটক টানায় দেশের মধ্যে দ্বিতীয় বাংলা। যদিও এক নম্বরের কাউন্টডাউন শুরু হয়ে গিয়েছে। মাত্র ছয়মাসে শুধু দিঘার জগন্নাথধামে বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা লাখ ছাড়াতে চলেছে। যদিও ডিসেম্বর মাসেই দর্শনার্থীর সংখ্যা কোটি ছাড়িয়ে গিয়েছে। যার মধ্যে বিদেশি পর্যটক ছিলেন ১৫ হাজার। ইসকন বলছে, যেভাবে ভিড় বাড়ছে তাতে আগামী ছয়মাসের মধ্যে বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা লাখ ছাড়িয়ে যাবে। এই আবহেই এবার দিঘায় অত্যাধুনিক হোটেল গড়বে হিডকো। ইতিমধ্যে জোড়া দরপত্রও ডাকা হয়েছে। ২০০ কোটি টাকা ব্যয় হবে। হিডকোর চেয়ারম্যান তথা রাজ্যের অর্থ ও স্বাস্থ্য দপ্তরের রাষ্ট্রমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য জানান, “দিঘায় এমনিতেই পর্যটক সমাগম বাড়ছে। জগন্নাথধাম নির্মাণের পরে তাতে আরও গতি এসেছে। সামগ্রিক পরিকাঠামো উন্নয়নের কথা মাথায় রেখেই হিডকো এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।” দিঘার জগন্নাথ মন্দির নির্মাণের দায়িত্বে ছিল হিডকো। গত বছর এপ্রিলে অক্ষয় তৃতীয়ায় মন্দিরের দ্বারোদঘাটন হয়। দিঘার জগন্নাথ মন্দিরের পরে নিউটাউনে দুর্গা অঙ্গন এবং শিলিগুড়িতে মহাকাল মন্দির নির্মাণেরও দায়িত্ব পেয়েছে হিডকো। দু’টি প্রকল্পেরই শিলান্যাস হয়ে গিয়েছে। এ বার দিঘায় হোটেল নির্মাণের দায়িত্ব হিডকোকে দেওয়া হয়েছে। এরপরেই এই সংক্রান্ত যাবতীয় প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে। ৩৪টি প্লটের ৬.৮৮ একরে নির্মাণের জন্য প্রথম দরপত্র প্রকাশ করা হয়েছে। পরের দরপত্রে ১২টি প্লটের ২.২৯ একরে নির্মাণের কথা বলা হয়েছে। ই-অকশন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দরপত্র চূড়ান্ত হবে ১৮ মার্চ। দরপত্রে বলা হয়েছে, এমন সংস্থাই ‘ই-অকশন’ প্রক্রিয়ায় যোগ দিতে পারবে, যাদের গত তিনটি আর্থিক বছরের প্রত্যেকটিতে ন্যূনতম ১০০ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে। এই বিষয়ে চূড়ান্ত হলে এই হোটেল নির্মাণের কাজ শুরু হয়ে যাবে বলে জানা গিয়েছে। সময়ও বেঁধে দেওয়া হয়েছে। হোটেল নির্মাণের কাজ আগামী পাঁচ বছরের মধ্যেই শেষ করতে হবে।
এদিকে, সিকিমের উঁচু এলাকাতে একনাগাড়ে তুষারপাত শুরু হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার সকাল থেকে তুষারপাতের তীব্রতা আরও বেড়েছে। বসন্তের শুরুতে না-চাইতে বরফ পেয়ে এদিন সকাল থেকে পর্যটকদের ভিড় বাড়ে উত্তর সিকিমের বিভিন্ন প্রান্তে। বরফের গোল্লা পাকিয়ে খুনসুটিতে মেতে ওঠেন অনেকেই। উত্তর সিকিমের উঁচু এলাকাগুলিতে। বিশেষ করে চুংথাং, ইয়ুংথাং উপত্যকা, জিরো পয়েন্টে ব্যাপক তুষারপাত হয়। বিকেলের মধ্যেই গোটা এলাকা ভারী তুষার চাদরে ঢেকে যায়। চারপাশ তাকালে শুধুই বরফ! এদিন সকাল থেকে ফের তুষারপাতের পরিমাণ বাড়তে থাকে। কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দপ্তরের সিকিম কেন্দ্রের অধিকর্তা গোপীনাথ রাহা বলেন, “উত্তর সিকিমের উঁচু এলাকায় রবিবার পর্যন্ত হালকা বৃষ্টি ও তুষারপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। তাপমাত্রা ক্রমশ নামবে।” উত্তর সিকিমের লাচুং, লাচেন, জিরো পয়েন্ট, চুংথাং এলাকায় হালকা বৃষ্টি চলবে। বৃষ্টির জেরে তুষারপাতের ঘনঘটাও বাড়বে। বুধবার মাধ্যমিক পরীক্ষা শেষ হয়েছে। যে পর্যটকরা রবিবারের মধ্যে উত্তর সিকিমে পৌঁছাতে পারবেন তারা নির্ঘাত তুষারপাত পেয়ে যাবেন বলে আবহাওয়া দপ্তরের কর্তারা মনে করছেন। ইতিমধ্যে ভিড় বাড়তে শুরু করেছে উত্তর সিকিমে। এদিকে দার্জিলিং, কালিম্পংয়েও কনকনে ঠান্ডা অনুভূত হচ্ছে। দার্জিলিংয়ের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৪ ডিগ্রি থেকে ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ঘোরাফেরা করছে। কালিম্পংয়ের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। উত্তরের সমতলে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১২ ডিগ্রি থেকে ১৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে রয়েছে। তাই জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার এবং কোচবিহারে শীতের আমেজ মিলছে।





