অন্ধ্রপ্রদেশ (প্রথম ইনিংস): ২৯৫/১০ (রিকি ৮৩, মুকেশ ৬৬/৫)
(দ্বিতীয় ইনিংস) ২৪৪/১০ (নীতীশ ৯০, শাহবাজ ৭২/৪, সুরজ ৪২/২)
বাংলা: ৬২৯/১০ (সুদীপ ২৯৯, সাইক ৬৩/৪)
বাংলা ইনিংস ও ৯০ রানে জয়ী
রনজিতে বাংলার শাসন! রনজিতে বাংলার দাপট! কোয়ার্টার ফাইনালে সুদীপ কুমার ঘরামির ২৯৯-র পর কল্যাণীর মাঠে শাহবাজের ঘূর্ণি। সব মিলিয়ে নীতীশ কুমার রেড্ডিদের এক ইনিংস ও ৯০ রানে পরাজিত করে রনজির সেমিফাইনালে চলে গেল বাংলা। সেমিতে প্রতিপক্ষ জম্মু ও কাশ্মীর। বাংলার সেমি-যাত্রা চতুর্থ দিনেই কার্যত নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল। প্রথম ইনিংসে অন্ধ্রপ্রদেশের ২৯৫ রানের জবাবে বাংলার ইনিংস শেষ হয় ৬২৯ রানে। চতুর্থ দিনে ৬৪ রানে ৩ উইকেট পড়ে যায় অন্ধ্রর। প্রথম ইনিংসে লিডের সুবাদে সেমিফাইনাল নিশ্চিত ছিল। দেখার ছিল অন্ধ্র হার বাঁচাতে পারে কি না। শাহবাজের ঘূর্ণিতে সেই সুযোগটাও পেলেন না রিকি ভুঁইরা। ৭২ রান দিয়ে ৪ উইকেট তোলেন শাহবাজ। দুটি উইকেট সুরজ সিন্ধু জয়সওয়ালের। একটি করে উইকেট পান আকাশ দীপ, সুমন্ত গুপ্ত, অনুষ্টুপ মজুমদার। উইকেট পাননি মহম্মদ শামি। নীতীশ রেড্ডির ৯০ রানের ইনিংস কোনও ভাবেই যথেষ্ট ছিল না। শ্রীকর ভরত চোটের জন্য আর ব্যাট করতে নামেননি। শেষ পর্যন্ত অন্ধ্রর ইনিংস শেষ হয় ২৪৪ রানে। বাংলা ইনিংস ও ৯০ রানে জেতে। ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হবে রনজির সেমি। কল্যাণীতে অভিমন্যু ঈশ্বরণদের প্রতিপক্ষ আকিব নবিদের জম্মু ও কাশ্মীর। নজরে থাকবেন সুদীপ কুমার ঘরামি। তৃতীয় দিনের শেষে ৪৫১ বলে ২১৬ রানে অপরাজিত ছিলেন। অনেকেই ধরে নিয়েছিলেন ট্রিপল সেঞ্চুরি নিশ্চিত। এমনকী সৌরভ গঙ্গোপাধায়ও তিনশোর বার্তা পাঠিয়েছিলেন। তবে আচমকা বল নিচু হয়ে তিনশো থেকে মাত্র একটা রান দূরে ‘দুর্ভাগ্যে’র শিকার হওয়া সুদীপ ফেরেন সাজঘরে। প্রায় তিন দিন ব্যাট করে ৫৯৬ বল উইকেট কামড়ে পড়ে থাকার দৃষ্টান্ত টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের এই রমরমার যুগে দেখা মেলা দায়! সঙ্গে মেরেছেন ৩১টি চার এবং ৬টি ছয়। শেষ বেলায় ‘দাবাং’ মুডে ধরা দেন মহম্মদ শামি। করেন ৩৩ বলে ৫৩ রানে তিনটি ‘ম্যামথ’ ছক্কাও। অবশেষে পঞ্চম দিনে বোলিং বিক্রমে জিতেই সেমির টিকিট ছিনিয়ে নিল বাংলা।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মাঝেই ঘোষিত বিসিসিআইয়ের বার্ষিক চুক্তি। সেখানে বড়সড় ধাক্কা খেলেন রোহিত শর্মা, বিরাট কোহলিরা। এ+ বিভাগ থেকে তাদের অবনমন ঘটেছে বি ক্যাটেগরিতে। আসলে এ+ বিভাগটাই বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। আর বোর্ডের কেন্দ্রীয় চুক্তি থেকে বাদই পড়লেন মহম্মদ শামি। ঘরোয়া ক্রিকেটে নিয়মিত পারফর্ম করেও জাতীয় দলে জায়গা হচ্ছে না। এবার বার্ষিক চুক্তি থেকেই বাদ। অন্যদিকে মহিলাদের বার্ষিক চুক্তিতে এ গ্রেডে আছেন হরমনপ্রীত কৌর, স্মৃতি মন্ধানা, জেমাইমা রডরিগেজ ও দীপ্তি শর্মা। বাংলার রিচা ঘোষ রয়েছেন বি গ্রেডে। বোর্ডের কেন্দ্রীয় চুক্তিতে বড়সড় রদবদলের জেরে এক ধাক্কায় ৪ কোটি টাকা বেতন কমছে রোহিত শর্মা ও বিরাট কোহলিদের। আগে এ+ চুক্তিতে ছিলেন রোহিত, কোহলি, জশপ্রীত বুমরাহ ও রবীন্দ্র জাদেজা। এরপর ছিল এ, বি ও সি বিভাগ। এ+ বিভাগটি আগেই তুলে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিল আগরকরের নির্বাচক কমিটি। সেটাকেই মান্যতা দিয়ে অক্টোবর ২০২৫ থেকে সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত নতুন চুক্তি ঘোষণা করা হয়েছে। এ+ বিভাগে থাকার সৌজন্যে রো-কো বার্ষিক বেতন পেতেন ৭ কোটি টাকা করে। কিন্তু বি বিভাগে বার্ষিক বেতন ৩ কোটি। রোহিত ও কোহলি, দুজনেই এখন শুধু ওয়ানডে খেলেন। টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি থেকে অবসর নিয়েছেন। সেসব মাথায় রেখেই এই তালিকা বানানো হয়েছে। গ্রেড এ-তে থাকা শুভমান গিল দুই ফরম্যাটের অধিনায়ক। এর সঙ্গে জশপ্রীত বুমরাহ ও রবীন্দ্র জাদেজা রয়েছেন। তিরিশ জন ক্রিকেটারকে বোর্ডের বার্ষিক চুক্তিতে রাখা হয়েছে। যে তালিকায় মহম্মদ শামির নাম নেই। ভারতের হয়ে তিনি শেষ খেলেছিলেন গতবছর চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে। তারপর থেকে শুধুই ‘বঞ্চনা’। রনজি হোক বা সৈয়দ মুস্তাক আলি, নিয়মিত পারফর্ম করেও জাতীয় দলে জায়গা হচ্ছে না। এবার কেন্দ্রীয় চুক্তি থেকেই বাদ পড়লেন। বাংলা থেকে শুধুই রয়েছে আকাশ দীপের নাম। আকাশকে রাখা হয়েছে ‘সি’ গ্রুপে। তিলক বর্মা থেকে শুরু করে অক্ষর প্যাটেল, বরুণ চক্রবর্তীরাও সবাই রয়েছেন ‘সি’ গ্রুপেই। মহিলা ক্রিকেটারের বার্ষিক চুক্তিতেও ‘এ’ গ্রেডে রাখা হয়েছে চারজনকে। বাংলা থেকে বি গ্রেডে রয়েছেন শুধু রিচা।
বোর্ডের কেন্দ্রীয় চুক্তি (পুরুষ)
গ্রেড ‘এ’
শুভমান গিল, জশপ্রীত বুমরাহ, রবীন্দ্র জাদেজা।
গ্রেড ‘বি’
রোহিত শর্মা, বিরাট কোহলি, সূর্যকুমার যাদব, ওয়াশিংটন সুন্দর, কেএল রাহুল, হার্দিক পাণ্ডিয়া, মহম্মদ সিরাজ, ঋষভ পন্থ, কুলদীপ যাদব, যশস্বী জয়সওয়াল।
গ্রেড ‘সি’
রুতুরাজ গায়কোয়াড়, অক্ষর প্যাটেল, তিলক বর্মা, রিঙ্কু সিং, শিবম দুবে, সঞ্জু স্যামসন, অর্শদীপ সিং, প্রসিদ্ধ কৃষ্ণ, আকাশ দীপ, ধ্রুব জুরেল, হর্ষিত রানা, বরুণ চক্রবর্তী, নীতীশ রেড্ডি, অভিষেক শর্মা, সাই সুদর্শন, রবি বিষ্ণোই।
বাদ
মহম্মদ শামি





