২৮ ফেব্রুয়ারি এসআইআরের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হবে। তারপরই ১ ও ২ মার্চ রাজ্যে আসবে নির্বাচন কমিশনের উচ্চ পর্যায়ের একটি দল। জানিয়েছে, জাতীয় নির্বাচন কমিশন। রাজ্য মুখ্য নির্বাচনী অধিকারিকের সঙ্গে বৈঠক করবে। তারপর দোলের পরই ঘোষণা করা হবে রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট। তার আগে কিছু ঘোষণা হবে না বলেই জানা গিয়েছে। আগে নির্ধারিত ছিল ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া শেষ হলেই প্রকাশিত হবে ভোটের নির্ঘণ্ট। ১৪ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের দিন থাকলেও তা পিছিয়ে গিয়েছে। সেক্ষেত্রে ভোটের নির্ঘণ্ট কবে প্রকাশ হবে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠে। তবে জানা গিয়েছে, নেড়া পোড়া বা হোলিকা দহনের আগে কোনও ঘোষণা করা হবে না। রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করে, নির্বাচন কমিশন স্বশাসিত সংস্থা হলেও, তারা বিজেপির অঙ্গুলিহনে চলে। বিজেপি উত্তর ভারতীয় সংস্কৃতি মেনে চলে। গেরুয়া শিবির মনে করে, হোলিকা দহনের আগে কোনও শুভ কাজ করা ঠিক নয়। হোলিকা দহনের মাধ্যমে দুষ্ঠু দমন, শিষ্টের পালন হয়! সেই বিশ্বাসে আস্থা রেখেই বাংলা-সহ পাঁচ রাজ্যের ভোটের নির্ঘণ্ট প্রকাশ করা হবে। বাংলা ছাড়াও অসম, তামিলনাড়ু, কেরল, পুদুচেরিতে নির্বাচন রয়েছে। একই সঙ্গে সব রাজ্যের ভোট ঘোষণা হওয়ার কথা রয়েছে। বাংলায় কত দফায় ভোট হবে তা নিয়েও জল্পনা ছড়িয়েছে। সূত্রের খবর, রাজ্যের মুখ নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তর থেকে জাতীয় নির্বাচন কমিশনকে জানানো হয়েছে তারা এক দফায় ভোট করতে প্রস্তুত। প্রয়োজনীয় লোকবল রয়েছে তাদের হাতে। যদি কেন্দ্রীয় বাহিনী পাওয়া যায় তাহলে, এক দফায় ভোট করা যাবে। এতে ভোট হিংসাও কমে যাবে। কিন্তু জাতীয় নির্বাচন কমিশন তিন দফায় ভোট করাতে ইচ্ছুক বলে সূত্রের খবর। লোকবল ও প্রয়োজনীয় কেন্দ্রীয় বাহিনী পাওয়ার বিষয়টিও ভাবাচ্ছে জাতীয় নির্বাচন কমিশনকে।
২৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশিত হবে বাংলায়। সেই কথা বিবৃটি জারি করে জানিয়ে দিল নির্বাচন কমিশন। এর আগে ১৪ ফেব্রুয়ারি এসআইআরের চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের দিন নির্ধারিত হয়েছিল। সেই সময়সীমা বদলে আরও দুই সপ্তাহ বাড়ানো হল। সময়সীমা ফুরলেও এখনও বাকি ঢের কাজ। বহু জায়গায় শুনানির কাজ সম্পূর্ণ হয়নি বলে জানা যায়। সঠিকভাবে কমশন কাজ করছে না। এত দ্রুত চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের ক্ষেত্রে কমিশন কতটা স্বচ্ছতা রাখবে? সেই প্রশ্ন রয়েছে বিরোধীদের মধ্যে। নির্বাচন কমিশন আগেই জানিয়েছিল অন্যান্য রাজ্যের মতো আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি বাংলাতেও চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে। শেষপর্যন্ত বাংলার ভোটার তালিকা থেকে কতজনের নাম বাদ যাবে? সেই চর্চা চলছে। নির্বাচনের কমিশনের কাজে ‘অখুশি’ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন। কমিশনের এসআইআরের কাজকর্ম, দ্রুততা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। বাংলার ভোটারদের হয়ে সুপ্রিম কোর্টে সওয়াল করেন মমতা। গতকাল, সোমবারও সুপ্রিম কোর্টে এসআইআর মামলার শুনানি ছিল। সেখানেই বাংলায় এসআইআরের সময়সীমা বাড়ানোর কথা বলা হয়। স্ক্রুটিনির জন্য ৭ দিন সময়সীমা বাড়ায় সুপ্রিম কোর্ট। পাশাপাশি আদালতের তরফে সাফ জানানো হয়েছে, ইআরও এবং এইআরও-ই নেবেন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত। মাইক্রো অবর্জাভারদের সিদ্ধান্ত নেওয়া কোনও অধিকার নেই। এসআইআর পর্বের শুরু থেকেই কমিশনের সঙ্গে দ্বন্দ্ব চলছে। এক পর্যায়ে তা রীতিমতো সংঘাতের পর্যায়ে পৌঁছে যায়। জল গড়ায় সুপ্রিম কোর্টে। মঙ্গলবার শীর্ষ আদালতে ছিল সেই সংক্রান্ত শুনানি। রাজ্য, কমিশন ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবীর বক্তব্য শুনে এসআইআর শুনানির সময়সীমা বাড়ানোর নির্দেশ দিলেন প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত। জানানো হয়েছে, স্ক্রুটিনির জন্য অতিরিক্ত ৭ দিন সময় দেওয়া হবে। অর্থাৎ হিয়ারিং শেষ হবে ১৪ ফেব্রুয়ারি। তারপর ৭ দিন অর্থাৎ ২১ তারিখ পর্যন্ত চলবে স্ক্রুটিনি। তারপর প্রকাশিত হবে চূড়ান্ত তালিকা।
সেই নির্দেশ মেনেই নির্বাচন কমিশন এবার বাংলায় চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের দিন পিছিয়ে দিল। এদিন বিবৃতি জারি করে কমিশন জানিয়েছে আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি বাংলায় চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশিত হবে। শুধু তাই নয়, আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত শুনানি চলবে। ২১ তারিখ পর্যন্ত নথি যাচাই প্রক্রিয়া চলবে। সেসব কাজ হয়ে গেলে ২৫ ফেব্রুয়ারি হবে বুথ পুনর্বিন্যাস। এরপর ২৮ তারিখ চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশিত হবে। রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজকুমার আগরওয়াল দিল্লির নির্বাচন সদনে গিয়ে বৈঠক করার পরেই ওই নির্দেশিকা প্রকাশিত হয়।
ইআরও এবং এইআরও-রা যাতে নথি যাচাই সম্পূর্ণ করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারেন, সেই কারণেই এই বাড়তি সময় দেওয়া হবে বলে জানিয়ে সোমবার সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছিল, মাইক্রো অবজারভারদের এ সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া কোনও অধিকার নেই। কমিশন সূত্রের খবর, স্ক্রুটিনির জন্য সাত দিন বাড়তি সময় দেওয়া হলে শুনানি (হিয়ারিং) শেষ হবে ১৪ ফেব্রুয়ারি। তার পর সাত দিন অর্থাৎ ২১ ফেব্রুয়ারি তারিখ পর্যন্ত চলবে স্ক্রুটিনি। ফলে কমিশনের আগেকার ঘোষণা অনুযায়ী ১৪ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশিত হওয়ার কথা থাকলেও তা অন্তত ২১ তারিখ পর্যন্ত পিছিয়ে যেত এমনিতেই। কমিশনের তরফে তা আরও এক সপ্তাহ বাড়িয়ে ২৮ ফেব্রুয়ারি করা হয়েছে। এর আগে পূর্বসূচিতে কমিশনের ঘোষণা অনুযায়ী, গত শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারি ছিল এসআইআরের শুনানির শেষ দিন। আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের কথা ছিল।





