বিশ্বক্রিকেটে বৈভব সূর্যবংশী আবির্ভূত হয়েছেন! বৈভব শুধু নিজেকেই প্রতিষ্ঠা দিল, তা নয়। ভারতীয় ক্রিকেট মানচিত্রে তুলে আনল বিহারকেও। এই বিহার নীতীশ, লালু পাসোয়ানদের চিরচেনা গোবলয় রাজনীতির আঁতুড়ঘর নয়, এ বিহার একান্তই ক্রিকেটের। নব স্বপ্নের, নতুন ভোরের। বৈভব প্রতিষ্ঠা দিয়ে গেলেন আরও এক অমোঘ সত্যকে। কালের যাত্রার ধ্বনি ক্রিকেটেও চিরায়ত সত্য। পালাবদলের সেই অমোঘ নিয়মে শচীন, দ্রাবিড়রা এসেছেন, চলেও গেছেন। ক্রিকেট সায়াহ্নে আরও দুই নক্ষত্র – রোহিত শর্মা, বিরাট কোহলি। বৈভবশালী ভারত। স্থান কাল পাত্র – মাহাত্ম্য বিচারে ভিন্ন প্রেক্ষাপট হলেও কপিলের সেই ১৭৫-এর পারে অমর অক্ষয় হয়ে থাকবে বৈভবের ১৭৫-ও। বিশ্বকাপজয়ী ভারত অধিনায়কের সেই ইনিংসের কোনও ক্লিপিংস নেই। ভারতীয় ক্রিকেটপ্রেমী জনতার সেই আফসোসে প্রলেপ পড়তে পারে সূর্যবংশীর সংহার দেখে। অনূর্ধ্ব উনিশের বিশ্বকাপ ফাইনালে তার ব্যাটিং তাণ্ডব দেখতে দেখতে এই প্রশ্নটাই মনে জাগছিল প্রতিনিয়ত। আগুন? নাকি আগ্নেয়গিরির তপ্ত লাভা? যার ত্র্যহস্পর্শে পুড়ে ছাড়খার হয়ে যায় প্রতিপক্ষ। যে ভয়ংকর সুন্দরের দিকে তাকিয়ে থাকলে মনে হয়- ‘কী দেখিলাম, জন্ম জন্মান্তরেও ভুলিব না।’ কে বলবে বৈভব বছর ১৪-র ‘বালক’! যে বয়সে চোখ স্বপ্ন দেখে, যেতে থাকে কল্পবিশ্বে, সেই বয়সে দৃষ্টান্তের জয়ধ্বজা উড়িয়ে চলেছে বাঁ-হাতি বিস্ময়। বিস্ময়ই বটে। হারারে-তে ভারতের যুবরা ফের একবার বিশ্বজয় করল, তা কার্যত বৈভবের একক মুনশিয়ানায়। ৮০ বলে ১৭৫! ১৫টি বাউন্ডারি, ১৫টি ওভার বাউন্ডারি। অর্থাৎ, মাত্র ৩০ বলে ১৫০ রান! বিধ্বংসী বললেও কম বলা হয়। গ্যালারিতে জটায়ু থাকলে নিশ্চয় বলতেন- ‘হারারেতে হারাকিরি’! বিপক্ষ ইংল্যান্ডকে নিয়ে কার্যত তাই করেছে বৈভব। এমন ব্যাটিং অবশ্য প্রথম নয়, অতীতেও করেছে বৈভব। আইপিএল তার সাক্ষী। সাক্ষী ঘরোয়া ক্রিকেটে, যুব স্তরের আন্তর্জাতিক আসর। কিন্তু ফাইনালে এমন রণং দেহী ব্যাটিং, সেটাও এক ভারতীয়ের ব্যাট থেকে, খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। আর এখানেই নিশ্চিন্তি ভারতীয় ক্রিকেটের। ভবিষ্যতের ব্যাটন সুরক্ষিত। সুরক্ষিত এমন এক বিস্ময় প্রতিভার হাতে, যার ক্রিকেট কেরিয়ারের অঢেল সময় পড়ে আছে। প্রতিভার বিচ্ছুরণ যত ঘটবে, সেই আলোয় আলোকিত হবে ভারতীয় ক্রিকেট। শ্রেষ্ঠত্বের মসনদে টিম ইন্ডিয়া ততই সাফল্যের ইমারত গড়বে। বড় মঞ্চে কিছুটা নিষ্প্রভই থেকে যেতেন ভারতের এই বিস্ময়-প্রতিভা। কয়েক মাস আগে এশিয়া কাপ ফাইনালে পাকিস্তান ম্যাচে তাঁর ব্যর্থতা ও দলের হারের যুগপৎ ধাক্কার পর সেই গুঞ্জন যেন আরও জোরালো হয়েছিল। কিন্তু সেই গুঞ্জন দীর্ঘস্থায়ী হল না। অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপের ফাইনালের মতো মঞ্চে বৈভব বুঝিয়ে দিলেন, বিশ্ব ক্রিকেটে রাজত্ব করতেই তাঁর আবির্ভাব। একটার পর একটা রেকর্ড– অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপ ফাইনালে সর্বোচ্চ রান। অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপ ফাইনালে দ্রুততম সেঞ্চুরি। অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ছয়। অনূর্ধ্ব ১৯ ওয়ান ডে ক্রিকেটে এক ইনিংসে সর্বোচ্চ ছক্কা। প্রথম প্লেয়ার হিসাবে অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপ এবং তার ফাইনাল- দু’য়েই সেরার পুরস্কার। আরও রেকর্ড চাই?





