Friday, April 24, 2026
spot_imgspot_img

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

সৌরঝড় পৃথিবীর দিকে হলে পুড়ে যেতে পারে উপগ্রহ?‌ টেলিভিশনের সিগন্যালের গোলমাল, রেডার, পাওয়ার গ্রিডেরও সমস্যা

তীব্র সৌর অগ্নিশিখা তড়িৎচুম্বকীয় বিকিরণ করে। তারা আলোর গতিতে পৃথিবীতে এসে পৌঁছোয়। তারা সরাসরি মানবজাতির কোনও ক্ষতি করে না। তবে বায়ুমণ্ডলের আয়নোস্ফিয়ারের ক্ষতি করে। আয়নোস্ফিয়ার তড়িদায়িত। এই স্তরের ক্ষতি হলে উচ্চ কম্পনযুক্ত রেডিয়ো যোগাযোগ ‘ব্ল্যাকআউট’ হতে পারে অর্থাৎ স্তব্ধ হতে পারে। নেভিগেশন সঙ্কেতের ক্ষতি হওয়ার ফলে সমুদ্রে পথ হারাতে পারেন নাবিকেরা। উপগ্রহ-যোগাযোগ ব্যবস্থা নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তীব্রতা বাড়বে মেরুপ্রভার। বিজ্ঞানীরা বলছেন, সূর্যের রিজিয়ন ১৪৩৬৬ এখন অতি সক্রিয় রয়েছে। এমনিতেই এই অংশ তড়িদায়িত এবং চৌম্বক-সক্রিয়। এই অঞ্চল সক্রিয় হওয়ার কারণে প্রায় প্রতি সপ্তাহে সৌরঝড় হচ্ছে। আর সে কারণেই সতর্ক রয়েছেন বিজ্ঞানীরা। তারা পর্যবেক্ষণ করছেন। ভারতের এ ক্ষেত্রে বড় হাতিয়ার হল আদিত্য এল-১। পৃথিবী থেকে ১৫ লক্ষ কিলোমিটার দূরে বসে সৌরঝড়ের উপরে নজর রাখছে সে। পাঠাচ্ছে প্রয়োজনীয় সঙ্কেত। আমেরিকার মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্র নাসা-সহ দুনিয়ার বিভিন্ন মহাকাশ কেন্দ্র সতর্ক করেছে। সতর্ক করেছে ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্র ইসরো।

ইসরো জানিয়েছে, পরিস্থিতির উপরে নজর রাখছে। ‘রেডিয়ো ব্ল্যাকআউট’ পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলেও তাদের আশঙ্কা। এই সৌরঝড় পৃথিবীর দিকে হলে পুড়ে যেতে পারে উপগ্রহ। টেলিভিশনের সিগন্যালের গোলমাল হতে পারে। রেডার, পাওয়ার গ্রিডেরও সমস্যা হতে পারে। ইসরোর তরফে ইতিমধ্যে পরিস্থিতির উপর নজর রাখতে ৫০টি উপগ্রহ মজুত রাখা হয়েছে। কারণ, সূর্যের এই সক্রিয়তা বৃদ্ধি পেলে প্রভাব পড়তে যোগাযোগ ব্যবস্থায়। সমুদ্রে দিক নির্ণয় করতেও সমস্যায় পড়তে হতে পারে। এই সমস্যার কথা জানিয়েছেন ইসরোর টেলিমেট্রি, ট্র্যাকিং এবং কমান্ড নেটওয়ার্ক (ইসট্র্যাক)-এর ডিরেক্টর অনিল কুমার। তিনি ‘রেডিয়ো ব্ল্যাকআউট’-এর আশঙ্কা প্রকাশ করে জানিয়েছেন, যোগাযোগ ব্যবস্থায় সমস্যা দেখা দিলে দ্রুত পদক্ষেপ করা হবে। সেই পরিকল্পনা প্রস্তুত রয়েছে। সূর্যের ভিতরে চৌম্বকীয় সৌরকলঙ্কের গুচ্ছ, যাকে বলে অ্যাকটিভ রিজিয়ন ১৪৩৬৬, তার তীব্রতা বৃদ্ধি পেয়েছে। গত কয়েক দিন ধরেই সূর্যের এই অংশে বার বার বিস্ফোরণ হচ্ছে। এর ফলে চারটি সৌর শিখা তৈরি হয়েছে, যা প্রবল শক্তিশালী। তার মধ্যে একটি রয়েছে এক্স ৮.১ তরঙ্গ। ২০২৬ সালে এত শক্তিশালী অগ্নিশিখা উৎপন্ন হয়নি। নাসা জানিয়েছে, ১ এবং ২ ফেব্রুয়ারি এই অগ্নিশিখার তীব্রতা সর্বোচ্চ হয়েছিল। মহাকাশ আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র জানিয়েছে, ২০২৪ সালের অক্টোবর থেকে এই সৌর অগ্নিশিখা দেখা যাচ্ছে। সেই থেকে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে প্রবলটি হল প্রবল ১ ফেব্রুয়ারির শিখাটি। ১৯৯৬ সাল থেকে আধুনিক উপগ্রহের মাধ্যমে নজরদারি চালানো হচ্ছে। সে সময় থেকে এখন পর্যন্ত ২০টি প্রবল সৌরশিখার তালিকা করলে, তার মধ্যে অন্যতম শক্তিশালী হবে ১ ফেব্রুায়ারি শিখাটি। বিজ্ঞানীরা বলছেন, প্রতি ১১ বছর অন্তর সূর্যে তৈরি হয় অস্থিরতা বা সক্রিয়তা। এই সৌরঝড় সোলার ম্যাক্সিমারই অংশ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles