মুখ্যমন্ত্রী মমতা থেকে এবার আইনজীবী মমতা। নতুন রূপ। নব অবতারে অবতীর্ণ হতে চলেছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী। সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্য অনুসারে, বুধবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী, বিচারপতি বিপুল এম পাঞ্চোলির বেঞ্চে এসআইআর সংক্রান্ত মামলার শুনানি হওয়ার কথা। একটি মামলা করেছিলেন তৃণমূল সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন এবং তৃণমূল সাংসদ দোলা সেন। সেই মামলা প্রধান বিচারপতির বেঞ্চে এক নম্বর কোর্টে শুনানির তালিকায় ২১ নম্বরে রয়েছে। এই একই বিষয়েই অন্য একটি পিটিশন দাখিল করেছিলেন মমতা। সেই মামলা প্রধান বিচারপতির বেঞ্চে এক নম্বর কোর্টে শুনানির তালিকায় ৩৭ নম্বরে রয়েছে। কবি জয় গোস্বামীর এই সংক্রান্ত মামলা রয়েছে শুনানির তালিকায় ৩৬ নম্বরে। নির্বাচন কমিশন এবং রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও)-এর বিরুদ্ধে শীর্ষ আদালতে মামলা দায়ের করেন মুখ্যমন্ত্রী। রবিবার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। এখন তিনি দিল্লিতে রয়েছেন। সোমবার সেখানে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ‘উদ্ধত আচরণ এবং দুর্ব্যবহারের’ অভিযোগ তুলে বৈঠক ছেড়ে বেরিয়ে এসেছিলেন তৃণমূল নেত্রী। জ্ঞানেশ-সহ বাকি কমিশনারদের সঙ্গে বৈঠকে মমতা ছাড়াও ছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং এসআইআরে ‘আক্রান্ত’ পরিবারগুলির ১২ জন।
তৃণমূলের তরফে এক্স হ্যান্ডলে একটি পোস্ট দেওয়া হয়েছে। সেই ছবিতে দেখা গিয়েছে, সুপ্রিম কোর্টের সিঁড়ি দিয়ে নীল পাড়-সাদা শাড়ি এবং আইনজীবীর কালো কোট পরে উঠছেন এক মহিলা। ছবি থেকে স্পষ্ট, তিনি মুখ্যমন্ত্রী মমতা। তাতে লেখা, ‘শ্রীমতী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সুপ্রিম কোর্টে এসআইআর মামলা চ্যালেঞ্জ করতে চলেছেন।’ ছবির ক্যাপশনে লেখা, ‘জনগণের আইনজীবী বনাম শয়তানের আইনজীবী’। এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলে ইতিমধ্যে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে ছ’টি চিঠি পাঠিয়েছেন মমতা। সোমবার দিল্লিতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে সাক্ষাতের ঠিক ৪৮ ঘণ্টা আগে আবার তাঁকে চিঠি পাঠান মুখ্যমন্ত্রী। শনিবার সন্ধ্যায় জ্ঞানেশকে মুখ্যমন্ত্রীর লেখা একটি চিঠি প্রকাশ করা হয়েছে। সেই চিঠিতে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে জনপ্রতিনিধিত্বমূলক আইনের বিধিভঙ্গের অভিযোগ তুলেছেন। মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, মানবিক দৃষ্টিভঙ্গিকে উপেক্ষা করেই আইন ও বিধি লঙ্ঘন করে এসআইআর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ বার এই নিয়েই শীর্ষ আদালতে সওয়াল করবেন মুখ্যমন্ত্রী।
এই প্রথম নয়, এর আগেও আইনজীবীর ভূমিকায় দেখা গিয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। যোগেশচন্দ্র ল কলেজ থেকে আইন পাশ করার পর অল্প সময়ের জন্য প্র্যাকটিসও করেছেন তিনি। আটের দশকে কংগ্রেস নেতা পঙ্কজ বন্দ্যোপাধ্যায়ের গ্রেপ্তারির প্রতিবাদে নিম্ন আদালতে আইনজীবী হিসেবে লড়েছিলেন তিনি। তারপর দীর্ঘদিন পেরিয়েছে। বহুদিন কোর্ট চত্বর থেকে দূরে তিনি। ফলে আজ সুপ্রিম কোর্টে আইনজীবী হিসেবে দেখা যাবে কি না, তা নিয়ে খানিকটা সংশয়ও রয়েছে। কারণ, সুুপ্রিম কোর্টে লড়াইয়ের জন্য যে কোনও আইনজীবীকে বার কাউন্সিলের সদস্য হতে হয়। এছাড়া হাই কোর্টে ৩ বছর প্র্যাকটিসের অভিজ্ঞতা থাকা বাধ্যতামূলক। ফলে এদিন সুপ্রিম কোর্টে ঠিক কী হতে চলেছে তা স্পষ্ট নয়। তবে গোটা দেশের নজর সেখানেই। সুপ্রিম কোর্টে বুধবার এসআইআর মামলার শুনানি রয়েছে। সূত্রের খবর, সেই শুনানিতে উপস্থিত থাকবেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আইন সংক্রান্ত সংবাদ পরিবেশনকারী অনলাইন পোর্টাল ‘বার অ্যান্ড বেঞ্চ’ জানিয়েছে, মুখ্যমন্ত্রীর নামে বুধবার সুপ্রিম কোর্টের তরফে একটি গেট পাস ইস্যু করা হয়েছে। মনে করা হচ্ছে, বুধবারের শুনানিতে তাঁর উপস্থিতি একপ্রকার নিশ্চিত। তৃণমূলের তরফে সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট দিয়ে ইঙ্গিত।





