‘ধুরন্ধর’ আগমনেই বক্স অফিস চনমন করে উঠেছে। সপ্তাহান্তে ১০০ কোটি পেরিয়েছে ব্যবসা। সেইসঙ্গে দর্শকদের আগ্রহ, উন্মাদনাও এই সিনেমার প্রাপ্তি। এসব দেখে আপ্লুত ছবির নায়িকা সারা অর্জুন। বড়পর্দায় ‘ধুরন্ধর’ তাঁর প্রথম কাজ। ছবির এই সাফল্যের সমস্ত কৃতিত্ব দিয়েছেন নায়ক রণবীর সিংকে। পোস্টে সারা লিখেছেন, ”তুমি নিজেকে ঢেলে দিয়েছিলেন। প্রতিটি দৃশ্যায়নে তোমার নিবিড় আবেগ, পরিশ্রমের প্রকাশ। তোমার সহ-অভিনেতাদেরও নিজের কাজ দিয়ে বুঝিয়ে দিয়েছ যে তুমি ঠিক কী পারো।’ পোস্টে রণবীরকে ‘মেরে শের’ বলেও উল্লেখ করতে ছাড়েননি সারা। বক্স অফিসে ‘ধুরন্ধর’ ঝড় কোথায় গিয়ে থামবে, তা জানা নেই। তবে প্রথম নায়ক হিসেবে রণবীর যে সারার মনে বেশ ঝড় তুলেছেন, তা বোঝাই যাচ্ছে। ‘প্রথম প্রেমে’র মতোই পর্দার প্রথম নায়ক বা নায়িকারাও গুরুত্বপূর্ণ সেলেব-জীবনে। ক্যামেরার সামনে যাঁর সঙ্গে রোমান্স করে কেরিয়ার শুরু হল, তিনি তো বিশেষ বটেই! আর বড়পর্দায় জুটি বেঁধেই ‘ধুরন্ধর’ নায়ক রণবীর সিংয়ে একেবারে মুগ্ধ হয়ে গেলেন নায়িকা সারা অর্জুন। ছবি মুক্তির পর দর্শকমহল, বক্স অফিসে আলোড়ন দেখে সারা আর নিজের মনের কথা গোপনে রাখলেন না। ইনস্টাগ্রামে রণবীরকে নিয়ে দীর্ঘ এক আবেগঘন পোস্ট করলেন। শুধু অভিনেতা হিসেবে নয়, রণবীরের মধ্যে তিনি একজন ‘খাঁটি মানুষ’কে দেখতে পেয়েছেন যে! ‘ডিয়ারেস্ট রণবীর’ – এই সম্বোধনে পোস্টটি লেখা শুরু করেছেন সারা অর্জুন। ছত্রে ছত্রে তার শুধুই রণবীরের প্রতি মুগ্ধতা। সারা লিখেছেন, ‘তোমাকে নিয়ে যা বলব, যত বলব, কিছুতেই তোমার সবটা প্রকাশ করা সম্ভব নয়। তবু লিখছি… সবাই বলে, আসল অভিনেতারা নাকি সুপারহিউম্যান। তুমি একদম তেমন একজন মানুষ।’ সেটেই একজন অভিনেতার সহ-অভিনেতাদের ‘কেমিস্ট্রি’র উপর হয়তো অনেকটাই নির্ভর করে স্ক্রিনে তাঁদের রসায়ন কতটা জমাটি হবে। রণবীর-সারাদের ‘ধুরন্ধর’ হয়তো তেমনই একটা সিনেমা। সারার পোস্ট অনুযায়ী, কাজে ‘সিনিয়রিটি’ দিয়ে রণবীর নেতৃতেব দেন না, সব কাজে তাঁর একনিষ্ঠ মনোযোগই সবচেয়ে বড় সম্পদ। তিনি লিখেছেন, ”চারপাশের মানুষদের স্বাচ্ছন্দ্যই তোমার কাছে সবচেয়ে প্রাধান্য পেয়েছে। তুমি এমন একজন মানুষ, অন্যের খুশিতে যাঁকে আমি আনন্দ পেতে দেখেছি। তুমি আমার জন্য কী করেছ, কতটা করেছ, সেটা স্রেফ আমিই জানি।”

ধুরন্ধর’-এর ট্রেলার মুক্তির পর থেকেই জোর আলোচনা শুরু হয়েছিল। পরিচালক আদিত্য ধর-এর এই ছবিতে জমজমাট অ্যাকশনের সঙ্গে প্রথম থেকেই চর্চায় ছবির নায়িকা সারা অর্জুনের সঙ্গে রণবীর সিং-এর রোম্যান্স। রণবীর এবং সারার মধ্যে ২০ বছরের বয়সের ব্যবধান নিয়ে বিতর্ক এবং সমালোচনার ঝড় ওঠে সমাজমাধ্যমে। অনেকেই প্রশ্ন তোলেন, এত কম বয়সি অভিনেত্রীকে কেন একজন প্রতিষ্ঠিত তারকার বিপরীতে নেওয়া হল? দর্শকদের একাংশ মনে করেন, এই ধরনের কাস্টিং অস্বস্তিকর এবং অপ্রয়োজনীয় বিতর্ক তৈরি করে। বিতর্কে এবার মুখ খুলেছেন ছবির কাস্টিং ডিরেক্টর মুকেশ ছাবড়া। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, এই সিদ্ধান্ত বা কাউকে অস্বস্তিতে ফেলার জন্য নয়, কোনওভাবেই হঠাৎ নেওয়া হয়নি। বরং এটি ছিল পুরোপুরি গল্পের প্রয়োজন অনুযায়ী নেওয়া সিদ্ধান্ত। মুকেশ ছাবড়া জানান, ‘ধুরন্ধর’ ছবির গল্পে সারা অর্জুনের চরিত্রটির বয়স শুরু থেকেই নির্দিষ্ট করা ছিল। গল্প অনুযায়ী সেই চরিত্রের বয়স প্রায় ২০-২১ বছরের হওয়াই দরকার ছিল। তাই বয়সের বিষয়টি মাথায় রেখেই অভিনেত্রী বাছাই করা হয়েছে। রণবীরের চরিত্রের সঙ্গে এই বয়সের পার্থক্য গল্পের অংশ হিসেবেই দেখানো হয়েছে। সারাকে এই চরিত্রের জন্য ১,৩০০ জনের বেশি প্রার্থীর মধ্যে থেকে বেছে নেওয়া হয়েছে। শুধুমাত্র বয়স নয়, অভিনয়ের দক্ষতা, পর্দায় উপস্থিতি এবং চরিত্রের সঙ্গে মানানসই হওয়াই ছিল নির্বাচনের মূল কারণ। কাস্টিং টিম মনে করেছে, সারা এই চরিত্রে সবচেয়ে স্বাভাবিক ও বিশ্বাসযোগ্য পারফরম্যান্স দিতে পারবেন। মুকেশ ছাবড়ার মতে, দর্শকদের উচিত ছবির গল্প ও চরিত্রের প্রেক্ষাপট বোঝা। তিনি ইঙ্গিত দেন, যারা এখন বয়সের ব্যবধান নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন, তারা ছবির পরের অংশ বা পুরো গল্প দেখলে বিষয়টি আরও পরিষ্কারভাবে বুঝতে পারবেন। বিষয়টি পরিষ্কার যে ‘ধুরন্ধর’-এ রণবীর ও সারার জুটি কোনও হঠকারি সিদ্ধান্ত নয়। এটি ছিল গল্পের প্রয়োজনে নেওয়া একটি পরিকল্পিত কাস্টিং। প্রসঙ্গত, ‘ধুরন্ধর’ বক্স অফিসে দারুণ সাফল্য পাচ্ছে। অ্যাকশন, আবেগ ও জমজমাট অভিনয়ের মেলবন্ধনে ছবিটি সিনেপ্রেমীদের প্রশংসা কুড়োচ্ছে।

২০ বছরের বড় অভিনেতার সঙ্গে প্রেমের অন্তরঙ্গ দৃশ্য। বিতর্কে জড়িয়েছিলেন সারা অর্জুন ও রণবীর সিংহ দু’জনেই। ‘ধুরন্ধর’ ছবিতে কেন রণবীরের বিপরীতে এত কম বয়সি অভিনেত্রীকে নেওয়া হল, তা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। শয্যাদৃশ্য নিয়েও বিতর্ক হয়েছে। কম বয়সি অভিনেত্রী নেওয়ার নেপথ্যে নাকি বিশেষ কারণ আছে। জানিয়েছেন ছবির পরিচালক আদিত্য ধর নিজেই। কিন্তু কন্যাকে ২০ বছরের বড় নায়কের সঙ্গে পর্দায় অন্তরঙ্গ হতে দেখে কী প্রতিক্রিয়া হয়েছিল সারার বাবা-মায়ের? কন্যাকে পর্দায় দেখে গর্বিত হয়েছিলেন, আনন্দাশ্রু এসেছিল তাঁদের চোখে। সারার কথায়, “এমনও দিন গিয়েছে আমার বাবা-মা দু’জনই আনন্দে চোখের জল ফেলেছেন। সেটাই আমার জীবনের আনন্দের দিন। এই দিনের গুরুত্ব আমার জীবনে অনেক।” তখন তাঁকে প্রশ্ন করা হয়, পড়াশোনা সংক্রান্ত সাফল্যেই কি বাবা-মায়ের চোখে আনন্দের জল দেখেছিলেন? তখনই সারা জানান, এই আনন্দাশ্রুর নেপথ্যে রয়েছে ‘ধুরন্ধর’-এর সাফল্য। এর আগে ‘পোন্নিয়ান সেলভান’ ছবিতে অভিনয় করেছিলেন সারা। তার পরে বোর্ডিং স্কুলে চলে গিয়েছিলেন তিনি। তাঁর কথায়, “বোর্ডিং স্কুলে প়ড়ার সময়ে আমার লক্ষ্য ছিল, বিদেশে গিয়ে ছবি ও অভিনয় নিয়ে পড়াশোনা করার।” তার পরে একে একে তাঁর কাছে আসতে থাকে ছবির সুযোগ। ‘ধুরন্ধর’-এ সুযোগ পাওয়ার পরে সব বদলে যায়। জানান সারা। রণবীরের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতাও ভাগ করে নিয়েছিলেন সারা। ‘ধুরন্ধর’ ছবিতে নিজের নায়ককে নিয়ে তিনি বলেছিলেন, “প্রিয় রণবীর, আমি ভাষায় প্রকাশ করতে পারব না, তাও চেষ্টা করছি। লোকে বলে, একজন সত্যিকারের অভিনেতা অতিমানবের মতো হয়— নির্ভীক, সীমাহীন ও শক্তিশালী। তুমিও ঠিক তা-ই। দুনিয়া তোমার দক্ষতা দেখছে। কিন্তু তোমার আন্তরিক ও সহানুভূতিশীল দিকটা প্রতিদিন দেখার সৌভাগ্য আমার হয়েছিল।” ‘ধুরন্ধর ২’-তে নাকি সারার চরিত্রটি আরও বড় করে তুলে ধরা হবে।





