ফলের দোকানে সাধারণত বড় পেয়ারাগুলিই প্রথমে চোখে পড়ে। মসৃণ ত্বক আর ওজনে ভারী হওয়ায় সেগুলিকে ভাল মানের মনে হয়। ছোট পেয়ারাগুলি পাশেই থাকে, সেগুলি তুলনামূলকভাবে শক্ত। ফলের ব্যাপারে ভাল ধারণা না থাকলে সেগুলির দিকে সাধারণত চোখ যায় না। বেশিরভাগ মানুষ সহজাতভাবেই বড় আকারের ফল বেছে নেন। কিন্তু পেয়ারার ক্ষেত্রে এই ধারণা বিভ্রান্তিকর হতে পারে। একটি বড় এবং একটি ছোট পেয়ারার মধ্যে পার্থক্যটা শুধু দেখনদারিতেই নয়। এই পার্থক্য স্বাদে, হজমে এবং ফলটি খাওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর শরীরে কেমন অনুভূতি হয়, তাতেও ধরা পড়ে। পেয়ারার আকার শুধু জাতের ওপরই নির্ভর করে না, ফলটি কীভাবে বেড়ে উঠেছে, তাও বোঝা যায়। বড় পেয়ারা প্রায়শই ফলন এবং বাহ্যিক সৌন্দর্যের জন্য চাষ করা হয়। এগুলি বেশি জল শোষণ করে, দ্রুত বাড়ে এবং তাড়াতাড়ি বাজারে আসে। ছোট পেয়ারাগুলো সাধারণত ধীর গতিতে বিকশিত হয়, যার ফলে শাঁসালো হয় এবং জলের পরিমাণ কম থাকে। এই ধীর বৃদ্ধি স্বাদ ও আঁশকে ঘনীভূত করে। যা ফলের স্বাদ এবং শরীর কীভাবে তা হজম করে তার ওপর প্রভাব ফেলে। ছোট পেয়ারাগুলোর স্বাদ সাধারণত তীব্র এবং সুগন্ধি হয়। যার জোরালো স্বাদ মুখে দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই অনুভূত হয়। অন্যদিকে, বড় পেয়ারাগুলোর স্বাদ তুলনামূলকভাবে হালকা হয়। সেগুলো মিষ্টি হলেও, স্বাদ কিছুটা ফিকে মনে হয়। ছোট পেয়ারা অল্প পরিমাণে খেলেও প্রায়শই বেশি পেট ভরা মনে হয়। এগুলির শাঁস ঘন হয় এবং ফাইবারও বেশি থাকে, যা হজম প্রক্রিয়াকে ধীর করতে সাহায্য করে এবং দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখে। বড় পেয়ারায় জলের পরিমাণ বেশি থাকে। তাই প্রথমে সেগুলি হালকা মনে হলেও, দ্রুতই আবার খিদে পেয়ে যায়। অনেকে খুব বড় পেয়ারা খাওয়ার পর হালকা পেট ফাঁপার সমস্যাও অনুভব করেন। বিশেষ করে শেষ বেলায়, যখন হজম প্রক্রিয়া স্বাভাবিকভাবেই ধীর হয়ে যায়। বড় পেয়ারাতে সাধারণত বেশি বীজ থাকে এবং শাঁস নরম হয়। যাদের হজমশক্তি কম, তাঁরা এই ধরণের পেয়ারা খেলে অস্বস্তিকর মনে হতে পারে। ছোট পেয়ারাগুলো শক্ত হয় এবং প্রায়শই ধীরে ধীরে চিবিয়ে খাওয়া সহজ হয়, যা প্রাকৃতিকভাবে হজমে সাহায্য করে। ভারতের আবহাওয়ায় ফল সংরক্ষণের সময়কাল একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ছোট পেয়ারা সাধারণত বেশি দিন তাজা থাকে, সহজে থেঁতলে যায় না এবং রাতারাতি নরম হয়ে না গিয়ে নিজেদের গঠন ধরে রাখে। বড় পেয়ারা প্রথম দিনে দেখতে আকর্ষণীয় লাগলেও, সেগুলি দ্রুত পেকে যায় এবং নরম হয়ে পড়ে। প্রায়শই একদিনের মধ্যেই সেগুলিতে ছোপ দেখা যায়।
কমলালেবুর উৎপত্তি গ্রীষ্মমণ্ডলীয় দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায়। বিশেষ করে উত্তর-পূর্ব ভারত, মায়ানমার এবং দক্ষিণ চিনে। আরবের বাণিজ্য পথগুলিই এই ফলকে ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে ছড়িয়ে দেয়। পরে এটি বিশ্বের অন্যান্য অংশে ছড়িয়ে পড়ে এবং একটি বহুল প্রচলিত ফলে পরিণত হয়। কমলালেবুই প্রথমে এসেছিল, রং নয়। সম্ভবত, কমলালেবুর আসল নামটি দক্ষিণ এশিয়া থেকে এসেছে। উত্তর-পশ্চিম দিকে ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন ভাষায় ফলটির নামে পরিবর্তন দেখা দেয়। এই নামটি ব্যবহারের প্রাচীনতম রেকর্ডটি ১৩০০-এর দশকের। শব্দটির অনেক অনুরূপ রূপ দেখা গিয়েছিল, বিশেষ করে ইতালিতে। এর প্রধান কারণ ছিল, মধ্যযুগে আরব বণিকরা সেভিয়া কমলা এই অঞ্চলে নিয়ে এসেছিলেন এবং ফল ও তার নামটি ছড়িয়ে দিতে সাহায্য করেছিলেন। শব্দটি দক্ষিণ ভারতীয় শব্দ ‘নারান্দাম’ থেকে উদ্ভূত হয়েছে। যার অর্থ ‘তেতো কমলা’। এটি সংস্কৃতে ‘নারঙ্গ’ (কমলা গাছ), ফার্সিতে ‘নারাং’ এবং আরবিতে ‘নারাঞ্জ’ নামে পরিচিতি লাভ করে। যখন আরব ব্যবসায়ীরা এটি ইউরোপে নিয়ে আসেন, তখন অনেক লোক কমলাকে আপেলের সঙ্গে তুলনা করেছিল। তাই, কিছু বাক্যাংশের আক্ষরিক অনুবাদ করলে তা দাঁড়ায় ‘কমলা আপেল’। ফরাসিরা এর নাম দিয়েছিল পমে দ’ওরেঞ্জ এবং ইতালীয়রা এটিকে নারানজা ও নারান্স বলত। জার্মানদের কাছে এটি ছিল পোমেরানজে এবং ইতালীয়রা এটিকে মেলারাঞ্চিও নামেও উল্লেখ করত। স্কটিশ এবং ডাচরা এটিকে অ্যাপিল অরেঞ্জ এবং ওরানিয়েআপেল বলত। ফলটি নিজস্ব নাম পাওয়ার আগে এই সব নামই ব্যবহৃত হত। কমলা, অর্থাৎ এই রঙটি অনেক পরে এসেছিল এবং তা কেবল ফলটি বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয়তা পাওয়ার পরেই। ১৪০০-এর দশকের মধ্যে শব্দটি আনুষ্ঠানিকভাবে ইংরেজি ভাষায় প্রবেশ করে। প্রায় একশ বছর পর, লোকেরা সেই একই শব্দ ব্যবহার করতে শুরু করে, যে রঙটিকে তারা আগে “হলুদ-লাল” বলে উল্লেখ করত। এই রঙের প্রথম ব্যবহারের লিখিত প্রমাণ ১৫০০-এর দশকে পাওয়া যায়। কমলা রঙ এসেছে অনেক পরে। ফলটি বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয়তা পাওয়ার পরেই। ১৪০০-এর দশকের মধ্যে শব্দটি আনুষ্ঠানিকভাবে ইংরেজি ভাষায় প্রবেশ করে। প্রায় একশ বছর পর, লোকেরা সেই একই শব্দ ব্যবহার করতে শুরু করে, যে রঙটিকে তারা আগে ‘হলদে লাল’ বলে উল্লেখ করত। এই রঙের প্রথম ব্যবহারের লিখিত প্রমাণ ১৫০০-এর দশকে পাওয়া যায়।





