Thursday, April 23, 2026
spot_imgspot_img

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

শিশু কি কানে কম শুনছে? শ্রবণশক্তির সমস্যা!‌ ‘ডিজিটাল হিয়ারিং এড’ ছোট থেকে ব্যবহার করলে কানের সমস্যা দূর

শিশুর কানে সমস্যা? শ্রবণশক্তির সমস্যা হওয়ার কারণ অনেক। বাবা-মায়েরা সঠিক সময়ে লক্ষণ চিনলে, চিকিৎসায় তা সারিয়ে তোলা সম্ভব। শিশুর শ্রবণশক্তি নিয়ে দুশ্চিন্তা হওয়া অত্যন্ত স্বাভাবিক, কারণ সঠিক সময়ে কথা বলা শিখতে পারা এবং মস্তিষ্কের বিকাশের জন্য কানে শুনতে পাওয়া জরুরি। শিশুদের শ্রবণশক্তির সমস্যা অনেক সময়েই বোঝা কঠিন হয়। তাই এর চিকিৎসা শুরু হতেও দেরি হয়। বাবা-মায়েদের খেয়াল রাখতে হবে যে শিশু কানে কম শুনছে কি না। কথা বললে তা শুনে বুঝতে পারছে কি না। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যাচ্ছে, স্কুলে যাচ্ছে যে শিশুরা, বা কিশোর-কিশোরীরা, তাদের শ্রবণশক্তির সমস্যা হচ্ছে। ছোট থেকেই কানে কম শোনা বা কিছু ক্ষেত্রে বধিরতার লক্ষণও দেখা দিচ্ছে। এর কারণ অনেক। বাবা-মায়েদের লক্ষণ বুঝে সঠিক সময়ে চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে। শিশু কানে কম শুনছে কি না তা বোঝার কিছু উপায়

নবজাতক থেকে ৩ মাস। কোনও উচ্চ শব্দে চমকে না ওঠা বা ঘুমের মধ্যে শব্দ হলে জেগে না যাওয়া।
৪ থেকে ৯ মাস। ডাকলে বা কোনও শব্দ হলে সে দিকে দিকে ঘাড় ঘুরিয়ে না তাকানো। ১০ থেকে ১৫ মাস। কথা বলতে দেরি করা, মা বাবার গলা চিনতে না পারা। সাধারণত ১৫ মাসের পর থেকে শিশু ধীরে ধীরে নানা শব্দ উচ্চারণ করতে শিখে যায়। না বলতে পারলে বুঝতে হবে, সমস্যা আছে। এ ক্ষেত্রে যত দ্রুত সম্ভব পরীক্ষা করিয়ে নিতে হবে। স্কুল পড়ুয়া শিশুদের ক্ষেত্রে যদি দেখেন, কথা উচ্চস্বরে না বললে বুঝতে পারছে না, কথা শুনে বুঝতে সমস্যা হচ্ছে, তা হলে দেরি না করে চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে।

সমস্যার কারণ কী কী? শিশুর শ্রবণশক্তির সমস্যা হওয়ার কারণ অনেক। শিশুরোগ চিকিৎসক প্রিয়ঙ্কর পালের মতে, জন্মের সময় শ্রবণশক্তি স্বাভাবিক থাকলেও পরবর্তী সময়ে মাথায় আঘাত পাওয়া, টাইফয়েড বা এনসেফেলাইটিসের সমস্যা হলে শ্রবণ ক্ষমতা কমে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। আবার হারপিস, রুবেলার মতো ভাইরাস ঘটিত কারণেও এই সমস্যা হতে পারে। কানের গঠনগত কিছু ত্রুটির কারণেও শিশু বধির হয়ে জন্মায় আবার ছোট বয়স থেকেই নানা জটিল অসুখবিসুখের কারণে শোনার ক্ষমতা লোপ পেতে পারে। যে সব শিশু নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই ভূমিষ্ঠ হয় ও স্বাভাবিকের থেকে অনেক কম ওজন নিয়ে জন্মায়, তাদের ক্ষেত্রে শোনার জন্য নির্দিষ্ট অডিটরি স্নায়ুর গঠনে ত্রুটি থাকে। ফলে পরবর্তী সময়ে গিয়ে শ্রবণশক্তি কমে যেতে পারে।

বাবা-মায়েরা কী করবেন? শিশুর কানে ইয়ারবাড বা ওই জাতীয় জিনিস দিয়ে খোঁচাখুঁচি করবেন না। শিশুকে খুব বেশি শব্দ হয় এমন জায়গায় বা জোরে লাউডস্পিকারের সামনে দীর্ঘ ক্ষণ রাখবেন না। ছোট থেকেই যদি সর্দি-কাশির সমস্যা বেশি হয় ও ঠান্ডা লাগলে কানে ব্যথা, কান থেকে পুঁজ বেরনোর সমস্যা দেখা দেয়, তা হলে চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে। কথা বলার বয়স পেরিয়ে যাওয়ার পরেও যদি শিশু কথা বলতে না পারে, তা হলে দেরি করা ঠিক হবে না। ছোট থেকে হিয়ারিং এড ব্যবহার করা নিয়ে অনেক বাবা-মায়েরই চিন্তা থাকে। তবে ‘ডিজিটাল হিয়ারিং এড’ ছোট থেকে ব্যবহার করলে কানের সমস্যা দূর হতে পারে। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ মতো সে ব্যবস্থা আগে থেকেই করতে হবে।

দিনরাত এক করে পড়তে হচ্ছে। কিন্তু পড়তে ভাল লাগলে তো! পরীক্ষা, এত পড়া রয়েছে, আর পড়তে হবে ভাবলেই একরাশ ক্লান্তি যেন চেপে বসছে। পড়াশোনা একটু করতে না করতেই ঘুমে চোখ ঢুলে আসছে।কিন্তু পড়াশোনা তো করতেই হবে। বিশেষত পরীক্ষার আগে। মনোবিদ, পেরেন্টিং কনাসালট্যান্টদের কথায়, পরীক্ষার আগে অতিরিক্ত পড়ার ঝোঁক তৈরি হয় বেশিরভাগ পড়ুয়ারই। সমস্যা সেখানেই। ঠিকমতো না ঘুমিয়ে, ঘণ্টার ঘণ্টা পড়তে গেলে, স্বাভাবিক ভাবেই মস্তিষ্ক ক্লান্ত হয়ে পড়ে। সহজ সমাধান হল, রুটিন করে বছরভর পড়াশোনা। পরীক্ষার এক মাস আগে গুরুত্ব দিয়ে না পড়ে অন্তত ৩-৪ মাস আগে থেকেই যদি প্রয়োজন বুঝে রুটিন তৈরি করা যায়, তাহলে ভাল হয়। পড়াশোনার নানা ধরনের কৌশলের মধ্যে ২৫/৫ রুল বা নীতি অনুসরণ করা যেতে পারে। এই কৌশল বলছে, টানা ২৫ মিনিট পড়াশোনার পরে ৫ মিনিটের বিরতি নেওয়া প্রয়োজন। এ ভাবে ২ ঘণ্টা পড়লে মোট ২০ মিনিট বিরতি নিতে হবে। তবে ২ ঘণ্টা পর আর পড়া নয়। উঠে পড়তে হবে। আবার অন্তত এক-আধ ঘণ্টা পরে পড়া যেতে পারে। নির্দিষ্ট দিনে কোন কোন বিষয় কতটা পড়তে বা রিভাইজ় করতে হবে, পড়তে বসার আগে ছকে নেওয়া ভাল। এতে স্পষ্ট ধারণা তৈরি হয়, কতটা সময়ে কতটা পড়া যাবে। ভাবনা না থাকলে, একটি বিষয় নিয়ে পড়ার মাঝেই মাথায় ঘুরতে পারে কোন বিষয়গুলি পড়া হয়নি, কী কী শেষ করতে হবে সেই সব। ফলে বর্তমান পড়াটা নষ্ট হয়। শিক্ষক থেকে মনোবিদেরা বলছেন, পড়াশোনায় মনোযোগ নষ্টের অন্যতম কারণটি হল মোবাইল। পড়তে পড়তে হোয়াটস্অ্যাপ অ্যাপ দেখলে, ফেসবুকে কোন ছবি কত লাইক পড়ল সে সব মাথায় ঘুরতে থাকলে, বার বার মোবাইল খুললে, পড়ায় মন না বসাই স্বাভাবিক। অনেকটা সময় চলে গেলেও সেই পড়াটা না হওয়ার ফলে ক্লান্তি আসবেই। তাই পড়ার সময় শুধুই পড়ার অভ্যাস জরুরি। অনেক পড়ুয়া খাটে পড়তে বসে। কিন্তু খাটের সঙ্গে ঘুমোনো বা আরাম করার গভীর সংযোগ রয়েছে। তাই বেশ কিছুক্ষণ সেখানে বসে পড়ার পরে মস্তিষ্কে বিশ্রামের সংকেত পৌঁছোতে পারে। সে কারণে খাটের বদলে নিয়ম করে চেয়ার-টেবিলে বসে পড়লে, মনোযোগে সুবিধা হবে। চট করে ঘুম আসবে না। ঘড়ি ধরে পড়ার বদলে, পড়ার লক্ষ্য হিসাবে বইয়ের নির্দিষ্ট চ্যাপ্টার বা অংশ স্থির করে নেওয়া ভাল। শুধু জোরে জোরে পড়লেই হয় না, বরং সেই বিষয়টি আত্মস্থ করা জরুরি। সে কারণে, যেটি পড়া হচ্ছে তা বোধগম্য হওয়া প্রয়োজন। পড়াশোনার সময়, নিজেকে নিজেই বিষয়টি বোঝানো যেতে পারে। নিজের মতো করে লিখে বা এঁকে যে ভাবে কাজটি করলে সুবিধা হয়, সে ভাবেই করা যায়। পড়া মানেই ঘড়ি ধরে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় দেওয়া নয়। বুঝে পড়লে, বা পরিকল্পনা করে নিলে অনেকটা পড়াই কম সময়ে হয়ে যেতে পারে। আর দ্রুত পড়া হয়ে যাচ্ছে মানেই, ঘড়ির হিসাবে নতুন বিষয় জুড়ে দেওয়া যায়, তা ভাবাও ঠিক নয়। বরং মনোবিদেরা পরামর্শ দেন, একটানা বেশিক্ষণ না পড়ে বিরতি জরুরি। তবে সেই বিরতি মোবাইল দেখা নয়। বরং হতে পারে বন্ধুদের সঙ্গে গল্প, রাস্তায় হেঁটে আসা, ছাদে একটু পায়চারি করা। একই সঙ্গে পর্যাপ্ত জল, খাবার খাওয়া এবং ঘুমেও জোর দিতে বলা হয়। পড়তে বসে ক্লান্ত লাগলে মুখে-চোখে জলের ঝাপটা দিলে, খোলা হাওয়ায় খানিক ক্ষণ বসলে, মনের মতে গান শুনলেও ভাল লাগবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles