সিরিজ জিতে যাওয়ার পর নিয়মরক্ষার ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের কাছে হেরেছে ভারত। খেলা শেষে ভারত অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদবের হারের ব্যাখ্যা অবাক করেছে। ম্যাচ হেরে অদ্ভুত ব্যাখ্যা দিলেন ভারত অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব। তাঁর কথা শুনে মনে হল, বিশাখাপত্তনমে নিউ জ়িল্যান্ড ভারতকে হারায়নি। ভারত ইচ্ছা করেই হেরেছে। সূর্যের মতে, তাঁরা চ্যালেঞ্জ নিতে চেয়েছিলেন। তাই এ ভাবে খেলেছেন। নইলে অন্য ভাবে খেলত ভারত। বিশাখাপত্তনমে ভারতের প্রথম একাদশ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। কেন এক ব্যাটার কম খেলিয়ে এক জন বেশি বোলার খেলানো হল, সেই আলোচনা চলছিল। আরও এক ব্যাটার থাকলে হয়তো ম্যাচ ভারতই জিতত। নিউ জ়িল্যান্ডের কাছে ৫০ রানে হেরে সূর্য বলেন, “আমরা ইচ্ছা করেই ছয় ব্যাটার খেলিয়েছি। আমরা পাঁচ জন বিশেষজ্ঞ বোলার খেলাতে চেয়েছিলাম। নিজেদের চ্যালেঞ্জের মধ্যে ফেলতে চেয়েছিলাম।” নিজের কথা উদাহরণ দিয়েও বুঝিয়েছেন সূর্য। ভারত অধিনায়ক বলেন, “ধরুন, ১৮০-২০০ রান তাড়া করতে নেমে আমাদের শুরুতেই ২-৩ উইকেট পড়ে গেল, তখন দল কেমন খেলবে সেটা দেখতে চেয়েছিলাম। যদি তা না হত, তা হলে অন্য ভাবে খেলতাম।” এই ম্যাচে ২১৬ রান তাড়া করতে নেমে প্রথম দুই ওভারে অভিষেক শর্মা ও সূর্য আউট হন। সঞ্জু স্যামসনও বেশি ক্ষণ থাকেননি। ফলে মিডল অর্ডারের উপর চাপ পড়ে যায়। তবে কি সূর্য বোঝাতে চাইলেন, ইচ্ছা করেই এমন পরিস্থিতি তৈরি করেছেন তাঁরা? সেটা কখনওই সম্ভব নয়। সেই কারণেই তাঁর কথা অদ্ভুত শুনিয়েছে। শ্রেয়সকে কেন খেলানো হয়নি, তার ব্যাখ্যাও দিয়েছেন সূর্য। বলেছেন, “বিশ্বকাপের দলে যারা আছে তাদেরই খেলাতে চেয়েছিলাম। নইলে বাকিদেরও সুযোগ দিতাম।” প্রশ্ন উঠছে, তা হলে রবি বিশ্নোইকে কেন পর পর দু’ম্যাচে খেলানো হল। তবে কি ওয়াশিংটন সুন্দরের খেলার সম্ভাবনা নেই? সেই কারণেই বিশ্নোইকে তৈরি করা হচ্ছে? সূর্যের কথা শুনে সেটাই মনে হল। কেন প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেননি তার ব্যাখ্যাও দিয়েছেন সূর্য। সেই চ্যালেঞ্জের কথাই শুনিয়েছেন তিনি। সূর্য বলেন, “প্রথমে ব্যাট করলে আমরা বড় রান করছি।দেখতে চাইছিলাম, ১৮০-২০০ রান তাড়া করতে নামলে আমরা কেমন খেলব। পাশাপাশি শুরুতে ২-৩ উইকেট পড়ে গেল কী হবে সেটাও দেখার ছিল। আমরা হেরেছি। তবে এই চ্যালেঞ্জটা দরকার ছিল। আশা করি পরের ম্যাচেও এই সুযোগটা পাব।” শিবমের লড়াইয়ের প্রশংসা করেছেন সূর্য। তাঁর মতে, আর এক জন ব্যাটার থাকলে বা আর একটি জুটি হলে খেলার ফল অন্য রকম হতে পারত। ভারত অধিনায়ক বলেন, “শিশির পড়ছিল। এক-দুটো জুটি হলেই খেলা ঘুরে যেত। শিবম দারুণ খেলেছে। আর এক জনকে ও পেলে খেলার ফল অন্য রকম হত। আমরা ৫০ রানে হেরেছি। ঠিক আছে। পরের ম্যাচে আরও জুটি গড়তে হবে।” টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নামার আগে আর একটি ম্যাচই পাবে ভারত। শেষ বার নিজেদের ঝালিয়ে নেওয়ার সুযোগ পাবেন সূর্যেরা। এখন দেখার, শেষ ম্যাচেও সূর্যেরা নিজেদের চ্যালেঞ্জ করার কতটা চেষ্টা করেন।
টি-টোয়েন্টিতে যতই ভাল খেলুক তাঁর দল, গৌতম গম্ভীরের কোচিংয়ে টেস্টে ভারতের ফল খুব খারাপ। এক দিনের দ্বিপাক্ষিক সিরিজ়েও সাফল্যের চেয়ে ব্যর্থতা বেশি। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পরেই কি চাকরি যাবে গৌতম গম্ভীরের? বিশ্বকাপের আগে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে দুরন্ত ফর্মে তাঁর দল। তিন ম্যাচ জিতে সিরিজ় জিতে গিয়েছে ভারত। কিন্তু ভারতের টেস্ট দলের কোচ হিসাবে গম্ভীরের ফল খুব খারাপ। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জিতলেও এক দিনের দ্বিপাক্ষিক সিরিজ়েও সাফল্যের থেকে তাঁর ব্যর্থতা বেশি। ফলে চাকরি যাওয়ার জল্পনা থামছে না। এই পরিস্থিতিতে মুখ খুলেছেন ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের সচিব দেবজিৎ শইকীয়া।শইকীয়া জানিয়েছেন, কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, তার জন্য একটি কমিটি তাঁদের রয়েছে। শইকীয়া বলেন, “আমাদের একটা ক্রিকেট কমিটি রয়েছে। সেখানে প্রাক্তন ক্রিকেটারেরা রয়েছেন। তাঁরাই সিদ্ধান্ত নেন। দল নির্বাচনের জন্য পাঁচ সদস্যের নির্বাচক কমিটিও রয়েছে। তাঁরাও যোগ্যতা প্রমাণ করে এই দায়িত্ব পেয়েছেন। তাই সিদ্ধান্ত নেওয়ার লোক আমি নই। তাঁরা সব বিষয়ে আলোচনা করবেন। তার পর সিদ্ধান্ত নেবেন। তাড়াহুড়োর তো কিছু নেই। ১৪০ কোটি লোকের দেশ। প্রত্যেকেই ক্রিকেটের বিশেষজ্ঞ। প্রত্যেকের মতামত আছে। গণতান্ত্রিক দেশে তো কারও মুখ বন্ধ করতে পারি না। সংবাদমাধ্যমেও নানা রকম জল্পনা চলেছে। বর্তমান ও প্রাক্তন ক্রিকেটারেরাও নিজেদের মতামত দিচ্ছেন। এতেই তো সমাজমাধ্যম ভরে গিয়েছে।”
শইকীয়ার কথা থেকে স্পষ্ট, তাঁরা বাইরের কথা শুনে কোনও সিদ্ধান্ত নেবেন না। যা সিদ্ধান্ত হবে, তা বোর্ডের অন্দরে অনেক আলোচনার পরে হবে। গম্ভীর দায়িত্ব নেওয়ার আগে ৯৩ বছরে মাত্র এক বার ঘরের মাঠে দুই বা তার বেশি টেস্টের সিরিজ়ে চুনকাম হয়েছিল ভারত। কিন্তু গম্ভীর জমানায় দু’বছরে দু’বার তা হয়েছে। প্রথমে নিউ জ়িল্যান্ড ও পরে দক্ষিণ আফ্রিকা ভারতকে হারিয়ে গিয়েছে। এক দিনের পাঁচটি দ্বিপাক্ষিক সিরিজ়ের মধ্যে তিনটি হেরেছেন গম্ভীর। শ্রীলঙ্কা, অস্ট্রেলিয়া ও নিউ জ়িল্যান্ড হারিয়েছে ভারতকে। ফলে পরিসংখ্যান তাঁর পক্ষে নেই। তবে তাঁর কোচিংয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিতলে গম্ভীরকে সরানোর রব যে কিছুটা কমবে, তা জানেন শইকীয়াও। সেই কারণেই তাড়াহুড়ো করছেন না।





