Friday, April 24, 2026
spot_imgspot_img

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

মমতাকে হারাতে সিপিএমের সঙ্গে জোট জনতা উন্নয়ন পার্টির!‌ নিউ টাউনের হোটেলে মহম্মদ সেলিম-হুমায়ুন কবীরের দীর্ঘ বৈঠক!

জোট নিয়ে আলোচনা। জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রধান হুমায়ুন কবীর নিউ টাউনের হোটেলে এক ঘণ্টার বেশি সময় ধরে বৈঠক করেন সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। তাঁদের মধ্যে জোট নিয়ে আলোচনা হয়েছে। কলকাতায় সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করলেন জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রধান হুমায়ুন কবীর। বুধবার রাতে নিউ টাউনের একটি হোটেলে এক ঘণ্টার বেশি সময় ধরে তাঁদের বৈঠক হয়েছে। হুমায়ুন বেরিয়ে জানিয়েছেন, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে সিপিএম, আইএসএফ-এর সঙ্গে তিনি জোট করে লড়়তে চান। তা নিয়েই সেলিমের সঙ্গে কথা হয়েছে। জোটের বিষয়ে নওশাদ সিদ্দিকির দলের সঙ্গে আলোচনার ভার সিপিএমের উপরেই ছেড়েছেন হুমায়ুন। তবে এই আলোচনা নিয়ে এখনই চূড়ান্ত কিছু বলে দিতে নারাজ সিপিএম। সেলিম জোটের বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলেননি। হুমায়ুন বলেন, ‘‘মহম্মদ সেলিমের সঙ্গে আমার আলোচনা হয়েছে। আগামী নির্বাচনে আমরা জোট করে লড়ব কি না, সে বিষয়ে কথা বলেছি। আইএসএফ-এর সঙ্গে কথা বলার বিষয়টি ওঁদের উপরেই ছাড়তে চাই। কংগ্রেস নিয়ে আমার কোনও বক্তব্য নেই। তাঁরা কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়ার মতো অবস্থায় আছে বলে আমার মনে হয় না।’’ সূত্রের খবর, সিপিএমের সঙ্গে আসন সমঝোতা নিয়ে কথা বলেছেন হুমায়ুন। একে অপরের বিরুদ্ধে প্রার্থী না-দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে ভাবনাচিন্তা চলছে। সেলিম বলেন, ‘‘হুমায়ুন বিভিন্ন জায়গা থেকে আমাকে বার্তা পাঠাচ্ছিল। ওর সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়েছে। আমি তো বলেইছিলাম, নতুন দল করলে আমি কথা বলব। ওর ভাবনা জানলাম। এ বার আমি দলকে তা জানাব।’’ হুমায়ুনের দল কি ধর্মনিরপেক্ষ? সেলিম বলেন, ‘‘মুখে তো তা-ই বলছে। তবে আমি বলেছি, ও আগে যে সমস্ত কথাবার্তা বলেছে, তা বলা যায় না। এ নিয়ে আলোচনা হবে।’’ সেলিম-হুমায়ুন বৈঠক নিয়ে অনেকে আশাবাদী। তবে সিপিএমের একটা বড় অংশের বক্তব্য, যে নেতা বাবরি মসজিদ তৈরি করছেন, তাঁর সঙ্গে বামেদের জোট জোর করে চাপিয়ে দিতে চাইলে হিতে বিপরীত হতে পারে। সে ক্ষেত্রে গত বিধানসভা নির্বাচনে আইএসএফ-এর সঙ্গে জোটের মতো পরিণতি হতে পারে সিপিএমের। তাই সাবধানে পা ফেলা দরকার। সেলিমের সঙ্গে হুমায়ুনের বৈঠকের খবর বিদ্যুৎ গতিতে ছড়িয়ে পড়েছে সিপিএমের অন্দরে। তার পরেই দলের অভ্যন্তরে প্রতিরোধের আবহ তৈরি হতে শুরু করেছে। বিশেষ করে উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ কলকাতা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, নদিয়া, হাওড়া এবং হুগলির উদ্বাস্তু অধ্যুষিত অঞ্চলের সিপিএম নেতারা বলতে শুরু করেছেন, এই এলাকায় পার্টিটার নামনিশানা আর থাকবে কি না, সন্দেহ আছে।

২০১১ সালে ৩৪ বছরের বাম সাম্রাজ্যের পতন ঘটেছে। তারপর যত দিন এগিয়েছে ততই কমেছে বামেদের ভোট। বর্তমানে রাজ্যে শূন্য সিপিএম। যদিও ছাব্বিশের নির্বাচনকে পাখির চোখ করে লড়ার ডাক দিচ্ছে আলিমুদ্দিন। তবে বিধানসভা নির্বাচনে বামেরা খাতা খুলবে পারবে কি না তা নিয়ে সন্দিহান দলের শীর্ষনেতারাই। ওয়াকিবহল মহলের দাবি, দিশাহীন মনোভাবের কারণেই ক্রমশ পিছিয়ে পড়েছে বামেরা। ছাব্বিশেও মাটি শক্ত করা তো দূর-অস্ত, আঁচড় কাটতে পারবে না তাঁরা। এসবের মাঝেই ‘সাম্প্রদায়িক’ হুমায়ুনের সঙ্গে জোট সংক্রান্ত বৈঠক সারলেন মহম্মদ সেলিম। বুধবার সন্ধ্যায় ১ ঘণ্টারও বেশি সময় বৈঠক করেন সেলিম ও হুমায়ুন। ধর্মনিরপেক্ষ সিপিএমের সঙ্গে বাবরির নামে ভোট চাওয়া হুমায়ুনের জোট বৈঠক স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক মহলে আলোড়ন ফেলে দিয়েছে। ভোট বৈতরণী পার করতে সাম্প্রদায়িক জনতা উন্নয়ন পার্টির জোট বাধা বামেদের জন্য হিতে-বিপরীত হতে পারে বলে মনে করছেন অনেকেই। ঠিক যেমনটা হয়েছিল গত বিধানসভা নির্বাচনে। নওশাদের আইএসএফের সঙ্গে জোট বেঁধে কী পরিণতি হয়েছিল তা মনে করিয়ে দিচ্ছেন অনেকেই। প্রশ্ন, “সিপিএমের মেরুদণ্ডই ভেঙে গিয়েছে”?‌

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles