Sunday, April 26, 2026
spot_imgspot_img

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

প্রিটোরিয়ার চ্যাম্পিয়ন হওয়া হল না!‌ কোটিপতি সৌরভের দল?‌ স্বপ্নভঙ্গ! কোচিং অভিষেকে খেতাব জয় অধরাই মহারাজের! তবু ইতিহাস সাক্ষী

‘এসএ২০’ অভিযান দেখিয়ে দিল। মহারাজ আজও ভারতীয় ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় ‘ম্যান-ম্যানেজার’। অগ্নিপরীক্ষায়, আপাতত, সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় গম্ভীরের থেকে এক ধাপ নয়। এক যুগ এগিয়ে। ইতিহাস সাক্ষী। ভারতীয় ক্রিকেট স্থিতিশীল ড্রেসিং রুমে স্বচ্ছন্দ, সফল। যখনই ঝুটঝামেলা লেগেছে, হতে পারে কোচ বনাম অধিনায়ক, সিনিয়র বনাম জুনিয়র, প্রাক্তন বনাম অধুনা-র ইগো সংঘাত, ফলশ্রুতি খুব একটা ভাল হয়নি। গ্রেগ চ্যাপেল থেকে শুরু করে অনিল কুম্বলের জমানা তার সাক্ষী। গৌতম গম্ভীর এখনও তোপের মুখে মসনদ থেকে উড়ে যাননি। কিন্তু সাম্প্রতিক পরিস্থিতি বলছে, টিম ইন্ডিয়ার হেডকোচ আপাতত মাইনফিল্ডে দাঁড়িয়ে। একটা ভুল পদক্ষেপেই সাধের স্বপ্ন ছিন্নভিন্ন হয়ে যেতে পারে। এশিয়া কাপ, চ্যাম্পিয়নস ট্রফি। সাফল্যের ঢোল যতই বাজুক, সাজঘর যদি একবার একজোট হয়ে তাঁর বিরুদ্ধে দাঁড়ায়, সেখান থেকে কামব্যাক করাটা শুধু দুরূহ নয়, প্রায় অসম্ভব। এই পরিস্থিতিতে প্রশ্নটা তাই অনিবার্য। ভারতীয় ক্রিকেট আদৌ কী চায়? অহেতুক বিতর্ক? অন্তর্দলীয় সংঘাত? নাকি দীর্ঘমেয়াদি স্থায়িত্ব ও লিগ্যাসি? উত্তর যদি দ্বিতীয়টাই হয়, তবে গম্ভীরের ঠিক বিপরীতে যাঁর নাম উঠে আসে, তিনি সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়।

দক্ষিণ আফ্রিকার ফাইনাল আর সৌরভের দর্শন

২০০৩ বিশ্বকাপ ফাইনাল। জোহানেসবার্গের ওয়ান্ডারার্স। ভারত হারল অস্ট্রেলিয়ার কাছে। সেই ক্ষত আজও শুকোয়নি। ২৩ বছর পরে সেই একই ভূখণ্ডে, ভিন্ন ভূমিকায়, ফের এক ফাইনাল হাতছাড়া সৌরভের। প্রিটোরিয়া ক্যাপিটালস কোচ হিসেবে এসএ২০ ফাইনালে সানরাইজার্স ইস্টার্ন কেপের কাছে পরাজয়। দুটো পরাজয় এক নয়। ২০০৩ ছিল ব্যর্থতার সিলমোহর। ২০২৬-এর বিপর্যয় প্রমাণ। সাফল্য মানে শুধু ট্রফি নয়। ডিওয়াল্ড ব্রেভিসের শতরান, দল হিসেবে লড়াই, শেষ ওভার পর্যন্ত ম্যাচে থাকা, এ সবই সৌরভের কোচিং দর্শনের স্বচ্ছ প্রতিফলন, জোরালো বার্তা ঠিক পথে হাঁটলে ফল আসবেই, আজ না হোক কাল।

ড্রেসিংরুম বনাম ডাগআউট: গম্ভীর বনাম সৌরভ

গম্ভীরের কোচিং দর্শন আক্রমণাত্মক, কর্তৃত্বপরায়ণ। তিনি স্পষ্ট বিশ্বাস করেন, ডিসিপ্লিন মানেই নিয়ন্ত্রণ। কিন্তু আধুনিক ক্রিকেটে, বিশেষ করে তারকাখচিত ভারতীয় ড্রেসিংরুমে, এই পদ্ধতি কতটা কার্যকর? প্রশ্ন উঠবে। অন্যদিকে সৌরভ। তাঁর দর্শন একেবারেই আলাদা। প্রিটোরিয়া ক্যাপিটালসে তিনি ‘বস’ নন, ‘ফ্যাসিলিটেটর’। খেলোয়াড়দের কথা শোনেন, সিদ্ধান্ত চাপাতে বিমুখ। কেশব মহারাজের নেতৃত্বে যে শান্ত, স্থির দল আমরা দেখেছি, তার নেপথ্যে এই বিশ্বাসের সংস্কৃতি। ভারতীয় ক্রিকেট ইতিহাস বলছে, যখন কোচ খেলোয়াড়দের বিশ্বাস করেন, তখন ক্রিকেটাররা নিজেদের উজাড় করে দেয়। জন রাইট-‌সৌরভ জুটি, গ্যারি কার্স্টেন-‌ধোনি যুগ, সবাই তার সফল উদাহরণ।

অতীত বলছে, অনেক প্রাক্তন মহাতারকাই কোচ হিসেবে ব্যর্থ। কারণ তাঁরা নিজের খেলোয়াড়ি মানদণ্ড অন্যদের ওপর চাপান। সৌরভ এখানে ব্যতিক্রম। তিনি প্রকাশ্যে বলেছেন—‘আমি আর ব্যাট হাতে নামি না। ম্যাচ জেতায় খেলোয়াড়রা।’ এই উপলব্ধি তাঁকে বানিয়ে তুলেছে আধুনিক কোচ। গম্ভীরের ক্ষেত্রে সওয়াল উঠছে। তিনি কি এখনও নিজেকে মাঠের ‘যোদ্ধা’ ভাবেন? নাকি সত্যিই ‘গাইড’ হতে পেরেছেন? প্রিটোরিয়ায় সৌরভ দেখিয়েছেন, কোচের আসল কাজ সংহতিপূর্ণ, সুস্থ পরিবেশ তৈরি। ব্রেভিস, লুঙ্গি এনগিডি, গিডিয়ন পিটার্সরা জানেন, ভুল করলে শাস্তি নয়, সমাধান খোঁজা হবে। এই লক্ষ্য অর্জনে গম্ভীরের এখনও অনেকটা পথ চলা বাকি।

ফল নয়, প্রক্রিয়া, এই দর্শনই ভবিষ্যৎ?

গম্ভীরের পক্ষে যুক্তি ফলই শেষ কথা। কিন্তু আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে শুধু রেজাল্টের পেছনে দৌড়লে ভিত ভেঙে পড়ে। সৌরভ বরাবর প্রক্রিয়ার ওপর জোর দিয়েছেন। প্রিটোরিয়া ক্যাপিটালস লিগের শুরুতে হোঁচট খেয়েছিল। কিন্তু আতঙ্ক ছড়ায়নি। শেষ সাত ম্যাচে ছ’টি জয়। কারণ, কোচ পরিকল্পনা বদলাননি। এটা সেই সৌরভীয় দর্শন, যা আধুনিক ভারতীয় ক্রিকেটকে পালটে দেয়। আজ টিম ইন্ডিয়ার অন্দরেও প্রশ্ন উঠছে। কোচ কি শুধুই ম্যাচ জেতার কথা ভাববেন? নাকি ২০২৭, ২০২৮-এর লক্ষ্যে টিম তৈরি করবেন? ভবিষ্যৎ দর্শনের এই জায়গাতে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় গম্ভীরের থেকে এগিয়ে।

ইগো ম্যানেজমেন্ট। সবচেয়ে অবহেলিত অথচ সবচেয়ে জরুরি। রোহিত শর্মা, বিরাট কোহলিয এই নামগুলোর ওজন যে কোনও কোচের কাছে চ্যালেঞ্জিং। গম্ভীরের সঙ্গে দূরত্ব নিয়ে কানাঘুষো চলছে। ক্যামেরার ফুটেজ, শরীরী ভাষা। সব মিলিয়ে প্রশ্ন উঠছে, ড্রেসিংরুম কি সত্যিই একজোট? সৌরভের ইতিহাস এখানে তাঁর পক্ষে কথা বলে। ২০০০ সালে তিনি দলে ফিরিয়েছিলেন বিরোধে জড়ানো ক্রিকেটারদের। তরুণদের সাহস জুগিয়েছেন, সিনিয়রদের সম্মান বজায় রেখেছেন। ইগো ভাঙেননি, সামলেছেন। আধুনিক ভারতীয় দলে কোচের সবচেয়ে বড় কাজ কৌশল নয়। মানুষ সামলানো। পরিভাষায় ‘ম্যান ম্যানেজমেন্ট’। এই পরীক্ষায় সৌরভ সসম্মানে উত্তীর্ণ।

দক্ষিণ আফ্রিকার হার কেন সৌরভকে ছোট করে না?

এসএ২০ ফাইনালে পরাজয় সৌরভের কেরিয়ারে আরেকটা ‘নোট’। কিন্তু সেটাকে ‘ব্যর্থতা’ বলা ভুল। কারণ, তিনি যা তৈরি করেছেন, তা টেকসই। ড্রেসিং রুমে অভিযোগ নেই। খেলোয়াড়দের প্রকাশ্য সমর্থন। কোচ হিসেবে প্রথম বড় অ্যাসাইনমেন্টে এই গ্রহণযোগ্যতা সহজে আসে না। দীর্ঘমেয়াদে এই দর্শনই ভারতীয় ক্রিকেট আশু প্রয়োজন।

আপাতত বল নির্বাচকদের কোর্টে। তাঁরা যদি চান প্রতিদিন বিতর্ক, প্রতিদিন ‘আমরা বনাম ওরা’, এই সাফল্য এই ব্যর্থতার অস্থির চক্র। তাহলে গম্ভীরই উপযুক্ত। কিন্তু যদি স্থিতিশীলতা, দীর্ঘমেয়াদি আধিপত্য, আর এমন এক সাজঘর যেখানে খেলোয়াড়রা স্বস্তিতে সেরা পারফরম্যান্স দিতে পারে। নজরে থাকে, তাহলে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের বিকল্প নেই। খেতাব এল না বলে তাঁকে ছোট করা যাবে না। বরং, ‘এসএ২০’ অভিযান দেখিয়ে দিল। মহারাজ আজও ভারতীয় ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় ‘ম্যান-ম্যানেজার’। অগ্নিপরীক্ষায়, আপাতত, সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় গম্ভীরের থেকে এক ধাপ নয়। এক যুগ এগিয়ে।

দক্ষিণ আফ্রিকার টি-২০ লিগের ফাইনালে উঠেও সৌরভের কোচিংয়ে থাকা প্রিটোরিয়া ক্যাপিটালস হেরে গেল। একটা সময়ে জেতার মতো পরিস্থিতি থাকলেও শেষ পর্যন্ত তীরে এসেই ডুবল প্রিটোরিয়ার তরী। সৌরভের প্রিটোরিয়ার চ্যাম্পিয়ন হওয়া হল না। ২০০৩ বিশ্বকাপে তাঁর নেতৃত্বে ভারত রূপকথা লিখেছিল। প্রবল লড়াই করে ফাইনালের টিকিট ছিনিয়ে নিলেও মেন ইন ব্লুর স্বপ্নপূরণ হয়নি। ক্রিকেটদেবতার ‘অভিশাপে’ সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের ভারতের গল্পটা ট্র্যাজিক হয়ে থেকে যায়। ২৩ বছর পর আরও একবার ট্র্যাজিক নায়কের আসনটা বরাদ্দ হল মহারাজের জন্যই। দক্ষিণ আফ্রিকার টি-২০ লিগের ফাইনালে উঠেও সৌরভের কোচিংয়ে থাকা প্রিটোরিয়া ক্যাপিটালস হেরে গেল। একটা সময়ে জেতার মতো পরিস্থিতি থাকলেও শেষ পর্যন্ত তীরে এসেই ডুবল প্রিটোরিয়ার তরী। থমবার কোচের হটসিটে বসেছেন প্রিন্স অফ ক্যালকাটা। টুর্নামেন্ট শুরুর দিকে অনেক ঝড়ঝাপটা গিয়েছে তাঁর দলের উপর দিয়ে। কিন্তু তিনি যে ‘কামব্যাক কিং’। পরপর দুই ম্যাচ হারার পর দলের মনোবল ভাঙতে দেননি। সেখান থেকে টানা ম্যাচ জিতে ফাইনালে। যে দলটা গত দু’বছর ধারাবাহিকতার অভাবে ভুগছিল, সেই দলটার ড্রেসিংরুমে আমূল বদল আনেন ‘দাদা’। চ্যাম্পিয়ন হওয়ার দাবিদার হিসাবে গড়ে তোলেন প্রিটোরিয়াকে। সানরাইজার্স ইস্টার্ন কেপের বিরুদ্ধে খেলতে নেমে শুরুটা ভালোই করেছিলেন কেশব মহারাজরা। যদিও কেশব এদিন টস হারেন। তবে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ঝড় তোলেন প্রিটোরিয়ার তরুণ তুর্কি ডেওয়াল্ড ব্রেভিস। শূন্য রানে প্রথম উইকেট পড়ে যাওয়ার ধাক্কাকে পরোয়া না করে মাত্র ৫৬ বলে ১০১ রানের অনবদ্য ইনিংস খেলেন তিনি। তবে উইকেটের অপর প্রান্ত থেকে একেবারেই সাহায্য মেলেনি। দুই অঙ্কের রানে পৌঁছন মাত্র দু’জন ব্যাটার। প্রিটোরিয়ার ইনিংস শেষ হয় ১৫৮ রানে। কম রানের পুঁজি নিয়েও সমানে সমানে টক্কর দেয় প্রিটোরিয়া বোলিং লাইন আপ। মাত্র ৪৮ রানের মধ্যে সানরাইজার্সের চার উইকেট ফেলে দেন লুনগি এনগিডিরা। তবে সেখান থেকে ম্যাচের হাল ধরে ফেলেন ম্যাথিউ ব্রেটস্কি এবং ট্রিস্তান স্টাবস। ১১৪ রানের জুটি গড়ে সানরাইজার্সকে জিতিয়ে দেন। ফাইনালে শিকে ছিঁড়ল না সৌরভের।

লিগে নিজেদের অপ্রতিদ্বন্দ্বী আধিপত্য আরও একবার প্রমাণ করল সানরাইজার্স ইস্টার্ন কেপ। টুর্নামেন্টের চতুর্থ মরশুমের ফাইনালে প্রিটোরিয়া ক্যাপিটালসকে হারিয়ে তৃতীয়বারের মতো শিরোপা জয় করল। একসময় জয় অসম্ভব মনে হলেও হাতে চার বল বাকি থাকতেই ম্যাচ জিতে যায় সানরাইজার্স। জয়ের ফলে সানরাইজার্স ইস্টার্ন কেপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে পেয়েছে ৩২.৫ মিলিয়ন ব়্যান্ড (প্রায় ১৮.৪৮ কোটি টাকা), রানার্স-আপ প্রিটোরিয়া ক্যাপিটালসের প্রাপ্তি ১৬.২৫ মিলিয়ন ব়্যান্ড (প্রায় ৯.২৩ কোটি টাকা)। ফাইনালের শুরুতে অবশ্য দাপট দেখিয়েছিল প্রিটোরিয়া ক্যাপিটালস। নিউল্যান্ডসের ঐতিহাসিক মাঠে টেবিল মাউন্টেনের পাদদেশে ডেভল্ড ব্রেভিস খেলেন অনবদ্য এক ইনিংস। দল যখন মাত্র ৮ রানে ২ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে গিয়েছে সেই পরিস্থিতিতে ক্রিজে নেমেই পাল্টা আক্রমণে ঝাঁপিয়ে পড়েন তিনি। লিগের অকশনে রেকর্ড দামে কেনা এই ব্যাটার ৫৬ বলে ১০১ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন যার মধ্যে ছিল ৮টি চার ও ৭টি ছক্কা। ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন ট্রিস্টান স্টাবস। গিডিয়ন পিটার্সের ১৮তম ওভারে ২১ রান তুলে দলকে ম্যাচে ফেরান তিনি। এরপর লুঙ্গি এনগিডির পেনাল্টিমেট ওভার থেকে আসে ১২ রান। উত্তেজনায় টগবগ করা নিউল্যান্ডসের দর্শকদের সামনে শেষ ওভারে ব্রাইস পার্সন্সের বলে টানা দু’টি ছক্কা হাঁকিয়ে জয়ের সিলমোহর বসান সানরাইজার্স অধিনায়ক। ফাইনালে দুর্দান্ত শতরানের সুবাদে ডেভল্ড ব্রেভিস নির্বাচিত হন ফাইনালের সেরা খেলোয়াড়। মরশুম জুড়ে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের জন্য কুইন্টন ডি কক পান মরশুমের সেরা ব্যাটার ও সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার। মরশুমের সেরা বোলার নির্বাচিত হন অটনিল বার্টম্যান এবং উদীয়মান তারকার সম্মান এসেছে জর্ডান হারম্যানের ঝুলিতে। ম্যাচের পর সানরাইজার্স কোচ অ্যাড্রিয়ান বিরেল বলেন, ‘আমাদের জন্য এটা একেবারে স্মরণীয় ফাইনাল ছিল। ডেভল্ড ব্রেভিসের অসাধারণ ইনিংস, প্রতিপক্ষকে ১৫৮ রানে আটকে রাখা এবং শেষ কয়েক ওভারে ওভারপ্রতি ১৩ রান করে তাড়া করে জয়। সব মিলিয়ে দলের পারফরম্যান্সে আমি গর্বিত।’ টানা চারবার ফাইনালে ওঠা এবং তৃতীয়বার শিরোপা জয় দলের গভীরতা ও শক্তিরই প্রমাণ বলে জানান।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles