প্রশাসনিক দায়িত্ব সামলানোর পাশাপাশি আঁকা, লেখালেখির প্রতি ঝোঁক রয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর। প্রতিবার বইমেলাতেই কোনও না কোনও নতুন বই বেরয় তাঁর। এবারের বইমেলায় এসআইআর নিয়ে সাধারণ মানুষের হেনস্তা নিয়ে কবিতার বই বেরচ্ছে। এই প্রসঙ্গে এদিন মমতা বলেন, “আমার মোটামুটি ১৫৩টা বই বেরিয়েছে। এবার হয়তো ৯টা বেরবে। আমি আমার রাজনৈতিক জীবনের কিছু কথা, সবটা এখনও বলিনি। কারণ, সবটা বলে দিলে আগামিদিনের জন্য হৃদয়ের সঞ্চিত ভাণ্ডারে কী থাকবে? একটা কথাভাণ্ডার দিয়েছি। একটু একটু লিখেছি। আরও অনেক বইয়ের মধ্যে এসআইআরে যে হেনস্তা চলছে, তা থাকবে। যেহেতু এটা ২৬, ছাব্বিশে ছাব্বিশটা কবিতা আমি হেলিতে যেতে যেতে ২-৩দিনের মধ্যে লিখে দিয়েছি। ওটা এসআইআর হিসাবে বেরবে। এবার সংখ্যাটা ১৬২ হবে।” বইমেলা কর্তৃপক্ষের আবেদনে সাড়া। এবার কলকাতার সেন্ট্রাল পার্কে তৈরি হবে বইতীর্থ। বৃহস্পতিবার কলকাতা আন্তর্জাতিক বইমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠান মঞ্চ থেকে বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। ১০ কোটি টাকা বইমেলা কর্তৃপক্ষকে দেওয়া হবে বলেও জানান। কীভাবে তৈরি হবে বইতীর্থ, তার প্রাথমিক নকশাও এঁকেছেন তিনি। তবে ব্যস্ততায় সেই নকশা আঁকার কাজ শেষ করতে পারেননি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “বইমেলা প্রাঙ্গণ স্থায়ী হয়ে গিয়েছে। মহাকালধাম, জগন্নাথধামের মতো বইতীর্থ করতে চাইছে ওরা। করে দাও। আইডিয়া একটা রাফ স্কেচ করছিলাম। ব্যস্ততায় পুরোটা করতে পারিনি। পুরো বই দিয়ে তৈরি হবে। ১০ কোটি টাকা আপনাদের কাছে চলে যাবে। ৫০ বছরের উদ্বোধনে এসে যেন দেখতে পাই বইমেলার সঙ্গে বইতীর্থও হয়েছে।”

৪৯তম আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলার মঞ্চ থেকেও ফের এসআইআরে ‘মৃত্যু’ এবং হয়রানি নিয়ে সরব হলেন তিনি। একইসঙ্গে যেভাবে নোবেলজয়ী অমর্ত্য সেন, কবি জয় গোস্বামীকে এসআইআর নোটিস পাঠানো হয়েছে তা নিয়েও ফের একবার কমিশনকে একহাত নেন প্রশাসনিক প্রধান। পাশাপাশি এই ইস্যুতে সবাইকে একজোট হয়ে প্রতিবাদ করার কথাও বলেন তিনি। মঞ্চ থেকেই ফের এসআইআর ইস্যুতে সরব হন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ”বাংলায় এসআইআর চলছে। ইতিমধ্যে ১১০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। মানুষের হয়রানির কথাটাও মনে রাখতে হবে। শুনানিতে পাঁচ-ছঘণ্টা করে লাইন দিতে হচ্ছে।” এই বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে পদবীর গেরোয় যেভাবে মানুষকে যেভাবে হেনস্তা করা হচ্ছে তা নিয়েও সরব হন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, কেউ চ্যাটার্জি চট্টোপাধ্যায় লেখেন, কেউ মুখার্জি বাংলায় মুখোপাধ্যায় লেখেন। খুব দোষ হয়ে গেছে। একজনকে বলছে পাঁচটা ছেলে-মেয়ের একই বাবা-মা হয় কীভাবে?” মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ”এমন তো অনেকের আছে। আগে তো ‘হাম দো হামারা দো’ ছিল না।” ঐতিহ্য এবং স্বাধীনতা আন্দোলনের সময় বাংলার অবদানের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, অমর্ত্য সেনকে যদি বলে তোমার বাবার সঙ্গে মায়ের বছরের কত ডিফারেন্স? এর থেকে লজ্জাজনক কি হতে পারে। কবি জয় গোস্বামীকেও ডেকে পাঠানো হচ্ছে। অনেক ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ারকেও ডাকা হচ্ছে।” কমিশনকে একহাত নিয়ে সবাইকে এই বিষয়ে একজোট হয়ে প্রতিবাদ করার কথা বলেন প্রশাসনিক প্রধান। তাঁর কথায়, ”আগে নিয়ম ছিল ইলেকশন কমিশন নয়, জনগন নির্ধারণ করতেন কে আসবে। কিন্তু এখন ভোটের আগেই কমিশন ঠিক করে দিচ্ছেন কাকে নিয়ে আসবেন। মানুষের গণতান্ত্রিক হরণ করে। এটা হতে পারে না। সবাই এর প্রতিবাদ করবেন। মনে রাখবেন, আমার ঘরে আগুন লাগেনি বলে, পাশের বাড়িতে লেগেছে। আমি চুপ থাকতে পারি না।” অমর্ত্য সেন, জয় গোস্বামী কিন্তু আপনাদেরও টাচ করে বলেও উদ্বোধনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত সাহিত্যিক, অতিথিদের উদ্দেশ্যে বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর। যা খুবই তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।





