Sunday, April 26, 2026
spot_imgspot_img

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

তৃতীয় মহাযুদ্ধ আসন্ন? গ্রিনল্যান্ডকে ঘিরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আগ্রাসী অবস্থান

গ্রিনল্যান্ডের রাস্তায় বিক্ষোভ। গ্রিনল্যান্ডকে ঘিরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আগ্রাসী অবস্থান ও নতুন শুল্ক আরোপের ঘোষণায় ইউরোপ–আমেরিকা সম্পর্ক ফের তীব্র উত্তেজনার মুখে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) তাদের সবচেয়ে শক্তিশালী বাণিজ্যিক প্রতিশোধমূলক হাতিয়ার, যা অনানুষ্ঠানিকভাবে ‘ট্রেড বাজুকা’ নামে পরিচিত, ব্যবহারের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে ভাবছে। এটি কার্যকর হলে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এই অস্ত্র প্রয়োগ করবে ২৭ সদস্যের ইইউ। ট্রাম্প ঘোষণা করেন, আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানি, নেদারল্যান্ডস, নরওয়ে, সুইডেন ও যুক্তরাজ্য থেকে আমদানি হওয়া পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করবে যুক্তরাষ্ট্র। আরও কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, যদি ১ জুনের মধ্যে গ্রিনল্যান্ড বিষয়ে কোনও সমঝোতা না হয়, তবে এই শুল্ক বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করা হবে। ট্রাম্পের দাবি, ডেনমার্কের অধীন স্বায়ত্তশাসিত এই অঞ্চলটি যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ‘অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ’। এমনকি তিনি গ্রিনল্যান্ড দখলের প্রশ্নে বলপ্রয়োগের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি। ঘোষণার পরই ওয়াশিংটন ও ইউরোপীয় মিত্রদের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক দ্রুত অবনতির দিকে যায়। গ্রিনল্যান্ডের পক্ষে অবস্থান নেওয়া ইউরোপীয় দেশগুলির বিরুদ্ধে শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্তকে অনেকেই সরাসরি রাজনৈতিক চাপ তৈরির কৌশল হিসেবে দেখছেন। ব্রাসেলসে ইউরোপীয় দেশগুলির প্রতিনিধিদের এক জরুরি বৈঠক বসে। বৈঠকে অবিলম্বে কী ধরনের পাল্টা পদক্ষেপ নেওয়া যায় এবং দীর্ঘমেয়াদে মার্কিন–ইইউ সম্পর্কের ভবিষ্যৎ কী হতে পারে, তা নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা হয়। বৈঠকের পর ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “এবার সময় এসেছে ইইউর ‘ট্রেড বাজুকা’ প্রথমবারের মতো ব্যবহার করার।” ‘ট্রেড বাজুকা’ আসলে ইইউর অ্যান্টি–কোয়ার্সন ইনস্ট্রুমেন্ট একটি বিশেষ ব্যবস্থা, যার উদ্দেশ্য ইউরোপীয় ইউনিয়নকে তৃতীয় কোনও দেশের অর্থনৈতিক চাপ বা ব্ল্যাকমেলের বিরুদ্ধে আত্মরক্ষার ক্ষমতা দেওয়া। এই আইনের আওতায় ইইউ পাল্টা শুল্ক আরোপ করতে পারে, ইউরোপীয় সিঙ্গেল মার্কেটে মার্কিন সংস্থাগুলির প্রবেশ সীমিত করতে পারে এবং এমনকি বড় অঙ্কের ইউরোপীয় সরকারি প্রকল্পে মার্কিন কোম্পানিগুলির অংশগ্রহণ বন্ধও করে দিতে পারে। ইইউ কর্মকর্তারা ইঙ্গিত দিয়েছেন, এই ব্যবস্থা কেবল শুল্কের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। প্রয়োজনে রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ, প্রযুক্তি সংক্রান্ত বিধিনিষেধ এবং আরও নানা ধরনের অর্থনৈতিক বাধাও আরোপ করা হতে পারে, যা সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়িক স্বার্থে আঘাত হানবে। রয়টার্স সূত্রে জানা গেছে, ইইউ ৯৩ বিলিয়ন ইউরোর যে পাল্টা শুল্ক আগে ঘোষণা করেছিল, যা ২০২৫ সালের জুলাইয়ে সাময়িক বাণিজ্য সমঝোতার কারণে স্থগিত রাখা হয়েছিল, সেটিও পুনরায় কার্যকর করার বিষয়টি এখন সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে। ইউরোপীয় কূটনীতিকদের মতে, পরিস্থিতি নজিরবিহীন। অতীতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য বিরোধ হলেও, কখনও এমন মাত্রার হুমকি ও চাপের মুখে পড়তে হয়নি ইউরোপকে। এর মধ্যেই রবিবার আটটি ইউরোপীয় দেশ এক যৌথ বিবৃতিতে গ্রিনল্যান্ডের প্রতি পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করে। বিবৃতিতে বলা হয়, “আমরা ডেনমার্ক রাজ্য এবং গ্রিনল্যান্ডের জনগণের পাশে আছি।” ন্যাটো সদস্য দেশ হিসেবে তারা আর্কটিক অঞ্চলের নিরাপত্তাকে যৌথ ট্রান্সআটলান্টিক স্বার্থ বলে উল্লেখ করে। বিবৃতিতে সতর্ক করে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক হুমকি দীর্ঘদিনের মিত্রতা ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে এবং ট্রান্সআটলান্টিক সম্পর্কে একটি “বিপজ্জনক চক্র” শুরু হতে পারে। ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কোস্তা লেন, আন্তর্জাতিক আইন ও ইউরোপীয় স্বার্থ রক্ষায় ইইউ দৃঢ় অবস্থান নেবে। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লেয়েনও একই সুরে বলেন, এই ধরনের শুল্ক ব্যবস্থা ইইউ–যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ককে দুর্বল করবে। যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারও রবিবার এক ফোনালাপে ট্রাম্পের সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে ন্যাটো মিত্রদের ওপর শুল্ককে চাপের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা ভুল এবং তা ট্রান্সআটলান্টিক স্থিতিশীলতাকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে। ডাউনিং স্ট্রিটের এক বিবৃতিতে বলা হয়, “উত্তর প্রান্তের নিরাপত্তা রক্ষা ন্যাটোর সব সদস্যের যৌথ দায়িত্ব। সেই নিরাপত্তা প্রশ্নে ঐক্যবদ্ধ অবস্থানের জন্য মিত্রদের শাস্তি দেওয়া কোনওভাবেই ন্যায্য নয়।” গ্রিনল্যান্ডকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া এই সংঘাত শুধু একটি ভূখণ্ডের প্রশ্নে সীমাবদ্ধ নেই। এটি এখন ইউরোপ–আমেরিকা সম্পর্ক, ন্যাটোর ঐক্য এবং বৈশ্বিক বাণিজ্য ব্যবস্থার ভবিষ্যৎ নিয়েও বড় প্রশ্ন তুলে দিচ্ছে।

ওয়াশিংটনের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ইরান কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ আলি খামেইনিকে লক্ষ্য করে কোনও হামলা হলে তা ইরানি জাতির বিরুদ্ধে “সর্বাত্মক যুদ্ধ”-এর সমতুল্য বলে বিবেচিত হবে। একই সঙ্গে তেহরান ইঙ্গিত দিয়েছে, চলমান অস্থিরতার সঙ্গে যুক্ত মামলায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা আবারও শুরু হতে পারে। এক ইরানি কর্মকর্তার সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক অস্থিরতায় অন্তত ৫,০০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছে। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ এক পোস্টে বলেন, “যে কোনও অন্যায্য আগ্রাসনের জবাব হবে কঠোর ও তার জন্য পস্তাতে হবে।” তিনি স্পষ্ট করেন, সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ খামেইনির ওপর আঘাত হানা মানে ইরানি জাতির বিরুদ্ধে সর্বাত্মক যুদ্ধ ঘোষণা করা। পেজেশকিয়ানের এই বক্তব্য আসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায়। ট্রাম্প বারবার সতর্ক করে বলেছেন, যদি বিক্ষোভকারীদের হত্যা বা মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা চলতে থাকে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র হস্তক্ষেপ করতে পারে। ট্রাম্প বলেন, “ইরানে নতুন নেতৃত্বের কথা ভাবার সময় এসেছে।” ইরানি প্রেসিডেন্ট একই সঙ্গে দেশের অর্থনৈতিক সংকটের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের দায়ী করেন। সামাজিক মাধ্যমে তিনি লেখেন, দীর্ঘদিনের শত্রুতা ও “অমানবিক নিষেধাজ্ঞা” ইরানি জনগণের দুর্ভোগের অন্যতম প্রধান কারণ। তীব্র বাকযুদ্ধের মাঝেই এক নাটকীয় মোড় দেখা যায়। শুক্রবার ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে ইরানের নেতৃত্বকে ধন্যবাদ জানান, তার দাবি, নির্ধারিত ৮০০ বন্দির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে। যদিও যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক সম্পদ সরিয়ে নিয়েছে, ওয়াশিংটন ঠিক কী পদক্ষেপ নিতে পারে সে বিষয়ে স্পষ্ট কিছু জানায়নি। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা খামেনি পাল্টা কড়া প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি ট্রাম্পকে “অপরাধী” বলে আখ্যা দেন এবং “কয়েক হাজার মানুষের মৃত্যু”র কথা স্বীকার করেন। তবে এই হিংসার জন্য তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল-সমর্থিত “সন্ত্রাসী ও দাঙ্গাবাজদের” দায়ী করেন। তেহরানের ঐতিহাসিক গ্র্যান্ড বাজারে অর্থনৈতিক দুর্দশা থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভ দ্রুতই রাজনৈতিক রূপ নেয় এবং সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে। দোকানদার, ছাত্র, নারী-পুরুষ সব শ্রেণির মানুষ রাস্তায় নামেন। অনেক জায়গায় প্রকাশ্যেই ধর্মীয় শাসনের অবসান দাবি করা হয়। বিক্ষোভ তীব্র হলে কর্তৃপক্ষ ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ করে দেয় এবং রাস্তায় বিপুল সংখ্যক নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করে। গত সপ্তাহে দমন-পীড়নের পর প্রকাশ্য আন্দোলন কিছুটা কমলেও, মৃত্যু, গ্রেপ্তার ও নির্যাতনের খবর থামেনি। ইরানের বিচার বিভাগ রোববার জানিয়েছে, অস্থিরতার সঙ্গে যুক্ত মামলায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা এখনও হতে পারে। বিচার বিভাগের মুখপাত্র আসগর জাহাঙ্গির বলেন, কিছু কর্মকাণ্ডকে “মোহরেব” হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে ইসলামি আইনে যার অর্থ ‘ঈশ্বরের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা’, এবং এর শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। রয়টার্সকে উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, “মোহরেব ইসলামে সবচেয়ে কঠোর শাস্তির আওতাভুক্ত।” ইরানি কর্মকর্তা জানান, যাচাই করা মৃত্যুর সংখ্যা “হঠাৎ করে বাড়বে না।” তবে তিনি আবারও অভিযোগ করেন, “ইসরায়েল ও বিদেশভিত্তিক সশস্ত্র গোষ্ঠী” বিক্ষোভকারীদের সমর্থন দিচ্ছে। ইরানের ধর্মীয় নেতৃত্ব বরাবরের মতোই অভ্যন্তরীণ অস্থিরতার জন্য বিদেশি শত্রুদের দোষারোপ করছে। ইন্টারনেট পর্যবেক্ষণ সংস্থা নেটব্লকস জানিয়েছে, শনিবার অল্প সময়ের জন্য ইন্টারনেট পরিষেবা ফিরলেও পরে আবার তা বন্ধ করে দেওয়া হয়। এক ইরানি কর্মকর্তা জানান, উত্তর-পশ্চিম ইরানের কুর্দি অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে সবচেয়ে বেশি সংঘর্ষ ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে, এই অঞ্চলগুলোতে অতীতেও বারবার অস্থিরতা দেখা গেছে। চলতি মাসের শুরুতে রয়টার্সকে তিনটি সূত্র জানায়, ইরাক থেকে সশস্ত্র কুর্দি বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলো ইরানে ঢোকার চেষ্টা করেছিল। অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা, সম্ভাব্য মৃত্যুদণ্ড এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান টানাপোড়েন ইরানকে এক গভীর রাজনৈতিক ও মানবিক সংকটের মুখে দাঁড় করিয়েছে, যার প্রভাব শুধু দেশটির ভেতরেই নয়, গোটা মধ্যপ্রাচ্য জুড়েই পড়তে পারে।

‘গাজা বোর্ড অব পিস’, এই বোর্ডে ভারত-সহ আরও চারটি দেশকে আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানাল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোর এই আমন্ত্রণের বিষয়টি নিশ্চিৎ করেছেন। ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন শান্তি পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই এই প্রস্তাব বলে জানিয়েছে ওয়াশিংটন। ইজরায়েল-হামাস যুদ্ধ বন্ধ করতে এবং গাজার ভবিষ্যৎ প্রশাসন গড়ে তুলতে আমেরিকা ‘গাজা বোর্ড অব পিস’ তৈরিতে উদ্যোগী। মার্কিন রাষ্ট্রদূত গোর এক্স-এ লিখেছেন, ‘গাজায় দীর্ঘস্থায়ী শান্তিই আমেরিকার লক্ষ্য। শান্তি বোর্ডে অংশগ্রহণের জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে আমন্ত্রণ জানাতে পেরে আমি সম্মানিত। এই বোর্ড, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধি অর্জনের জন্য কার্যকর শাসনব্যবস্থাকে সমর্থন করবে!’ আমন্ত্রণপত্রটিও তিনি এক্স-এ পোস্ট করেছেন। ‘গাজা বোর্ড অব পিস’ বোর্ডের মূল কাজ হবে গাজার দৈনন্দিন প্রশাসন, যুদ্ধবিরতি বজায় রাখা, পুনর্গঠন তদারকি এবং অঞ্চলে স্থিতাবস্থা ফিরিয়ে আনা। ট্রাম্প নিজেই এই বোর্ডের চেয়ারম্যান হবেন। তাঁর ২০ দফা ‘গাজা পিস প্ল্যান’কে অনুমোদন করেছে রাষ্ট্রতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদও। বোর্ডে সদস্যপদ দু’ধরনের, স্থায়ী এবং তিন বছরের মেয়াদি। একজন মার্কিন আধিকারিক জানিয়েছেন, স্থায়ী সদস্য হতে হলে এক বিলিয়ন মার্কিন ডলার অর্থসাহায্য দিতে হবে। আর তিন বছরের মেয়াদি সদস্যপদে কোনও আর্থিক দায়বদ্ধতা নেই। তবে গাজা পুনর্গঠন ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে পারবে সদস্যরা। এছাড়াও তৈরি হয়েছে আলাদা একটি ‘গাজা এক্সিকিউটিভ বোর্ড’। এতে রয়েছেন জ্যারেড কুশনার, স্টিভ উইটকফ, টনি ব্লেয়ার, তুরস্কের বিদেশমন্ত্রী হাকান ফিদান এবং কাতারের প্রতিনিধি আলি আল-থাওয়াদি। এই বোর্ড একদম বুনিয়াদিস্তরে কাজ, অর্থ ব্যবস্থাপনা এবং কার্যকরী সমন্বয় করবে। ওই আধিকারিক আরও জানান যে, এই উদ্যোগের মাধ্যমে সংগৃহীত তহবিল গাজা পুনর্গঠনে ব্যয় করা হবে। ভারতের সঙ্গে জর্ডান, গ্রিস, সাইপ্রাস এবং পাকিস্তানকেও রবিবার ‘গাজা বোর্ড অব পিস’ বোর্ডের সদস্য হওয়ার জন্য আমন্ত্রণপত্র দিয়েছে আমেরিকা। এর আগে কানাডা, তুরস্ক, মিশর, প্যারাগুয়ে, আর্জেন্টিনা এবং আলবেনিয়াও জানিয়েছিল যে তাদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তবে মোট ক’টি দেশকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। আশা করা হচ্ছে, এই বোর্ডে বিশ্বনেতারা থাকবেন এবং ওয়াশিংটন সম্ভবত আগামী দিনে, সুইজারল্যান্ডের দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের বৈঠকের সময়, সদস্যদের চূড়ান্ত তালিকা ঘোষণা করবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles