নাগরিকত্বের প্রমাণ দেখাতে হবে নেতাজি পরিবারের সদস্যকেও! এসআইআর শুনানিতে ডাক পেলেন নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর প্রপৌত্র চন্দ্র বসু। আর নোটিস পেয়েই বিস্মিত, ক্ষুব্ধ চন্দ্র বসু সরাসরি নির্বাচন কমিশনের উদ্দেশে প্রশ্ন তুললেন, ”নেতাজির প্রপৌত্র আমি, আমাকে নাগরিকত্বের প্রমাণ দেখাতে হবে! কোন পথে এগোচ্ছে ভারত?” দেশনায়ক নেতাজির পরিবারের সদস্যকে এভাবে শুনানির জন্য নোটিস পাঠানোর বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই জোর শোরগোল শুরু হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে যাবতীয় ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন সকলে। আর তাতেই চাপে পড়ে নোটিস পাঠানোর কারণ ব্যাখ্যা করল রাজ্য নির্বাচন কমিশন। তাতে জানানো হয়েছে, তাঁর এনুমারেশন ফর্মে তথ্য অসম্পূর্ণ। ‘লিঙ্কেজ’ কলামটি পূরণ করেননি চন্দ্র বসু। তাই তাঁকে শুনানিতে ডাকা হয়েছে।
তৃণমূল কংগ্রেসের মালদা জেলার বিধায়ক ও রাজ্যের মন্ত্রী তাজমুল হোসেনকে এবার এসআইআর শুনানির পাঠাল নির্বাচন কমিশন। হরিশচন্দ্রপুর বিধানসভার বিধায়ককে নোটিস। তাজমুল রাজ্যের ক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগ ও বস্ত্রবয়ন দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী। তাজমুলের দাবি, যে নামের কারণে তাঁকে নোটিস পাঠানো হয়েছে সেই নাম এবং তাঁর বাবার নাম ২০০২ সাল থেকে একই রয়েছে। বর্তমানেও কোনও পরিবর্তন করা হয়নি। মন্ত্রী জানান, আইন ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় প্রতি সম্মান জানিয়েই আগামী ২৯ জানুয়ারি নির্ধারিত শুনানিতে তিনি উপস্থিত থাকবেন। পাশাপাশি মন্ত্রীর কাছে এই নোটিস আসার পর মালদা জেলা জুড়েও রাজনৈতিক মহলে কৌতুহল তৈরি হয়েছে। এসআইআর শুনানির নোটিস পাঠানো হয়েছে, আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকিকেও। জাঙ্গিপাড়া বিডিও অফিসে ২৭ জানুয়ারি শুনানির জন্য ডাকা হয়েছে ভাঙড়ের বিধায়ককে। মথুরাপুর লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ বাপি হালদারকে এস আই আর-এর পক্ষ থেকে হিয়ারিংয়ের জন্য তলব করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নির্দিষ্ট কিছু অভিযোগ ও তথ্য যাচাইয়ের উদ্দেশ্যেই এই শুনানির ডাক দেওয়া হয়েছে। আগামী নির্ধারিত দিনে তদন্তকারী সংস্থার সামনে হাজির হয়ে নিজের বক্তব্য পেশ করতে বলা হয়েছে সাংসদকে। ঘাটাল লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ দেব এবং রাজ্যসভার সাংসদ সামিরুল ইসলামের পর এ বার নোটিস গেল মথুরাপুরের তৃণমূল সাংসদ বাপি হালদারের কাছে। এসআইআর নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে সিইও দপ্তরে তৃণমূলের যে প্রতিনিধিদল বার কয়েক গিয়েছে, সেই দলে ছিলেন বাপি হালদার।





