Monday, April 27, 2026
spot_imgspot_img

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

সরস্বতী পুজোর আগেই মহার্ঘ গাঁদা!‌ সরস্বতী পুজো ২৩ জানুয়ারী, নেতাজী জন্ম দিবসেই

ব্রহ্ম মুহুর্তে ঘুম থেকে উঠে স্নান করা উচিত। সাদা এবং হলুদ রঙের পোশাক পরিধান করা উচিত। একটি সাদা কাপড়ের উপর দেবী ভগবতীর আশীর্বাদ ভঙ্গিতে মূর্তি স্থাপন করা উচিত এবং নির্ধারিত রীতি অনুসারে তাঁর পূজা করা উচিত। ২৩ না ২৪ জানুয়ারি, সরস্বতী পুজো। কোনদিন করা বেশি শুভ হবে। সরস্বতী পুজো আর বেশি দেরি নেই৷ চলতি সপ্তাহেই ফের হলুদ শাড়ি-পাঞ্জাবি পরে রপ্রজাপতির মতো উড়ে বেড়াবে কিশোর-কিশোরীরা৷ তবে এবার অনেকের মনেই দ্বিধা তৈরি হয়েছে সরস্বতী পুজো আদতে ঠিক কোন দিন করা শুভ হবে৷ ২৩ না ২৪ জানুয়ারি? সনাতন ধর্মে মাঘ মাস বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ এবং এই মাসে যে সকল উৎসব ও উৎসব পালিত হয়, সেগুলোকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়। কারণ, এই পবিত্র মাসের শুক্লপক্ষের পঞ্চমী তিথিতে মা সরস্বতী আবির্ভূত হন। এই দিনটিকে বসন্ত পঞ্চমীও বলা হয়। এই বছর, বসন্ত পঞ্চমীর তারিখ নিয়ে কিছু বিভ্রান্তি দেখা দিয়েছে৷ এই প্রতিবেদনে আমরা জানব বসন্ত পঞ্চমী ঠিক কখন? শুভ সময় এবং আচার-অনুষ্ঠানগুলি কী কী? মাঘ মাসের শুক্লপক্ষের পঞ্চমী তিথি ২৩ জানুয়ারি ভোর ২:২৮ মিনিটে শুরু হবে এবং পরের দিন, ২৪শে জানুয়ারি রাত ১:৪৬ মিনিটে শেষ হবে। তাহলে কোন দিনে সরস্বতী পুজো করা বেশি শুভ হবে? সনাতন ধর্মে উদয় তিথির বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে। ফলস্বরূপ, ২৩ জানুয়ারি বসন্ত পঞ্চমী উৎসব পালিত হবে। দেবী সরস্বতীর পূজার শুভ সময় হবে সকাল ৬:৪৩ মিনিট থেকে দুপুর ১২:১৫ মিনিট পর্যন্ত। অযোধ্যার জ্যোতিষী পণ্ডিত কল্কি রাম ব্যাখ্যা করেছেন যে, হিন্দু পঞ্জিকা অনুসারে, পঞ্চমী তিথি প্রতি মাসে দু’বার পড়ে। একটি কৃষ্ণপক্ষে (অন্ধকার পক্ষ) এবং অন্যটি শুক্লপক্ষে (উজ্জ্বল পক্ষ) পড়ে। তবে, মাঘ মাসের পঞ্চমী তিথি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হয় কারণ এই দিনে জ্ঞান ও বিদ্যার অধিষ্ঠাত্রী দেবী সরস্বতীর পূজা করা হয়। এই বছর, মাঘ মাসের পঞ্চমী তিথি ২৩ জানুয়ারি, শুক্রবারে পড়েছে। এই দিনে ব্রহ্ম মুহুর্তে ঘুম থেকে উঠে স্নান করা উচিত। সাদা এবং হলুদ রঙের পোশাক পরিধান করা উচিত। একটি সাদা কাপড়ের উপর দেবী ভগবতীর আশীর্বাদ ভঙ্গিতে মূর্তি স্থাপন করা উচিত এবং নির্ধারিত রীতি অনুসারে তাঁর পূজা করা উচিত। একটি হলুদ ফুল অর্পণ করা উচিত। এরপর, দেবী লক্ষ্মীর বীজ মন্ত্র জপ করা উচিত। বসন্ত পঞ্চমীতে এটি করলে মা সরস্বতীর আশীর্বাদ নিশ্চিত হয়।

সরস্বতী পুজোয় গাঁদাফুলের চাহিদা বেড়ে যায়। তাছাড়া ২৩ জানুয়ারি নেতাজির জন্মদিন, ২৬ জানুয়ারি সাধারণতন্ত্র দিবস, এইসব দিনে গাঁদার চাহিদা থাকে। সামনে সরস্বতী পুজো। বাগদেবীর আরাধনার আগেই অবশ্য মহার্ঘ গাঁদা। শীতের মরশুমে তাপমাত্রার হেরফেরের ফলেই ফুল উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে বলে ফুল বিশেষজ্ঞ ও ফুলচাষিরা জানিয়েছেন। সরস্বতী পুজোয় গাঁদাফুলের চাহিদা বেড়ে যায়। তাছাড়া ২৩ জানুয়ারি নেতাজির জন্মদিন, ২৬ জানুয়ারি সাধারণতন্ত্র দিবস, এইসব দিনে গাঁদার চাহিদা থাকে। এবার সরস্বতী পুজো এগিয়ে এসেছে। শুক্রবার ২৩ জানুয়ারি। নেতাজির জন্মদিন ও সরস্বতী পুজো একই দিনে পড়েছে। তার আগেই ফুলবাজারে গাঁদার দাম একলাফে তিনগুণ দাম বেড়ে গিয়েছে। কোলাঘাট পাইকারি বাজার থেকে হাওড়া মল্লিকঘাটে ফুলবাজারে গাঁদা ঢুকতেই দাম আকাশছোঁয়া হয়ে যাচ্ছে। কমলা গাঁদার প্রতিকেজি দাম থাকে ১৫ থেকে ২০ টাকা। সেখানে এখন ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে লাল গাঁদা। হলুদ গাঁদার চাহিদা সরস্বতী পুজোয় বেশি থাকে। সেখানে হলুদ গাঁদার দামও এখন প্রতি কেজি ৮০ থেকে ৯০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে। অথচ সাধারণ সময়ে এর দাম ৫০ থেকে ৬০ টাকার মধ্যে থাকে। গাঁদার পাশাপাশি চেরিরও মূল্যবৃদ্ধি হয়েছে। এবার বড় কোনও দুর্যোগ ছিল না। শীতে বৃষ্টিও হয়নি। ফলে ফুলচাষ এবার ভালো হয়েছে। বাজারে ফুলের জোগানও রয়েছে। তবু ফুলবাজারে মূল্যবৃদ্ধি ঠেকানো যাচ্ছে না। ২০-২৫ টাকা কেজি রজনীগন্ধা এখন বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ টাকা দরে। মল্লিকঘাট ফুলবাজার থেকে শহর ও শহরতলিতে ফুল সরবরাহ করা হয়। পাইকারি ফুলবাজারে অগ্নিমূল্যের আঁচ খুচরো বাজারেও এসে পড়েছে।

চিনা গাঁদা, যার দাম ৩৫ থেকে ৪০ টাকার মধ্যে থাকে প্রতিকেজি। তার দাম এখন ৬০ থেকে ৭০ টাকা। সরস্বতী পুজোয় চেরি ফুলেরও চাহিদা থাকে। এক কেজি চেরি ফুলের দাম ৫০ টাকা। সেখানে ১২০ থেকে ১৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে চেরি। ক্রেতাদের বক্তব্য, সরস্বতী পুজোর আগেই ফুলের দাম এতটাই বেড়ে গিয়েছে। পুজোর দিন তাহলে কী হবে? এবার সরস্বতী পুজো ও নেতাজির জন্মদিন একই দিনে পড়েছে। গাঁদাফুলের চাহিদা আরও বেশি থাকবে। স্বাভাবিকভাবে দাম আরও বেড়ে যাবে। সারা বাংলা ফুলচাষি ও ফুল ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক নারায়ণ চন্দ্র নায়েক বলেন, “এই সময় গাঁদাফুলের চাহিদাটা বেশি থাকে। তাই দাম একটু বেড়ে যায়। তার উপর বিয়ের মরশুমও শুরু হচ্ছে। এই সময় গোলাপ, রজনীগন্ধার দামও বেশি থাকে। তবে এবার ফুলের জোগান খুব ভালো থাকায় মূল্যবৃদ্ধি সেই হারে হবে না বলে আশা করা যাচ্ছে। যদিও খুচরো বিক্রেতারা মনে করছেন পুজোর দিনে এই দাম দ্বিগুণ হয়ে যাবে। ফলে এবার বাগদেবীর আরাধনায় পকেটে লক্ষ্মীর টান পড়তে পারে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles