Thursday, April 23, 2026
spot_imgspot_img

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

‘মেরা বেটা কোই গলত কাম নেহি করেগা’! কেরিয়ারের শেষ পর্যন্ত বিতর্ক পিছু ছাড়ল না রাজীব কুমারের

পুলিশ কমিশনারের বাড়িতে সিবিআই হানার প্রতিবাদে সেই সময় রাস্তায় বসে ধরনা দিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দেশের সেরা অফিসার হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন রাজীব কুমারকে। তারপর থেকে পুলিশের শীর্ষপদে আর ফেরেননি তিনি। চার বছর পর আরও তাঁকে ডিজি-র দায়িত্ব দেওয়া হয়।কিছুদিনের মধ্যেই অবসর নেবেন রাজীব কুমার। পশ্চিমবঙ্গের প্রশাসনিক ইতিহাসে রাজীব কুমারের নাম থেকে যাবে। প্রশাসন তাঁকে মনে রাখবে দক্ষ অফিসার হিসেবে। তবে বিতর্কের ছায়া কি পিছু ছাড়বে? এত চর্চিত অফিসার খুব কমই দেখেছে বাংলা। বাংলাদেশ সীমান্তে স্ট্রং নেটওয়ার্ক, রুর্কি থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রি পাওয়া রাজীব কুমার বারবার ফিরে এসেছেন শিরোনামে। সুপ্রিম কোর্টে যে হাইপ্রোফাইল মামলার শুনানি হল, সেখানে রাজ্যের পুলিশকর্তাদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সেই তালিকায় রয়েছেন ডিজি রাজীব কুমারও। এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট সরাসরি দাবি জানিয়েছে, ডিজি রাজীব কুমার, কলকাতার সিপি মনোজ ভার্মা সাসপেন্ড করা হোক, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হোক। আইপ্যাক-তল্লাশির দিন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে ছিলেন রাজীব কুমার, মনোজ ভার্মারা। তবে এটাই প্রথমবার নয়, দুঁদে অফিসার রাজীব কুমার আগেও জড়িয়েছেন বিতর্কে। তবে তাঁর দক্ষতা নিয়ে কখনও প্রশ্ন ওঠেনি।বারবার বিতর্ক

একসময় বাম ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত রাজীব কুমার পরবর্তীতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আস্থাভাজন হিসেবে পরিচিতি পান।

২০১৬ সালের বিধানসভা ভোটের আগে রাজীব কুমারকে কলকাতা পুলিশের কমিশনার পদে নিযুক্ত করা হয়। ২০১৯ সালে সারদা চিটফান্ড মামলার তদন্তে তাঁর বাড়িতে পৌঁছয় সিবিআই। সেই সময় বাড়িতে ছিলেন না রাজীব কুমার।

পুলিশ কমিশনারের বাড়িতে সিবিআই হানার প্রতিবাদে সেই সময় রাস্তায় বসে ধরনা দিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দেশের সেরা অফিসার হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন রাজীব কুমারকে। তারপর থেকে পুলিশের শীর্ষপদে আর ফেরেননি তিনি। চার বছর পর আরও তাঁকে ডিজি-র দায়িত্ব দেওয়া হয়।

সম্প্রতি যুবভারতীতে মেসি-র উপস্থিতিতে যে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি হয়, তাতে রাজীব কুমারের দিকে আঙুল ওঠে। মেসি-কাণ্ডের পর তৈরি হওয়া তদন্ত কমিটি রাজীব কুমারকে শোকজ করেছিল।

একের পর এক বড় পদে রাজীব কুমার

উত্তর প্রদেশের চন্দৌসি-র বাসিন্দা রাজীব কুমার। ১৯৮৯ ব্যাচের আইপিএস অফিসার তিনি। বারবার তাঁর নাম বিতর্কে জড়ালেও কেরিয়ার শুরুতে দক্ষ অফিসার হিসেবে উচ্চ প্রশংসিত হন তিনি।

একসময় এসটিএফ-এর শীর্ষ পদে ছিলেন তিনি। পরে বিধাননগরের পুলিশ কমিশনার পদেও দায়িত্ব সামলান। ২০১৬ সালে কলকাতার পুলিশ কমিশনার হিসেবে নিযুক্ত হন রাজীব কুমার। ২০২৪-এ রাজ্য পুলিশের ডিজি পদে নিযুক্ত করা হয় রাজীব কুমারকে।

বাংলাদেশ ও নেপাল সীমান্তেও ছিল রাজীব কুমারের নেটওয়ার্ক

পশ্চিমবঙ্গে একাধিক পদে দায়িত্ব সামলালেও শুধুমাত্র রাজ্যে নয়, রাজীবের নেটওয়ার্ক ছিল দেশের সীমান্ত পর্যন্ত বিস্তৃত। নখদর্পণে ছিল বাংলাদেশ ও নেপাল সীমান্তও। জানা যায়, পশ্চিম এশিয়া পর্যন্ত তাঁর নেটওয়ার্ক ছিল। বিভিন্ন রাজ্যের এসটিএফ-এর সঙ্গে যোগাযোগ থাকায়, বাম আমলেও ভরসার জায়গায় ছিলেন রাজীব কুমার।

খাদিম কর্তা থেকে খাগড়াগড়, রাজীবের প্রোফাইলে কী কী মাইলস্টোন

খাদিম কর্তা অপহরণ থেকে শুরু করে ২০০২ সালে আমেরিকান সেন্টার হামলার সময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল রাজীব কুমারের।

শুধু তাই নয়, মমতা সরকারের আমলে মাওবাদী দমনে দক্ষতার পরিচয় দিয়েছিলেন তিনি। খাগড়াগড় বিস্ফোরণ মামলায় প্রথম গ্রেফতারি তাঁর হাত ধরেই হয়েছিল। সম্প্রতি সন্দেশখালির ঘটনার পর বেপাত্তা শাহজাহান শেখের গ্রেফতারিতেও তাঁর ভূমিকাই উঠে আসে। তিনি সন্দেশখালি যাওয়ার পরের দিনই গ্রেফতার হন শাহজাহান।

সূত্রের খবর, তথ্য ও প্রযুক্তি দফতরের সচিব থাকার সময়েও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায় একাধিক বড় সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে রাজীব কুমারের ওপর ভরসা করেছেন। শোনা যায়, আইপিএস পোস্টিং-এর ক্ষেত্রেও তাঁর মতামতকে গুরুত্ব দিতেন মুখ্যমন্ত্রী।

রুর্কি থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করেন রাজীব কুমার

চান্দৌসির বাসিন্দা রাজীব কুমার সেখানকার স্কুলেই পড়াশোনা শেষ করেন। পরে ইউনিভার্সিটি অব রুর্কি, যা বর্তমানে আইআইটি, রুর্কি নামে পরিচিত, সেখানেই ইঞ্জিনিয়ারিং পড়তে যান রাজীব। কম্পিউটার সায়েন্স নিয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করেন তিনি। তাঁর ভাই ও বোন দুজনেই পেশায় চিকিৎসক।

২০১৯-এ যখন রাজীব কুমারের বাড়িতে তল্লাশি চলে, সেই সময় মুন্নি দেবী গুপ্তা বলেছিলেন, “মেরা বেটা কোই গলত কাম নেহি করেগা (আমার ছেলে কোনও ভুল করতে পারে না)।” তিনি আরও বলেছিলেন, “আমার ছেলে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের শিকার। উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের বিমান নামতে দেওয়া হয়নি বলে সিবিআই আমার ছেলেকে টার্গেট করছে।”

আগামী ৩১ জানুয়ারি ডিজি পদে রাজীব কুমারের মেয়াদ শেষ হচ্ছে। সেখানেও বিতর্ক পিছু ছাড়ছে না। রাজ্য সরকার ডিজি পদের নামের জন্য এত দেরীতে তালিকা পাঠিয়েছে যে তা ফেরত পাঠিয়েছে ইউনিয়ন পাবলিক সার্ভিস কমিশন (UPSC)। পাশাপাশি, এই বিষয়ে উপযুক্ত নির্দেশের জন্য রাজ্য সরকারকে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

‘রাজীব কুমারকে অবিলম্বে সাসপেন্ড করা হোক’
তদন্ত চলাকালীন পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের একাধিক শীর্ষ আধিকারিকের গুরুতর অসদাচরণ

ডিজি রাজীব কুমারের সাসপেনশন চেয়ে আর্জি ইডির। আইপ্যাক তল্লাশি মামলার শুনানি রয়েছে সুপ্রিম কোর্টে। তার আগেই কেন্দ্রীয় এজেন্সির তরফে সুপ্রিম কোর্টে নতুন করে আরও একটি আবেদন করা হয়েছে, সেখানে বলা হয়েছে ডিজিপি রাজীব কুমারকে অবিলম্বে সাসপেন্ড করা হোক। শুধু ডিজিপি একা নন, আরও যে যে আধিকারিকরা আইপ্যাক তল্লাশির সময় উপস্থিত ছিলেন তাঁদের সাসপেন্ড করা হোক। ইডির অভিযোগ, তদন্ত চলাকালীন পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের একাধিক শীর্ষ আধিকারিক গুরুতর অসদাচরণ করেছেন। শুধু তাই নয়, কেন্দ্রীয় সংস্থার কাজে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করেননি। এই আচরণ তদন্তের স্বচ্ছতা ও কার্যকারিতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে বলে দাবি করেছে ইডি। এখানেই শেষ নয়, ইডির অভিযোগ রাজীব কুমার শুধু তদন্তে বাধা দিয়েছেন এমনটা নয়, তাঁর বিরুদ্ধে এই ঘটনার নজির আগেও রয়েছে। এর আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন ধরনায় বসেছিলেন সেই সময় কলকাতার পুলিশ কমিশনার ছিলেন রাজীব। তখনও তিনি একই ভাবে ধরনায় বসেছিলেন। যা একজন আইপিএস অফিসারের কাজের বিরোধী। সংশ্লিষ্ট আবেদনে ইডি আরও জানিয়েছে, শুধু ডিজিপি নন, রাজ্য পুলিশের কয়েকজন সিনিয়র অফিসারের বিরুদ্ধেও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। এই কারণে সুপ্রিম কোর্টকে নির্দেশ দেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে, যাতে কেন্দ্রীয় সরকারের পার্সোনেল অ্যান্ড ট্রেনিং বিভাগ এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে। বিজেপি নেতা জগন্নাথ সরকার বলেন, “সরকার চালাতে গেলে রাজনীতি এবং প্রশাসন দুটোকে আলাদা করে রাখতে হয়। তৃণমূল শাসনে এই সীমারেখা থাকে না। খেসারত এবার দিতে হবে।” আইপ্যাক-কাণ্ডে সুপ্রিম কোর্টে জোড়া পিটিশন দায়ের করেছে ইডি। প্রথম পিটিশনটি দায়ের করা হল ইডির তরফে। দ্বিতীয় পিটিশনটি দায়ের করলেন ইডির তিন আধিকারিক নিশান্ত কুমার, বিক্রম অহলওয়াত এবং প্রশান্ত চান্ডিলা। দুই মামলাতে রাজ্যের পাশাপাশি যুক্ত করা হয়েছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, রাজ্য পুলিশের ডিজি রাজীব কুমার, নগরপাল মনোজ ভর্মা, কলকাতা পুলিশের ডিসি (দক্ষিণ) প্রিয়ব্রত রায় এবং সিবিআইকে। সেই মামলারই শুনানি রয়েছে আজ। তবে তার আগেই ফের রাজীব কুমারের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করার আর্জি ইডির।

জাতীয় নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ মেনে পুলিশ আধিকারিকদের বদলির সিদ্ধান্ত নবান্নের। তিন বছর বা তার অধিক সময় ধরে পদে রয়েছেন। সেই সমস্ত পুলিশ আধিকারিকদের সরাতে বিজ্ঞপ্তি জারি করল রাজ্য।
এই নির্দেশিকা তাঁদের জন্য, যাঁরা হোম ডিস্ট্রিক্ট বা একই পদে রয়েছেন, তাঁদের জন্য প্রযোজ্য হবে। এই নির্দেশিকা সমস্ত উচ্চপদস্থ পুলিশ আধিকারিকদের দিয়ে দেওয়া হল। নির্বাচন কমিশনের ২০২৩ সালের ২১ ডিসেম্বর এবং ২০০৮ সালের ২৩ ডিসেম্বরের নির্দেশিকা অনুসারে, নির্দিষ্ট মানদণ্ডে পড়া সাব-ইন্সপেক্টর পদমর্যাদার পুলিশ আধিকারিকদের বদলি করতে হবে। বাংলায় আবারও কেন্দ্রীয় এজেন্সির তৎপরতা। ইডির পর এবার শহরে সিবিআই তল্লাশি। গত বৃহস্পতিবার তৃণমূল কংগ্রেসের ভোট কুশলী সংস্থা আইপ্যাকের কর্ণধার ও তার অফিসে তল্লাশি চালিয়েছিল ইডি। এক সপ্তাহ পর এবার তল্লাশিতে নামল সিবিআই। ব্যাঙ্ক জালিয়াতি মামলায় কলকাতায় তল্লাশি কেন্দ্রীয় এজেন্সির। এ দিন কলকাতা-নিউটাউন সহ পাঁচটি জায়গায় তল্লাশি চালায় ইডি আধিকারিকরা। আলিপুর নিউ রোডে অতিরিক্ত ফোর্স নিয়ে তল্লাশি শুরু করেন তাঁরা।
প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, আলিপুর নিউ রোডে নিশা কেজরিওয়াল এর বাড়িতে তল্লাশি চালাচ্ছেন গোয়েন্দারা। ডিজি রাজীব কুমারের সাসপেনশন চেয়ে আর্জি ইডির। বৃহস্পতিবার আইপ্যাক তল্লাশি মামলার শুনানি রয়েছে সুপ্রিম কোর্টে। কেন্দ্রীয় এজেন্সির তরফে সুপ্রিম কোর্টে নতুন করে আরও একটি আবেদন করা হয়েছে, সেখানে বলা হয়েছে ডিজিপি রাজীব কুমারকে অবিলম্বে সাসপেন্ড করা হোক। ডিজিপি একা নন, আরও যে যে আধিকারিকরা আইপ্যাক তল্লাশির সময় উপস্থিত ছিলেন তাঁদের সাসপেন্ড করা হোক।‌‌

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles