পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া বা এসআইআর-এর বৈধ নথি হিসাবে মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ড গ্রহণ করা হবে না। রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও) মনোজকুমার আগরওয়ালকে চিঠি দিয়ে বিষয়টি স্পষ্ট ভাবে জানিয়ে দিল নির্বাচন কমিশন। এসআইআর-এর জন্য আগেই ১৩টি নথির কথা উল্লেখ করেছিল কমিশন। রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের সঙ্গে জেলা নির্বাচনী আধিকারিকদের বৈঠকে মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ডকে বৈধ নথি হিসাবে গ্রহণ করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছিল। তার পরে সিইও দফতর থেকে এই মর্মে নির্বাচন কমিশনের সদর দফতরে প্রস্তাব পাঠানো হয়। কিন্তু মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ডকে বৈধ নথি হিসাবে গ্রাহ্য করার প্রস্তাব খারিজ করে দিল কমিশন। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের কাজে সাধারণ মানুষের হয়রানি আরও বাড়ল। এবার শুনানিতে নথি হিসেবে আর গণ্য হবে না মাধ্যমিক বা সমতুল দশম শ্রেণির ফাইনাল পরীক্ষার অ্যাডমিট কার্ড। বৃহস্পতিবার নতুন করে এমনই ‘ফতোয়া’ জারি করল নির্বাচন কমিশন।
মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ড যাতে গ্রহণ করা হয়, তার জন্য আগেও আবেদন করা হয়েছিল রাজ্য নির্বাচন কমিশনের তরফে। এতদিন ধরে শুনানিতে ডাক পাওয়া বহু মানুষ নিজের মাধ্যমিক অথবা দশম শ্রেণির অ্যাডমিট কার্ডই প্রামাণ্য নথি হিসেবে কমিশনে পেশ করেছেন ইতিমধ্যে। এবার তাঁদের কী হবে? নতুন করে কি আরও কোনও নথি দিতে হবে? এসব প্রশ্নে ফের তোলপাড় শুরু হয়েছে কমিশনের নয়া বিজ্ঞপ্তি ঘিরে। ২০২৫ সালের অক্টোবরের শেষ সপ্তাহ থেকে রাজ্যে শুরু হয়েছে এসআইআর প্রক্রিয়া। ২০০২ সালের ভোটার তালিকা অনুযায়ী কাজ হচ্ছে। কারণ, সেবছরই শেষ ভোটার তালিকায় নিবিড় সংশোধনের কাজ হয়েছিল। ছাব্বিশের নির্বাচনের আগে বাংলা-সহ ১২ রাজ্যে ফের সেই কাজ করছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। ২০০২-এর ভোটার তালিকায় নাম না থাকলে নিয়ম অনুযায়ী, এসআইআর শুনানিতে গিয়ে নিজের যথাযথ নথিপত্র দিয়ে নাম তোলার আবেদন জানাতে পারবেন ভোটাররা। এছাড়া যে কোনও অসংগতি বা ভুল সংশোধনের জন্যও নথি জমা দিতে হবে নির্বাচন কমিশনে। ভোটার তালিকায় নাম তোলার জন্য নির্দিষ্ট ১৩ টি নথির উল্লেখ করেছিল কমিশন। জানা গিয়েছিল, তার মধ্যে ছিল না মাধ্যমিক পরীক্ষার অ্যাডমিট কার্ড। কিন্তু এই নথি বেশিরভাগ ক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্য,এই যুক্তিতে নাগরিকত্বের জন্যও তা গ্রহণ করার আবেদন জানানো হয়েছিল রাজ্য নির্বাচন কমিশনের তরফে। নানা স্তরে সেই আবেদন উঠেছিল। মনে করা হচ্ছিল, এই নথিটি গ্রাহ্য হবে। ইতিমধ্যে শুনানিতে ডাক পাওয়া ভোটারদের কাছ থেকে মাধ্যমিক বা দশম শ্রেণির ফাইনাল পরীক্ষার অ্যাডমিট কার্ড গ্রহণ করেছেন বিএলও। কিন্তু বৃহস্পতিবার দিল্লি থেকে রাজ্য নির্বাচন কমিশনের দপ্তরে নোটিস পাঠিয়ে জানানো হয়েছে, মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ড নথি হিসেবে গণ্য হবে না। এখন প্রশ্ন উঠছে, ভোটারদের কাছ থেকে এই নথি গ্রহণের এতদিন পর কেন দিল্লি থেকে জানানো হল, তা গ্রাহ্য নয়?





