Thursday, April 23, 2026
spot_imgspot_img

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

নারীশরীরের এক গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গে আঁশটে দুর্গন্ধ! কী কী কারণে যোনিতে এমন দুর্গন্ধের সৃষ্টি হয়?

নারীশরীরের এক গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ হল যোনি। স্বয়ংক্রিয় ভাবেই নিজেকে পরিচ্ছন্ন রাখতে জানে নারীর জননাঙ্গটি। ইউটেরাস, ওভারি, সার্ভিক্স ও ফ্যালোপিয়ান টিউব দিয়ে গঠিত এই অঙ্গের এক নির্দিষ্ট গন্ধ রয়েছে। দেহের পিএইচ লেভেল এবং শরীরের ওই অঞ্চলে যে ব্যাকটেরিয়াগুলি সাধারণত জন্মায় তাদের কারণেই সেই গন্ধ পাওয়া যায়। কিন্তু আচমকাই সেই মৃদু গন্ধের পরিবর্তে যোনি থেকে যদি দুর্গন্ধ পাওয়া যায়, তাহলে বুঝতে হবে কোনও একটা শারীরিক সমস্যা হয়েছে। যে কারণে এই মেছো বা আঁশটে গন্ধের জন্ম হয়েছে। সাধারণত যোনির স্বাভাবিক মৃদু গন্ধ নারীভেদে বিভিন্ন হয়। এর নেপথ্যে রয়েছে ডায়েটের বিভিন্নতা, হরমোনের পরিবর্তন এবং স্বাস্থ্যের পরিচ্ছন্নতার মাত্রাভেদেই এই বিভিন্নতা। কিন্তু মেছো গন্ধ ইঙ্গিত করে কোনও সংক্রমণ কিংবা হরমোনের পরিবর্তন হয়েছে শরীরে। জেনে নিন, কোন কোন কারণে এমনটা হতে পারে। যোনির সবচেয়ে সাধারণ একটি সংক্রমণ হল ব্যাকটেরিয়াল ভ্যাজিনোসিস। যা থেকে আঁশটে দুর্গন্ধ হতে পারে। ব্যাকটেরিয়াল ভ্যাজিনোসিস তখন হয় যখন যোনিতে ব্যাকটেরিয়ার ভারসাম্যহীনতা দেখা দেয়, যার ফলে গার্ডনেরেলা ভ্যাজিনালিসের মতো নির্দিষ্ট কিছু ব্যাকটেরিয়ার অতিরিক্ত বৃদ্ধি ঘটে। এই অতিরিক্ত বৃদ্ধি যোনির প্রাকৃতিক পিএইচ ভারসাম্যকে ব্যাহত করে। এর ফলে একটি মাছের দেহের মতো সুস্পষ্ট দুর্গন্ধের সৃষ্টি হয়। ক্যান্ডিডা প্রজাতির ছত্রাক দ্বারা সৃষ্ট ইস্ট সংক্রমণের ফলেও যোনির গন্ধে পরিবর্তন আসতে পারে। তবে ইস্ট সংক্রমণের সঙ্গে সম্পর্কিত গন্ধটি সাধারণত আঁশটে না হয়ে মিষ্টি গন্ধের হয়। সেক্ষেত্রে যোনিতে পাওয়া যায় মধু বা কুকিজের গন্ধ। তবে এটা মনে রাখা গুরুত্বপূর্ণ যে, যদি ব্যাকটেরিয়ার সঙ্গে কোনও গৌণ সংক্রমণ বা মিশ্র সংক্রমণ না থাকে, তবে ইস্ট সংক্রমণের কারণে সাধারণত মাছের মতো দুর্গন্ধ হয় না। এছাড়াও যৌন সংক্রমণের ফলেও যোনিতে দুর্গন্ধ হতে পারে। অসুরক্ষিত যৌন মিলনের ফলে গনোরিয়া, ট্রাইকোমোনাইয়াসিসের মতো অসুখ হলে মেছো গন্ধ হয়। তবে যৌন রোগের ক্ষেত্রে কেবল গন্ধ নয়, অন্য উপসর্গও থাকে। যেমন, যোনি থেকে ডিসচার্জ, চুলকানি ও অস্বাচ্ছন্দ্য। এক্ষেত্রে সব সময় গন্ধ মেছো না হয়ে অন্য ধরনের দুর্গন্ধও হতে পারে। এই কারণগুলি ছাড়াও অন্য কারণে যোনিতে আঁশটে গন্ধ হতে পারে। নিয়মিত যোনি না ধুলে অথবা দীর্ঘ সময় ধরে ট্যাম্পুন ভিতরে প্রবেশ করিয়ে রাখলে ব্যাকটেরিয়ার বাড়বাড়ন্ত হতে পারে। যা থেকে সৃষ্টি হয় দুর্গন্ধের। এছাড়াও মাসিকের সময় কিংবা অন্তঃসত্ত্বা অবস্থাতে শরীরে হরমোনের যে পরিবর্তন হয় তার ফলেও এই ধরনের গন্ধ নির্গত হতে পারে। কেউ যদি রসুন, পেঁয়াজ এবং মশলা দেওয়া খাবার খান, তাহলেও কখনও কখনও শরীরের গন্ধ, এমনকী যোনির গন্ধেও পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। পাশাপাশি কুঁচকিতে বেশি ঘাম হলেও এক উষ্ণ ও আর্দ্র পরিবেশ সৃষ্টি হয়। যার ফলে ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যাবৃদ্ধি হয়। এতেও যোনিতে মেছো গন্ধ সৃষ্টি হতেই পারে। মূত্রনালীর সংক্রমণের কারণে কখনও কখনও যোনির গন্ধে পরিবর্তন আসতে পারে। তবে, জার্নাল অফ নিউট্রিশনে প্রকাশিত ২০১৭ সালের একটি গবেষণাপত্রে দাবি করা হয়েছে, এসব ক্ষেত্রে নিয়মিত ক্র্যানবেরি জুস পান করলে বারবার সংক্রমণের ঝুঁকি ২৬ শতাংশ কমে যেতে পারে। মেথি বীজ ব্যাকটেরিয়ার ‘যম’। প্রতিদিন মেথির জল পান করলে শরীর ভেতর থেকে পরিষ্কার হতে থাকে। এর ফলে যোনি থেকে আসা আঁশটে গন্ধ কমতে পারে। এক গ্লাস জলে এক চা চামচ মেথি বীজ সারারাত ভিজিয়ে রাখতে হবে। সকালে খালি পেটে এই জল পান করুন। মেথি হরমোন নিয়ন্ত্রণেও সাহায্য করতে পারে, যা যোনির স্বাস্থ্যও উন্নত করে। যোনিপথের দুর্গন্ধের অন্যতম সাধারণ কারণ যোনিপথের সংক্রমণ। টি ট্রি অয়েল যোনিপথের এই সমস্যা সমাধানে সাহায্য করতে পারে। জার্নাল অফ অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল কেমোথেরাপি দ্বারা প্রকাশিত ২০০৩ সালের একটি গবেষণাপত্রের দাবি, ক্যান্ডিডা অ্যালবিকানস নামক ইস্ট সংক্রমণের জীবাণুকে খতম করে দিতে পারে এই তেল। একদা ভুল ধারণা আছে রসুনের কোয়া, চিজ বা দই যোনিপথে লাগালে তার ফলে ফিরে আসবে যোনির স্বাভাবিক গন্ধ। কিন্তু এটা একেবারেই একটা মিথ ছাড়া কিছু নয়। এমন করে বড়সড় বিপদ ডেকে আনবেন না। তবে আপনার ডায়েটে আদা যোগ করলে যোনির আঁশটে গন্ধ দূর হতে পারে। কেননা আদা ব্যাকটেরিয়ার সঙ্গে দারুণ লড়তে পারে। যোনির দুর্গন্ধে সহায় হতে পারে বেকিং সোডা। এতে যোনির পিএইচ ব্যালেন্সে সাম্য আসে। স্নানের জলে অর্ধেক কাপ বেকিং সোডা মিশিয়ে অন্তত ২০ মিনিট রেখে দিন। তারপর সেই জলে স্নান করুন। সপ্তাহে এক বা দু’দিন এমন করলেই দারুণ ফল পাওয়া যাবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles