ওজন কমানোর জন্য নতুন বছরে যাঁরা কঠিন প্রতিজ্ঞা করেছেন, তাঁদের প্রাতরাশের খাবারের বিকল্প নিঃসন্দেহে কমেছে। কারণ, কার্বোহাইড্রেট, ফ্যাট ইত্যাদি বাদ দিতে গিয়ে বাদ পড়েছে পছন্দের সুস্বাদু খাবারও। মেনে নিতেও হয়েছে। কারণ, স্বাদ আর স্বাস্থ্য এক সঙ্গে মিলতে পারে না— অন্তত প্রচলিত ধারণা তেমনই। কিন্তু সেই ‘মিথ’ ভেঙে দিতে পারে থাট্টে ইডলি। প্রোটিনে সমৃদ্ধ এই দক্ষিণী প্রাতরাশ প্রোবায়োটিকও। আবার এতে রয়েছে নানা ধরনের জরুরি ভিটামিন, খনিজ এবং মাইক্রোনিউট্রিয়েন্টেস। অর্থাৎ ওজন কমাতে চাইলে এই খাবার তো খাওয়া যেতে পারেই। সেই সঙ্গে আরও এক ধাপ এগিয়ে বলা যেতে পারে, এই খাবার খেলে ওজন কমবেই। ডাল, চিঁড়ে, মেথির মতো উপকারী জিনিস দিয়ে তৈরি হয় থাট্টে ইডলি। তাকে আরও প্রোটিন সমৃদ্ধ করতে চাইলে ডালের পরিমাণ বাড়িয়ে দেওয়া যেতে পারে। মেশানো যেতে পারে সয়াবিনও। ফলে তৈরি হবে এমন একটি প্রাতরাশ, যাতে থাকবে ফাইবার, প্রোটিন, ভিটামিন কে১, ফোলেট, থিয়ামিন, আয়রন, কপার, ম্যাঙ্গানিজ়, ফসফরাস এবং আরও নানা পুষ্টিগুণ। যা হাড়, পেশির স্বাস্থ্য ভাল রাখার পাশাপাশি, অন্ত্র ভাল রাখে। তাছাড়াও ত্বক, চুলের সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে। কী ভাবে বানাবেন?
উপকরণ: ২ কাপ যে কোনও বাজরা, ১/৪ কাপ ছোলার ডাল, ১/২ কাপ বিউলির ডাল, ১/২ কাপ সয়াবিনের দানা, ১ চা চামচ মেথির দানা, ১/৪ কাপ চিঁড়ে, স্বাদমতো নুন এবং সামান্য ঘি।
প্রণালী: সয়াবিন এবং বাজরা আলাদা আলাদা বাটিতে ভিজিয়ে রাখুন। ডাল এবং মেথির দানা এক সঙ্গে ভেজান ৬-৭ ঘণ্টার জন্য। বাটাবাটির কাজ শুরু করার আধ ঘণ্টা আগে ভিজিয়ে নিন চিঁড়ে।
এ বার মিক্সার গ্রাইন্ডারে প্রথমে ভেজানো ডাল এবং মেথির দানা মিহি করে বেটে নিন। একটি পাত্রে মিশ্রণটি ঢেলে রাখুন। তার পরে ভেজানো সয়াবিন ৫-৭ মিনিট ধরে মিক্সারে বাটুন। সয়াবিন মিহি করে বাটা হলে তার মধ্যে ভেজানো বাজরা দিন এবং আবার বাটুন। শেষে ভেজানো চিঁড়ে এবং আগে থেকে বেটে নেওয়া ডাল আর মেথির মিশ্রণ দিয়ে ভাল ভাবে মিক্সারে ঘুরিয়ে নিলেই তৈরি হয়ে যাবে ইডলির ব্যাটার।
যেটুকু ইডলি বানাতে চান সেই পরিমাণমতো ব্যাটার নিয়ে তাতে নুন দিয়ে ৮ ঘণ্টা চাপা দিয়ে রেখে দিন কোনও উষ্ণ জায়গায়, যাতে ব্যাটারটি ভাল ভাবে গেঁজিয়ে উঠতে পারে। মিশ্রণটি ফুলে প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গেলে বুঝবেন, ইডলি বানানোর জন্য ব্যাটারটি তৈরি।
এ বার ইডলি বানানোর প্যানে অল্প ঘি ব্রাশ করে ওই মিশ্রণ দিয়ে বানিয়ে ফেলুন ইডলি। পছন্দের চাটনি বা সম্বর দিয়ে পরিবেশন করুন।
ইডলির মিশ্রণ কত দিন রেখে দেওয়া যায়?
ইডলির মিশ্রণটি বানানো একটু দীর্ঘ মনে হতে পারে। তবে এক বার ব্যাটার বানিয়ে প্রায় এক সপ্তাহ ধরে খেতে পারেন। যদি সঠিক পদ্ধতিতে সংরক্ষণ করা যায় তা হলে ইডলির মিশ্রণ রেফ্রিজারেটরে বায়ুরোধক পাত্রে ৫-৭ দিন পর্যন্ত রাখা যায়। আর ফ্রিজ়ারে রাখা যায় ১-৩ মাস পর্যন্ত।
দীর্ঘ দিন ইডলির ব্যাটার ভাল রাখতে —
১। তাতে নুন মেশাবেন না। ব্যাটারে নুন মেশানোর আগে সংরক্ষণ করুন। এবং ব্যবহার করার আগে নুন মিশিয়ে কয়েক ঘণ্টা রেখে দিন গেঁজিয়ে ওঠার জন্য।
২। একটিই পাত্রে না রেখে কয়েকটি পাত্রে ভাগ করে রাখলে এবং এক এক বারে এক একটি পাত্র ব্যবহার করলে ঘাঁটাঘাঁটির আশঙ্কা থাকে না। ফলে খারাপ হয়ে যাওয়ার ভয় থাকে না।
৩। যদি একটি পাত্রে অল্প দিনের জন্য মিশ্রণ সংরক্ষণ করতে চান, তবে প্রতি বার পরিষ্কার এবং শুকনো করে মোছা চামচ ব্যবহার করে মিশ্রণটি বার করুন। এবং নেওয়ার পরে বায়ুরোধক জারের ঢাকনা বন্ধ করে অবিলম্বে আবার ফ্রিজারে ঢোকান।
গ্যাস, অম্বল বা কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা শুধু ওষুধে সারে না। শুধু ফাইবার জাতীয় খাবার খেলেও এর নিরাময় সম্ভব নয়। এর জন্য করতে হবে যোগাসনের একটি বিশেষ পদ্ধতি। উত্থিত ময়ুরাসন গ্যাস-অম্বলের সমস্যা কমিয়ে দিতে পারে। দীর্ঘ সময় ধরে যাঁরা কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যায় ভুগছেন, তাঁদের জন্যও কার্যকরী এই আসন। ইংরেজিতে এই ভঙ্গিটি ‘পিকক পোজ’ নামেও পরিচিত। প্রথমে পদ্মাসন বা সুখাসনের ভঙ্গিতে হাঁটু মুড়ে ম্যাটের উপর বসুন। শ্বাসপ্রশ্বাস স্বাভাবিক থাকবে। সামনের দিকে মাটিতে দুই হাত রাখুন। হাতের তালু মাটিতে থাকবে। এ বার উপুড় হয়ে শুয়ে পড়ুন। হাত ভাঁজ করে কনুই কোমরের পাশে রাখুন। দেহের উপরিভাগ সামান্য তুলুন। শরীরের ভর থাকবে দুই হাতের উপরে। দুই পা ধীরে ধীরে পিছনের দিকে ছড়িয়ে দিন। চোখ রাখুন মাটির দিকে। শরীর টানটান থাকবে। শ্বাসপ্রশ্বাস স্বাভাবিক থাকবে। হাতে ভর দিয়ে ধীরে ধীরে পা, মাথা এবং গোটা শরীরটাই মাটি থেকে শূন্যে তুলে ফেলতে হবে। শুধু দু’টি হাতের উপর গোটা শরীরের ভার থাকবে। দুই পা পিছনের দিকে যতটা তুলতে পারেন ভাল। ৩০ সেকেন্ড ওই অবস্থানে থাকার চেষ্টা করতে হবে।
শরীরের ভারসাম্য বাড়বে। মেরুদণ্ড নমনীয় হবে। গ্যাস-অম্বলের সমস্যা কমবে, অ্যাসিড রিফ্লাক্সের সমস্যা কমে যাবে। কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যার নিরাময় হবে। মানসিক চাপ কমবে, মনঃসংযোগ বাড়বে। সারা শরীরে রক্ত সঞ্চালন ঠিকমতো হবে। হাত ও পায়ের অসাড়তা দূর হবে, পেশির জোর বাড়বে। সারা শরীরের স্ট্রেচিং হবে নিয়মিত এই আসন করলে। অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় আসনটি করবেন না। স্লিপ ডিস্ক থাকলে আসনটি করবেন না। মেরুদণ্ডে অস্ত্রোপচার হলে আসনটি করা যাবে না।





