২০১০ সালে দিল্লিতে আয়োজিত কমনওয়েলথ গেমসে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল প্রয়াত নেতার বিরুদ্ধে। তার জন্য গ্রেফতারও হয়েছিলেন কালমোদি। বার্ধক্যজনিত নানা সমস্যা এবং দীর্ঘ রোগভোগের পর মঙ্গল ভোরে পুণের দীননাথ মঙ্গেশকর হাসপাতালে মৃত্যু হয়েছে। মৃত্যুকালে বয়স হয়েছিল ৮১। জন্ম ম্যাঙ্গালোরে। ভারতীয় বায়ুসেনার পাইলট হিসাবে কর্মজীবনের শুরু। ১৯৭০-এর দশকে রাজনীতির আঙিনায় পা রাখেন এই নেতা। ১৯৭৭ সালে পুণেতে ভারতীয় যুব কংগ্রেসের সভাপতি হন। পরের বছর মহারাষ্ট্র যুব কংগ্রেসের সভাপতির দায়িত্বগ্রহণ করেন। ১৯৮২ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত তিন মেয়াদে রাজ্যসভার সদস্য হন, ফের নির্বাচিত হন ১৯৯৮ সালেও। ১৯৯৬, ২০০৪ এবং ২০০৯ সালে তিন বার পুণের সাংসদ নির্বাচিত হন। প্রধানমন্ত্রী পিভি নরসিংহ রাওয়ের আমলে ১৯৯৫ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত রেল প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেছিলেনরাজনীতির পাশাপাশি ক্রীড়া প্রশাসনেও কলমডীর সমান আধিপত্য ছিল। ১৯৯৬ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত ভারতীয় অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন আইওএ-এর সভাপতি ছিলেন। ২০০০ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত ছিলেন এশিয়ান অ্যাথলেটিক্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি। ২০১৫ সালে তাঁকে আজীবন সভাপতি হিসাবে মনোনীত করা হয়। একই সঙ্গে, ক্রীড়ার দুনিয়ায় নানা দুর্নীতিতেও নাম জড়িয়েছে তাঁর। ২০১০ সালে দিল্লিতে অনুষ্ঠিত কমনওয়েলথ গেমসে বড়সড় দুর্নীতিতে নাম জড়িয়ে যায় কলমডীর। এ জন্য ২০১১ সালে তিনি গ্রেফতারও হন। কলমডীকে বরখাস্ত করে কংগ্রেস। জীবনের শেষ কয়েক বছর সক্রিয় রাজনীতি থেকে দূরেই ছিলেন তিনি। ভুগছিলেন বার্ধক্যজনিত নানা রোগে। শেষমেশ মঙ্গলবার ভোরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় প্রাক্তন কংগ্রেস নেতার। বিকেলে পুণের বৈকুণ্ঠ শ্মশানভূমিতে তাঁর শেষকৃত্য হবে। মৃত্যুর আগে কমনওয়েলথ কেলঙ্কারিতে জড়িত থাকার তকমা ঘুচেছে। ২০২৫ সালের এপ্রিলে দিল্লির এক আদালতে ২০১০ কমনওয়েলথ গেমস আয়োজক কমিটির প্রধান এবং তৎকালীন মহাসচিব ললিত ভানোট এবং অন্যদের বিরুদ্ধে মামলায় ‘ক্লোজার রিপোর্ট’ জমা দিয়েছে ইডি। সেই রিপোর্টে বলা হয়েছে, দীর্ঘ তদন্তের পরেও কমনওয়েলথে কোনও আর্থিক দুর্নীতির প্রমাণ মেলেনি। ফলে ১৫ বছরের পুরনো এই মামলার অবসান হয়েছে।





