সম্প্রতি বেঙ্গল সুপার লিগ (বিএসএল) নিয়ে আইএফএ-র এক পদাধিকারী ম্যাচ গড়াপেটা সংক্রান্ত কিছু অভিযোগ করেছিলেন। তার প্রেক্ষিতে সোমবার শ্রাচী স্পোর্টসের শীর্ষকর্তারা আইএফএ সভাপতি ও সচিবের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করেন। তাঁরা আইএফএ কর্তাদের অনুরোধ করেন, বেঙ্গল সুপার লিগে ম্যাচে গড়াপেটা এবং জুয়ার যে অভিযোগ তোলা হয়েছে তা তাঁদের প্রতিষ্ঠান ও আইএফএ-র ভাবমূর্তির পক্ষে খারাপ। তাঁরা আইএফএ-কে পুলিশি তদন্তের অনুরোধ জানিয়েছেন। একই সঙ্গে আইএফএ-র এক কর্তার পোস্টের বিষয়েও হস্তক্ষেপ করার অনুরোধ জানিয়েছেন। আইএফএ-র তরফ থেকে তাঁদের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে, তদন্তের জন্য কলকাতা পুলিশকে অনুরোধ করবে। বেঙ্গল সুপার লিগ নিয়ে এবার তোপ দাগলেন আইএফএ-র সহ সভাপতি সৌরভ পাল। বেঙ্গল সুপার লিগে সরাসরি ম্যাচ গড়াপেটার অভিযোগ তুললেন। কারণ দেখিয়ে আইএফএ-র সহ সভাপতি তথা সাদার্ন সমিতির কর্তা সৌরভ পাল বলেন এই প্রতিযোগিতার অন্যতম স্পনসর ডাফা নিউজ। এই মুহূর্তে এশিয়ার অন্যতম লিডিং বেটিং সংস্থা যারা। তাদের সংযোগেই গড়াপেটার অভিযোগ তুলেছেন। সৌরভ পালের মতে, বেটিংয়ের সঙ্গে ডাফা নিউজ একেবারে সরাসরি জড়িত। তারাই আবার বেঙ্গল সুপার লিগের অন্যতম স্পনসরও। এবারের বিএসএলে ম্যাচ গড়াপেটা কিন্তু হচ্ছে। সৌরভ পাল এই সম্বন্ধে আরও বলেন, “এটা সত্যিই একটু অবাক লাগছে না। বেঙ্গল সুপার লিগের প্রতিটি ম্যাচই নিস্পত্তি হচ্ছে টাই ব্রেকারের মাধ্যমে। এমনটা কেন হচ্ছে। এসবই কিন্তু ম্যাচ গড়াপেটার দিকেই ইঙ্গিত দেয়।” সৌরভ পাল ম্যাচ গড়াপেটার অভিযোগ তুললেও, শ্রাচী স্পোর্টসের চেয়ারম্যান তমাল ঘোষাল এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে সাফ জবাবে বলেন, “ভারতে যখন বেটিং নিষিদ্ধ, সেখানে কেমনভাবে সেই নিয়ম ভাঙা হবে। সেখানে ম্যাচ ফিক্সিংয়ের কথা আসছে কোথা থেকে। এছাড়া যে টাইব্রেকারের ব্যবস্থা করা হয়েছে তা ভিউয়ারদের আকর্ষণ করার জন্য একটা আসাদা প্রতিযোগিতা। ডাফা তো শুধু এখানেই নেই, হকি ইন্ডিয়া লিগেররও অন্যতম স্পনসর ব্র্যান্ড ডাফা নিউজ।”
এদিকে, আইএসএল নিয়ে অনিশ্চয়তা যত প্রকট হচ্ছে, ততই ধাক্কা খাচ্ছে ক্লাবগুলি। সোমবার ইস্টবেঙ্গল জানিয়ে দিয়েছে, মরক্কোর স্ট্রাইকার হামিদ আহদাদ ক্লাব ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছেন। তাঁর সঙ্গে চুক্তি ভেঙে দিয়েছে ইস্টবেঙ্গল। অন্য দিকে, মুম্বই সিটি এফসি ছেড়েছেন তিরিও। এক বিবৃতিতে ইস্টবেঙ্গল জানিয়েছে, এই মুহূর্তে হামিদ পরিবারের সঙ্গে কাটাতে চান। মাঠের বাইরে খেলোয়াড়ের ভাল থাকার কথা বিচার করেই হামিদের ইচ্ছাকে মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। দ্রুত পরিবর্ত ফুটবলার খুঁজে নেওয়া হবে বলেও আশ্বাস দেওয়া হয়েছে ইস্টবেঙ্গলের তরফে। গত বছর জুলাইয়ে ইস্টবেঙ্গলে সই করেছিলেন হামিদ। ডুরান্ড কাপ এবং সুপার কাপ মিলিয়ে সাতটি ম্যাচ খেলে দু’টি গোল করেছেন। মাঝে চোট পেয়ে বাইরেও ছিলেন কিছু দিন। গোলের সামনে প্রত্যাশিত দক্ষতা দেখাতে না পারায় প্রথম একাদশে তাঁর জায়গা নিয়েও বার বার উঠেছে প্রশ্ন। এ দিকে, স্পেনের ফুটবলার তিরি মুম্বই ছেড়েছেন। ক্লাবের তরফে বিবৃতিতে তিরির পেশাদারিত্বের কথা উঠে এসেছে। গত জুনেই এক বছর চুক্তি বাড়িয়েছিলেন তিনি। আইএসএলে ১৫০-র বেশি ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। মুম্বইয়ের হয়ে খেলেছেন ৪৯টি ম্যাচ। অতীতে এটিকে, জামশেদপুর এবং এটিকে মোহনবাগানের হয়ে খেলেছেন। আইএসএল নিয়ে অনিশ্চয়তা চলার মাঝে একের পর এক ফুটবলার ক্লাব ছাড়ছেন। ইতিমধ্যেই কেরলের আদ্রিয়ান লুনা এবং নোয়া সাদাউই ক্লাব ছেড়েছেন। গোয়া ছেড়েছেন বোরহা হেরেরা।





