Friday, April 24, 2026
spot_imgspot_img

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

ভোটের আগে মনোজ তিওয়ারি আবার দল বদলে উৎসাহী? খেলোয়াড় ক্রীড়া মন্ত্রী হয়েও কিছু লাভ হয় না, রাজ্যে টাটকা উদাহরণ, প্রসূন লক্ষ্মীরতন, মনোজরা!‌ বলছে জনমত

হাওড়াবাসীর মুখে শোনা যায় মনোজের ঘনিষ্ঠদের নামে অসংখ্য অভিযোগ। এমন কিছু লোক নিয়ে তিনি ঘোরাঘুরি করেন, তাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত তোলাবাজির অভিযোগ। ভক্তি নয়, লোকগুলোকে ভয় পায় সবাই। ঘৃণা করে। হাওড়ায় ফ্ল্যাট হলেই তারা বিশাল বখরা নেবে। কেশব থেকে বিবেক কিংবা টুলটুল, পল্টু থেকে বিল্টু দাগি প্রোমোটারদের সঙ্গে দফারফার রমরমা। বৃহৎ প্রেক্ষাপটে প্রসঙ্গের সাদৃশ্য নতুন বছরের তৃণমূলে অন্য পার্টিগুলোরই দুর্দশার দৃশ্য। শৃঙ্খলার শ পর্যন্ত নেই। অরাজক, নিয়মশূন্য। সবাই হাওড়ার হেঁড়ে গলার মনোজকুমারের স্টাইলে অনুপম রায় গাইছেন- আমাকে আমার মতো থাকতে দাও। এবং যে যা পারছে বলছে। কেউ কাউকে আর ভয় পায় না, তোয়াক্কা করে না। বঙ্গে বিশ্রী কোন্দলের লাগাতার কার্বন কপি তৃণমূলেও। নবীন-প্রবীণ কোমর বেঁধে নিয়মিত ঝগড়া করে যাচ্ছে টিভি ক্যামেরার সামনে। সামনে পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন? ওপার বাংলার উত্তেজক পরিস্থিতি থেকে এপার বাংলায় ফসল তুলবেন বলে খেঁদানো বাংলায় মাঝেমধ্যে বুলি আওড়ানো? সকলেই ছোটবেলায় ভাবতেন, কোনও ক্রীড়া সংস্থার মাথায় সেই খেলার নামি প্লেয়ারদের বসিয়ে দিলেই বুঝি সবচেয়ে ভালো কাজ হবে। পরে দেখা যায়, ভাবনাটা ভুল। ৯৫ ভাগ খেলোয়াড় কর্মকর্তা হয়ে খেলাটাকেই পুরো ডুবিয়ে দিয়ে চলে গেছেন। ওদের অনেকেরই চরিতার্থ স্বার্থপরতা কর্মকর্তাদেরও হার মানায়। সরকারি ক্ষেত্রেও একই অবস্থা। খেলোয়াড় ক্রীড়ামন্ত্রী হয়েও কিছু লাভ হয় না, ভোটের আগে মনোজ তিওয়ারি আবার দল বদলে উৎসাহী? খেলোয়াড় ক্রীড়া মন্ত্রী হয়েও কিছু লাভ হয় না, রাজ্যে টাটকা উদাহরণ, প্রসূন, লক্ষ্মীরতন, মনোজরা!‌ বলছে জনমত।

হাওড়া বাসীর কণ্ঠে প্রসূনের ঢাক ঢাক গুড় গুড় শব্দ সর্বদা অনুরণিত। লক্ষ্মী অ্যাকাডেমি করবে বলে একটা গোটা মাঠ নিয়ে খালাস বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন হাওড়বাসীরা। মনোজ যেদিন বাংলাদেশে হিন্দুত্ব বিপন্ন নিয়ে জ্বালাময়ী ধর্মীয় বিবৃতি দিলেন তার দুদিন পরেই বাংলাদেশের ক্রিকেট অধিনায়ক হলেন দিনাজপুরের এক হিন্দু ছেলে লিটন দাস। প্রশ্ন তিতিবিরক্ত হাওড়াবাসীর, ও মনোজ, খবরটা দেখেছেন তো? কিছু বলবেন না! বছর দুয়েক হল কাজের থেকে অকাজেই বেশি চোখে পড়েছেন বাংলার ক্রীড়া ডেপুটি মন্ত্রী মনোজ বলে অভিযোগের বিস্তর পাহাড়। কদিন আগে তিনি ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসকেও নাম না করে তোপ দেগেছেন। মেসি ম্যাসাকার ইস্যুতে। এসব দেখে রাজনীতি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মনোজ কি আর তৃণমূলে আছেন? মনে পড়ছে ঠিক দু বছর আগের ঘটনা! সেটা কাট এন্ড পেস্ট করে এখানে ঢুকিয়ে দেওয়া যায়। ওদিকে জয়ের জলসা, এদিকে অবুঝ মনোজ। কী হবে আর এই দেশের খেলার? জয়ের মতো মনোজরাও কেমন দাদাগিরির উদাহরণ, স্পষ্ট হবে কিছুটা। দুবছরে ছবি কিছু পাল্টেছে দলবদলিয়াদের দৌলতে। পুরোটা পাল্টায়নি। সেটা ভেবেই পড়তে হবে। এই রাজ্য এমন রাজ্য, যেখানে মন্ত্রীমশাই প্রকাশ্যে চড়াও হন দলের এক নেতার ওপর। তাঁর কোনও শাস্তি হয় না। হাওড়ার সেই নেতা ও মন্ত্রীকে দু’পাশে বসিয়ে প্রেস মিটে এলেন অন্য সিনিয়ার মন্ত্রী। ওঁম শান্তি ওঁম বোঝাতে। সেখানে ‘বক্সার’ মন্ত্রী বেসুরো হেঁড়ে গলায় মাইকে গেয়ে ওঠেন অনুপম রায়- ‘আমাকে আমার মতো থাকতে দাও।’ তাঁর কোনও শাস্তি হয় না। মন্ত্রীমশাই স্বনামধন্য। ক্রিকেটার মনোজ তেওয়ারি। অহংবোধের সমস্যার জন্য কুখ্যাত। আন্তজার্তিক ক্রিকেটের পরিসংখ্যান দেখলে মনে নাই হতে পারে আদৌ তিনি ক্রিকেটার হিসাবে জেলা পেরিয়ে কোথাও পরিচিত কিনা?‌ ক্রিকেটার জীবনে কার সঙ্গে লাগেনি তাঁর? ধোনির সঙ্গে। সৌরভের সঙ্গে। সতীর্থ সৌরভের সামনে বাংলার পুরো টিমকে বলেছেন, জুনিয়ার-সিনিয়ার সবার ফিল্ডিংয়ে উন্নতি দরকার। সিএবির বড় কর্তার ঘরে ঢুকে বলেছেন, আমি কেন বাংলার ক্যাপ্টেন হব না? আট বছর আগে দিল্লির মাঠে গৌতম গম্ভীরের সঙ্গে বড় ঝামেলায় জড়ান। তেড়ে যান দুজনে। গৌতম বলেছিলেন, শাম কো মিল, তুঝে মারুঙ্গা। মনোজের হুংকার ছিল, সাম ক্যায়া, আভি বাহার চল। এসব লোকদের মন্ত্রী করার বিপদ অনেক। একটা সময় দলকেই মানবেন না। তাঁর দপ্তরেরই পূর্ণমন্ত্রীকে তোয়াক্কা করবেন না। মনোজের ক্ষেত্রে অরূপ বিশ্বাসের যা হল সম্প্রতি। জানা নেই, খোদ ক্রীড়ামন্ত্রী চুপ করে বসে আছেন কেন?‌ গম্ভীর এখন বিজেপির সাংসদ, মনোজ তৃণমূলের মন্ত্রী। দলের বিড়ম্বনার কারণ দুজনেই। এঁরা কেউ অল্পে তুষ্ট হন না। সাংসদ হবেন, আবার কেকেআরে বিশাল টাকায় কোচিং করাবেন। ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী হবেন, আবার রাজ্য দলে খেলবেনও। আসল লক্ষ্য লক্ষ্মীরতন শুক্লা একটা মাঠ পেয়েছেন, ও বাবুকেও দিতে হবে। আজব বায়না!‌ ওদিকে জাতীয় স্তরে বাংলার খেলা গোল্লায়, বিন্দুমাত্র মাথাব্যথা নেই।

মমতা-অভিষেক এই মেছোহাটে সম্পূর্ণ নির্বাক, এটা আরও বিস্ময়কর। ধমক চমক নেই। বাবা-বাছা বলা নেই। দেখে মনে হতে পারে, দুজনেই কিংকর্তব্যবিমূঢ়। কেন প্রবল গ্রুপবাজি উসকে দেওয়ার তাড়া, কে জানে! পিসির লোক, ভাইপোর লোক- এভাবে চিহ্নিতকরণ খুব খারাপ। দলবাজিতে পার্টিই রাজ্যে হাসির খোরাক, ছন্নছাড়া। বিশ্ব ফুটবলে বহুদিন পালটেছে আত্মঘাতী গোলের সংজ্ঞা। কমেছে সংখ্যাটা। কিছু গোলকিপার কিম্ভূতকিমাকার আত্মঘাতী গোল করছেন। সমান্তরাল পাস, গোলকিক বা ব্যাকপাস করতে গিয়ে গোলে ঢোকাচ্ছেন বল। তৃণমূলের নেতারা মোহন-ইস্ট-মহামেডান দখল করার পর আত্মঘাতী গোল প্র্যাকটিসে মেতেছেন। জানার খুব ইচ্ছে, এঁদের আত্মঘাতী গোল করার ট্রেনিং দিচ্ছেন কোন কোচ? ঘাসফুলের নাট্যশালায় একটা কথা স্পষ্ট। কিছু পুলিশ ও আমলা যেমন নিজেরাই উলটোপালটা সিদ্ধান্ত নিয়ে তৃণমূলকে ডোবাচ্ছেন, কিছু ফুটবল ক্রিকেট থেকে আগতরাও তেমন ভয়ংকরী। ঘাসফুলের নাট্যশালায় তৃণমূলের ডেপুটি ক্রীড়ামন্ত্রী মনোজ তিওয়ারির একটা মন্তব্য। সেখানে তিনি বলেছেন, ‘মুস্তাফিজুরকে বাদ দিয়ে বোর্ড খুব ভালো সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আরও আগে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত ছিল। আমাদের হিন্দু ভাইদের বাংলাদেশে মারা হচ্ছে, এই অবস্থায় আইপিএলে বাংলাদেশীদের খেলতে দেওয়া উচিত।’ তাজ্জব কি বাত! ভোটের আগে মনোজ কি আবার দল পাল্টানোর সদিচ্ছায় ব্যস্ত? তৃণমূলের প্রবীণ সাংসদ সৌগত রায় সেদিনই বলেছেন ক্রিকেট আর রাজনীতিকে মেশানো উচিত নয়। তাহলে প্রশ্ন উঠছে, এই ইস্যুতে তৃণমূলের সরকারি মতটা কী? আরও একটা বড় প্রশ্ন। এখন জয় শার মেঘনাদ হয়ে চালানো সংস্থা বিসিসিআই মুস্তাফিজুরকে আইপিএল তালিকায় রাখতে গিয়েছিল কেন! বাংলাদেশে তো হিন্দুদের ওপর অত্যাচার কম দিন হল হচ্ছে না। হঠাৎই এই ‘বোধোদয়’ !

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles