তালিকা থেকে ভোটারদের নাম বাদ যাওয়ার অভিযোগ। লিস্ট থেকে বাদ পড়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়, অর্থমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য! সূত্রের খবর, ২০১৮–য় শেষ নির্বাচনে হাজার ৩০ আইনজীবী ভোট দিয়েছিলেন। এত বছর পরে প্রকাশিত নতুন ভোটার তালিকাতেও ৩০ হাজার মতো ভোটারের নামই রয়েছে! অথচ সংখ্যাটা কমপক্ষে ৫৫ হাজার হওয়া উচিত বলে তাঁদের হিসেব। কারণ, এর মধ্যে কয়েক হাজার ছেলেমেয়ে আইন পাশ করে কাউন্সিলের সার্টিফিকেট নিয়ে বিভিন্ন আদালতে কর্মরত। তাঁদের নাম ওঠেনি। উল্টে আগের তালিকা থেকে বহু নাম বাদ গিয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য লিগ্যাল সেলের প্রাক্তন আহ্বায়ক তরুণ চট্টোপাধ্যায় কাউন্সিলের নানা অনিয়মের বিরুদ্ধে সরব। তাঁর কথায়, ‘জেলায় জেলায় সাধারণ আইনজীবী থেকে বহু রাজনৈতিক ব্যক্তির নামও তালিকায় নেই বলে এখন শুনছি। কাউন্সিলের কিছু সদস্য হিসেব কষেই এমন ভাবে এগোচ্ছেন, যাতে নতুনদের নাম না ওঠে। তবে তাঁরা এত সহজে নিজেদের প্ল্যানে সফল হতে পারবেন না। আমাদের সাধারণ আইনজীবীরাই আপত্তি জানাচ্ছেন।’ উঠে আসছে আইনজীবীদের ‘সার্টিফিকেট অফ প্র্যাক্টিস’–এর প্রসঙ্গ। বর্ষীয়ান আইনজীবীরা বলছেন, সুপ্রিম–নির্দেশেই প্রতি পাঁচ বছর অন্তর নিজেদের ‘বৈধ’ চিহ্নিত করতে এই সার্টিফিকেট ইস্যু করার কথা। ২০১৬–য় এই শংসাপত্র দেওয়ার জন্য বার কাউন্সিল আইনজীবীদের থেকে ৩০০ টাকা করে নিলেও কাউকে সার্টিফিকেট দেওয়া হয়নি। তাঁদের কথায়, ‘আইন অনুযায়ী, ওই সার্টিফিকেট না থাকলে কোনও আইনজীবীর বৈধ ভোটার হিসেবে চিহ্নিত হওয়ার কথা নয়। তেমনই তাঁরা ভোটে দাঁড়াতেও পারেন না। অথচ এ বারও যাঁরা ভোটে দাঁড়াচ্ছেন, তাঁদের প্র্যাকটিশনার হিসেবে সার্টিফিকেট নেই।’ বার কাউন্সিলের সহকারী সম্পাদক পিনাকী বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘ভোটার তালিকায় নাম তোলার জন্য দিন বাড়ানো হবে কি না, সেটা ঠিক সময়ে জানানো হবে। আর কোনও প্রশ্ন থাকলে কাউন্সিলের অফিস খুললে সেখানে গিয়ে জানতে হবে।’
লিস্ট থেকে বাদ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়, অর্থমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য! তালিকা দেখে তৃণমূলপন্থী আইনজীবীদের বড় অংশ অবাক। আইনজীবী হিসেবে মমতা কলকাতা হাইকোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য। চন্দ্রিমাও আইনজীবী এবং বারের মেম্বার। স্বয়ং সিএমের নাম বাদ পড়াকে হাতিয়ার করে বার কাউন্সিলের বিদায়ী বোর্ডের বিরুদ্ধে আরও জোরদার আক্রমণে শানাচ্ছেন তৃণমূলপন্থী আইনজীবীদের একাংশ। মার্চের মধ্যে বাংলায় বার কাউন্সিলের নির্বাচন শেষ করতে হবে বলে আগেই নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। সেই নির্বাচন তদারকির জন্য মণিপুর হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি ডি কৃষ্ণকুমারের সঙ্গে কলকাতা হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি অসীম কুমার রায়কে দায়িত্ব নেওয়ার জন্য অনুরোধ করেছে শীর্ষ আদালতের উচ্চপর্যায়ের কমিটি। বিচারপতি রায় এখনও এ নিয়ে সরকারি ভাবে নিজের অবস্থান জানাননি বলে খবর।সব জেলার আইনজীবীদের সংগঠন এবং তারা চিঠি দিয়ে কাউন্সিলকে সে কথাও জানিয়েছে। সেখানেই সবচেয়ে বেশি সংখ্যায় রয়েছে প্রকৃত ভোটারদের নাম বাদ যাওয়া। কাল, শুক্রবার খুলবে বার কাউন্সিলের অফিস। সূত্রের খবর দু’–এক দিনের মধ্যে জেলাগুলির আইনজীবীরা সেখানে গিয়ে বিক্ষোভ দেখানোর ব্যাপারে নিজেদের মধ্যে কথাবার্তা বলছেন।





