সৃষ্টিশীল ফুটবলের জন্য বিখ্যাত লিও মেসি। এলএম ১০ যুবভারতী থেকে চলে যাওয়ার পরে সেখানে ধ্বংসের ছবি। আর্জেন্টাইন কিংবদন্তির চারপাশে অত্যুৎসাহী জনতার ভিড় ছিল। বিরক্ত হচ্ছিলেন মেসি। শেষমেশ তিনি মাঠে ছেড়ে চলে যান। দর্শক অসন্তোষ অন্য আকার নেয়। তাণ্ডবলীলা চলে। মেসি শোয়ের টিকিটের টাকা ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করে দিল সিট। টিকিট বিক্রি বাবদ ১৯ কোটি টাকা ওঠে বলে অভিযোগ। টাকা ফেরতের জন্য আদালতের দ্বারস্থ হচ্ছে পুলিশ। টিকিট বিক্রির বরাত পাওয়া সংস্থা জোম্যাটো কর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারে পুলিশ। মেসিকে এদেশে আনেন শতদ্রু দত্ত। ইতিমধ্যে তাঁর অ্যাকাউন্টে ২২ কোটি টাকা ফ্রিজ করা হয়েছে। কয়েক জন দর্শকের বয়ান রেকর্ড করেছে পুলিশ। আরও কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শীর বয়ান রেকর্ড করতে পারে পুলিশ। শতদ্রু দত্তের জামিনের আবেদন খারিজ করে দিয়েছে আদালত। ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত জেল হেফাজতেই থাকতে হবে তাঁকে। এই পরিস্থিতিতে তাঁকে জামিন দেওয়া সম্ভব নয় বলে জানানো হয়েছে। জেরায় শতদ্রু জানান, এই সফরের জন্য ৮৯ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছিল মেসিকে। ভারত সরকারকে ১১ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছিল। অর্থাৎ মেসির সফরের জন্য ১০০ কোটি টাকা খরচ হয়েছিল। সূত্রের খবর তিরিশ শতাংশ অর্থ এসেছিল স্পনসরের কাছ থেকে। আর বাকি তিরিশ শতাংশ অর্থ এসেছিল টিকিট বিক্রি থেকে। এবার সেই মেসি শোয়ের টিকিটের টাকা ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেল।
অনলাইনে কত টিকিট বিক্রি হয়েছে এবং মোট কত সংখ্যক টিকিট বিক্রি হয়েছে— সেই সব তথ্যও ইতিমধ্যে সংগ্রহ করেছে সিট। টিকিট বিক্রির টাকা থেকে শতদ্রুর সংস্থা কত পেয়েছে এবং অনলাইনে বিক্রেতা সংস্থার কাছে কত গিয়েছে, তা-ও তদন্তকারীদের হাতে এসেছে। পুলিশ সূত্রের খবর, ওই অনলাইন সংস্থা জানিয়েছিল মোট ১৯ কোটি টাকার টিকিট বিক্রি হয়েছে। এ ছাড়া আরও বেশ কিছু তথ্য সিটের হাতে এসেছে। সেই সব তথ্যের উপর ভিত্তি করেই দর্শকদের টিকিটের টাকা ফেরত দিতে আইনি প্রক্রিয়ার তোড়জোড় শুরু করেছেন তদন্তকারীরা। মেসিকে ভারত সফরে আনার জন্য কর-সহ প্রায় ১০০ কোটি খরচ হয়েছিল বলে তদন্তকারীদের জানিয়েছেন শতদ্রু। বিভিন্ন স্পনসর, টিকিট বিক্রি এবং অন্য রাজ্যগুলিতে মেসির সফর থেকে এই টাকার ব্যবস্থা করা হয়েছিল বলে দাবি শতদ্রুর। পাশাপাশি শতদ্রুর একটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ২২ কোটি টাকা রয়েছে। সেই অ্যাকাউন্টটিও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।





