Sunday, April 26, 2026
spot_imgspot_img

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

ইউরিক অ্যাসিড নেই, অসহ্য যন্ত্রণা? ওষুধ না খেয়ে ব্যথা কমানোর উপায়?

ব্যথার কারণ কী? ব্যথা বাতের কারণে? ইউরিক অ্যাসিড নেই। হিলজুতোও পরেন না, তা-ও গোড়ালিতে তীব্র যন্ত্রণা ভোগাচ্ছে। পায়ের পাতায় এমন ব্যথাবেদনা মাঝেমধ্যেই হয়। যদি তা দীর্ঘমেয়াদে ভোগাতে থাকে, সে ক্ষেত্রে সতর্ক হতে হবে।‌ পরিশ্রান্ত দিনের শেষে কারও কারও গোড়ালির তলায়, আবার কারও গোড়ালির পিছনের দিকে ব্যথা হয়। গোড়ালির পিছনের ব্যথাকে বলা হয় ‘টেন্ডো অ্যাকিলিস’। হাঁটাচলায় সাহায্যকারী প্রধান শিরা বা টেন্ডনে যখন কোনও প্রদাহ হয়, তখন গোড়ালির পিছনের দিকে যন্ত্রণা শুরু হয়। গোড়ালির নীচের ব্যথাকে বলা হয় ‘প্ল্যান্টার ফ্যাসাইটিস’। অনেক সময় গোড়ালির তলায় হাড় বেড়েও ব্যথা হয়, একে ক্যালকেনিয়াল স্পার বলে। অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতা থাকলে প্ল্যান্টার ফ্যাসাইটিসের সমস্যা বেশি হয়। এক টানা বসে কাজ করেন যাঁরা, শরীরের নড়াচড়া কম হয়, তাঁদের হতে পারে। দীর্ঘ ক্ষণ দাঁড়িয়ে কাজ করেন যাঁরা, তাঁরা ভোগেন এই সমস্যায়। পায়ের পাতা একেবারে সমান্তরাল ভাবে মাটিতে স্পর্শ করে, অর্থাৎ ফ্ল্যাট ফুটের সমস্যা থাকলে এমন ব্যথা মাঝেমধ্যেই হতে পারে। সঠিক জুতো না পরলে বা দীর্ঘ সময় হিলজুতো পরে থাকলে লিগামেন্টটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। প্রদাহের কারণে প্ল্যান্টার ফ্যাসাইটিসের সমস্যা শুরু হয়। প্রদাহ দূর করতে বরফ ভাল বিকল্প হতে পারে। দিনে অন্তত ১৫-২০ মিনিট বরফ সেঁক দিন। তা হলে প্ল্যান্টার ফ্যাসাইটিসের ব্যথা বেশ খানিকটা কমবে। ব্যথার তীব্রতা কমাতে গোড়ালিতে ঠান্ডা-গরম সেঁক দেওয়া যায়। প্রথমে ঠান্ডা সেঁক দিন, পর মুহূর্তে গরম সেঁক দিন। সেঁক দিলে পায়ের পেশি সচল হয়। ঠান্ডা এবং গরম জলের মিশ্রণ পায়ে ঢাললে খানিক স্বস্তি পাওয়া যায়। কিছু ব্যায়াম করলেও প্লান্টার ফ্যাসাইটিসের ব্যথা কমবে। পায়ের পাতার উপরে ভর দিয়ে মাটি থেকে গোড়ালি তুলে ধরুন। কয়েক সেকেন্ড পর স্বাভাবিক অবস্থানে ফিরে আসুন। ১০ থেকে ১৫ বার এই ব্যায়াম করুন। একে বলে হিল রেজ়। এই ব্যায়ামটি নিয়মিত করলে গোড়ালির ব্যথা কমে যাবে।

অস্টিয়োপোরোসিসের ঝুঁকি কোন বয়স থেকে বাড়ে? বয়স ৩০ পেরোলেই অস্টিয়োপোরোসিসে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বৃদ্ধি পেতে থাকে। তবে ঝুঁকি এড়াতে জীবনধারায় খানিক বদল আনা জরুরি। শারীরিক সমস্যা হানা দিতে শুরু করে। বিশেষ করে, অস্থি সংক্রান্ত সমস্যা বেশি হয়। পরিসংখ্যান জানাচ্ছে, বিশ্বে বয়সজনিত কারণে হাড়ে যে সমস্যাগুলি দেখা দেয়, অস্টিয়োপোরোসিসে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কাই বেশি থাকে। মহিলারাই বেশি ভোগেন এই রোগে। বয়স ত্রিশ থেকে চল্লিশের মধ্যে অস্টিয়োপোরোসিসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। অস্থি বিষয়ক চিকিৎসক সুব্রত গড়াইয়ের মতে, হাড়ের গঠনে অন্যতম ভূমিকা রয়েছে ‘বোন মিনারেল ইউনিট ডেনসিটি’-র, যা হাড়কে মজবুত রাখতে সাহায্য করে। হাড়ের গঠনে ভূমিকা রয়েছে ক্যালশিয়াম ও ফসফরাসেরও। তাই, যখন এই বোন মিনারেল ইউনিট ডেনসিটি কমে যায় বা ক্যালশিয়ামের মাত্রাও কমে যায়, তখন শুরু হয় হাড়ের ক্ষয় বা দুর্বল হয়ে যাওয়া। পুরুষদের ৬০ থেকে ৬৫ বছর বয়সের মধ্যে অস্টিয়োপোরোসিস দেখা দিতে পারে। মহিলাদের মধ্যে অবশ্য এই সমস্যা দেখা দেয় আরও কম কম বয়স থেকে। ত্রিশের পর থেকে শরীরে ক্যালশিয়ামের অভাব বেশি হলে এই রোগ দেখা দিতে থাকে। আবার রজোনিবৃত্তির পর শরীরে ইস্ট্রোজেন হরমোনের মাত্রা কমে যায়। এর ফলে হাড় দুর্বল হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। এই সমস্যা এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব না হলেও ছোট থেকেই জীবনধারা নিয়ে সচেতন থাকলে পরবর্তীতে তা বাড়াবাড়ি পর্যায়ে পৌঁছোয় না। যদি কোনও নির্দিষ্ট জায়গায় অস্টিয়োপোরোসিস হয়, তা হলে হালকা চাপ পড়লেই সে জায়গায় ব্যথা বাড়তে থাকে। মূলত কোমর, হাঁটুতে অসম্ভব ব্যথা হয় তখন। মেরুদণ্ড বেঁকে যেতে পারে, কখনও আবার পা বেঁকে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা যায়। নিয়মিত হাঁটাহাঁটি, ব্যায়াম, যোগাসন করার অভ্যাস হাড়ের যত্ন নিতে সাহায্য করে। হাড়ের ক্ষয় হ্রাস করে। বয়স নির্বিশেষে সকলের নিয়মিত শরীরচর্চা করা জরুরি। শুধু অস্টিয়োপোরোসিস নয়, হাড়ের অন্যান্য সমস্যা দূর করতেও ব্যায়াম করা একান্ত প্রয়োজন। হাড়ের যত্ন নিতে ক্যালশিয়ামের ভূমিকা অপরিহার্য। ভিটামিন ডি শরীরে ক্যালশিয়াম শোষণে সাহায্য করে। হাড়ের স্বাস্থ্যের উন্নতিতেও বহু ভূমিকা পালন করে ভিটামিন ডি। শরীরে ভিটামিন ডি-র ঘাটতি তৈরি হলে হাড়ের ঘনত্ব কমে যাওয়ার এবং হাড় ক্ষয়ের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়। ভিটামিন ডি-এর প্রধান উৎস হল সূর্যালোক। এ ছাড়াও দুগ্ধজাত দ্রব্য, ডিম, বিভিন্ন মরসুমি ফল, মাছের মতো ভিটামিন ডি সমৃদ্ধ খাবার অস্টিয়োপোরেসিসে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা কমায়। বিভিন্ন প্রকার মাছ, বাদাম, ব্রকোলির মতো ক্যালশিয়াম সমৃদ্ধ খাবার হাড়ের ঘনত্ব তৈরি করতে সাহায্য করে। শরীরে ক্যালশিয়ামের মাত্রা হ্রাস পেলে তার সরাসরি প্রভাব পড়ে হাড়ে। ক্যালশিয়াম অস্টিয়োপোরোসিসের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles