Thursday, June 25, 2026
spot_imgspot_img

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

তারাতলা বিপর্যয়ে ববির ‘ডান হাত’কে ধরল পুলিশ!‌ ‘দুর্ভাগ্যবশত ইঞ্জিনিয়ারিং পড়িনি’, দায় ঝাড়লেন ফিরহাদ হাকিম

RK NEWZ তারাতলায় নির্মীয়মাণ গুদামের ছাদ ভেঙে পড়ার ঘটনায় কলকাতার প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিমের প্রাক্তন ওএসডি (অফিসার অন স্পেশ্যাল ডিউটি) কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে আটক করল পুলিশ। বৃহস্পতিবার সকালেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী তাঁকে নিশানা করেছিলেন। পুরো নাম উচ্চারণ না করলেও শুভেন্দু বলেছিলেন, ‘‘কলকাতা পুরসভায় কালী না-বললে কোনও প্ল্যান (পাশ) হয় না।’’ তার পর রাতেই সেই কালীকে আটক করা হল। পুলিশ তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। নকশাতেই ছিল গলদ। যা পাশ করেছিল কলকাতা পুরসভা। আর সে কারণে ধ্বংসস্তূপের নিচে প্রাণ হারিয়েছেন ১১ জন। বিধানসভায় দাঁড়িয়ে বৃহস্পতিবার এমনই দাবি করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিমকে তোপ দেগেছেন তিনি। এই প্রসঙ্গে পালটা মুখ খুললেন প্রাক্তন মেয়র। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধারকাজের প্রশংসা করে দায় ঝাড়লেন। ফিরহাদ বলেন, “প্ল্যান অনুমোদন করে বিল্ডিং ডিপার্টমেন্ট। দুর্ভাগ্যবশত আমি ইঞ্জিনিয়ারিং পড়িনি। আর প্ল্যান আমার কাছে আসার কথাও নয়। এই প্ল্যানের ব্যাপারে আমার কিছু জানা নেই। কমিশনার হয়ে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য আমার কাছে আসত।” প্রাক্তন মেয়রের কথায়, “ওটা একটা ফর্মালিটি। মিউনিসিপ্যাল বিল্ডিং কমিটিতে টেকনিক্যাল লোকজন থাকেন। তা মেয়রের এক্তিয়ার বহির্ভূত। কোনটা বেআইনি, কোনটা নয়, সেটা দেখার এক্তিয়ার মেয়রের নেই। বিল্ডিং ডিপার্টমেন্ট কাকে নোটিস দিচ্ছে, কোনটা ভাঙছে, সেটা দেখার এক্তিয়ার নেই। বিল্ডিং প্ল্যান স্যাংশনের এক্তিয়ারও নেই মেয়রের।” যদিও প্রাক্তন মেয়রের মতে, গুদামটি বেআইনিভাবে নির্মা করা হচ্ছিল না। তবে যথেষ্ট তদারকির অভাব যে ছিল সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রশংসা করেন ফিরহাদ। তিনি বলেন, “উদ্ধারকাজ খুবই ভালো হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাই। উনি যা করেছেন প্রশংসা যোগ্য।” বলে রাখা ভালো, বুধবার বেলা ১২টা ৭ মিনিটে হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে তারাতলার নির্মীয়মাণ গুদাম ও কোল্ডস্টোরেজ। তৎক্ষণাৎ উদ্ধারকাজে হাত লাগায় পুলিশ ও দমকল। পরে ধীরে ধীরে বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীও উদ্ধারকাজে হাত লাগায়। দুপুর আড়াইটে নাগাদ মুখ্যসচিবের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর ফোনে কথা হয়। আর তারপরই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় উদ্ধারের কাজে লাগানো হবে সেনাকে। সেই অনুযায়ী সেনাও উদ্ধারকাজে হাত লাগায়। অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি কাজে লাগানো হয়। মুখ্যমন্ত্রী নিজেও জানান, তার ফলে প্রাণহানি কিছুটা কমানো সম্ভব হয়েছে। সেই উদ্ধারকাজেরই প্রশংসা করেন ফিরহাদ। শুভেন্দু পরিচয় স্পষ্ট না করলেও কলকাতা পুরসভায় কালী পরিচিত নাম। ফিরহাদের ‘ডান হাত’ তিনি। রাজ্য সরকারি কর্মচারী কালীচরণ একসময় পশ্চিমবঙ্গ পুলিশে চাকরি করতেন। পরে আমলা হিসাবে প্রশাসনে যোগ দেন। ২০১৮ সালের শেষ দিকে শোভন চট্টোপাধ্যায়ের পদত্যাগের পর কলকাতার মেয়র হন ফিরহাদ। তখনই পুরসভায় কালীচরণের প্রবেশ। অভিযোগ, ফিরহাদের আস্থাভাজন হয়ে উঠেছিলেন তিনি। পুরসভায় তাঁর প্রভাব ছিল। তাঁর অনুমোদন না পেলে শহরের কোনও নির্মাণকাজ এগোতে পারত না।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles