বিজয় হাজারের প্রথম ম্যাচে সিকিমের বিরুদ্ধে শতরান করেছিলেন রোহিত শর্মা। কিন্তু দ্বিতীয় ম্যাচে রান ভারতীয় ক্রিকেটপ্রেমীদের হতাশ করলেন রোহিত শর্মা। উত্তরাখণ্ডের বিরুদ্ধে প্রথম বলেই শূন্য রানে আউট হলেন রোহিত। বিজয় হজারের প্রথম ম্যাচে সিকিমের বিরুদ্ধে শতরান করলেও দ্বিতীয় ম্যাচে ব্যর্থ। ব্যাট করতে নেমে প্রথম ওভারেই রোহিতকে হারায় মুম্বই। দেবেন্দ্র সিংহের বলে জগমোহন নাগারকোটির হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন রোহিত। জয়পুরের সওয়াই মানসিংহ স্টেডিয়ামে আর একটি রোহিত শো হল না। রোহিতের খেলা দেখতেই মাঠে ভিড় করেছিলেন দর্শকেরা। প্রথম বলেই রোহিত আউট হওয়ায় হতাশ তাঁরা। ফেরার সময় রোহিতকে দেখেও বোঝা যায়, প্রথম বলেই আউট হবেন, তিনি নিজেও সেটা ভাবতে পারেননি। বিজয় হজারের প্রথম ম্যাচে এই মাঠেই ৯৪ বলে ১৫৫ রান করেন রোহিত। ১৮টি চার ও ন’টি ছক্কা মারেন ভারতের প্রাক্তন অধিনায়ক। তাঁর দাপটে মাত্র ৩০.৩ ওভারে ২৩৬ রান তাড়া করে জিতে যায় মুম্বই। কিন্তু দ্বিতীয় ম্যাচে ব্যর্থ হলেন রোহিত। ভারতের হয়ে টি-টোয়েন্টি ও টেস্ট থেকে অবসর নেওয়ার পর এখন শুধু এক দিনের ক্রিকেট খেলছেন রোহিত। তাঁর লক্ষ্য ২০২৭ সালের বিশ্বকাপে খেলা। তবে তার জন্য তাঁকে ঘরোয়া ক্রিকেট খেলার নির্দেশ দিয়েছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড। সেই কারণেই সাত বছর পর বিজয় হজারে খেলতে নেমেছেন। রোহিতকে ছাড়ও দিয়েছে বোর্ড। দু’টি ম্যাচ খেললেই চলবে। দু’টি ম্যাচ খেলেও ফেললেন। একটি ম্যাচে শতরান করলেন। অন্যটিতে শূন্য। এখন দেখার, বিজয় হজারের আর কোনও ম্যাচে রোহিতকে খেলতে দেখা যায় কি না।

বিরাট কোহলি স্পিনারের বলে ক্রিজ় ছেড়ে বেরিয়ে খেলতে গিয়ে ছন্দপতন হল। ৭৭ রানে আউট হলেন কোহলি। শতরান হাতছাড়া হল। এই ৭৭ রানের ইনিংসে কোহলি বুঝিয়ে দিলেন, ছন্দ ধরে রেখেছেন। বেঙ্গালুরুর সেন্টার অফ এক্সেলেন্সের মাঠে কোহলি যখন ব্যাট করতে নেমেছেন, জয়পুরের সওয়াই মানসিংহ স্টেডিয়ামে রোহিত শর্মা প্রথম বলে শূন্য রানে আউট হয়ে ফিরে গিয়েছেন। রোহিত ব্যর্থ হলেও কোহলি অবশ্য শুরু থেকেই চালিয়ে খেললেন। ২৯ বলে অর্ধশতরান করেন তিনি। দিল্লি শুরুতে প্রিয়াংশ আর্য ও অর্পিত রানার উইকেট হারালেও কোহলি পাল্টা আক্রমণ শুরু করেন। তাঁর ব্যাট থেকে একের পর এক বড় শট এল। অর্ধশতরানের পরেও চালিয়ে খেলছিলেন কোহলি। সেটা করতে গিয়েই উইকেট দিয়ে এলেন। বিশাল জয়সওয়ালের বলে স্টাম্প আউট হন কোহলি। ৬১ বলে ৭৭ রানের ইনিংসে ১৩টি চার ও একটি ছক্কা মেরেছেন। অন্ধ্রপ্রদেশের বিরুদ্ধে রান তাড়া করতে নেমে ১০১ বলে ১৩১ রান করেছিলেন কোহলি। মেরেছিলেন ১৪টি চার ও তিনটি ছক্কা। সেই ম্যাচে ১২৯.৭০ স্ট্রাইক রেটে রান করেছিলেন তিনি। কোহলির দাপটে মাত্র ৩৭.৪ ওভারে ২৯৮ রান তাড়া করেছিল দিল্লি। এই ম্যাচে শতরান না পেলেও ১২৬.২৩ স্ট্রাইক রেটে রান করেছেন কোহলি। অর্থাৎ, আক্রমণাত্মক ব্যাটিং চালিয়ে যাচ্ছেন। ভারতের হয়ে টি-টোয়েন্টি ও টেস্ট থেকে অবসর নেওয়ার পর এখন শুধু এক দিনের ক্রিকেট খেলছেন কোহলি। তাঁর লক্ষ্য ২০২৭ সালের বিশ্বকাপে খেলা। তবে তার জন্য তাঁকে ঘরোয়া ক্রিকেট খেলার নির্দেশ দিয়েছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড। সেই কারণেই ১৫ বছর পর বিজয় হজারে খেলতে নেমেছেন তিনি। তবে কোহলিকে ছাড়ও দিয়েছে বোর্ড। দু’টি ম্যাচ খেললেই চলবে। দু’টি ম্যাচ খেলেও ফেললেন। একটি ম্যাচে শতরান করলেন। অন্যটিতে ৭৭। এখন দেখার, বিজয় হাজারের আর কোনও ম্যাচে কোহলিকে খেলতে দেখা যায় কি না।

১৪ বছর বয়সে বিজয় হাজারে ট্রফি খেলতে নেমে ৮৪ বলে ১৯০ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলেছে বৈভব সূর্যবংশী। বুধবারের ম্যাচের পর শুক্রবারও তার কাছে ঝোড়ো ব্যাটিং আশা করেছিলেন ক্রিকেটপ্রেমীরা। কিন্তু শুক্রবারের ম্যাচে খেলছে না বৈভব। একটি বিশেষ কারণে দল ছেড়েছে। শুক্রবার ভারতের ৫ থেকে ১৮ বছর বয়সিদের সর্বোচ্চ নাগরিক সম্মান ‘প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রীয় বাল পুরস্কার’ পাবে বৈভব। সেই পুরস্কার নিতে দিল্লি যাওয়ার কারণেই বিজয় হাজারেতে খেলা হচ্ছে না বিহারের বাঁহাতি ওপেনারের। রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর হাত থেকে পুরস্কার নেবে বৈভব। তার পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে সাক্ষাৎ হবে। বৈভব ছাড়া আরও যারা এই পুরস্কার পাচ্ছে, তাদের সঙ্গেও দেখা করবেন মোদী। সাতটি বিষয়ে দেওয়া হয় এই ‘প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রীয় বাল পুরস্কার’। সেগুলি হল— সাহসিকতা, শিল্প ও সংস্কৃতি, পরিবেশ, উদ্ভাবনী দক্ষতা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, সমাজসেবা এবং ক্রীড়া। বৈভব ক্রীড়া ক্ষেত্রে এই পুরস্কার পাচ্ছে। ভারতীয় ক্রিকেটে গত এক বছরে উল্কার গতিতে উত্থান হয়েছে বৈভবের। প্রথমে ভারতের অনূর্ধ্ব-১৯ দলের নজর কেড়েছে সে। তার ফলে আইপিএলে মাত্র ১৩ বছর বয়সে দল পেয়েছে বৈভব। নিলামে কোটিপতি হয়েছে সে। রাজস্থান রয়্যালসের হয়ে খেলতে নেমে শতরানও করেছে। ভারতের অনূর্ধ্ব-১৯ দলের হয়ে যুব টেস্ট ও এক দিনের ম্যাচে শতরান করেছে বৈভব।

ভারতের হয়ে এমার্জিং এশিয়া কাপ ও অনূর্ধ্ব-১৯ এশিয়া কাপেও শতরান করেছে বৈভব। বিজয় হজারে খেলতে নেমেও নজির গড়েছে সে। তার আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের জোর চর্চা চলছে। বৈভবকে ভারতের ভবিষ্যতের তারকা ধরা হচ্ছে। তবে তার মাঝেই ধারাবাহিকতা নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েছে সে। বড় ম্যাচে তার ব্যর্থতা নিয়েও আলোচনা চলছে। এই আলোচনার মাঝেই বড় সম্মান পেতে চলেছে বৈভব।





