আগেই নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল আওয়ামী লীগকে। নির্বাচনের সময় সেটিই বহাল থাকবে। বাংলাদেশের ইউনুস সরকারের তরফে ঘোষণা করা হয়েছে, ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না ‘নিষিদ্ধ’ আওয়ামী লীগ। সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানিয়েছেন, বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ অংশ নিতে পারবে না। বুধবার উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক শেষে ঢাকার ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এক সাংবাদিক বৈঠকে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন। সাংবাদিক বৈঠকে শফিকুল আলম বলেন, ‘আওয়ামী লীগের কার্যক্রম বর্তমানে নিষিদ্ধ রয়েছে দেশে। নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যে দলটির কার্যক্রম বাতিল করেছে। ফলে আওয়ামী লীগের দল হিসেবে জাতীয় নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ নেই।’ ইউনুস সরকারের পদক্ষেপের পরেই আন্তর্তাতিক স্তর থেকে চাপ পড়তে শুরু করেছে। আওয়ামী লীগের উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার ক্ষেত্রে পুনর্বিবেচনা করার জন্য আবেদন করা হয়েছে ইউনুস সরকারকে। মহম্মদ ইউনুসকে সম্প্রতি চিঠি লেখেন পাঁচজন মার্কিন সংসদ সদস্য। তাঁরাই জানান, আওয়ামী লীগের ওপর থেকে যাতে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়। চিঠিতে স্বাক্ষর রয়েছে গ্রেগরি মিকস (ব়্যাঙ্কিং সদস্য, হাউজ ফরেন অ্যাফেয়ার্স কমিটি), বিল হুইজেঙ্গা (দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া সংক্রান্ত সাবকমিটির চেয়ারম্যান), সিডি কামলেজর-ডাভ (দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া সংক্রান্ত সাবকমিটির ব়্যাঙ্কিং সদস্য), কংগ্রেস সদস্য জুলি জনসন এবং থমাস সুজির। তাঁদের বক্তব্য, গণতন্ত্র রক্ষার স্বার্থে বাংলাদেশের নির্বাচনে সব রাজনৈতিক দলকেই অংশ নিতে দেওয়া উচিত। ভারত বিরোধী বক্তব্যের জন্য পরিচিত, বিতর্কিত ব্যক্তিত্ব, ৩২ বছর বয়সি হাদি ২০২৪ সালের ছাত্র অভ্যুত্থানের সময় খ্যাতি লাভ করেন। চলতি মাসের শুরুতে মোটরসাইকেল আরোহী দুর্বৃত্তদের গুলিতে হাদি আহত হন। গত সপ্তাহে সেই আঘাতের কারণে সিঙ্গাপুরে মারা যান তিনি। গত বছরের জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম ফ্রন্টলাইনার শরিফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ড নিয়ে এখন উত্তাল রয়েছে বাংলাদেশ। হাদির ভাই শরিফ ওমর হাদি জানিয়েছেন, জাতীয় নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র হিসেবে হাদিকে হত্যা করা হয়েছে। ওমর হাদি অভিযোগ করেছেন, সরকারের ভেতরের একটি ‘স্বার্থান্বেষী মহল’ পরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে ইনকিলাব মঞ্চের উদ্যোগে আয়োজিত কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ওমর হাদি বলেন, “আপনারাই ওসমান হাদিকে হত্যা করেছেন, আর এখন এই ঘটনাকে ইস্যু বানিয়ে নির্বাচন ভণ্ডুল করার চেষ্টা করছেন।” তিনি জানান, তাঁর ভাই চেয়েছিলেন ফেব্রুয়ারির মধ্যেই জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হোক। তবে সেই পথ বানচাল করা হয়েছে। ওমর হাদি আরও বলেন, “খুনিদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনুন, যাতে নির্বাচনের পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। কিন্তু সরকার এখনও পর্যন্ত আমাদের সামনে কোনও সদর্থক কাজ দেখাতে পারেনি।” তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “যদি ওসমান হাদির বিচার না হয়, তবে একদিন আপনাদেরও বাংলাদেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হতে হবে।”

নিশানায় বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম। গত বছরের জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম ফ্রন্টলাইনার শরিফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ড নিয়ে বর্তমানে অগ্নিগর্ভ ওপার বাংলা। সিঙ্গাপুরের হাসপাতালে তাঁর মৃত্যুর খবর বাংলাদেশে পৌঁছনোর পরেই বিক্ষোভকারীদের রোশানলে ছারখার হয়ে গিয়েছিল সংবাদমাধ্যম ‘প্রথম আলো’র দফতর। তাণ্ডব চলে ‘ডেইলি স্টারে’ও। এবার বাংলাদেশে টার্গেট করা হল বেসরকারি সংবাদমাধ্যম গ্লোবাল টিভি’র প্রধান নাজনিন মুন্নিকে। সূত্রের খবর, গত ২১ ডিসেম্বর একদল যুবক ‘গ্লোবাল টিভি’র তেজগাঁওয়ের দফতরে চড়াও হয়। তাঁরা দাবি করে, তৎক্ষণাৎ ওই চ্যানেলের প্রধান নাজনিন মুন্নিকে বরখাস্ত করতে হবে। নিজেদের ছাত্র আন্দোলনের অংশ হিসাবে দাবি করে ওই যুবকেরা। অভিযোগ, ওই যুবকেরা চ্যানেল কর্তৃপক্ষকে হুমকি দেয়, যদি তাঁরা অবিলম্বে মুন্নিকে বরখাস্ত না করেন, তাহলে ‘প্রথম আলো’ এবং ‘ডেইলি স্টারের’ মতো তাঁদের অফিসেও আগুন জ্বালিয়ে দেওয়া হবে। পরে সাংবাদিক নাজনিন মুন্নিও জানিয়েছেন, তাঁকে ফেসবুকে হুমকি দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ৭-৮ জন লোক তাঁর অফিসে চড়াও হয়ে হুমকি দিয়েছে। সাংবাদিক নাজনিন মুন্নি বলেন, ঘটনাটি ঘটে ২১ ডিসেম্বর সন্ধ্যায়। তাঁর কথায়, ‘২১ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় রিপোর্টারদের সঙ্গে বৈঠকের পর আমি চলে যাই। এরপর এমডি স্যারের কাছে ফোন আসে। কয়েকজন যুবক বলে, তাঁরা এমডি স্যারের সঙ্গে দেখা করতে চায়। তিনি তাদের আসতে বলেন। তারপর তারা ৭-৮ জন আসেন। এমডির রুমে প্রবেশ করেন। নিজেদের বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের মহানগর শাখা কমিটি হিসেবে তারা পরিচয় দেন। আসার কারণ জানতে চাইলে তারা জানান, আমাদের শরিফ ওসমান হাদি ভাইয়ের জন্য মন খারাপ। আপনাদের গ্লোবাল টিভিতে হাদি ভাইয়ের কাভারেজ ভালো হয়নি। এটা আওয়ামী লিগের এমপির চ্যানেল আমরা জানি, কিন্তু আমরা কিছু বলি না। আপনারা নাজনিন মুন্নিকে কেন রাখছেন। উনি তো আওয়ামী লিগের দোসর। তখন এমডি বলেন, উনি আওয়ামী লিগের দোসর কীভাবে হন। আমরা তো উনাকে বুঝেশুনেই নিয়েছি। তখন তারা বলে, উনি আওয়ামী লিগের দোসর।’ এরপর তারা মুন্নিকে আওয়ামী লিগের সমর্থক বলে অভিযোগ করে তার অপসারণ দাবি করে। এমনকী চ্যানেলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আহমেদ হুসেনকে একটি কাগজে সই করতে বলা হয়, যেখানে লেখা ছিল, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে নাজনিন মুন্নিকে সরাতে হবে। কর্তৃপক্ষ সই করতে অস্বীকার করলে হুমকি আরও চড়া হয়। মুন্নি যদিও কোনও রাজনৈতিক যোগসূত্র থাকার কথা দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করেছেন।তবে চ্যানেল কর্তৃপক্ষের পরামর্শে তিনি কয়েকদিন তাঁর অফিস এবং টেলিভিশনের স্ক্রিন থেকে দূরে থাকছেন। কিন্তু তিনি জানিয়েছেন, নিরাবতা কোনও বিকল্প হতে পারে না। এই ঘটনার পর প্রশ্ন উঠেছে, এক সময়ের আন্দোলনকারী প্ল্যাটফর্ম কীভাবে উগ্র ও ভয়ঙ্কর রূপ নিচ্ছে। বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বও স্বীকার করেছে, এই হুমকি তাদের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নয়। সংগঠনের সভাপতি রাশিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয় অনুমতি ছাড়াই নগর ইউনিটের এক সদস্য এই কাজ করেছেন। তবুও বাস্তবতা হল, বাংলাদেশে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ চরমে। নাজনিন মুন্নির ঘটনাকে অনেকেই দেখছেন মতপ্রকাশের স্বাধীনতার উপর সরাসরি আঘাত হিসেবে। নাজনিন মুন্নি নিজে অবশ্য স্পষ্ট জানিয়েছেন, তিনি ভীত নন এবং পেশাগত দায়িত্ব থেকে সরবেন না।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) প্রায় ১৭ বছরের নির্বাসন কাটিয়ে বৃহস্পতিবার দলের নেতা তথা প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার পুত্র তারেক রহমানের দেশে ফেরাকে ঘিরে শক্তি প্রদর্শন করছে। বাংলাদেশে ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত হতে চলা নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসেবে তারেক রহমানের আবির্ভাবের প্রেক্ষিতেই এই কর্মসূচিকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। আর তারেকের প্রত্যাবর্তন ঘিরে যে উন্মাদনা তৈরি হয়েছে, তার প্রেক্ষিতে প্রাক্তন ভারতীয় রাষ্ট্রদূত বিদ্যা ভূষণ সোনি বলেছেন, ‘বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি বিপজ্জনক খেলা চলছে।’ ৬০ বছর বয়সি তারেক রহমান অসুস্থ প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার পুত্র এবং বিএনপির কার্যনির্বাহী চেয়ারম্যান। তারেক রহমানের এই আগমনে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত সংসদীয় নির্বাচনে বিএনপি বড়সড় সাফল্য পেতে পারে বলেই রাজনৈতিক মহলের একাংশের ধারণা। এই আবহে বার্তা সংস্থা এএনআই-কে প্রাক্তন ভারতীয় রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি বিপজ্জনক খেলা চলছে…সমস্ত দলকে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া উচিত ছিল। কিন্তু আওয়ামী লিগকে বাদ দেওয়া হয়েছে। তাহলে এটি কীভাবে প্রকৃত প্রতিনিধিদের নির্বাচন হতে পারে?’ তিনি আরও বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ থেকে দূরে থাকা রাজনৈতিক নেতারা, যারা জনগণের স্পন্দন জানেন না, তাঁরা জনতাকে কতটা অনুপ্রাণিত করতে সক্ষম হবেন… সমস্ত রাজনৈতিক আশা একজন ব্যক্তির উপর চাপিয়ে দেওয়া বিশাল ঝুঁকির… দেশে প্রকৃত গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার জন্য এই মুহূর্তে বাংলাদেশের ঐশ্বরিক সাহায্য, সদিচ্ছা এবং মুক্তমনা মনোভাব প্রয়োজন…। ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক নিয়ে প্রাক্তন রাষ্ট্রদূত উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, বাংলাদেশে প্রতিটি বিষয়ে ভারত-বিরোধী বক্তব্যের প্রবণতা দীর্ঘমেয়াদে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের জন্য ক্ষতিকর প্রমাণিত হতে পারে। ভারতের প্রাক্তন কূটনীতিক কে পি ফাবিয়ান বলেন, তারেক রহমানের বাবা ও বাংলাদেশের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে হত্যা করা হয়েছে। অন্যদিকে তাঁর মা ও প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া গুরুতর অসুস্থ, তাঁর স্বাস্থ্যের অবস্থা ভালো নয়। তাই বিএনপি যদি সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে অথবা নির্বাচনে বৃহত্তম দল হিসেবে আবির্ভূত হয়, তাহলে তারেক রহমানের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ ও ভারত উভয়েরই একে অপরের সঙ্গে প্রতিবেশীসুলভ আচরণ করা প্রয়োজন, কারণ শক্তিশালী দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উভয় দেশের স্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ। উল্লেখ্য, একদিনে তারেকের আগমন অপরদিকে অগ্নিগর্ভ অবস্থা বাংলাদেশের। শেখ হাসিনাকে হটিয়ে গদিতে রয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকার মহম্মদ ইউনুস। বুধবারই ফের নতুন করে উত্তপ্ত হয়েছে বাংলাদেশ। ককটেল বোমা বিস্ফোরণে মৃত্যু হয়েছে এক যুবকের। ময়মনসিংহে দীপু দাসকে পিটিয়ে হত্যা করে আগুনে জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে। তারপর থেকেই ক্ষোভের আগুনে জ্বলছে বাংলাদেশ।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) প্রায় ১৭ বছরের নির্বাসন কাটিয়ে বৃহস্পতিবার দলের নেতা তথা প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার পুত্র তারেক রহমানের দেশে ফেরাকে ঘিরে শক্তি প্রদর্শন করছে। বাংলাদেশে ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত হতে চলা নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসেবে তারেক রহমানের আবির্ভাবের প্রেক্ষিতেই এই কর্মসূচিকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। আর তারেকের প্রত্যাবর্তন ঘিরে যে উন্মাদনা তৈরি হয়েছে, তার প্রেক্ষিতে প্রাক্তন ভারতীয় রাষ্ট্রদূত বিদ্যা ভূষণ সোনি বলেছেন, ‘বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি বিপজ্জনক খেলা চলছে।’ ৬০ বছর বয়সি তারেক রহমান অসুস্থ প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার পুত্র এবং বিএনপির কার্যনির্বাহী চেয়ারম্যান। তারেক রহমানের এই আগমনে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত সংসদীয় নির্বাচনে বিএনপি বড়সড় সাফল্য পেতে পারে বলেই রাজনৈতিক মহলের একাংশের ধারণা। এই আবহে বার্তা সংস্থা এএনআই-কে প্রাক্তন ভারতীয় রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি বিপজ্জনক খেলা চলছে…সমস্ত দলকে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া উচিত ছিল। কিন্তু আওয়ামী লিগকে বাদ দেওয়া হয়েছে। তাহলে এটি কীভাবে প্রকৃত প্রতিনিধিদের নির্বাচন হতে পারে?’ তিনি আরও বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ থেকে দূরে থাকা রাজনৈতিক নেতারা, যারা জনগণের স্পন্দন জানেন না, তাঁরা জনতাকে কতটা অনুপ্রাণিত করতে সক্ষম হবেন… সমস্ত রাজনৈতিক আশা একজন ব্যক্তির উপর চাপিয়ে দেওয়া বিশাল ঝুঁকির… দেশে প্রকৃত গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার জন্য এই মুহূর্তে বাংলাদেশের ঐশ্বরিক সাহায্য, সদিচ্ছা এবং মুক্তমনা মনোভাব প্রয়োজন…। ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক নিয়ে প্রাক্তন রাষ্ট্রদূত উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, বাংলাদেশে প্রতিটি বিষয়ে ভারত-বিরোধী বক্তব্যের প্রবণতা দীর্ঘমেয়াদে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের জন্য ক্ষতিকর প্রমাণিত হতে পারে।

অন্যদিকে ভারতের প্রাক্তন কূটনীতিক কে পি ফাবিয়ান বলেন, তারেক রহমানের বাবা ও বাংলাদেশের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে হত্যা করা হয়েছে। অন্যদিকে তাঁর মা ও প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া গুরুতর অসুস্থ, তাঁর স্বাস্থ্যের অবস্থা ভালো নয়। তাই বিএনপি যদি সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে অথবা নির্বাচনে বৃহত্তম দল হিসেবে আবির্ভূত হয়, তাহলে তারেক রহমানের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ ও ভারত উভয়েরই একে অপরের সঙ্গে প্রতিবেশীসুলভ আচরণ করা প্রয়োজন, কারণ শক্তিশালী দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উভয় দেশের স্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ। উল্লেখ্য, একদিনে তারেকের আগমন অপরদিকে অগ্নিগর্ভ অবস্থা বাংলাদেশের। শেখ হাসিনাকে হটিয়ে গদিতে রয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকার মহম্মদ ইউনুস। বুধবারই ফের নতুন করে উত্তপ্ত হয়েছে বাংলাদেশ। ককটেল বোমা বিস্ফোরণে মৃত্যু হয়েছে এক যুবকের। ময়মনসিংহে দীপু দাসকে পিটিয়ে হত্যা করে আগুনে জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে। তারপর থেকেই ক্ষোভের আগুনে জ্বলছে বাংলাদেশ। ওসমান হাদির দলের হুঁশিয়ারির পরে প্রথমে খোদা বকশ চৌধুরীর পদত্যাগ, তারপর ১৭ বছর পরে বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তন ‘লিডার’ তারেক রহমানের – কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে জোড়া ধাক্কা খেলেন মহম্মদ ইউনুস। ওসমান হাদির দলের হুঁশিয়ারির পরে প্রথমে খোদা বকশ চৌধুরীর পদত্যাগ, তারপর ১৭ বছর পরে বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তন ‘লিডার’ তারেক রহমানের – কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে জোড়া ধাক্কা খেলেন মহম্মদ ইউনুস। বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় অনুযায়ী সকাল ৯ টা ৫৬ মিনিটে সিলেটের ওসমানি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেছে বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ছেলে তথা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের বিমান। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে সকাল ১১ টা ৫০ মিনিট নাগাদ সেই বিমান নামবে ঢাকায়। আর ঢাকায় তাঁকে স্বাগত জানানোর জন্য উচ্ছ্বাসে ফুটছেন বিএনপি নেতা-কর্মী-সমর্থকরা।

‘তারেক রহমান আসছে, বাংলাদেশ হাসছে’, উঠল স্লোগান। বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ইউনুসের মুখে কতটা হাসি আছে, তা নিয়ে ধন্দ রয়েছে। বিশেষজ্ঞ মহলের একাংশের মতে, বাংলাদেশের সাধারণ নির্বাচন বানচাল করতে চান ইউনুসরা। সেক্ষেত্রে তাঁরা আরও বেশিদিন ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রাখতে পারবেন। কিন্তু তারেকরা সেখানে নির্বাচনের পক্ষে সওয়াল করছেন। সেই আবহে তারেকের পক্ষে সমর্থন দেখে ইউনুসের মুখে হাসি উধাও হয়ে যাবে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক মহলের একাংশ। তারেকের প্রত্যাবর্তনের আগে বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক) বকশের ইস্তফাপত্র গৃহীত হয়ে গিয়েছে। তাঁর ইস্তফার দাবিতে হুঁশিয়ারি দিয়েছিল হাদির দল ইনকিলাব মঞ্চ। হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছিল যে হাদির মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত কতদূর এগিয়েছে, তা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জনসমক্ষে না জানালে ইস্তফা দিতে হবে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক) বকশকে। সেই আবহেই বুধবার রাষ্ট্রপতি মহম্মদ সাহাবুদ্দিনের কাছে ইস্তফাপত্র পাঠিয়ে দেন। যা গ্রহণ করে নেন রাষ্ট্রপতি। তারপর বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের তরফে বিবৃতি জারি করে জানিয়ে দেওয়া হয় যে বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারীর (স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক) পদ ছেড়ে দিয়েছেন বকশ। তবে কেন এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তা জানানো হয়নি।

বাংলাদেশে যে হিংসা চলছে, তার মধ্যে সেখানকার হিন্দুদের জন্য পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। সেই আবহে ভারতের বিভিন্ন সংগঠনও বাংলাদেশের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছে। আর সেই বিক্ষোভ হিংসাত্মক হয়ে ওঠার আশঙ্কার বিষয়ে জানতে চাওয়া হয় কংগ্রেস সাংসদ শশী থারুরকে। বাংলাদেশে যে হিংসা চলছে, তার মধ্যে সেখানকার হিন্দুদের জন্য পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। সেই আবহে ভারতের বিভিন্ন সংগঠনও বাংলাদেশের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছে। আর সেই বিক্ষোভ হিংসাত্মক হয়ে ওঠার আশঙ্কার বিষয়ে জানতে চাওয়া হয় কংগ্রেস সাংসদ শশী থারুরকে। তিনি বলেন, ‘আমাদের গণতন্ত্রে যে কারও প্রতিবাদ করার অধিকার আছে। এখনও পর্যন্ত এটা মনে হয়নি যে এসব বিক্ষোভ-কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। স্পষ্টবার্তা থারুরের। থারুর বলেন, ‘সীমান্তের ওপারে অস্থির এবং উত্তেজনাপূর্ণ পরিবেশের পরিপ্রেক্ষিতে ভারতেও কয়েকটি গোষ্ঠী প্রতিবাদ শুরু করেছে। তাতে অবাক হওয়ার কিছু নেই। আমাদের গণতন্ত্রে প্রত্যেকেরই এটা করার অধিকার রয়েছে। আমি মনে করি না যে কেউ এখনও অনুভব করেছে যে এই বিক্ষোভ কর্মসূচিগুলি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। এখনও পর্যন্ত কোনও হিংসাত্মক ঘটনা ঘটেনি। কোনও গণপিটুনির ঘটনা ঘটেনি। যদি কোনও ধরণের হিংসার চেষ্টা করা হয়, তবে আমাদের পুলিশ দৃঢ়তার সঙ্গে তার মোকাবিলা করতে সক্ষম।’ সেই রেশ ধরে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান মহম্মদ ইউনুসকে পরামর্শ দিয়ে থারুর বলেন, ‘বাংলাদেশেও একই কাজ হোক। সেখানকার সরকারকে হিংসা বন্ধ করতে হবে। শুধু দুঃখপ্রকাশ বা নিন্দা করাই যথেষ্ট নয়। সরকার হিসেবে রাস্তায় হিংসা নিয়ন্ত্রণ করা তাদের দায়িত্ব। তাদের এই হিংসা বন্ধ করতে হবে এবং পরিস্থিতি আবার শান্ত হওয়া নিশ্চিত করতে হবে, যাতে মানুষ নিরাপদ বোধ করতে পারেন।’ বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দুদের উপরে হয়ে চলা অত্যাচার এবং হিংসার কথা উল্লেখ করে আসন্ন নির্বাচন নিয়েও প্রশ্ন তোলেন কংগ্রেস সাংসদ। থারুর বলেন, ‘এমন পরিস্থিতিতে কীভাবে নির্বাচন করা যেতে পারে, যখন পরিবেশ আইনহীন, চারিদিকে আতঙ্ক বিরাজ করছে, যখন ভোটার নিরাপদ বোধ করছেন না? আমরা বাংলাদেশ সরকারকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার আহ্বান জানাচ্ছি। পুলিশ যদি তা করতে না পারে, তাহলে সেনাবাহিনী মোতায়েন করুন, কিন্তু এই বাজে কথা বন্ধ করুন। কট্টর ভারত-বিরোধী হাদির মৃত্যুর পরে নতুন করে হিংসা ছড়িয়ে পড়ে বাংলাদেশে। আগুনে পুড়িয়ে খুন করা হয় হিন্দু যুবককে। তাণ্ডব চালানো হয় বিভিন্ন প্রান্তে। বাংলাদেশের প্রথমসারির সংবাদমাধ্যম প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারের অফিসে ভাঙচুর চালানো হয়। জ্বালিয়ে দেওয়া হয় আগুন। ধানমন্ডিতে ছায়ানট ভবন, উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর কার্যালয়ের মতো বাংলাদেশের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। পরিকল্পিতভাবেই বাংলাদেশে হিংসা চালানো হয়েছে। এমনই বিস্ফোরক দাবি করলেন গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির সদস্য তথা অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ। ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ওসমান হাদির মৃত্যুর পরে বাংলাদেশে যেভাবে তাণ্ডব চালানো হয়েছে, তার প্রতিবাদে ঢাকায় গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটি এবং বাম সংগঠনের যৌথ সমাবেশে আনু দাবি করেন, যেভাবে পুলিশ বা সেনাবাহিনী চোখে ঠুলি পরেছিল এবং হিংসা চলতে দিয়েছিল, তাতে মনে হয়েছে যে দাঙ্গাবাজদের মাথার উপরে মহম্মদ ইউনুসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের হাত ছিল। যেভাবে হিংসা বা তাণ্ডব চালানো হয়েছে, সেইসঙ্গে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধানকে সরাসরি আক্রমণ করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, যেভাবে বাংলাদেশে সন্ত্রাস এবং নৃশংসতা চলে আসছে, সেটাই ইউনুসের সভ্যতার নমুনা কি? গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির সদস্য আনু যে মন্তব্য করেছেন, তা ইউনুসের কথার রেশ ধরেই। মাসদুয়েক আগে যখন বাংলাদেশে জুলাই সনদ স্বাক্ষরের অনুষ্ঠান হয়েছিল, তখন ইউনুস দাবি করেছিলেন যে বাংলাদেশিরা একটি বর্বর দুনিয়ায় ছিলেন না। যে জগতে আইন-কানুনের কোনও বালাই ছিল না। যে মানুষের যা ইচ্ছা হত, তিনি সেটাই করতেন। কিন্তু এখন বাংলাদেশ সভ্যতার আলোয় আলোকিত হচ্ছে বলে দাবি করেন ইউনুস। তাঁর সেই মন্তব্যের পালটা দিলেন আনু। কট্টর ভারত-বিরোধী হাদির মৃত্যুর পরে নতুন করে হিংসা ছড়িয়ে পড়ে বাংলাদেশে। আগুনে পুড়িয়ে খুন করা হয় হিন্দু যুবককে। তাণ্ডব চালানো হয় বিভিন্ন প্রান্তে। বাংলাদেশের প্রথমসারির সংবাদমাধ্যম প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারের অফিসে ভাঙচুর চালানো হয়। জ্বালিয়ে দেওয়া হয় আগুন। ধানমন্ডিতে ছায়ানট ভবন, উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর কার্যালয়ের মতো বাংলাদেশের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। সেইসবের মধ্যেই ভারত বিরোধিতার সুরে চড়াতে থাকেন বাংলাদেশের কট্টরপন্থীরা। প্রাথমিকভাবে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কিছুটা সুর চড়ানোর চেষ্টা করলেও ধীরে-ধীরে বাস্তবের জমিতে ফিরে এসেছে। বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক খুব একটা খারাপের দিকে যাবে না। চেষ্টা চলছে।’ এরপর গোপন আলোচনার আভাস দিয়ে তিনি বলেন, ‘কয়েক দিন পর জানতে পারবেন। ভারতের ব্যাপারে আমাদের প্রধান উপদেষ্টা জানেন। এখন বিস্তারিত বলা যাবে না।’





