তৈরি করুন রূপকথার জগৎ। ঘর সাজাবেন কী ভাবে? বড়দিনে সুন্দর করে সাজান শিশুর ঘর। এর জন্য এলাহি আয়োজনের প্রয়োজন নেই। ঘরে থাকা জিনিসই যথেষ্ট। শুধু তার সঠিক প্রয়োগ করতে হবে। আর বেছে নিতে হবে শিশুর পছন্দের নানা রকম রং। ছোটদের ঘর মানেই তাতে নানা রকম রঙের ছোঁয়া থাকতেই হবে। বড়দিনে শিশুর ঘরের সাজও হবে সেই রং ছুঁয়েই। এমন ভাবে ঘরের সাজসজ্জা হবে যে দেখলে মনে হবে একটুকরো রূপকথার জগৎ তৈরি হয়েছে আপনার খুদে সদস্যটির ঘরে। থিম ও রঙের পরিকল্পনায় সৃজনশীলতা ও রুচির ছোঁয়া থাকতে হবে। শুরুতেই থিম ভেবে নিন। ‘ক্লাসিক ক্রিসমাস’ থিম ভাবলে লাল ও সাদা রঙের প্রাধান্য থাকতে হবে। যদি ‘উইন্টার ওয়ান্ডারল্যান্ড’ ভাবেন, তা হলে নীল ও রুপোলি রঙের ব্যবহার করতে হবে। মনে হবে এক টুকরো বরফের দেশ। আর যদি ‘ক্যান্ডি ল্যান্ড’ জাতীয় কিছু ভেবে থাকেন, তা হলে নানা রঙের রামধনুতে ভরিয়ে তুলতে হবে ঘর। শিশুর সাজাতে ক্রিসমাস ট্রি অবশ্যই প্রয়োজন। আপনার পছন্দমতো ক্রিসমাস ট্রি বাড়িতে আনুন। সেটিকে শিশুর পছন্দের খেলনা দিয়েই সাজান। ছোট ছোট টেডি বিয়ার, প্লাস্টিকের বল বা রঙিন ফিতে ঝুলিয়ে দিন। ভারী কাচের বা ধারালো জিনিস ব্যবহার করবেন না। গাছের মাথায় মাথায় উজ্জ্বল একটি সোনালি তারা বা বড় একটি লাল বো বসিয়ে দিন। একটু মোটা ধরনের গ্লিটারি কাগজ রোল করে নিন। অনেকগুলি রোল আঠা দিয়ে জুড়ে ছোট ক্রিসমাস ট্রি বানিয়ে নিন। প্রতিটি গোলের মধ্যে সাদা পুঁতি আঠা দিয়ে বসিয়ে নিন। উপরে একটু চকচকে তারা জুড়ে সুতো দিয়ে ঝুলিয়ে দিন। শিশুর খাটের চারপাশে এই ছোট ছোট ক্রিসমাস ট্রি ঝুলিয়ে দিতে পারেন। জানলার কার্নিশ বা দেওয়ালে হালকা হলুদ রঙের ফেয়ারি লাইট ঝুলিয়ে দিন। নক্ষত্র বা স্নো-ফ্লেকের ছবি পড়ে এমন প্রজেক্টর ল্যাম্প জ্বালিয়ে দিন শিশুর খাটের পাশের টেবিলে। আগুনের ঝুঁকি এড়াতে আসল মোমবাতির বদলে, এলইডি মোমবাতি দিয়ে শিশুর ঘর সাজাতে পারেন। লাল বা সবুজ রঙের চাদর এবং সান্তার টুপির মতো দেখতে বালিশের কভার ব্যবহার করুন। ঘরের এক কোনায় নরম গালিচা পেতে কিছু রঙিন কুশন রেখে দিন। সেখানে নানা রকম ছোটদের গল্পের বই দিয়ে সাজান। ওই জায়গায় বসে আপনি শিশুকে গল্প পড়ে শোনাতে পারেন। সরু সুতোয় অনেকগুলো তুলোর বল গেঁথে জানলায় ঝুলিয়ে দিন, মনে হবে বাইরে বরফ পড়ছে। দেওয়ালে ছোট ছোট রঙিন কাগজের ব্যাগ বা রঙিন মোজা আটকে দিন। প্রতিটিতে একটি করে চকোলেট বা ছোটখাটো উপকার রাখুন। সঙ্গে আপনার লেখা একটি করে নোট। এটি শিশুর মন ভাল করে দেবে। লাল ও সাদা বেলুন দিয়ে ঘরের কোনা সাজান। নিরাপত্তার বিষয়টিও মাথায় রাখতে হবে। বিদ্যুতের কোনও তার যেন শিশুর নাগালে না থাকে, তা দেখতে হবে। কাচের জিনিস বা খুব ছোট পুঁতি বা মার্বেলের গুলি ঘর সাজানোয় ব্যবহার করবেন না। এই ধরনের জিনিস শিশুর নাকে-মুখে ঢুকে যেতে পারে। ঘর সাজানোর উপকরণে যেন প্লাস্টিক না থাকে, সেটিও খেয়াল রাখতে হবে। প্লাস্টিকের বদলে রঙিন কাপড়ের ব্যাগই ব্যবহার করুন। ঘরে রঙিন কাগজ কেটে তাই দিয়ে ছোট ছোট উপহারের বাক্স তৈরি করুন। দেখতেও ভাল লাগবে, শিশুর পছন্দও হবে।
ঘর সাজানোর চল সম্প্রতি বেড়েছে। বিদেশের মতো পাইন, ফার কিংবা এ দেশের দেবদারু, ইউক্যালিপটাস, ঝাউ গাছের ডাল না হলেও অনেকেই ইদানীং বড়দিনে কৃত্রিম ক্রিসমাস ট্রি কিনে আনেন বাড়িতে। সাজান নানা রকমের ‘ক্রিসমাস ডেকরেশন’ দিয়ে। তবে বড়়দিনের সাজসজ্জার জন্য যে ক্রিসমাস ট্রি কিনতেই হবে, তার কোনও মানে নেই! যেমন অন্য রকম তেমনই কেতাদুরস্ত অথচ ছিমছাম এই ক্রিসমাস ট্রি। একটি শুকনো গাছের ডালকে কাচের জারে রেখে দেওয়া হয়েছে। ডালে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে সোনালি রঙের ছোট বড় বাবল বল। নীচে কয়েকটি শুকনো পাইন ফল, দু’টি মোমবাতি আর ঝাউপাতার মতো দেখতে কৃত্রিম পাতা। অফিসের ডেস্ক বলুন বা বাড়িতে বসার ঘরের কোনও টেবিল টপ, এমন সাজানো থাকলে গৃহকর্তার রুচির পরিচয়ই বহন করবে। তর্ক-বিতর্ক-আলোচনা-লেখালেখি আর বন্ধুদের সঙ্গে দেখা হলে কফি কিংবা হালকা মদ্যপান। বড়দিনেই বা তা বাদ থাকে কেন। ছবির ক্রিসমাস ট্রি তৈরি করা হয়েছে নানা ধরনের বই উপর উপর সাজিয়ে। মাথায় তারার বদলে বসানো হয়েছে স্কচ হুইস্কির বোতল। উৎসবের আমেজ এসেছে জড়িয়ে দেওয়া রঙিন মিনিয়েচার আলোয়। এমন ক্রিসমাস ট্রি দেখলে বুদ্ধিদীপ্ত ভাবনার প্রশংসা করতেই হয়। ঘরাঞ্চিতে মস ফ্রিল আর আলো দিয়ে সাজানো হয়েছে। আর সিঁড়ির ধাপে ধাপে সাজিয়ে দেওয়া হয়েছে নানা রকমের বড়দিনের সাজ। তাতে যেমন সান্টা ক্লজ়, স্নো ম্যান, পুতুল থাকতে পারে, তেমনই থাকতে পারে পছন্দসই এবং বড়দিনের ভাবনার সঙ্গে মিল থাকা যে কোনও জিনিস। যাঁরা বাঁধা গতে চলতে ভালবাসেন না, তাঁদের জন্য এমন বড়দিনের সাজ আদর্শ। পিচবোর্ড দিয়ে তৈরি করা হয়েছে একটি লম্বাটে ত্রিভুজ। ভিতরে সুতোয় গেঁথে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে নানা ধরনের ক্রিসমাস বাবল বা বল। এই ক্রিসমাস ট্রি-এও রয়েছে একটু অন্য ধরনের কেতা। ক্রিসমাস ট্রি। এ গাছের গোড়ায় আরাম করে বসতেও ইচ্ছে হতে পারে। কারণ এই ‘গাছ’ তৈরি করা হবে ছোট-বড় নানান মাপের বালিশ দিয়ে। তবে এমন ক্রিসমাস ট্রি বানানোর প্রস্তুতি নিতে হবে হাতে ক’দিন সময় রেখে। পকেট বাঁচানো ক্রিসমাস ট্রি। অথচ যেখানেই থাকবে সেই জায়গাটা ভরিয়ে রাখবে। স্রেফ সাদা কাগজ চোঙের মতো করে মুড়ে। গায়ে জডিয়ে দেওয়া যেতে পারে সোনালি, লাল বা সবুজ রঙের শিকলি। সঙ্গে জড়িয়ে দেওয়া যেতে পারে মিনিয়েচারও। ক্রিসমাস ট্রিও পকেট বাঁচানো। অথচ কেতাদুরস্ত। খবরের কাগজকে সোনালি রঙে রং করে নিয়ে তা চোঙার মতো করে মুড়িয়ে তৈরি করা হয়েছে গাছটি। পাশে ছোট ছোট গাছও তৈরি করা হয়েছে কাগজ দিয়েই। চৌকো করে কাটা টুকরো টুকরো পাতা ডুবিয়ে নেওয়া হয়েছে নানা ধরনের সবুজ রঙে।
ছোট-বড় গাছ পাশাপাশি রেখে নীচে সাজিয়ে দেওয়া উপহার। বসার ঘরে কিংবা শোওয়ার ঘরে সাইড টেবিলে এমন গাছ সাজিয়ে রাখা যেতে পারে। যিশুর জন্মদিন উপলক্ষে। কেকের দোকানে উপচে পড়া ভিড় হয়। চারিদিক সেজে ওঠে আলোর রোশনাইয়ে। সান্তাক্লজ়, ক্রিসমাস ট্রি-র পাশাপাশি বড়দিন মানে উপহার দেওয়ার হিড়িক। সেই দিন লাল জামা, লাল টুপি, এক গোছা সাদা দাড়ি নিয়ে সান্তা ক্লজ় বাড়ি বাড়ি আসে শিশুদের জন্য ঝোলা ভর্তি উপহার নিয়ে। এমন গল্প শুনেই অভ্যস্ত ছোটরা। খুদের মন জয় করতে বড়দিনে সান্তা সেজে উপহার বিলোতে চাইছেন? খুদের উপহারের তালিকায় থাকতে পারে বই। পশুপাখি চেনানো, গল্পের বই, আঁকার বই বয়স অনুযায়ী বেছে নিতে পারেন যে কোনও বই। মডেলিং ক্লে-সহ খুদের হাতের কাজের জিনিসের নানা ধরনের সেট পাওয়া যায়। উপহার হিসাবে এগুলিও বেছে নিতে পারেন। ব্লক দিয়ে বাড়ি, গাড়ি তৈরি করা, মাটি দিয়ে বিভিন্ন আকার তৈরি করার জিনিস পাওয়া যায়। খুদের আঁকার শখ থাকলে এমন উপহার তার মন জয় করবে। মন অনেক খেলনা আছে যা শুধুই খেলার কাজে নয়, শিশুর বুদ্ধির বিকাশেও সহায়তা করে। পাজ়ল, সায়েন্স কিট, গ্লোবের মতো উপহার পেলে খুদেরা খুশিও হবে আর অনেক কিছু শিখতেও পারবে। এলসিডি ট্যাবলেট অনেকটা ট্যাবলেটের মতোই দেখতে। এর সঙ্গে দেওয়া পেনসিলের সাহায্যে লেখা যায়, আঁকবুকি কাটা যায়। আবার নিমেষে তা মুছেও দেওয়া যায়। শিশুদের জন্য এই ধরনের ট্যাবলেট খুবই উপভোগ্য। চকোলেট উপহারটি দেখে খুদেরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হবে। তবে খুব বেশি চকোলেট খাওয়া ওদের জন্য মোটেও ভাল না। তাই ওদের খুশি করতে বাড়িতেই বানিয়ে ফেলুন স্বাস্থ্যকর চকোলেট। রঙিন মোড়কে মুড়িয়ে সেই চকোলেট উপহার দিতে পারেন খুদেকে।





