নতুন দলের নামে কংগ্রেস কিংবা তৃণমূল— কোনও শব্দ রাখতে চান না হুমায়ুন। পূর্বঘোষণা মতোই সোমবার নিজের নতুন দলের নাম ঘোষণা করলেন সাসপেন্ড হওয়া তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। নতুন দলের নাম হতে চলেছে জনতা উন্নয়ন পার্টি। সোমবার দুপুরে মুর্শিদাবাদের বেলডাঙার খাগরুপাড়া মোড়ে নিজের নতুন দলের নাম ঘোষণা করেন হুমায়ুন। প্রকাশ করেন দলের ইস্তাহারও। হুমায়ুন জানান, বিধানসভা নির্বাচনে রেজিনগর এবং বেলডাঙা। এই দুই কেন্দ্র থেকে লড়াই করবেন। ভরতপুরের এই বিধায়ক জানান নতুন দলের নামে কংগ্রেস কিংবা তৃণমূল কোনও শব্দ রাখতে চান না। কারণ ব্যাখ্যা করেন হুমায়ুন বলেন, “মুর্শিদাবাদের মানুষ কংগ্রেসকে সম্পূর্ণ বর্জন করেছে। তৃণমূলকে ছুড়ে ফেলার অপেক্ষায় রয়েছে।” একই সঙ্গে তিনি বলেছিলেন, “ দলের নামের সঙ্গে সাধারণ মানুষ সহজেই একাত্ম হতে পারবেন। বাংলার আমজনতার পার্টি হবে আমার দল। আমজনতার উন্নয়নের কথা ভাববে।’’ দলের সম্ভাব্য প্রতীক কী হতে পারে, তারও ইঙ্গিত দিয়ে রেখেছেন হুমায়ুন। ২০১৬ সালে নির্দল হিসাবে টেবিল প্রতীক নিয়ে লড়েছিলেন। সে কথা উল্লেখ করে হুমায়ুন জানিয়েছেন, নতুন দলের প্রতীক হিসাবে টেবিলই তাঁর প্রথম পছন্দ। নির্বাচন কমিশন ওই প্রতীক অনুমোদন না-করলে বিকল্প হিসাবে জোড়া গোলাপের কথা ভেবে রেখেছেন হুমায়ুন। সেটাও না-হলে অন্য বিকল্পের কথা ভাববেন। দলের পতাকায় থাকবে তিন রং— হলুদ, সবুজ এবং সাদা। বেলডাঙায় প্রায় ৫ ফুট উঁচু লোহা, অ্যালুমিনিয়ামের স্ট্যান্ডের উপর তৈরি হুমায়ুনদের মঞ্চ থেকেই আনুষ্ঠানিক ভাবে নিজের নতুন দলের নাম ঘোষণা। গোটা চত্বর হুমায়ুনের নাম এবং ছবি সংবলিত পোস্টার, ব্যানারে ভর্তি।

রাজ্য রাজনীতিতে আরও এক নতুন দলের প্রবেশ। ২০২৬-এ পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের আগেই নতুন দল ঘোষণা করছেন তৃণমূল থেকে সাসপেন্ড হওয়া বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। বঙ্গ রাজনীতিতে বদলাচ্ছে সমীকরণ। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে তৈরি হয়েছিল নওশাদ সিদ্দিকির ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট বা আইএসএফ। জিতে বিধায়কও হন নওশাদ। এবার ২০২৬-র নির্বাচনের আগে হুমায়ুন কবীরের দল। আজ, সোমবার দুপুর একটায় মির্জাপুরে মোড়ে জনসভা থেকে নতুন দলের ঘোষণা করবেন হুমায়ুন। জনতা উন্নয়ন পার্টি নাম হতে পারে তাঁর দলের। পাঁচজন প্রার্থীর নামও ঘোষণা করবেন, সূত্রের খবর। তৃণমূল ও বিজেপি বিরোধী সকলের জন্য এই নতুন দলের দ্বার খোলা, জানিয়েছেন বিধায়ক। হুমায়ূনের দাবি, লাখ লাখ মানুষের জমায়েত হবে তাঁর দল ঘোষণার অনুষ্ঠানে। মূল মঞ্চে ৯০ জন থাকবেন, থাকবেন ভিআইপি-রাও। তিনি রাজ্য জুড়ে কমিটি তৈরির কথা বলেছেন। জানিয়েছেন যে বিধানসভা নির্বাচনে অন্তত ৯০টি আসনে জিতবে তাঁর দল। সরকার গঠনে নির্ণায়ক শক্তি হবেন তিনিই। এবার হুমায়ুনের সেই স্বপ্ন পূরণ হয় কি না, তা ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পরই জানা যাবে। তবে তৃণমূল কংগ্রেস আপাতত হুমায়ুন কবীরের এই নতুন দলকে গুরুত্ব দিতে নারাজ।

প্রথমে বাবরি মসজিদ তৈরির ঘোষণা, পরে নতুন দল তৈরির ঘোষণা। বছরভর একের পর এক চমক দিয়েছেন হুমায়ুন কবীর। আজ, সোমবার সেই নতুন দল ঘোষণার মঞ্চেও চমক দিলেন ভরতপুরের বিধায়ক। এদিন মঞ্চ থেকে ‘জনতা উন্নয়ন পার্টি’ নামে নতুন দল ঘোষণা করেছেন হুমায়ুন। মঞ্চে উড়ছে সেই দলের নাম লেখা পতাকা। সভায় ভিড় চোখে পড়ার মতো। সেই সঙ্গে হুমায়ুনের মঞ্চে দেখা যাচ্ছে তৃণমূলের বিক্ষুব্ধ নেতা-নেত্রীদের। মায়ুন আগেই জানিয়েছিলেন যে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে একাধিক আসনে প্রার্থী দেবেন তিনি। সেই মতো একে একে নাম ঘোষণা করলেন। হুমায়ুনের নতুন দল ঘোষণা। হুমায়ুন যে একসময় অধীরের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ছিলেন, তা রাজনৈতিক মহলের অজানা নয়। অধীরের হাত ধরেই যে হুমায়ুনের উত্থান, তেমনটাই বলেন অনেকে। এদিন নিজের দল ‘জনতা উন্নয়ন পার্টি’র ঘোষণা করার পর বক্তব্য রাখতে গিয়ে হুমায়ুন জানান, একসময় প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী সিদ্ধার্থশঙ্কর রায়ও তাঁর বাড়িতে গিয়েছিলেন। তাঁর স্ত্রী মায়া রায়ও গিয়েছিলেন। হুমায়ুনের বাড়িতে যেতেন প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়ও। হুমায়ুন বলেন, “অধীরবাবু তো ১০০ বার আমার বাড়িতে এসেছেন। লাঞ্চ করেছেন, ডিনার করেছেন। আমার সঙ্গে অনেক গুরুত্বপূর্ণ কথা নিয়ে আলোচনা করেছেন।” এরপর অধীর তথা কংগ্রেসের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার কারণ বলতে গিয়ে ভরতপুরের বিধায়ক বলেন, “অধীরবাবুর বাড়ির লোকেরা আমাকে জাত তুলে অপমান করেছিল। আমি তখন বলেছিলাম, আমি এ কথা শুনতে রাজি নই। আমি নিঃস্বার্থে মানুষের জন্য রাজনীতি করি। কোনও মিথ্যাচার করি না।”

ভরতপুর ও রেজিনগর- দুই কেন্দ্র থেকে নিজে লড়বেন হুমায়ুন। খড়্গপুর গ্ৰামীণ কেন্দ্রে ‘জনতা উন্নয়ন পার্টি’র প্রার্থী হবেন ইব্রা হাজি। মালদহের বৈষ্ণবনগরের প্রার্থী মুস্তারা বিবি। মুর্শিদাবাদ কেন্দ্রের প্রার্থী মনীষা পাণ্ডে। ভগবানগোলায় লড়বেন আর এক হুমায়ুন কবীর। তিনি পেশায় ব্যবসায়ী। রানিনগর থেকে লড়বেন, তাঁর নামও হুমায়ুন কবীর। দক্ষিণ দিনাজপুরের ধনিরাম বিধানসভার প্রার্থীর নাম ডঃ ওয়েদুল রহমান। বালিগঞ্জের প্রার্থীর নাম নিশা চট্টোপাধ্যায়। ইছাপুরের প্রার্থীর নাম সিরাজুল মন্ডল। শুধু মালদহ-মুর্শিদাবাদে সীমাবদ্ধ থাকছেন না হুমায়ুন। বালিগঞ্জ, ইছাপুরের মতো কেন্দ্রের প্রার্থীর নামও ঘোষণা করা হয়েছে। শীঘ্রই ইস্তেহার প্রকাশ করা হবে বলে জানান। প্রার্থীদের মধ্যে মনীষা পাণ্ডে ছিলেন তৃণমূলের নেত্রী। এছাড়া রানিনগরের প্রার্থী ডাঃ হুমায়ুন কবীর ২০১৬ সালে তৃণমূলের টিকিটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন, কংগ্রেসের কাছে হেরে যান। সিরাজুল মন্ডলের দাবি, তিনি ২১ জুলাইয়ের আন্দোলনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গী ছিলেন। এদিনের মঞ্চে নতুন দলের নাম লেখা পতাকার পাশাপাশি নাম লেখা টি শার্টও দেখা গিয়েছে। বাবরি মসজিদকে ভোটে হাতিয়ার করতে চলেছেন ভরতপুরের বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। বাবরি মসজিদ তৈরি করতে হলে তাঁর দলকে ৯০ আসনে জেতাতে হবে বলে স্পষ্ট করে দিলেন। কেন ৯০টি আসন দরকার, তারও ব্যাখ্যা দিলেন হুমায়ুন। গত ৬ ডিসেম্বর বেলডাঙায় বাবরি মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন হুমায়ুন। বাবরি মসজিদের জন্য দানবাক্স ভরে গিয়েছে। অনেকে অনলাইনে টাকা পাঠাচ্ছেন। আবার কেউ কেউ ইটও পৌঁছে দিয়ে যাচ্ছেন। ভোটবাক্সে এই বাবরি মসজিদের আবেগকেই কাজে লাগাতে চান হুমায়ুন। বাবরি মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের স্থানে গতকাল সকাল থেকেই চোখে পড়ে জুম্মার নমাজের ভিড়।





