RK NEWZ রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে এবার উঠল তোলাবাজি, শ্লীলতাহানি এবং খুনের হুমকির মতো অত্যন্ত গুরুতর অভিযোগ। কেবল পার্থ চট্টোপাধ্যায়ই নন, এই একই মামলায় নাম জড়িয়েছে ঠাকুরপুকুর অঞ্চলের তৃণমূলের প্রাক্তন কাউন্সিলর ঘনশ্রী বাগ এবং তাঁর দুই সহযোগী তিলক ভট্টাচার্য ও সুদীপ ঘোষের। ২০২০ সালের এই ঘটনায় দীর্ঘ ৬ বছর পর ঠাকুরপুকুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন এক মহিলা। রাজ্যে নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পরই তিনি এই পদক্ষেপ করতে পেরেছেন বলে জানিয়েছেন। ঘটনাটি পুরনো হওয়ায় পুলিশ ‘ভারতীয় দণ্ডবিধি’ অনুসারেই মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে। অভিযোগকারিণী মহিলা ঠাকুরপুকুর রোডের বাসিন্দা। তাঁর শ্বশুরমশাই ছিলেন এলাকার এক পরিচিত বিজেপি নেতা। অভিযোগ, ২০২০ সালের ২৩ জানুয়ারি ঠাকুরপুকুরের বাছারপাড়া এলাকায় একটি রাজনৈতিক গোলমালে এক যুবক আহত হন। তৃণমূল কংগ্রেসের দাবি ছিল, ওই যুবক তাদের দলের কর্মী। দাবি করা হয়, এই ঘটনার জেরে ওই বিজেপি নেতার বিরুদ্ধে সুদীপ, ঘনশ্রী ও তিলকরা মিলে একটি সম্পূর্ণ মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করেন। ঘটনাস্থলে উপস্থিত না থাকা সত্ত্বেও পুলিশ ওই বিজেপি নেতাকে গ্রেফতার করে এবং প্রথমে পুলিশ হেফাজত ও পরে জেল হেফাজতে পাঠানো হয়। বিজেপি নেতার ছেলে ও তাঁর পুত্রবধূ (অভিযোগকারিণী) এই অন্যায়ের প্রতিবাদ করলে, তৎকালীন বিধায়ক ও প্রভাবশালী মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় এবং ১২৫ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন কাউন্সিলর ঘনশ্রী বাগ তাঁদের ডেকে পাঠান। অভিযোগ, মুখ বন্ধ রাখার জন্য তাঁদের উপর চাপ সৃষ্টি করা হয়। পার্থ ও ঘনশ্রীদের দাপটে তাঁদের পারিবারিক ব্যবসা টানা ৬ মাস বন্ধ থাকে, যার ফলে পরিবারটির প্রায় ৪০ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়। এখানেই শেষ নয়, ধৃত বিজেপি নেতাকে আইনি সহায়তা দিতেও বাধা দেওয়া হয়। এরপর, বাবাকে জেল থেকে ছাড়িয়ে দেওয়ার মিথ্যা টোপ দিয়ে ওই নেতার ছেলের কাছ থেকে ২৫ লাখ টাকা তোলা আদায় করেন প্রাক্তন কাউন্সিলর ঘনশ্রী বাগ। পরবর্তীকালে ওই পরিবারের কাছ থেকে আরও ১ কোটি টাকা তোলা দাবি করেন ঘনশ্রী ও তাঁর সহযোগী তিলক। টাকা দিতে অস্বীকার করায় তাঁদের লাগাতার খুনের হুমকি দেওয়া হতে থাকে। এরইমধ্যে, ২০২০ সালের জুলাই মাসে জেল হেফাজতেই মৃত্যু হয় ওই প্রবীণ বিজেপি নেতার। মৃত্যুর পরও কাটেনি আতঙ্ক। অভিযোগ, এরপরও পরিবারের সদস্যদের বিভিন্নভাবে হেনস্থা ও হুমকি দেওয়া চালু রাখেন তৃণমূল নেতারা। এমনকী মৃতের ছেলেকে খুনের হুমকিও দেওয়া হয়। নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট ও সিবিআইয়ের হাতে পার্থ চট্টোপাধ্যায় গ্রেফতার হওয়ার পর থেকে দীর্ঘদিন জেলবন্দি ছিলেন। কয়েকমাস হয়েছে জামিনে ছাড়া পেয়েছেন তিনি। তবে এতদিন ভয়ে মুখ না খুললেও, রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর অবশেষে পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছেন ওই পরিবার। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের ভিত্তিতে পার্থ চট্টোপাধ্যায়-সহ বাকিদের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য খুব শীঘ্রই প্রাক্তন কাউন্সিলর ঘনশ্রী বাগ ও তিলক ভট্টাচার্যদের তলব করা হতে পারে।

‘সব চোর তো ঋতব্রতর দলে ঢুকেছে, ওদের ধরুন!’ মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আর্জি ‘কালীঘাটপন্থী’ কল্যাণের। দলের প্রতীক শেষ পর্যন্ত কোন শিবিরের দখলে থাকবে? আর ২১ জুলাইয়ের মহাসমাবেশ আয়োজনের অধিকারই বা পাবে কে? এই নিয়ে দুই তৃণমূলে যখন তীব্র দড়ি টানাটানি চলছে, ঠিক তখন শনিবার হুগলির শ্রীরামপুরে ২১ জুলাইয়ের প্রস্তুতি সভা থেকে একের পর এক মন্তব্য করেন ‘কালীঘাট তৃণমূল’-এর প্রবীণ নেতা তথা সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্য রাজনীতিতে চাঞ্চল্য তৈরি করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ‘চোর ধরা’ নীতিকে প্রকাশ্য সমর্থন জানানোর পাশাপাশি ‘বিক্ষুব্ধ’ তথা ‘ঋতপন্থী’ তৃণমূলীদের অবিলম্বে জেলে পোরার দাবি তুললেন তিনি। একই সঙ্গে দলের একাংশ প্রাক্তন বিধায়ক ও সাংসদদের বিরুদ্ধেও ক্ষোভ উগরে দেন শ্রীরামপুরের সাংসদ। হুগলি-শ্রীরামপুর সাংগঠনিক জেলার সভাপতি তথা চুঁচুড়ার প্রাক্তন বিধায়ক অসিত মজুমদারের আহ্বানে এই কর্মীসভায় দাঁড়িয়ে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় অকপটে স্বীকার করে নেন যে, তৃণমূলের শাসনকালে হুগলির বহু বিধায়ক এবং তাঁদের শাগরেদরা দেদার অর্থ কামিয়েছেন। প্রাক্তন মন্ত্রী স্নেহাশিস চক্রবর্তীকে আক্রমণ করে তিনি বলেন, “স্নেহাশিসের সঙ্গে যারা থাকত তারা প্রচুর মাল কামিয়েছে। এখন বলছে আর তৃণমূল করি না।” এর পরেই মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশে কল্যাণ বলেন, “আপনি বলেছেন তৃণমূলের যারা যারা চুরি করেছে, মাল কামিয়েছে তাদের অ্যারেস্ট করবেন। এতে আমার পূর্ণ সমর্থন আছে। ঋতব্রতর সঙ্গে যারা গিয়েছে তাদের দেখুন। সব চোরগুলো ওখানে গিয়েছে। চোরের সঙ্গে চোর মিলেই তো ওই বিক্ষুব্ধ তৃণমূল তৈরি হয়েছে। এরা প্রত্যেকে প্রচুর মাল কামিয়েছে।” বর্তমানে তৃণমূল যে আড়াআড়ি দু’ভাগে বিভক্ত— সে কথা মনে করিয়ে দিয়ে কল্যাণ জানান, বিধানসভা এবং লোকসভাতেও এখন দু’টি আলাদা ব্লক তৈরি হয়েছে। তাঁর দাবি, “ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘বি ব্লক’ আর দিল্লিতে এনডিএ-র ‘বি ব্লক’— সবটাই আসলে নিজেদের পিঠ বাঁচানোর জন্য হয়েছে।” মুখ্যমন্ত্রীর প্রতি শ্রীরামপুরের সাংসদের আর্জি, “আমাদের টার্গেট করছেন কেন? সব চোর-ডাকাত তো ঋতব্রতর দলে ঢুকে গিয়েছে, আগে ওদের ধরুন।”’ দলের প্রবীণ নেতা সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কেও তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন কল্যাণ। তাঁর দাবি, সুদীপের অসুস্থতার সময়ে দল থেকে প্রচুর আর্থিক সাহায্য করা হয়েছিল। পাশাপাশি চণ্ডীতলার বিধায়ক স্বাতী খন্দকর, চাঁপদানীর প্রাক্তন বিধায়ক অরিন্দম গুঁইন এবং কসবার ত্রাস বলে পরিচিত সোনা পাপ্পুকে নিয়েও নিজের অসন্তোষ ও ক্ষোভ উগরে দেন তিনি। ২১ জুলাইয়ের প্রস্তুতি সভায় দলীয় কর্মীদের উপচে পড়া ভিড় হয়েছিল বলে দাবি করেন জেলা সভাপতি অসিত মজুমদার। সভায় অসীমা পাত্র, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো শীর্ষ নেতৃত্ব উপস্থিত ছিলেন। অসিত জানান, “হলের ভেতরে যত কর্মী ছিলেন, তাঁর দ্বিগুণ মানুষ বাইরে দাঁড়িয়েছিলেন। কর্মীরা এখনও সম্পূর্ণভাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গেই আছেন।” তাঁর দৃঢ় বিশ্বাস, আগামী দিনে সাধারণ মানুষের বিপুল আশীর্বাদ নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আবারও রাজ্যে ক্ষমতায় ফিরবেন এবং লোকসভা নির্বাচনেও মমতার প্রার্থীরাই বিপুল ভোটে জয়লাভ করবেন।





