Monday, June 29, 2026
spot_imgspot_img

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

দীপু দাসের নির্মম হত্যা প্রসঙ্গ!‌ বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিয়ে ভারতের কড়া বিবৃতি

বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিয়ে মুখ খুলল ভারত। কড়া বিবৃতি। উত্তাল বাংলাদেশ। ওসমান হাদির মৃত্যুর পর, নতুন করে উত্তেজনা ছড়ায় পদ্মাপারে। পরিস্থিতি বিচারে সিলেটের ভারতীয় উপদূতাবাস এবং ভিসাকেন্দ্রে বাড়ানো হয়েছে নিরাপত্তা। সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার মিডিয়া সাইফুল ইসলাম জানান, ‘‌কোনও তৃতীয় পক্ষ যাতে পরিস্থিতির সুযোগ নিতে না পারে, তা নিশ্চিত করতেই বাড়ানো হয়েছে নিরাপত্তা।’‌ অন্যদিকে, অনির্দিষ্ট সময়কালের জন্য বন্ধ চট্টগ্রামের ভারতীয় ভিসা কেন্দ্র। বাংলাদেশের ভিতরের পরিস্থিতি ভয়াবহ গত কয়েকদিনে। অগ্নিসংযোগ, খুন, লুঠপাঠ, ভাঙচুর। এই পরিস্থিতিতে পড়শি দেশ নিয়ে প্রথমবার মুখ খুলল ভারত। ২০ ডিসেম্বর নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের সামনে বিক্ষোভের বিষয়ে একাধিক প্রশ্নের জবাবে বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বিবৃতিতে জানান, নয়া দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের সামনে জমায়েত প্রসঙ্গে ওপার বাংলার বেশকিছু সংবাদমাধ্যম ভুয়ো, বিভ্রান্তিকর প্রচার চালিয়েছে। সত্য জানিয়ে ভারতের বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বিবৃতিতে জানান, ‘‌আমরা বাংলাদেশ সংবাদমাধ্যমের কিছু অংশে এই ঘটনা নিয়ে বিভ্রান্তিকর প্রচারণা লক্ষ্য করেছি। বাস্তবতা হলো, ২০ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের সামনে প্রায় ২০-২৫ জন যুবক জড়ো হয়ে ময়মনসিংহে দীপু চন্দ্র দাসের ভয়াবহ হত্যার প্রতিবাদে স্লোগান তুলেছিল এবং বাংলাদেশের সকল সংখ্যালঘুদের সুরক্ষার আহ্বান জানিয়েছিল। কোনও সময় বেড়া ভাঙার বা অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি করার কোনও চেষ্টা করা হয়নি। ঘটনাস্থলে মোতায়েন পুলিশ কয়েক মিনিট পরে দলটিকে ছত্রভঙ্গ করে দেয়।’‌ একই সঙ্গে সাফ জানানো হয়, ‘‌ভিয়েনা কনভেনশন অনুসারে ভারত তার ভূখণ্ডে বিদেশী মিশন/পোস্টের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’‌ সঙ্গেই উঠে এসেছে দীপু দাস হত্যা প্রসঙ্গ। ২৫ বছর বয়সী দীপু চন্দ্র দাসকে ময়মনসিংহের ভালুকায় একটি পোশাক কারখানার বাইরে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। তিনি ওই কারখানাতেই কাজ করতেন। তাঁর বিরুদ্ধে ইসলাম ধর্ম নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য করার অভিযোগ আনা হয়েছিল। এরপর তাঁর মৃতদেহ একটি গাছে ঝুলিয়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। দীপু হত্যাকে কেন্দ্র করে উত্তাল হয়েছে দেশ-বিদেশ। ভয়াবহ ঘটনার নিন্দা সর্বত্র।বাংলাদেশের সন্ত্রাস দমন বাহিনী, র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের র‍্যাব সদস্য কমান্ডার শামসুজ্জামান জানান, দীপু চন্দ্র দাস ফেসবুকে এমন কিছু লিখেছিলেন যা ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত করার মতো, এমন কোনও প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ভারতের বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়ালের বিবৃতিতে দীপু হত্যা প্রসঙ্গ। বিবৃতির শেষাংশে লেখা, ‘‌বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান পরিস্থিতির উপর ভারত নিবিড় নজর রাখছে। আমাদের কর্মকর্তারা বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন এবং সংখ্যালঘুদের উপর আক্রমণের বিষয়ে তাদের তীব্র উদ্বেগ জানিয়েছেন। আমরা দাসের বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনার আহ্বানও জানিয়েছি।’‌

পাল্টা বিবৃতি ঢাকারও। ভারতীয় বিদেশ মন্ত্রকের ওই বিবৃতির কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পাল্টা বিবৃতি প্রকাশ করে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের বিদেশ মন্ত্রক। ময়মনসিংহের ঘটনা নিয়ে ভারতের বিবৃতির আপত্তি জানিয়েছে তারা। মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার ওই বিবৃতিতে দাবি করেছে, ময়মনসিংহের ঘটনা একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা। ভারতের কর্তৃপক্ষ বিষয়টিকে সংখ্যালঘুদের উপর হামলা বলে দেখাচ্ছেন বলে দাবি করেছে তারা। বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের বিদেশ মন্ত্রকের দাবি, বাংলাদেশে একজন নাগরিকের নৃশংস হত্যাকাণ্ডকে সংখ্যালঘু নিরাপত্তার সঙ্গে যুক্ত করার কোনো যৌক্তিকতা নেই। ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের বিদেশ মন্ত্রক বিবৃতিতে দাবি করেছে, ময়মনসিংহের ঘটনায় তারা দ্রুত পদক্ষেপ করেছে। অভিযুক্তদের গ্রেফতারও করেছে। দক্ষিণ এশিয়ার অনেক দেশের তুলনায় বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক পরিস্থিতি যথেষ্ট ভাল বলে দাবি ঢাকার। দিল্লিতে বাংলাদেশে দূতাবাসের সামনে বিক্ষোভের ঘটনাকেও ভারত সরকার ‘সরলীকরণ’ করছে বলে দাবি বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের। ২০-২৫ জনের একটি দল কী ভাবে একটি সংবেদনশীল এলাকায় প্রবেশ করতে পারল, তা নিয়েও প্রশ্ন বাংলাদেশের। ঢাকার দাবি, স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে অনুমতি ছাড়া সেখানে পৌঁছোতে পারার কথা নয়। ভারতের বিবৃতির পর পরই ঢাকার এই পাল্টা বার্তা দ্বিপাক্ষিক কূটনৈতিক চাপানউতরকে আরও বৃদ্ধি করল বলে মনে করা হচ্ছে। দ্বিপাক্ষিক স্তরে চাপানউতর শুরু হয়েছিল হাদির মৃত্যুর কয়েক দিন আগে থেকেই। ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাই কমিশনার প্রণয় বর্মাকে তলব করেছিল বাংলাদেশের বিদেশ মন্ত্রক। বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কর্মকাণ্ড নিয়ে উদ্বেগপ্রকাশ করে বার্তা দেওয়া হয়েছিল ভারতকে। তার কয়েক দিন পরেই দিল্লিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাই কমিশনার এম রিয়াজ হামিদুল্লাকে তলব করল ভারতের বিদেশ মন্ত্রক। সম্প্রতি এক বক্তৃতায় বাংলাদেশের তরুণ নেতা হাসনাত আবদুল্লা ‘সেভেন সিস্টার্স’কে ভারতের মানচিত্র থেকে আলাদা করে দেওয়ার আহ্বান করেন। শুধু তা-ই নয়, উত্তর-পূর্ব ভারতের বিচ্ছিন্নতাবাদীদের আশ্রয় দেবে বাংলাদেশ, এমনও মন্তব্য করেন তিনি। হাসনাতের ওই বক্তৃতার প্রেক্ষিতেই তলব করা হয়েছিল বাংলাদেশের হাই কমিশনারকে। বস্তুত, কূটনৈতিক চাপানউতরের একটি প্রেক্ষাপট তখন থেকেই তৈরি হচ্ছিল। রবিবার দু’দেশের তরফে বিবৃতি এবং পাল্টা বিবৃতিতে তা আরও স্পষ্ট হল। অনির্দিষ্ট কালের জন্য বন্ধ করা হয়েছে চট্টগ্রামের ভারতের ভিসা আবেদন কেন্দ্র (আইভ্যাক বা ইন্ডিয়ান ভিসা অ্যাপ্লিকেশন সেন্টার)। রবিবার আইভ্যাকের ওয়েবসাইটে জানানো হয়েছে, চট্টগ্রামে ভারতীয় অ্যাসিস্ট্যান্ট হাইকমিশনে (এএইচসিআই) সম্প্রতি যে নিরাপত্তা সংক্রান্ত ঘটনা ঘটেছে, তার জেরেই এই সিদ্ধান্ত। পরবর্তী বিজ্ঞপ্তি জারি না করা পর্যন্ত এই পরিষেবা বন্ধ থাকবে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করার পরে সেইমতো ভিসা আবেদন কেন্দ্র আবার খোলার কথা ঘোষণা করা হবে।

নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে বাংলাদেশ। ওই রাতেই মৃত্যু হয় বাংলাদেশের ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ওসমান হাদির। হাসিনা বিরোধী বলে পরিচিত বাংলাদেশের এই তরুণ নেতাকে অতীতে ভারত বিরোধী বিভিন্ন মন্তব্যও করতে দেখা গিয়েছিল। হাদির মৃত্যুর পর থেকে দৃশ্যত অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি তৈরি হয় বাংলাদেশে। তাণ্ডব চলে সংবাদপত্রের দফতরে। হয় ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ। সাংবাদিক হত্যার অভিযোগ ওঠে। এই অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতির মাঝেই ময়মনসিংহে পিটিয়ে হত্যা করা হয় দীপুচন্দ্র দাসকে। অভিযোগ, খুনের পরে তাঁর দেহ পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই কূটনৈতিক টানাপড়েন আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। দীপুর হত্যাকাণ্ডে বিচারের দাবি তুলে বিবৃতি দিয়েছে ভারতীয় বিদেশ মন্ত্রক।

দ্বিপাক্ষিক স্তরে চাপানউতর শুরু হয়েছিল হাদির মৃত্যুর কয়েক দিন আগে থেকেই। ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাই কমিশনার প্রণয় বর্মাকে তলব করেছিল বাংলাদেশের বিদেশ মন্ত্রক। বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কর্মকাণ্ড নিয়ে উদ্বেগপ্রকাশ করে বার্তা দেওয়া হয়েছিল ভারতকে। তার কয়েক দিন পরেই দিল্লিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাই কমিশনার এম রিয়াজ হামিদুল্লাকে তলব করল ভারতের বিদেশ মন্ত্রক। সম্প্রতি এক বক্তৃতায় বাংলাদেশের তরুণ নেতা হাসনাত আবদুল্লা ‘সেভেন সিস্টার্স’কে ভারতের মানচিত্র থেকে আলাদা করে দেওয়ার আহ্বান করেন। শুধু তা-ই নয়, উত্তর-পূর্ব ভারতের বিচ্ছিন্নতাবাদীদের আশ্রয় দেবে বাংলাদেশ, এমনও মন্তব্য করেন তিনি। হাসনাতের ওই বক্তৃতার প্রেক্ষিতেই তলব করা হয়েছিল বাংলাদেশের হাই কমিশনারকে। বস্তুত, কূটনৈতিক চাপানউতরের একটি প্রেক্ষাপট তখন থেকেই তৈরি হচ্ছিল। দু’দেশের তরফে বিবৃতি এবং পাল্টা বিবৃতিতে তা আরও স্পষ্ট হল।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles