২০২৬ সালে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। সেই মেগা টুর্নামেন্টের জন্য টিকিট বিক্রি শুরু। ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ডের সচিব দেবজিৎ সইকিয়া বলেন, ”টিকিটের দাম মাত্র ১০০ টাকা থেকে শুরু হওয়ায় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬-কে ঘিরে উত্তেজনা বেড়ে গিয়েছে বহুগুণে। ম্যাচের দিন দুর্দান্ত এক পরিবেশ তৈরি করতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ভারতের মানুষের খেলাধুলোর প্রতি প্যাশন, প্রাণশক্তিতে ভরপুর স্টেডিয়ামের ছবি তুলে ধরাই আমাদের লক্ষ্য।” কলম্বোয় পাকিস্তান-নেদারল্যান্ডস ম্যাচ। অন্যদিকে কলকাতায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের মুখোমুখি বাংলাদেশ। মুম্বইয়ে ভারতের সামনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। আইসিসি জানিয়েছে, প্রথম পর্বের টিকিটের দাম খুবই কম রাখা হয়েছে। যাতে বেশি সংখ্যক দর্শক মাঠে উপস্থিত থাকতে পারেন। এবারের বিশ্বকাপে ২০টি দল অংশ নিচ্ছে। ম্যাচের সংখ্যা ৫৫। চারটি গ্রুপে ভাগ করা হয়েছে কুড়িটি দলকে। ভারত রয়েছে এ গ্রুপে। সেই গ্রুপে ভারত ছাড়াও রয়েছে নামিবিয়া, নেদারল্যান্ডস, পাকিস্তান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ১৫ ফেব্রুয়ারি ভারত ও পাকিস্তানের খেলা। সেই ম্যাচ হবে কলম্বোর প্রেমদাসা স্টেডিয়ামে।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরু ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ভারত ও শ্রীলঙ্কায় শুরু প্রতিযোগিতা। দু’মাস আগে থেকেই বিশ্বকাপের টিকিট বিক্রি শুরু হয়ে গেল। এই ঘোষণা করেছে আইসিসি। বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ামক সংস্থা জানিয়েছে, ১১ ডিসেম্বর, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬:৪৫ মিনিট থেকে বিশ্বকাপের টিকিট বিক্রি শুরু হবে। ‘টিকিটস.ক্রিকেটওয়ার্ল্ডকাপ.কম’— এই ওয়েবসাইটে গিয়ে টিকিট কাটা যাবে। আপাতত প্রথম পর্বের টিকিট বিক্রি শুরু হয়েছে। দ্বিতীয় পর্বের টিকিট বিক্রি কবে থেকে হবে, তা শীঘ্রই জানিয়ে দেওয়া হবে। আইসিসি-র সিইও সংযোগ গুপ্ত বলেন, “টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রথম পর্বের টিকিট বিক্রি শুরু হচ্ছে। আমাদের প্রধান লক্ষ্য সকলে যাতে খেলা দেখতে পারেন। অর্থ যেন সমস্যা না হয়। সেই কারণে, টিকিটের সর্বনিম্ন দাম ভারতীয় মুদ্রায় ১০০ টাকা ও শ্রীলঙ্কার মুদ্রায় ১০০০ টাকা। আরও বেশি দর্শক যাতে মাঠে আসেন, তার জন্য পরিকল্পনা করেই টিকিটের দাম ঠিক করা হয়েছে।” তবে টিকিটের সর্বাধিক দাম কত, তা জানাননি সংযোগ। এ বারের বিশ্বকাপের প্রধান আয়োজক ভারত। কিন্তু পাকিস্তান এই দেশে খেলতে আসবে না বলে তাদের সব ম্যাচ রাখা হয়েছে শ্রীলঙ্কায়। সেখানে শ্রীলঙ্কারও কয়েকটি খেলা রয়েছে। চারটি গ্রুপে রয়েছে ২০টি দল। গ্রুপ পর্বের পর প্রতিটি গ্রুপ থেকে দু’টি করে দল কোয়ার্টার ফাইনালে উঠবে। সব মিলিয়ে ৫৫টি ম্যাচ হবে। প্রতি দিন ভারতীয় সময় সকাল ১১টা, দুপুর ৩টে ও সন্ধ্যা ৭টায় হবে খেলা।
গ্রুপ এ— ভারত, পাকিস্তান, আমেরিকা, নেদারল্যান্ডস ও নামিবিয়া।
গ্রুপ বি— শ্রীলঙ্কা, অস্ট্রেলিয়া, আয়ারল্যান্ড, জ়িম্বাবোয়ে ও ওমান।
গ্রুপ সি— ইংল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, বাংলাদেশ, নেপাল ও ইটালি।
গ্রুপ ডি— নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা, আফগানিস্তান, কানাডা ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহি।
ভারতের প্রথম ম্যাচ ৭ ফেব্রুয়ারি। আমেরিকার বিরুদ্ধে মুম্বইয়ে হবে সেই খেলা। ১২ ফেব্রুয়ারি দিল্লিতে নামিবিয়া, ১৫ ফেব্রুয়ারি কলম্বোয় পাকিস্তান ও ১৮ ফেব্রুয়ারি অহমদাবাদে নেদারল্যান্ডসের বিরুদ্ধে খেলবে তারা। ভারতের সব ম্যাচ শুরু হবে সন্ধ্যা ৭টা থেকে। বোর্ডের নির্দেশ পেয়ে বিরাট কোহলি জানিয়ে দিয়েছিলেন, দিল্লির হয়ে বিজয় হজারে ট্রফিতে খেলবেন তিনি। অন্তত দু’টি ম্যাচে নামবেন কোহলি। সবুজ সঙ্কেত পেয়ে দিল্লির বিজয় হজারের প্রাথমিক দলে রাখা হয়েছে কোহলিকে। দলে রয়েছেন ঋষভ পন্থও। দিল্লি ক্রিকেট সংস্থা একটি বিবৃতিতেই জানানো হয়েছে যে, কোহলি ও পন্থ প্রাথমিক দলে রয়েছেন। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “আসন্ন বিজয় হজারে ট্রফির জন্য প্রাথমিক দল বেছে নিয়েছেন নির্বাচকেরা। সৈয়দ মুস্তাক আলি ট্রফিতে যাঁরা খেলেছেন তাঁদেরও প্রাথমিক দলে রাখা হয়েছে। বিজয় হজারে ট্রফির আগে দলের সঙ্গে যোগ দেবেন কোহলি ও পন্থ।” এই দুই ক্রিকেটার ছাড়া দলে কারা রয়েছেন তা অবশ্য জানা যায়নি। শীঘ্রই দল জানিয়ে দেবে দিল্লি ক্রিকেট সংস্থা। ২৪ ডিসেম্বর বিজয় হজারেতে অন্ধ্র প্রদেশের বিরুদ্ধে প্রথম ম্যাচ খেলবে দিল্লি। তার পর গুজরাতের বিরুদ্ধে ম্যাচ। এই দুই ম্যাচে খেলতে পারেন কোহলি। পুরো প্রতিযোগিতায় হয়তো তিনি খেলবেন না। দিল্লি ক্রিকেট সংস্থাকে তেমনটাই জানিয়েছেন কোহলি। পন্থ আবার দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে এক দিনের সিরিজ়ের দলে থাকলেও খেলার সুযোগ পাননি। সেই কারণেই হয়তো বিজয় হজারেতে খেলতে চান। ২০১০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে বিজয় হজারেতে খেলেছিলেন কোহলি। পরের ১৫ বছরে ভারতের ঘরোয়া এক দিনের প্রতিযোগিতায় দেখা যায়নি তাঁকে। টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি থেকে অবসর নেওয়ার পর আপাতত শুধু এক দিনের ক্রিকেটই খেলছেন কোহলি। ২০২৭ সালের বিশ্বকাপ খেলার ইচ্ছাপ্রকাশ করেছেন তিনি। তবে তার জন্য তাঁকে ঘরোয়া ক্রিকেট খেলার নির্দেশ দিয়েছে বোর্ড। সেই নির্দেশ মানছেন কোহলি। ভাল ফর্মে রয়েছেন কোহলি। চলতি বছর ভারতের হয়ে ১৩ এক দিনের ম্যাচে ৬৫১ রান করেছেন তিনি, যা সর্বাধিক। দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে তিন ম্যাচে ৩০২ রান করেছেন তিনি। পর পর দু’টি শতরান করেছেন। সেই ফর্মকেই ধরে রাখতে চাইছেন কোহলি। সেই কারণেই ঘরোয়া ক্রিকেটে ফিরছেন।




