ভারতীয় মুদ্রার পতনের ধারায় কিছুতেই ইতি পড়ছে না। সপ্তাহের শুরু থেকেই মার্কিন ডলারের সাপেক্ষে কমছে ভারতীয় রুপির মূল্য। বুধে প্রথমবার ৯০-এর গণ্ডি পার করে গেল। রুপির ইতিহাসে প্রথমবার তা ঘটল। অর্থাৎ ১ মার্কিন ডলার পাওয়ার জন্য আপনাকে খরচ করতে হবে ৯০ টাকার বেশি। মঙ্গলেই ১ ডলারের সাপেক্ষে টাকা পৌঁছেছিল ৮৯.৯৪৭৫-এ। ডলারের সাপেক্ষে ৯০.১৩ টাকা ছুঁয়েছে ভারতীয় মুদ্রা। নভেম্বরের বড় সময়ে ডলারের বিনিময়মূল্য ৮৮.৫৭-৮৮.৭৮ টাকার মধ্যে ঘোরাফেরা করলেও ২১ নভেম্বর একদিনে ০.৮% নেমে মনস্তাত্ত্বিক ৮৯ ডলারের বেড়া টপকে গিয়েছিল সে। যার পর থেকে যেন আর ‘রি-বাউন্ড’ হওয়ার শক্তি হারিয়ে ফেলেছে। পরিসংখ্যান বলছে, চলতি বছরে নভেম্বর পর্যন্ত টাকার অবমূল্যায়ন (ডেপ্রিসিয়েশন) হয়েছে ৪.৮ শতাংশ। যার ফলে চলতি ক্যালেন্ডার বর্ষে এশিয়ার সবথেকে ‘দুর্বল পারফর্মার’ কারেন্সির কাঁটার মুকুট মাথায় উঠেছে তার। শুধু ডলারই নয়, সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান বলছে, ব্রিটিশ পাউন্ড-ইউরো এবং জাপানিজ় ইয়েন-চিনা ইউয়ান, বিশ্বের অন্য চার প্রধান কারেন্সির বিনিময়দরেও যে পরিমাণ পতন হয়েছে টাকার, তা গত এক বছরে সর্বাধিক। টাকার এই পতনের প্রভাব পড়েছে দেশের শেয়ার বাজারেও। বুধবার বাজার খোলার সময় থেকেই ডাউন রয়েছে ভারতের স্টক মার্কেটের দুই বেঞ্চমার্ক ইনডেক্সে। নিফটি৫০ কমেছে ১১৯ পয়েন্ট বা ০.৪৬ শতাংশ। এর জেরে ২৬ হাজারের নীচে নেমেছে এই সূচক। সেনসেক্স কমেছে ০.৩৭ শতাংশ বা ৩১৭ পয়েন্টে। এর পাশাপাশি নিফটি ব্যাঙ্ক-সহ গুরুত্বপূর্ণ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সেক্টরাল ইনডেক্স ডাউন রয়েছে। এই বাজারেও নিফটি আইটি সেক্টরাল ইনডেক্স বেড়েছে ০.২০ শতাংশ।
ভারতীয় মুদ্রা রুপির পতন। পতনের জেরে ডলারের সাপেক্ষে টাকার দামে নতুন রেকর্ড। ফের পতনে সেই রেকর্ডও ভেঙে গেল। মঙ্গলবার মার্কিন ডলারের সাপেক্ষে ভারতীয় মুদ্রার দাম হয়েছে ৮৯.৮৫ টাকা। সোমবার এই দাম ছিল ৮৯.৭৩ টাকা। টাকার দামে নাগাড়ে পতন নিয়ে চিন্তার বাড়ছে দেশের অর্থনৈতিক মহলের। নভেম্বরের বড় সময়ে ডলারের বিনিময়মূল্য ৮৮.৫৭-৮৮.৭৮ টাকার মধ্যে ঘোরাফেরা করলেও ২১ নভেম্বর একদিনে ০.৮% নেমে মনস্তাত্ত্বিক ৮৯ ডলারের বেড়া টপকে গিয়েছিল সে। যার পর থেকে যেন আর ‘রি-বাউন্ড’ হওয়ার শক্তি হারিয়ে ফেলেছে। পরিসংখ্যান বলছে, চলতি বছরে নভেম্বর পর্যন্ত টাকার অবমূল্যায়ন (ডেপ্রিসিয়েশন) হয়েছে ৪.৮ শতাংশ। যার ফলে চলতি ক্যালেন্ডার বর্ষে এশিয়ার সবথেকে ‘দুর্বল পারফর্মার’ কারেন্সির কাঁটার মুকুট মাথায় উঠেছে তার। শুধু ডলারই নয়, সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান বলছে, ব্রিটিশ পাউন্ড-ইউরো এবং জাপানিজ় ইয়েন-চিনা ইউয়ান, বিশ্বের অন্য চার প্রধান কারেন্সির বিনিময়দরেও যে পরিমাণ পতন হয়েছে টাকার, তা গত এক বছরে সর্বাধিক। এর ব্যাপ্তি ব্যাখ্যা করা শক্ত। সহজ ভাষায় বুঝতে হলে, ধরুন কনজ়িউমার প্রাইস ইনডেক্স থেকে যেমন দেশের মূল্যবৃদ্ধি পরিস্থিতির একটা আঁচ পাওয়া যায়, তেমনই টাকার ‘দর’ কী অবস্থায় রয়েছে, তা বোঝার জন্য দু’টি সূচক আছে, নমিনাল এফেক্টিভ এক্সচেঞ্জ রেট (নির) ও রিয়েল এফেক্টিভ এক্সচেঞ্জ রেট (রির)। যেখানে ৪০টি দেশের কারেন্সির নিরিখে টাকার পরিস্থিতি কতটা ভালো বা খারাপ, তা বোঝা যায়। উল্লেখ্য, ২০১৫-১৬ সালে চালু হওয়া এই সূচকে থাকা ৪০টি দেশের সঙ্গেই ভারতের বৈদেশিক বাণিজ্যের ৮৮% আদানপ্রদান হয়। ডলার ইনডেক্স এর মতোই নির-রির বাড়লে তা টাকার ‘মজবুত’ হওয়া বোঝায়, কমলে উল্টোটা। শীর্ষ ব্যাঙ্কের পরিসংখ্যান বলছে, চলতি অক্টোবরে নির নেমেছে ৮৪.৫৮ টাকায়, যেখানে গত বছর অক্টোবরে তা ছিল ৯০.৮৫ টাকা। প্রায় একই দশা রির’ও, অক্টোবরে তা নেমেছিল ৯৭.৪৭ টাকায়। দু’টি অঙ্কই চার বছরের মধ্যে তলানিতে। এখন নভেম্বরে টাকার দরে আরও পতন যে ব্যবধান আরও বাড়িয়ে দিয়েছে, তা বোঝা খুব শক্ত নয়। ফলে, আগামী ফেব্রুয়ারিতে কেন্দ্রীয় বাজেট পেশের আগে মোটেও স্বস্তিতে থাকতে পারছেন না অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যচুক্তি স্বাক্ষর না হওয়াকেই পয়লা নম্বরে রাখছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের গরিষ্ঠ অংশের মত, চলতি বছরে চুক্তি নিয়ে স্পষ্ট কোনও দিশা না পেলে রিজ়ার্ভ ব্যাঙ্কের হাজারো চেষ্টার পরেও ৯০ পার করে যাবে টাকা-ডলার বিনিময়দর। মার্কিন-ইইউ নিষেধাজ্ঞার ফাঁসে বন্ধ হয়ে গিয়েছে রাশিয়া থেকে অপরিশেধিত তেলের সহজ ভারত-যাত্রা। পরিসংখ্যান বলছে, প্রতিদিন প্রায় ১৭ লক্ষ ব্যারেল রুশ তেল আসছিল ভারতে, এমন অবস্থায় কার্যকর হয়েছে নিষেধাজ্ঞা। যার বিকল্প উৎস খুঁজে বের করতে হিমশিম অবস্থা নয়াদিল্লির। পরিস্থিতি সামাল দিতে ১৭,৭০০ কিলোমিটার পথ উজিয়ে সুদূর গায়ানা থেকে তেলবোঝাই ট্যাঙ্কার আসছে ভারতে। পাশাপাশি পশ্চিম এশিয়া থেকেও লক্ষ্যণীয় ভাবে বাড়াতে হয়েছে তেল আমদানি। যা তেলের চাহিদা ‘মেটালেও’, পরিবহণ খরচকে তুলে দিয়েছে ছেঁকা দেওয়া স্তরে। ঘুরিয়ে যা চাপ বাড়াচ্ছে টাকার উপর। বিশেষজ্ঞদের বড় অংশের দাবি, মার্কিন মুলুকের সঙ্গে বাণিজ্যিক সমঝোতা দ্রুত সেরে না ফেললে, রিজ়ার্ভ ব্যাঙ্কের পক্ষেও টাকার পতন আটকানো শক্ত হতে চলেছে।




