তিনি যে কিং। তা আবার প্রমাণ করলেন কোহলি। সিরিজে পরপর দুই ম্যাচে শতরান। একদিনের আন্তর্জাতিকে শতরান হয়ে গেল ৫৩টি। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ৮৪ শতরানের মালিক হয়ে গেলেন বিরাট। কেরিয়ারের এই সায়াহ্নে পৌঁছেও খিদে সেই তরুণ বিরাটের মতোই। খেললেন রাজার মতো। কোনও প্রোটিয়া বোলারকেই রেয়াত করেননি। বিরাটের শতরান এল ৯০ বলে। শতরান করার পথে মারলেন সাতটি চার ও দুটি ছয়। বিরাট কোহলি বদলালেন না। এই ৩৭-এও তাঁর শরীরী ভাষায় গনগনে আঁচ। সেঞ্চুরির পরে এখনও তিনি আগের মতোই আবেগপ্রবণ। রাঁচিতে সেঞ্চুরির পরে শূন্যে হাত ছুড়েছিলেন। এদিনও লাফালেন। সেই লাফ দেখে মনে হতেই পারে এখনও তিনি আকাশ ছুঁতে চান। ৫৩টি ওয়ানডে সেঞ্চুরি। বিরুদ্ধস্রোতের মধ্যেই ব্যাট করছেন তিনি। ড্রেসিং রুমে গৌতম গম্ভীর রয়েছেন। যিনি চান না কোহলিকে। অন্যদিকে বাইশ গজে দক্ষিণ আফ্রিকার বোলাররা। একই সঙ্গে বিরাট কোহলিকে সামলাতে হচ্ছে ঘরের ও বাইরের শত্রুকে। আর মনস্তাত্বিক খেলায় বিরাট একশোয় দুশো পাবেন। রাঁচির পরে রায়পুরেও শতরান। তাঁকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া যাবতীয় জল্পনা, বিতর্ক উড়িয়ে দিলেন বিরাট কোহলি। এরপরেও কি তাঁর নিন্দুকরা বলবেন, কোহলি তাঁর আসল সময় ফেলে এসেছেন? নিন্দুকরা মুখ খুলতেই পারেন। বলতেই পারেন, ঘরের মাঠে পাটা উইকেটে কোহলি ব্যাট করছেন। তাঁর সেঞ্চুরিকে খাটো চোখে দেখাতেই পারেন। কিন্তু এরকম চাপ নিয়ে কোহলি কি আগে কখনও খেলেছেন? বিপক্ষকে সামলানোর চাপ থাকে। কিন্তু এই চাপ তো স্বয়ং ঘরের। ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ডের কর্তারাও তো একপ্রকার বিরাটকে আর খেলাতে চান না। এখানেই বিরাট কোহলি ছাপিয়ে যাচ্ছেন সবাইকে। এখানেই তিনি হয়ে উঠছেন বিরাট। শাখাপ্রশাখা বিস্তার করে দিচ্ছেন। তাঁর ছায়া দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হয়ে ধরা দিচ্ছে। রাঁচিতে ভারত করেছিল ৩৪৯ রান। রায়পুরে ভারত ছাপিয়ে গেল সেই রানও। দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ভারত করল ৫ উইকেটে ৩৫৮ রান। এই ইমারত গড়ার নেপথ্যে রুতুরাজ গায়কোয়াড় ও বিরাট কোহলি।

মহেন্দ্র সিং ধোনির ঘরের মাঠে রোহিত শর্মাকে সঙ্গী হিসেবে পেয়েছিলেন। এদিন রুতুরাজকে সঙ্গে নিয়ে ১৯৫ রান জুড়লেন। এদিন ৯৩ বলে ১০২ রানের ইনিংস খেললেন কোহলি। জাতীয় দলের জার্সিতে প্রথম শতরান পেলেন রুতুরাজও। আগেরদিনের মতো এদিনও অধিনায়ক লোকেশ রাহুল শেষের দিকে গুরুত্বপূর্ণ ৬৬ রান করে গেলেন। রবীন্দ্র জাদেজাও অপরাজিত রইলেন ২৪ রানে। টস জিতে ভারতকে ব্যাট করতে পাঠিয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। রোহিত ও যশস্বী দ্রুত আউট হলেও রুতুরাজকে নিয়ে দলের ইনিংস টেনে নিয়ে যান বিরাট। রুতুরাজের ১০৫ রানের ইনিংসে রয়েছে ১২টি চার ও দুটি ছয়। এর আগে একদিনের আন্তর্জাতিকে একটি অর্ধশতরান ছিল রুতুরাজের। এবার করলেন প্রথম শতরান। বিরাট থামলেন ১০২ রান করে। এরপরেও কি ২০২৭ বিশ্বকাপে জায়গা হবে না তাঁর? নিখুঁত না হলেও এই শতরানে কোহলির ছাপ স্পষ্ট। সেই ফিটনেস। সেই একই ভাবে উইকেটের মধ্যে দৌড়। সাতটি চার ও দু’টি ছক্কা মেরেছেন কোহলি। অর্থাৎ, ১০২ রানের মধ্যে বাউন্ডারিতে এসেছে ৪০ রান। বাকি ৬২ রান দৌড়ে। তার মধ্যে ৪৫টি সিঙ্গল। ৩৭ বছর বয়সেও তিনি কতটা ফিট, সেটা বার বার দেখিয়ে দিচ্ছেন কোহলি। রাঁচীতে ম্যাচের সেরা হওয়ার পর কোহলি পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছিলেন, তাঁর কাছে মাঠের প্রস্তুতির থেকে মানসিক প্রস্তুতি অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। মানসিক ভাবে প্রস্তুত তিনি। অর্থাৎ, সরাসরি বোর্ডের ঘরোয়া ক্রিকেট খেলার নীতির বিরোধিতা করেছিলেন। কোচ গম্ভীর ও প্রধান নির্বাচক অজিত আগরকরও নির্দেশ দিয়েছেন, ২০২৭ সালের এক দিনের বিশ্বকাপ খেলতে হলে ঘরোয়া ক্রিকেট খেলতে হবে রোহিত, কোহলিকে। প্রকাশ্যে তার বিরোধিতা করেছেন কোহলি। জানা গিয়েছে, বিজয় হজারে ট্রফি খেলতেও প্রথমে রাজি হননি কোহলি। কিন্তু পরে বোর্ডের অনুরোধে রাজি হয়েছেন। অন্তত দু’টি ম্যাচ খেলবেন।

টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের জন্য টিম ইন্ডিয়ার জার্সি প্রকাশ হল। ফেব্রুয়ারি মাসে শুরু হবে টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। ঘরের মাঠে সূর্যকুমার যাদবরা কী জার্সি পরে খেলবেন তা প্রকাশ্যে এল বুধবার। রোহিত শর্মা ভারতের বিশ্বকাপের জার্সি উদ্বোধন করলেন। আগামী টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর হয়েছেন রোহিত শর্মা। তাঁর নেতৃত্বে ২০২৪ সালে টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ভারত। তারপরই বিরাট ও রোহিত আন্তর্জাতিক টি–২০ থেকে অবসর নেন। অবসর নেন জাদেজাও। জার্সি উদ্বোধনের অনুষ্ঠানে রোহিতের সঙ্গে ছিলেন ভারতের তরুণ ব্যাটার তিলক বর্মা। গত এশিয়া কাপে সূর্যকুমারের দলের সাফল্যের নেপথ্যে গুরুত্বপূর্ণ অবদান ছিল তিলকের। উপস্থিত ছিলেন ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) সচিব দেবজিৎ সইকিয়াও। জার্সি উদ্বোধনের পর রোহিত বলেন, ‘২০০৭ সালে প্রথম টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিতেছিলাম। তার পরের বিশ্বকাপ জিততে আমাদের ১৫ বছরেরও বেশি অপেক্ষা করতে হয়েছে। একটা দীর্ঘ যাত্রা ছিল আমাদের। যে পথে ছিল অনেক উত্থান–পতন। গতবার আবার ট্রফি জেতার অনুভূতি দুর্দান্ত ছিল।’ এরপরই রোহিত যোগ করেন, ‘আগামী টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ হবে ভারতে। আশা করছি খুব উত্তেজক একটা প্রতিযোগিতা হবে। দলের জন্য আমার শুভকামনা সব সময় থাকবে। আমি নিশ্চিত সকলেই দলের পাশে থাকবেন, সমর্থন করবেন। আমাদের ক্রিকেটাররাও নিজেদের সেরাটা উজাড় করে দেবে।’ রায়পুরে ভারত–দক্ষিণ আফ্রিকা দ্বিতীয় একদিনের ম্যাচে টিম ইন্ডিয়ার ইনিংস শেষ হওয়ার পর মাঠে হয় ছোট্ট অনুষ্ঠান। রোহিত এবং তিলকের হাতে বিশ্বকাপের জার্সি তুলে দেন ভারতীয় ক্রিকেট দলের কিট স্পনসর সংস্থা। বর্তমানে টি–টোয়েন্টি দলের অধিনায়ক সূর্যকুমার সৈয়দ মুস্তাক আলি ট্রফি খেলছেন মুম্বইয়ের হয়ে। লখনউয়ে রয়েছেন তিনি। তাই রায়পুরে আসতে পারেননি। দলের সহ–অধিনায়ক শুভমান গিল রয়েছেন বেঙ্গালুরুতে বিসিসিআইয়ের সেন্টার অফ এক্সেলেন্সে। সেখানে রিহ্যাব করছেন শুভমান। তাই তিনিও বুধবার রায়পুর আসতে পারেননি। তবে ছিলেন টি–টোয়েন্টি দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য তিলক বর্মা।




