খুশখুশে কাশি। তার সঙ্গে নানা ধরনের নাক টানা। সময়টাই এমন। আবহাওয়ায় বদল আর ঋতু পরিবর্তনের জন্য একটুতেই ঠান্ডা লাগা, জ্বরভাব দেখা দেয়। সমস্যার মোকাবিলায় অতিমারির সময় থেকে জনপ্রিয় হয়েছে কাড়া। রোগ প্রতিরোধ শক্তি বর্ধক হিসাবে বিবেচিত এই পানীয় ইদানীং শীতে সর্দি-কাশির সমস্যা থেকে বাঁচতেও খান অনেকে। কিন্তু কাড়ার কি আর কোনও গুণ রয়েছে? ভারতের প্রাচীন চিকিৎসা পদ্ধতি মেনে তৈরি এই পানীয় স্বাদে কড়া বলেই সম্ভবত নাম কাড়া। বিভিন্ন মশলা, ঔষধি গুণসম্পন্ন শিকড়-বাকড়, ফল, পাতা জলে ফুটিয়ে তৈরি করা হয় এই পানীয়। এক পুষ্টিবিদ জানাচ্ছেন, পানীয়টির অন্য গুণও রয়েছে। কাড়া শুধু ঠান্ডা লাগার সমস্যা মেটায় না, তা প্রদাহনাশক, রোগ প্রতিরোধ শক্তিবর্ধক, এমনকি শরীরকে বিষাক্ত পদার্থমুক্ত করতেও সাহায্য করে। কাড়ায় পড়ে তুলসী, আদা, গোলমরিচ যা ঋতু পরিবর্তন জনিত অসুস্থতা তো দূরে রাখেই, তার পাশাপাশি শরীরের প্রদাহ কমাতেও সাহায্য করে। শরীরকে জোগান দেয় প্রয়োজনীয় উষ্ণতা। যা বিপাকের হার ভাল রাখতে এবং পরোক্ষে ওজন কমাতেও সাহায্য করতে পারে। আদা এবং গোলমরিচ হজমক্ষমতা ভাল রাখতে সাহায্য করে। কাড়ায় থাকা হলুদ, দারচিনি কাজে লাগতে পারে আর্থ্রাইটিসের ব্যথা কমাতে। এ ছাড়া নিয়মিত কাড়া খেলে তা গেঁটে বাতের ব্যথা কমাতেও সাহায্য করবে। কাড়ায় থাকা সমস্ত মশলা এবং ঔষধিতে রয়েছে জোরালো অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট। যা শরীরকে দূষিত পদার্থমুক্ত করতে সাহায্য করে। লিভারে জমা ফ্যাট কমাতেও কার্যকরী এই পানীয়। কাড়ায় থাকা কিছু উপাদান মানসিক চাপ কমাতেও সাহায্য করে। মেজাজ ভাল রাখে।
হাঁপানি অতি বিষম বস্তু। যাঁরা ভোগেন, তাঁরা এর যন্ত্রণা বিলক্ষণ জানেন। হাঁপানি সারানো যায় না, এর তীব্রতা কমিয়ে অসুখ নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করা হয়। হাঁপানির টান বাড়লে অনেক সময়েই স্টেরয়েড নেওয়ার প্রয়োজন হয়। যে সমস্ত ইনহেলার পাওয়া যায়, তাতে স্টেরয়েড যুক্ত ওষুধই বেশি থাকে, যা দিনের পর দিন শরীরে গেলে ওজন বাড়ে, নানা রকম সংক্রামক ব্যাধির আশঙ্কাও দেখা দেয়। হাঁপানির কষ্ট কমাতে স্টেরয়েডের বিকল্প হিসেবে নতুন এক ওষুধ তৈরি করেছেন গবেষকেরা। মাসে মাসে ইঞ্জেকশন নিলেই হাঁপানি নিয়ন্ত্রণে থাকবে, শ্বাসের সমস্যাও ভোগাবে না। গবেষকেরা ওষুধটি তৈরি করেছেন যার নাম ‘টেজ়েপেলুমাব’। এটি এক ধরনের অ্যান্টিবডি, যা ইঞ্জেকশনের মাধ্যমে দেওয়া হবে। ওষুধটির কাজ হবে ফুসফুসের প্রদাহ কমিয়ে হাঁপানির সমস্যা নিয়ন্ত্রণে রাখা। হাঁপানিতে শ্বাসনালির প্রদাহ দিন দিন বাড়তে থাকে। বিশেষ করে মরসুম বদলের সময়ে, ধুলোধোঁয়ার সংস্পর্শে এলে, অথবা কোনও অ্যালার্জেন (ফুলের রেণু, পশুর লোম, বাতাসে ভাসমান দূষণবাহী কণা) শ্বাসের মাধ্যমে শরীরে ঢুকলে প্রদাহ বেড়ে যায়। এতে শ্বাসনালির স্বাভাবিক ব্যাস কমে এবং সংবেদনশীলতা বাড়ে। ফলে ফুসফুসের ভিতরে বাতাস ঢোকা ও বেরোনোর পথ সঙ্কীর্ণ হয়ে পড়ে। শ্বাসনালির ভিতর মিউকাসের ক্ষরণ বাড়তে বাড়তে তা আরও সঙ্কুচিত হতে থাকে। সঠিক চিকিৎসা না হলে শ্বাসনালি পুরোপুরি অবরুদ্ধ হয়ে মৃত্যু পর্যন্ত ঘটতে পারে। চিকিৎসকেরা অনেক ক্ষেত্রেই বলেন, হাঁপানি বংশগত কারণে হতে পারে। তবে বর্তমান সময়ে যে ভাবে দূষণের পাল্লা ভারী হচ্ছে, তাতে হাঁপানির সমস্যা ঘরে ঘরে। আর হাঁপানি হলে যে স্টেরয়েড দেওয়া হয়, তা-ও শরীরের জন্য ভাল নয়। গবেষকেরা ১১টি দেশের ৩০০-র বেশি হাঁপানি রোগীকে ইঞ্জেকশনটি দিয়ে পরীক্ষা করেছেন। গবেষণার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে ‘দ্য ল্যানসেট রেসপিরেটরি মেডিসিন’ জার্নালে। সেখানে লেখা হয়েছে, অ্যান্টিবডি ইঞ্জেকশন যাঁরা নিয়েছিলেন, তাঁদের মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি রোগীর হাঁপানির টান আর দেখা দেয়নি। প্রতি মাসে ইঞ্জেকশন নেওয়ার পরে দেখা গিয়েছে, শ্বাসকষ্টের সমস্যা অনেক কমেছে। ফুসফুসের কার্যক্ষমতাও বেড়েছে।গবেষকেরা দাবি করেছেন, স্টেরয়েড ট্যাবলেটের চেয়ে এই ইঞ্জেকশন অধিক মাত্রায় কার্যকরী হবে। পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও না।




